সবার কাছে ইন্টারেস্টিং মানুষ হয়ে উঠতে চাইলে

একেকজন মানুষ একেক রকম। কেউ কেউ সবার সাথে সহজেই মিশে যেতে পারে, আবার বন্ধুদের আড্ডায় এমন অনেকেই পাওয়া যায় যারা সহজে মিশতে পারে না। তারা অল্পতেই বিব্রতবোধ করে, কিছুক্ষণ কথা বলার পর আর তাদের সাথে বলার কথা খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার তারাও যে অন্যদের সঙ্গ খুব উপভোগ করে বিষয়টা সেটাও না। অজানা কারণে তারা একা থাকতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আর এতে করে তারা অন্য সবার কাছ থেকে হয়ে উঠে বিচ্ছিন্ন, পরিচিত হয় বোরিং মানুষ হিসাবে।

নিজের মত থাকা্র ইচ্ছা আপনারও থাকতে পারে তবে অবশ্যই সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নয়। কারণ মানুষ সামাজিক জীব একসময় এই বিচ্ছিন্নতা আপনাকে বিষণ্ণতায় ফেলবে। আর যদি খুব কাছের কেউ বলে বসেন তুমি বোরিং তখন এটা অনেক আত্মবিশ্বাসী মানুষের পক্ষেই মানা কষ্টকর। সুতরাং বোরিংনেস নয়, বাঁচুন সবার কাছে আকর্ষনীয় হয়ে।

আগ্রহ প্রকাশ করুনঃ
অন্যের কথা শোনার সময় আগ্রহ নিয়ে শুনুন। অনেক কথা শুনতে হয়ত আপনার ভাল লাগছে না। কিন্তু ধীরে ধীরে আপনি এমন অনেক বিষয়ই খুঁজে পাবেন যা আপনাকে আনন্দ দেবে। আপনি যদি আপনার প্রিয়জনদের কথা না শোনেন তাহলে আপনার যখন কিছু বলার থাকবে তখন শোনার কাউকে পাবেন না। তাই মনোযোগ দিন, গুরুত্ব দিন।

মস্তিষ্ককে কাজে লাগানঃ
অলস মস্তিষ্ক কোন কিছুতে আনন্দ খুঁজে পায় না অলসতা করা ছাড়া। পৃথিবীতে চমৎকার এত কিছু আছে, একটু কষ্ট করে চোখ বোলান সেদিকে। ইন্টারনেটে বসলেই এখন জানার সব দুয়ার খোলা। মজার বিষয় পড়ুন, জানুন। আপনি যত জানবেন আপনার জানাতেও ইচ্ছা করবে। ভাবনা গুলো শেয়ার করতে ইচ্ছা করবে।

পজেটিভ হনঃ
কেউ যখন আপনার কাছে তার কোন আগ্রহের একটা বিষয় নিয়ে গল্প করছে তখন শুরুতেই সেটাকে হাস্যকর বা অহেতুক বলে উড়িয়ে দেবেন না। ঘটনাটি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, কিন্তু তার ভাল লেগেছে। অন্যের অনুভূতির উপর শ্রদ্ধাশীল হন। পজেটিভ আচরণ করুন।

ভাগ করে নিন কাজের সময়ঃ
অনেকে কাজের চাপেও বন্ধুদের সময় দিতে পারেন না। ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দেওয়া একজন সকাল-সন্ধ্যা অফিস করে আসা ক্লান্ত মানুষটির পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আবার আপনার প্রিয়জনেরা হয়ত আপনাকে মিস করছেন। সবসময় সম্ভব নাহলেও চেষ্টা করুন গেট টুগেদার গুলো মিস না করতে। একটা ছুটির দিনে অন্তত আডদা, সিনেমা দেখার আয়োজন করুন। সবাই মিলে ঘুরে আসুন কোথাও।

আনন্দ খুঁজে নিনঃ
অবশ্যই সবার যা ভাল লাগে তাই আপনার ভাল লাগবে এমন কোন কথা নেই। আপনার আগ্রহের জায়গা আলাদা হতেই পারে। বিচ্ছিন্নতা এড়াতে আপনার আগ্রহ অনুযায়ী মিলিয়ে একটি দল তৈরি করে নিন। খুঁজে নিন আপনার মত কিছু মানুষ। তবে মনে রাখবেন, সবসময়ই আমাদের জানার বাইরেও জানার থাকে অনেক কিছু। অন্যদের পছন্দ আপনার থেকে ভিন্ন মাত্র, নিম্নমানের নয়।

আপনার ইচ্ছাই সবার আগে প্রয়োজনঃ
আপনি কি একজন চমকপ্রদ মানুষে পরিণত হতে চান? আপনার ইচ্ছাই প্রয়োজন সবার আগে। একা একা একঘেয়ে সময়টা থেকে আপন বেড়িয়ে আসতে পারেন একমাত্র আপনার নিজের ইচ্ছায়।

কথাবার্তায় আকর্ষণীয় হবেন যেভাবেঃ
* যার সাথে কথা বলবেন তার আগ্রহ অনুযায়ী কথা শুরু করুন
* যদি আপনিও বিষয়টির সাথে সম্পৃক্ত থেকে থাকেন তাহলে আরও কথা বলু। না জেনে উপদেশ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
* তাদের আইডিয়া সম্পর্কে জানতে চান, তারা যা করতে চায় তা কেন করতে চায়, কিভাবে করতে চায় জিজ্ঞেস করুন।
* মজার বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করুন।

কথা না বলে আকর্ষণীয় হবেন যেভাবেঃ
* আই কন্টাক্ট তৈরি করুন।
* আচরণে হন আত্মবিস্বাসী। নতুন কিছু দেখলে ইতস্তত না করে ঝটপট সিদ্ধান্ত নিন।
* যেখানে যাচ্ছেন সেই জায়গা অনুযায়ী মানানসই পোশাক পড়ুন।

শীতের অসুখ-বিসুখ প্রতিরোধে করণীয়

শীত মৌসুমে স্বাস্থ্যসমস্যার মধ্যে প্রথমেই চলে আসে সাধারণ ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশির কথা। বিশেষত শীতের শুরুতে তাপমাত্রা যখন কমতে থাকে, তখনই এর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এ ছাড়া যাদের হাঁপানি বা অনেক দিনের কাশির সমস্যা আছে, ঠান্ডা আবহাওয়ায় তাদের কষ্টও বাড়ে। ফুসফুসের নিউমোনিয়াও এ সময় প্রচুর দেখা যায়। বলা চলে, শীতে অসুখের মূল ধাক্কাটা যায় শ্বাসতন্ত্রের ওপরই।

শ্বাসতন্ত্রের রোগ শীতে বাড়ে কেন

অনেকের ধারণা, বেশিক্ষণ ঠান্ডায় থাকলে বা পানিতে ভিজলে ঠান্ডা লাগে, সর্দি হয়। যদিও এসব রোগের প্রধান কারণ ভাইরাস, তথাপি বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমাদের শরীরের রোগ-প্রতিরোধব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব এনজাইম আছে, তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাপমাত্রায় কম কার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। শীতে বাতাসের তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতাও কমে যায়, যা আমাদের শ্বাসনালির স্বাভাবিক কর্মপ্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে ভাইরাসের আক্রমণকে সহজ করে। শুষ্ক আবহাওয়া বাতাসে ভাইরাস ছড়ানোতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ধুলাবালির পরিমাণ বেড়ে যায়। ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাস হাঁপানি রোগীর শ্বাসনালিকে সরু করে দেয়, ফলে হাঁপানির টান বাড়ে।

সর্দি-কাশি ও ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণ

ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশির শুরুতে গলা ব্যথা করে, গলায় খুশখুশ ভাব দেখা দেয়, নাক বন্ধ হয়ে যায়, নাক দিয়ে ক্রমাগত পানি ঝরতে থাকে এবং হাঁচি আসে। ক্রমান্বয়ে মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। হালকা জ্বর ও শুকনা কাশিও হতে পারে। এটা মূলত শ্বাসতন্ত্রের ওপরের অংশের রোগ এবং ৫-১০ দিনের মধ্যে নিজ থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাশি কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা মূলত ফুসফুসের রোগ এবং এ ক্ষেত্রে জ্বর ও কাশিটা খুব বেশি হয়। ঠান্ডার অন্যান্য উপসর্গ ছাড়াও এ ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এ ছাড়া ভাইরাসে আক্রান্ত দেহের দুর্বলতার সুযোগে অনেক সময় ব্যাকটেরিয়াও আক্রমণ করে থাকে। বিশেষ করে নাকের সর্দি যদি খুব ঘন হয় বা কাশির সঙ্গে হলুদাভ কফ আসতে থাকে, তবে তা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণকেই নির্দেশ করে। শীতের সুযোগে শুধু ফুসফুস নয়—সাইনাস, কান ও টনসিলের প্রদাহও বাড়ে।

প্রতি শীত মৌসুমে প্রায় প্রত্যেকেরই এসব উপসর্গের সঙ্গে কমবেশি পরিচয় হয়। তবে এসব রোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নবজাতক, শিশু, বৃদ্ধ, হাঁপানি রোগী ও ধূমপায়ীদের।

ঠান্ডা ও হাঁপানি প্রতিরোধে করণীয়

  • প্রয়োজনমতো গরম কাপড় পরা; বিশেষ করে তীব্র শীতের সময় কান-ঢাকা টুপি পরা এবং গলায় মাফলার ব্যবহার করা।
  • ঠান্ডা খাবার ও পানীয় পরিহার করা।
  • তাজা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা, যা দেহকে সতেজ রাখবে এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করবে।
  • মাঝেমধ্যে হালকা গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করা।
  • হাত ধোয়ার অভ্যাস করা; বিশেষ করে চোখ বা নাক মোছার পরপর হাত ধোয়া।
  • ধুলাবালি এড়িয়ে চলা।
  • ধূমপান পরিহার করা।
  • ঘরের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ না রেখে মুক্ত ও নির্মল বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।
  • প্রয়োজনে ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়া; বিশেষ করে হাঁপানি বা দীর্ঘদিনের কাশির রোগীদের জন্য এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের জন্য এটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
  • হাঁপানির রোগীরা শীত শুরুর আগেই চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রতিরোধমূলক ইনহেলার বা অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।

ঠান্ডা লেগে গেলে

যদি প্রতিরোধের চেষ্টা সত্ত্বেও সর্দি-কাশি দেখা দেয়, তবু প্রতিরোধের উপায়গুলো চালিয়ে যেতে হবে। এটা শুধু রোগের তীব্রতাকে কমাবে না, রোগের বিস্তারও কমাবে। অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। পাশাপাশি দেশজ ওষুধ যেমন—মধু, আদা, তুলসীপাতা, কালিজিরা ইত্যাদি রোগের উপসর্গকে কমাতে সাহায্য করবে।
এ ছাড়া রোগ যাতে অন্যদের আক্রান্ত করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আরোগ্য না হওয়া পর্যন্ত বাসায় থাকাই ভালো। বিশেষ করে স্কুলের ছাত্রছাত্রী যারা আক্রান্ত, তাদের অবশ্যই বাসায় রাখতে হবে। নেহায়েত বাইরে যেতে হলে মাস্ক ব্যবহার করা ভালো।

শীতে অন্যান্য রোগ

কাশির মতো প্রকট না হলেও শীতে আরও অনেক রোগেরই প্রকোপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা শীতে বাড়তে পারে। মূলত বয়স্কদেরই এ সমস্যা হয়। শীতের শুষ্কতায় অনেকের ত্বক ফেটে যায় এবং চর্মরোগ দেখা দেয়।
তীব্র শীতে অনেকের হাতের আঙুল নীল হয়ে যায়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় রক্তচাপ বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে যদি ঠান্ডার ওষুধে সিউডো এফেড্রিন বা ফিনাইলেফ্রিন থাকে, তবে তা-ও রক্তচাপ বাড়ায়। শীত খুব তীব্র হলে হূদযন্ত্রের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে।
শীতের আরেকটি মারাত্মক সমস্যা হাইপোথার্মিয়া, অর্থাৎ শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমে যাওয়া (৯৫০ ফারেনহাইটের নিচে), যা মৃত্যু ঘটাতে পারে। মূলত যারা পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র কিনতে পারে না এবং শিশু ও বয়োবৃদ্ধ—যাঁরা নিজেদের যত্ন নিতে অপারগ, তাঁরাই এর শিকার।

এ বি এম আব্দুল্লাহ
অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ; ডিন, মেডিসিন অনুষদ
বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

আমাদের চারপাশে প্রচলিত প্রতীকের জানা অজানা তথ্য

আমাদের প্রতিদিনের চলার পথে আমরা অনেক প্রতীক বা চিহ্নের মুখোমুখি হই। অধিকাংশ প্রতীক বা চিহ্নের সৃষ্টির কারণ এবং অর্থ আমাদের অজানা। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এসব প্রতীক একদিকে যেমন অতীতের স্মারক বহন করে তেমনি বর্তমান কালেও এসবের ব্যবহার আমাদের জীবনে প্রভাব বিস্তার করে আছে। তেমনি কিছু প্রতীক বা চিহ্ন নিয়েই চারপাশের আজকের এই আয়োজন। চলুন ঘুরে আসি জানা অজানা সেই সাংকেতিক অধ্যায় থেকে।

অ্যাস্প্লিপিয়াসের লাঠি

the-Rod-of-Asclepius

পৌরাণিক কাহিনী থেকে জানা যায় দেবতা অ্যাপোলো এবং রাজকুমারী কোরোনিসের পুত্র অ্যাস্প্লিপিয়াস গ্রীক মেডিসিনের দেবতা ছিলেন। তাঁর মানুষকে সুস্থ করা এমনকি মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার ক্ষমতাও ছিল। আর প্রাচীন গ্রীকরা সাপকে পবিত্র হিসাবে মনে করতো তাই অ্যাস্প্লিপিয়াসের লাঠিটি সাপের চারপাশে আটকে থাকা সাপের প্রতীক বর্তমানেও চিকিৎসা সেবার সাথে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মাল্টিস ক্রস

multicross

মাল্টিস ক্রস প্রতীকটি মাল্টীয় দ্বীপপুঞ্জের মাল্টা নাইটস এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। ১৫৩০ থেকে ১৬৯৮ সাল পর্যন্ত মাল্টা নাইটসদের অস্তিত্ব বিরাজমান ছিল। মাল্টিস ক্রসের আটটি বিন্দু মাল্টা নাইটদের আটটি অঙ্গীকারকে নির্দেশ করে। আটটি অঙ্গীকার হচ্ছে – ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা, সদা সত্যে সঙ্গে বাস করা, বিশ্বাস অটুট রাখা, নম্রতার সাথে শুভেচ্ছা জানানো, দয়াবান হওয়া, সুখী ও আন্তরিক হওয়া, একজনের পাপে অন্যজন অনুতাপ করা এবং নিপীড়ন সহ্য করা।

নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক

Trade-Mark

আমরা সবচেয়ে বেশি যে লোগো দেখে অভ্যস্ত তা হচ্ছে কোন নামের পাশে উপরের কোণায় একটি বৃত্তের মধ্যে R লিখা। আর এর মানে হল উক্ত নাম বা লোগো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতৃক অনুমোদিত ও নিবন্ধিত একটি ট্রেডমার্ক।

হাতুড়ি ও কাস্তে

communism

সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতীকের মধ্যে হাতুড়ি ও কাস্তে বহুল প্রচলিত একটি প্রতীক। বর্তমানে এই হাতুড়ি এবং কাস্তে সারা বিশ্বে শ্রমিক-কৃষক শ্রেনীর প্রতিনিধিত্বের স্মারক হিসাবে আবির্ভুত হয়েছে। তবে ইউরোপীয়ান ধর্মীয় মতবাদ অনুসারে হাতুড়ি আক্রমণাত্মক পুরুষ এবং কাস্তে মৃত্যুর প্রতিনিধিত্ব করে।

প্রবেশের চিহ্ন

disable

হুইলচেয়ারে বসা একজন মানুষের প্রতিকৃতি ব্যবহার করে ১৯৬৮ সালে সুসানে কইফোয়েড এই প্রতীকটি নকশা করেন। যা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য উন্নত প্রবেশ পথ নির্দেশ করতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বর্তমানে অন্যান্য শারীরিক অক্ষমতা নির্দেশ করতেও এই প্রতীক ব্যবহার করা হয়।

পাওয়ার প্রতীক

power-button

শুরুতে সুইচের এক প্রান্তে অন এবং অন্য প্রান্তে অফ লেখা থাকলেও পরবর্তীতে সুইচের অন/অফ শব্দগুলোকে ১ এবং ০ প্রকাশ করা শুরু হয়। আর শুধুমাত্র একটি পাওয়ার বোতামে অন বা অফ প্রকাশ করতে ১ এবং ০ একে অপরের উপর আরোপিত হওয়ার এই প্রতীক বিপুল পরিচিতি লাভ করে।

গোলাপী ফিতে

pink-ribbon

আন্তর্জাতিক ভাবে ১৯৭৯ সাল থেকে স্তন ক্যান্সারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই গোলাপী ফিতে নারীদের স্বাস্থ্য, জীবনীশক্তি এবং নারীর ক্ষমতায়নের স্বরূপ প্রকাশ করে।

ব্লুটুথ প্রতীক

bluetooth

প্রাচীন ডেনমার্কের শাসক হেরাল্ড ব্ল্যাটান্ড ব্লুবেরী ফলের প্রতি বিশেষ ভালোবাসার জন্য ‘দ্য ব্লু টুথ’ নামে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানের ব্লুটুথ প্রতীকটি মূলত দুটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ানের বর্ণমালার অক্ষরের সমন্বয়ে গঠিত বি অক্ষর রাজা হেরাল্ড ব্ল্যাটান্ড নামের আদ্যক্ষর এবং এটিই বর্তমানের বহুল প্রচলিত ব্লুটুথের প্রতীক।

বহির্গমন চিহ্ন

Entry

বহির্গমন চিহ্ন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রতীক। সাধারণত এই চিহ্নটি জরুরী অবস্থায় বাহিরে যাওয়ার পথ নির্দেশ করে। তাছাড়া ১৯৮৫ সালে আন্তর্জাতিক ভাবে ট্রাফিক লাইটে সবুজ আলোয় ‘গমন’ নির্দেশ করতে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

মাথার খুলি এবং ক্রস কঙ্কাল

Danger

একটি মানব মাথার খুলির নিচে ক্রসের ন্যায় রাখা দুটি কঙ্কাল দ্বারা তৈরি এই প্রতীক মধ্যযুগে মৃত্যুর প্রকাশ করতে ব্যবহার করা হতো। পরবর্তীতে এটি জলদস্যুদের পতাকায় ব্যবহার শুরু হয়, আর বর্তমানে এই চিহ্ন বিষাক্ত বা বিপজ্জনক বুঝাতে সতর্কতামূলক নির্দেশনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

চেক বা টিক চিহ্ন

check-right

কোন কিছু সঠিকভাবে যাচাই করা বা নিশ্চিত করা হয়েছে এমন প্রকাশ করতেই চেক বা ঠিক চিহ্নের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের সময় থেকে ঠিক চিহ্নের ব্যবহার শুরু হয় বলে মনে করা হয়। আবার অনেকে মনে করেন veritas যার অর্থ ‘সঠিক’ এবং এই শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ ‘V’ দ্রুততার সাথে লিখতে লিখতে বর্তমান ঠিক বা চেক চিহ্নের আবির্ভাব ঘটে।

হার্ট চিহ্ন

heart

হার্ট চিহ্ন বর্তমানে ভালোবাসা, আবেগ এবং সম্পর্ক প্রকাশের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ক্রিসেন্ট

crescent

ইসলামিক কোন কিছু নির্দেশ করতে ক্রিসেন্ট চিহ্নের ব্যাপক দেখা গেলেও এই চিহ্নের সাথে কোন একক ধর্মের সংশ্লিষ্টতা নেই। অন্যান্য ধর্মের প্রতীকেও এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। বলা যায় মানব ইতিহাসের প্রাচীনতম প্রতীকের মধ্যে ক্রিসেন্ট অন্যতম।

ভি-চিহ্ন

v-sign-peace

হাতের তর্জনী এবং মধ্যম আঙ্গুল দ্বারা প্রকাশিত ভি-চিহ্ন শান্তি, বিজয় এবং সাফল্য প্রকাশে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রতীক।

স্বস্তিকা চিহ্ন

Sostika

পশ্চাত্য বিশ্বের স্বস্তিকা চিহ্ন ফ্যাসিবাদের সমার্থক জার্মানির নাৎসি বাহিনীর প্রতীক হিসাবে পরিচিত। কিন্তু হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মাবলম্বিরা হাজার বছর ধরে স্বস্তিকা চিহ্ন কল্যানের প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করে চলছে।

পুনর্ব্যবহার প্রতীক

recycle

১৯৭০ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম আর্থ দিবসে পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্যাল প্রতীকটির জন্ম হয়। পরিবেশের সাথে সংশ্লিষ্ট শিল্প এবং দ্রব্য পুনর্ব্যবহার যোগ্য কিনা তা বুঝাতে এই প্রতীক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

হাসির প্রতীক

smily

১৯৭০ সালে প্রথম হাসির প্রতীক বা স্মাইলি তৈরি করা হয়। একটি নিখুঁত বৃত্তের মধ্যে একটি হাসিমাখা মুখ, দুটি চোখ এবং সূর্য দ্বারা অনুপ্রাণিত হলুদ পটভূমি এই প্রতীককে দিয়েছে অনন্যতা।

পুরুষের প্রতীক

man

এই চিহ্নটি মঙ্গলের প্রতীক হিসাবেও সুপরিচিত। মঙ্গলগ্রহ রোমান দেবতার যুদ্ধের ঢাল এবং বর্শার অস্তিত্ব প্রকাশ করে।

শান্তির প্রতীক

peace

১৯৫৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ১ তারিখে পরমাণু যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরাসরি অ্যাকশন কমিটির লোগো হিসাবে শান্তিরক্ষী জেরাল্ড হার্বার্ট হল্টম এই শান্তির প্রতীক টি ডিজাইন করেন। ১৯৬০ দশকে হিপ্পি সম্প্রদায় প্রতীকটি গ্রহণ করে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় করে তুলে।

নারীর প্রতীক

woman

জ্যোতির্বিদ্যায় শুক্র গ্রহ বুঝাতে এবং নারীদের প্রতিনিধিত্ব প্রকাশ করতে এই প্রতীক ব্যবহার করা হয়। এই প্রতীকের বৃত্ত মহাবিশ্ব এবং নারীদের গর্ভ প্রকাশ করে। বৃত্তের নীচে অবস্থিত ক্রস প্রেমঅবস্থা নির্দেশ করে।

ওকে চিহ্ন

ok

ওকে বা ঠিক আছে চিহ্নটি দেশে দেশে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওকে চিহ্নটি কোন কিছু বা কেউ ঠিক আছে বুঝাতে ব্যবহৃত হলেও কিছু ইউরোপীয় দেশে এটি আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি হিসেবে মনে করা হয়। আবার ভূমধ্যসাগরীয় এবং দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলিতে এই চিহ্নটি মলদ্বারকে প্রতীকী নির্দেশ করে।

পাজল রিবন বা ধাঁধাঁ ফিতে

pazle-rebbon

ধাঁধা ফিতে ১৯৯৯ সাল থেকে অটিজম সচেতনতার একটি সর্বজনীন প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যেমন শারীরিক জটিলতায় থাকে তেমনি এই জটিলতাকে এই প্রতীকে প্রতিফলিত করা হয়েছে। প্রতীকের বিভিন্ন রং ও আকার মানুষ এবং পরিবারগুলির বৈচিত্র্যকে নির্দেশ করে।

(লিস্টটোয়েন্টি ফাইভ থেকে অনুদিত)

বিশ্বের সব চেয়ে দামী ১০ মোবাইল ফোন

বর্তমানের এই প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে মোবাইল ফোন ছাড়া একটি দিনের কথা ভাবা সত্যিই অকল্পনীয়। আবার প্রত্যেকের হাতে হাতে থাকা এই মোবাইল ফোনগুলোই হয়ে উঠছে ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি উপাদান। তাই স্টাইল এবং শৈখিনতার প্রতীক হয়ে উঠা নামীদামী ব্র্যান্ডের ফোনের দিকে মানুষের আগ্রহ অনেক। এছাড়া বেশকিছু মোবাইল ফোন রয়েছে যেগুলোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। যেসব মানুষের কাছে অর্থ কোন বড় ব্যাপার নয় তেমনি বিলাসী কিছু মানুষই এসব ফোনের ক্রেতা। কারণ তাদের কাছে এইসব মোবাইল তাদের ঐশ্বর্য দেখানোর একটি উপায় মাত্র। আমাদের আজকের আয়োজন পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান ১০ টি মোবাইল ফোন নিয়ে। চলুন ঐশ্বর্যে মোড়া দুনিয়া থেকে ঘুরে আসি কিছুটা সময়।

১০. ভার্তু সিগনেচার ডায়মন্ড

vertu-signature-diamond

মূলত ভার্তু কোম্পানি দামী মোবাইল ফোন তৈরির জন্য বিখ্যাত। প্লাটিনাম দিয়ে তৈরি ভার্তু সিগনেচার ডায়মন্ড ফোনটি পুরোপুরি হাতে অ্যাসেম্বল করা হয়েছে। ফোনটির ডিজাইনে ২০০ টি হিরা বসানো রয়েছে। ভার্তু সিগনেচার ডায়মন্ড ফোনটি মাত্র দাম ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার।

৯. আইফোন প্রিন্সেস প্লাস

iPhone-Princess-Plus

অস্ট্রিয়ার প্রখ্যাত ডিজাইনার পিটার অ্যালোয়জঁ সোনায় মোড়ানো এই আইফোন প্রিন্সেস প্লাস ফোনটির ডিজাইন করেন। সোনা ছাড়াও এই ফোনটিতে ১৮০ টি হিরা বিশেষ প্রক্রিয়ার বসানো রয়েছে। এই ফোনটির কিনতে মাত্র ১ লক্ষ ৭৬ হাজার মার্কিন ডলার গুনতে হবে।

৮. ব্ল্যাকডায়মন্ড ভিআইপিএন স্মার্টফোন

black-diamond-vipn

সোনি এরিক্সন ব্র্যান্ডের এই ফোনটি ডিজাই করেন জারেন গোহ। এতে ব্যবহার করা হয়েছে অর্গ্যানিক এলইডি স্ক্রিন, মিরর ডিটেইলিং এবং পলিকারবোনেট মিরর। ব্ল্যাকডায়মন্ড ভিআইপিএন স্মার্টফোনের সামনে ও পেছনে দুইটি বড় হিরে বসানো হয়েছে। ফোনটির দাম রাখা হয়েছে ৩ লক্ষ মার্কিন ডলার।

৭. ভার্তু সিগনেচার কোবরা

Vertu-signature-cobra

ফোনটির নামের সাথে ডিজাইনের মিল রেখেছেন প্রখ্যাত ফরাসী ডিজাইনার রত্নালঙ্কার বখেরোঁ। সাপের দুই চোখে পান্না ব্যবহার করা হয়েছে এছাড়া ৪৩৮টি চুনি দিয়ে মোড়ানো রয়েছে ভার্তু সিগনেচার কোবরা। মাত্র ৩ লক্ষ ১০ হাজার মার্কিন ডলার লাগবে এই ফোনটি কিনতে!

৬. গ্রেসো লাক্সোর লাস ভেগাস জ্যাকপট

gresso-luxor-las-vegas-jackpot

২০০৫ সালে সুইজারল্যান্ডে তৈরি ফোনটি মোড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৮০ গ্রাম স্বর্ণ। আর এর পেছনের কভারটি আফ্রিকান ব্ল্যাকউড দিয়ে তৈরি, যার কাঠ পৃথিবীতে সবচেয়ে দামী এবং ২০০ বছরের পুরাতন হয়ে থাকে। এছাড়াও ফোনের বোতামে নীলকান্ত মণি বসানো রয়েছে। গ্রেসো লাক্সোর লাস ভেগাস জ্যাকপট ফোনটি নিজের করে নিতে ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে।

৫. ডায়মন্ড ক্রিপ্টো স্মার্টফোন

diamond-crypto-smartphone

উইন্ডোজ সিই টেকনোলজিতে দশটি দুষ্পাপ্য নীল হিরা দিয়ে তৈরি ডায়মন্ড ক্রিপ্টো স্মার্টফোনের ডিজাইন করেছেন পিটার অ্যালয়জোঁ। ফোনটিতে সর্বমোট ৫০ টি হিরে রয়েছে। ফোনটি অপহরণ এবং প্রযুক্তিগত ব্ল্যাকমেইল থেকে সুরক্ষিত। আর চমৎকার ফোনটির দাম ১৩ লক্ষ মার্কিন ডলার।

৪. গোল্ডভিশ লে মিলিয়ন

goldvish-le-million

বিখ্যাত ডিজাইনার ইমানুয়েল গেট গোল্ডভিশ লে মিলিয়নের ডিজাইন করেন। ২০০৬ সালে ফ্রান্সে ফোনটি রেকর্ড পরিমাণ অর্থে বিক্রি হওয়ায় গিনিজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নেয়। ১৮ ক্যারেটের সাদা এবং ২০ ক্যারেটের VVS1হিরায় মোড়ানো ফোনটির দাম তেরো লক্ষ মার্কিন ডলারের বেশি।

৩. আইফোন ত্রিজি কিংস বাটন

kings-button-iPhone-3G

অস্ট্রিয়ার পিটার অ্যালয়জোঁ এর ডিজাইনে আইফোন ত্রিজি কিংস বাটন ফোনে ১৩৮ টি হিরের ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটির মূল্য রাখা হয়েছে ২৪ লক্ষ মার্কিন ডলার।

২. সুপ্রিম গোল্ড স্ট্রাইকার আইফোন ত্রিজি ৩২জিবি

gold-sticker-iPhone-3G-32-GB

২৭১ গ্রাম ওজনের সুপ্রিম গোল্ড স্ট্রাইকার আইফোন ত্রিজি ৩২জিবি ফোনের কেসটি ২২ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। হোম বোতামে ৭.১ ক্যারেটের ১টি হিরা ছাড়াও ফোনটির পর্দার চারপাশে ১ ক্যারেটের ৫৩ টি হিরে বসানো রয়েছে। ফোনটিতে কাশ্মীর গোল্ডের সাথে নুবাক-টপ গ্রেইন লেদারের আবরণ রয়েছে যা ফোনটিকে করেছে অনেক মজবুত। এছাড়া এই ফোনটি অ্যাপেল লোগোটিও হিরা দিয়ে তৈরি। ফোনটির দাম রাখা হয়েছে ৩২ লক্ষ মার্কিন ডলার!

১. ডায়মন্ড রোজ আইফোন ৪ ৩২জিবি

diamond-rose-iPhone-32-GB

সবচেয়ে দামি ফোনের তালিকার এক নম্বরে থাকা ফোনটির ডিজাইনার স্টুয়ার্ট হিউজ। ডায়মন্ড রোজ আইফোন ৪ ৩২জিবি ফোনে ১০০ ক্যারেটের গোলাপি ও সাদা রঙয়ের ৫০০টি হিরে বসানো রয়েছে। এছাড়া অ্যাপেলের লোগোতে আলাদা ৫৩টি হিরা বসানো হয়েছে। আর ন্যাভিগেশন বাটনটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে প্লাটিনাম এবং ৮ ও ৭.৪ ক্যারেটের গোলাপি হিরে। পৃথিবীর সবচেয়ে দামী এই ফোনের জন্য আপনাকে গুনতে হবে মাত্র ৮০ লক্ষ মার্কিন ডলার!

টুথপেস্ট এর কিছু ব্যতিক্রমী ব্যবহার

টুথপেস্ট নিত্যদিন ব্যবহারের একটি অতিপ্রয়োজনীয় বস্তু। দাঁত পরিষ্কারের জন্য টুথপেস্ট ব্যবহৃত হলেও গৃহস্থালির দৈনন্দিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে রয়েছে টুথপেস্টের ব্যতিক্রমী কিছু ব্যবহার। চলুন দৈনন্দিন কাজকে সহজ করতে টুথপেস্টের কিছু ব্যতিক্রমী ব্যবহার জেনে নিই।

পোশাকে কালির দাগ

clothes

পোশাক থেকে কলমের কালির দাগ দূর করতে টুথপেস্ট বেশ কার্যকরী। কালিযুক্ত স্থানে টুথপেস্ট লাগিয়ে আস্তে আস্তে ঘষে কলমের কালির দাগ তুলে ফেলুন।

দেয়াল রং পেন্সিলের দাগ

ছোট বাচ্চারা যদি আপনার পছন্দের দেয়ালে রং পেন্সিলের আকাবুকি দিয়ে ভরিয়ে তোলে তবে দেয়ালের দাগের ওপর ব্রাশ দিয়ে টুথপেস্ট ঘষুন, দেখবেন দাগ উঠতে শুরু করবে। এরপর সামান্য ভেজা কাপড় বা টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে ফেলুন।

কাঠের আসবাবে পানির দাগ

water-mark-on-wood

কাঠের তৈরি আসবাপত্রে পানির এক ধরণের দাগ পড়ে আর সেই দাগ তুলতে দাগের উপর টুথপেস্ট মেখে কাপড় দিয়ে ঘষুন। আপনার আসবাব থেকে দাগ উঠে যাবে।

পোশাকে লিপস্টিকের দাগ

lipstick

লিপস্টিকের দাগের ওপর হালকা টুথপেস্ট লাগান, এরপর পুরনো ব্রাশ দিয়ে আলতো করে ঘষুন। তারপর দাগ উঠে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে কাপড় ধুয়ে ফেলুন।

ইস্ত্রি পরিষ্কার করতে

কাপড় ইস্ত্রি করতে করতে ইস্ত্রিতে এক ধরণের দাগ পড়ে আর এই দাগ তুলতে টুতপেস্টের জুড়ি মেলা ভার। ইস্ত্রির এই দাগ পরিষ্কার করতে ইস্ত্রির তলায় টুথপেস্ট মেখে পেপার টাওয়েল দিয়ে ঘষে একটা তোয়ালে ভিজিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

গাড়ির হেডলাইট

গাড়ির হেডলাইটের পরিষ্কার এবং ঝকঝকে করতে হেডলাইটের কাচের উপর টুথপেস্ট দিয়ে কাপড় এবং পানি দিয়ে মুছে নিন।

বয়ামের গন্ধ

jar

অনেক সময় বয়াম বা জারের ভেতর এক ধরনের ভ্যাপসা গন্ধের সৃষ্টি হয়। এই ভ্যাপসা গন্ধ দূর করতে বয়াম বা জারের ভেতরের অংশে টুতপেস্ট লাগিয়ে পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন।

গয়না ঝকঝকে করতে

jewelry-toothpaste

পুরনো গয়নায় উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে টুথপেস্টের সাথে অল্প পরিমাণ পানি মিশিয়ে পুরনো ব্রাশ দিয়ে গয়নাগুলো ঘষে পরিষ্কার করতে পারেন।

কাঁচের জানালা বা আয়না পরিষ্কার করতে

কাঁচের জানালা বা আয়নার গ্লাস পরিষ্কার ও তকতকে করার জন্য কাঁচে টুথপেস্ট দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন, কাঁচ চকচক করবে।

গ্রিন টি বা সবুজ চা এর গুনাগুণ – যা জানা দরকার

বাঙালি জীবনযাত্রায় পানীয় হিসাবে চা অবিচ্ছেদ্য ভাবে মিশে আছে। এই উপমহাদেশে বৃটিশদের হাত ধরে ১৮০০ শতকে চায়ের আগমণ ঘটলেও ১৬০০ শতকে চীনে বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে অনেক রকম চা প্রচলিত আছে এর মধ্যে গ্রিন টি বা সবুজ চা মানব দেহের জন্য বিশেষ উপকারী হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। গ্রিন টির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, বি, বি৫, ডি, ই, সি, ই, এইচ সেলেনিয়াম, ক্রোমিয়াম, জিংক, ক্যাফেইন ও মেঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান৷ ধারণা করা হয় প্রায় ৪ হাজার বছর আগে মাথা ব্যথার ওষুধ হিসেবে চীনে গ্রীন টি এর ব্যবহার শুরু হয়। গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে গ্রিন টি বা সবুজ চা পানে মহিলাদের যকৃত, পাকস্থলী, স্তন, মলাশয় এবং কণ্ঠনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাধর্মী নিবন্ধের আলোকে গ্রিন টি বা সবুজ চায়ের বহুমাত্রিক উপকারীতা নিয়ে চারপাশে’র আজকের এই আয়োজন।

benefits-of-green-tea4

  • সবুজ চা মেটাবলিসম বাড়িয়ে ফ্যাট বার্নে সহায়তা করে যা ওজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
  • গ্রীন টি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়
  • কিডনি রোগের জন্য গ্রিন টি বিশেষভাবে উপকারী।
  • রক্তে কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমাতে গ্রিন টি একটি যাদুকরী পানীয়।
  • নিয়মিত গ্রীন টি পানে ধমনী শিথিল হয় এবং দেহে রক্ত প্রবাহের মাত্রা ভাল থাকে।
  • সবুজ চায়ের লিকার দাঁতের ক্ষয় রোধ এবং মাড়িকে মজবুত করে।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।
  • আল্ট্রা-ভিওলেট রশ্মী ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
  • শরীরের কোন স্থানে কেটে গেলে আক্রান্ত অংশে লিকার লাগালে দ্রুত রক্ত পড়া বন্ধ হয়।
  • ক্ষতিকর পোকামাকড় কামড়ালে আক্রান্ত স্থান গ্রিন টির পাতায় মুড়ে দিলে দ্রুত আরাম অনুভূত হয়।

benefits-of-green-tea2

  • গ্রিন টি ত্বককে সহজে বুড়িয়ে যেতে দেয় না।
  • নিয়মিত সবুজ চা পানে ব্রন সমস্যা দূর হয়।
  • সবুজ চায়ে থাকা ভিটামিন সি আমাদের সর্দি কাশি প্রতিরোধ করে।
  • গ্রীন টি epigallocatechin-3-gallate (EGCG) এলার্জি নিরাময়ে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।
  • এই চা নিয়মিত পান করলে মানব দেহের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়৷
  • এটি শরীরে এনার্জি এবং স্ট্যামিনা ধরে রাখে।
  • সবুজ চা পান আমাদের হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
  • দেহের পানিশূন্যতা রোধ করতে পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
  • নিয়মিত সবুজ চা পানে শ্বাসতন্ত্রের মাসল রিল্যাক্স হয় এবং এতে এজমার সমস্যা প্রশমিত হয়।

benefits-of-green-tea3

গ্রিন টি বা সবুজ চায়ের অনেক উপকারীতা থাকলেও মাত্রাতিরিক্ত পানে কিছু অপকারীতাও রয়েছে, এবার সেগুলি জেনে নেয়া যাক।

  • অতিরিক্ত সবুজ চা পানের কিডনি এবং লিভারের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
  • অতিরিক্ত গ্রিন টি পান করলে মানব দেহে প্রয়োজনীয় লবন, পটাশিয়াম এবং মিনারেল হ্রাস পায়।

সুস্বাস্থ্যের জন্য সবুজ চা একটি কার্যকরী উপাদান। আমাদের অনেকের মাত্রাতিরিক্ত চা পান করার অভ্যাস রয়েছে যা অবশ্যই পরিহার করা উচিত। আর যেহেতু মাত্রাতিরিক্ত চা পান ক্ষতির কারণ সেহেতু সবুজ চা বা গ্রিন টি পানের পরিপূর্ণ সুফল পেতে দিনে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ কাপের বেশী পান করা থেকে বিরত থাকুন।

শরীরে কোথায় তিল থাকলে কি হয় : বিশ্বাস ও কুসংস্কার

প্রত্যেকের মানুষের শরীরেই কোথাও না কোথাও কম বেশি তিল লক্ষ্য করা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, শরীরের ত্বকের একই স্থানে অনেক কোষের সৃষ্টি হলে তিলের জন্ম হয়। তবে যুগ যুগ ধরে দেহের বিভিন্ন স্থানে তিলের উপস্থিতিকে জ্যোতিষ শাস্ত্র মানুষের ভাগ্যের ভালো-মন্দের পূর্বাভাস হিসাবে ব্যাখ্যা করেন। অনেকে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যাকে গ্রহণ করলেও তিল নিয়ে জ্যোতিষ শাস্ত্রের বক্তব্য বিশ্বাসীদের সংখ্যাও কম নয়। চলুন জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে জেনে নেয়া যাক দেহের কোথায় তিল থাকলে কি হয়।

ভিডিওঃ দেহের কোথায় তিল থাকলে কি হয়

কপাল
কপালের মাঝামাঝি অংশে তিল থাকলে বুদ্ধিমান ও চালাক মনে করা হয়। আর কপালের ডানদিকে তিল থাকলে ব্যক্তিটি সঙ্গী হিসাবে ভালো। এছাড়া কপালের বামদিকে তিলের উপস্থিতিকে সৌভাগ্যবানের প্রতীক ধরা হয়।

থুতনি
জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে যাদের থুতনিতে তিল রয়েছে তারা অত্যন্ত যত্নবান, ভ্রমণ পাগল ও আবেগপ্রবণ। তবে তিলের অবস্থান যদি থুতনির ডানদিকে হয় তবে ব্যক্তি যুক্তিবাদী হন আর বামদিকে থাকলে স্পষ্টভাষী।

গাল
গালে তিল উপস্থিতি মেধাবী, চৌকশ ও ক্রীড়াবিদ হওয়ার লক্ষণ। এছাড়া গালে তিল ধারণ করা ব্যক্তিরা বেশ রগচটা হয়ে থাকেন।

নাক
যাদের নাকে তিল রয়েছে এরা বেশ বন্ধুসুলভ ও পরিশ্রমী হয়ে থাকেন এবং এদের মধ্যে আত্মসম্মানবোধের অনুভূতি বেশ প্রবল। এছাড়া ডানদিকের গালে তিল অধিক যৌন চাহিদা নির্দেশ করে। তবে বামদিকের গালে যাদের তিল বলা হয়ে থাকে কিছু পেতে হলে এদের যোগ্যতা দিয়েই অর্জন করতে হবে।

ঠোঁট
যাদের ঠোঁটে তিল লক্ষ্য করা যায় এরা সাধারনত জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে ভাবতে বেশ নারাজ তবে এরা খেতে ও কথা বলতে বেশ পটু হয়ে থাকেন।

পেট
পেটে তিলের উপস্থিতি আধ্যাত্মিকতার লক্ষণ প্রকাশ করে। পেটের ডানদিকে তিল থাকলে অর্থভাগ্য বেশ শুভ হয় আর বামদিকে তিল ব্যক্তির হিংসার চিহ্ন নির্দেশ করে।

আরও পড়ুনঃ নাক ডাকার কারণ ও বন্ধ করার উপায়

বুক
যে মহিলার বুকে তিল রয়েছে এটি আদর্শ মা হবার লক্ষণ এবং এটি সন্তানের জীবনের সুখের চিহ্ন।

হাত
হাতে তিল থাকা ব্যক্তিরা অত্যন্ত দক্ষ এবং পরিশ্রমী হয়ে থাকেন এবং সাফল্য তাদের কাছে সহজেই ধরা দেয়।

পা
পায়ের তলায় তিল থাকা ব্যক্তি সাধারনত ভ্রমণ পাগল হয়ে থাকেন। এছাড়াও পায়ে তিল থাকা ব্যক্তি সহজে সমাজে সমাদৃত হন।

বিশেষ অঙ্গ
শরীরের বিশেষ অঙ্গ বা যৌনাঙ্গে তিল থাকলে তাকে ভালো ও সৎ মনে করা হয়। এছাড়া যৌনাঙ্গে তিল উত্তম জীবন ও যৌনসঙ্গীর লক্ষণ প্রকাশ করে।

ডাবের পানির গুনাগুণ : উপকারীতা ও অপকারীতা

সাধারণত আমরা গরমকালে তৃষ্ণা মেটাতে ডাবের পানি পান করে থাকি কিন্তু ডাবের পানির গুনাগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত নই। ডাবের পানিতে রয়েছে মানব শরীরের জন্য উপকারী অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাংগানিজ, জিংক এবং ম্যাগনেসিয়ামে পূর্ণ ডাবের পানি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ করে দেহের সুস্থতার স্থায়িত্ব বাড়ায়। চলুন জেনে নেয়া যাক খাবার খাওয়ার আগে পরে দিনের যেকোন সময় পান করা যায় এমন সুপেয় পানীয়ের উপকারীতা।

Benefit-of-Coconut-Water

১। ডাবের পানি নিয়মিত পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
২। ডাবের পানি শরীরে পানিশূন্যতা দূর করে দেহে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।
৩। ইউরিন ইনফেকশন দূর করে এবং কিডনির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৪। ডাবের পানি রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।
৫। ডাবের পানি ত্বকের তৈলাক্ততা, ব্রণ এবং রোদে পোড়া দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
৬। রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস করে।
৭। ডাবের পানি শরীরে বয়সের ছাপ পড়তে না দিয়ে তারুণ্য ধরে রাখে।
৮। দাঁতের মাড়ির রোগ এবং ঠান্ডা লাগা থেকে প্রতিরোধ করে এই যাদুকরী পানীয়।
৯। ক্লান্তি দূর করে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
১০। হজম ক্ষমতা বাড়ায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।
১১। ডাবের পানি পানে বুকের জ্বালাপোড়া বন্ধ হয়।

Benefit-of-Coconut-Water-(2)

প্রচলিত আছে তিনিই সবচেয়ে ভাল ডাক্তার যিনি ঔষুধের সাথে সাথে রোগীকে ঔষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলে দেন। যাদুকরী ডাবের পানির উপকারীতা বলে শেষ করা না গেলেও এর বেশকিছু অপকারীতা রয়েছে যা আমাদের অনেকেরই অজানা। ডাবের পানির উপকারীতা এবং অপকারীতা জেনে আমরা সহজেই এই প্রাকৃতিক পানীয়ের গুণাগুণকে করতে পারি আরো অর্থবহ এবং স্বাস্থ্যকর। চলুন জেনে নেই ডাবের পানির কিছু অপকারীতা।

১। ডাবের পানিতে চিনির পরিমাণ খুব কম থাকলেও এতে প্রচুর ক্যালোরি রয়েছে। তাই যারা ওজন কমাতে উদ্যোগ গ্রহণ করছেন তাদের ডাবের পানি এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম।
২। প্রতিদিন ডাবের পানি পান রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
৩। ডাবের পানিতে প্রচুর সোডিয়াম থাকে তাই অতিরিক্ত ডাবের পানি পান উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

যেকোন খাদ্য দ্রব্য অধিক গ্রহণ করলে তা মানবদেহের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় তাই ডাবের পানি পানের সুফল পেতে পরিমিত হারে দুই একদিন বিরতিতে গ্রহণ করা উচিত।

বাংলাদেশের জমিদার বাড়ি : ১০টি বিলাসবহুল ও দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ি

সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন জমিদারদের স্মৃতির সাক্ষী জমিদার বাড়ি দেখে একদিকে যেমন জমিদারদের শৌর্যবীর্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় অন্যদিকে ঐতিহ্যের অতল থেকে ঘুরে আসা যায় নিমিশেই। অতীতে সমস্ত জমিদার বাড়িই ছিল কম বেশী জাঁকজমক পূর্ণ কিন্তু বর্তমানে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে জমিদার বাড়িগুলোর সেই লাবণ্য আর নেই। আজ আমরা জানবো বর্তমান সময়েও জমিদারী আমলের সৌন্দর্য্য ধরে রাখা ১০টি দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ি সম্পর্কে। ইতিহাসের পাতায় এই দুর্দান্ত ভ্রমণে আপনাকে স্বাগতম।

১। মহেরা জমিদার বাড়ি

মহেরা জমিদার বাড়ি
Youtube: Explore Bangladesh

স্পেনের করডোভা নগরীর অনুকরণে তৈরী টাঙ্গাইলের মহেরা জমিদার বাড়ি ১৮৮০ দশকের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়। সুন্দর ও স্বযত্নে সংরক্ষিত এই জমিদার বাড়িতে রয়েছে বেশ কিছু লজ, কাছারিঘর, নায়েব সাহেবের ঘর, গোমস্তাদের ঘর এবং কয়েকটি পুকুর। রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী হওয়ায় মহেরা জমিদার বাড়িটি ভ্রমণ প্রেমী মানুষের কাছে অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। মহেরা জমিদার বাড়িতে ভ্রমণের আরো বিস্তারিত তথ্যের জন্য পড়ে দেখতে পারেনঃ মহেরা জমিদার বাড়ি ভ্রমণ গাইড

২। বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
ghurtechai.com

উনিশ শতকে নির্মিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। অনন্য নির্মাণশৈলী এবং কারুকার্য সম্পন্ন জমিদার বাড়িটি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ কতৃক রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ভ্রমণ সংক্রান্ত আরো তথ্য বিস্তারিত জানতে পড়ুনঃ বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ভ্রমণ গাইড

৩। উত্তরা গণভবন

উত্তরা গণভবন
Vaza12

নাটোর জেলার দিঘাপতিয়া রাজবাড়িই বর্তমানে উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত। ছোট বড় ১২ টি ভবন সমৃদ্ধ এই রাজবাড়ি চারদিক থেকে লেক এবং প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। বর্তমানে উত্তরা গণভবন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গস্থ স্থানীয় কার্যালয় ও বাসভবন হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

৪। ধনবাড়ী জমিদার বাড়ি বা নওয়াব প্যালেস

ধনবাড়ী জমিদার বাড়ি
বিদ্যুৎ খোশনবিশ

চাকচিক্য এবং নান্দনিক টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী জমিদার বাড়ি বা নওয়াব প্যালেস বর্তমানেও তার ঐতিহ্য ধরে রেখে চলেছে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র ঐতিহাসিক স্থাপনা যা বর্তমানে রিসোর্ট হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এখানে আগত অথিতিরা নবাবদের তৈজসপত্র ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে থাকেন। ধনবাড়ী জমিদার বাড়ি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সকল তথ্যের জন্য ঘুরে আসতে পারেন ধনবাড়ী জমিদার বাড়ি বা ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিল ভ্রমণ গাইড থেকে।

৫। শশী লজ

শশী লজ
Najmul Huda

বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মহারাজা শশীকান্ত আচার্যের শশী লজ বাড়িটি ময়মনসিংহের রাজবাড়ী হিসাবেও সমানভাবে পরিচিত। ঊনবিংশ শতকের শেষকালে নির্মিত এই শশী লজের নির্মাণ এবং মার্বেল পাথরের ব্যবহার বেশ আকর্ষণীয়। বর্তমানে শশী লজ মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শশী লজ ভ্রমণ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জানতে ভিজিট করুনঃ শশী লজ ভ্রমণ গাইড

৬। তাজহাট জমিদার বাড়ি

তাজহাট জমিদার বাড়ি
Nijhoomtours

রংপুরের তাজহাট গ্রামে অবস্থিত তাজহাট জমিদার বাড়ি দেখতে অনেকটা ঢাকার আহসান মঞ্জিলের মত। কিন্তু এর কারুকার্য এবং মার্বেল পাথরের ব্যবহার এই জমিদার বাড়িকে দিয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই তাজহাট রাজবাড়িতে বর্তমানে রংপুর জাদুঘর পরিচালিত হচ্ছে। তাজহাট জমিদার বাড়ির বিস্তারিত তথ্য এবং ভ্রমণ প্ল্যানের জন্য ভিজিট করুনঃ তাজহাট জমিদার বাড়ি

৭। মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি<
Mapio.net

১৮ শতকের শেষভাগে নির্মিত নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িটি প্রায় ৬২ বিঘা ভূমি জুড়ে বিস্তৃত। জমিদার বাড়িতে রয়েছে নাচঘর, আস্তাবল, মন্দির, ভাণ্ডার এবং কাচারি ঘর। সর্বমোট ৯৫ টি কক্ষ সমৃদ্ধ দ্বিতল এই জমিদার বাড়িতে বর্তমানে মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিচালিত হচ্ছে।

৮। শিতলাই জমিদার বাড়ি

শিতলাই জমিদার বাড়ি
poriborton.com

১৯ শতকের শুরুর দিকে পাবনার রাঘবপুরে ১৫ একর জায়গা জুড়ে ইন্দো-ইউরোপিয়ান স্থাপত্যশৈলীতে শিতলাই জমিদার বাড়ি নির্মাণ করা হয়। ৩০টি কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল এই জমিদার বাড়িতে বর্তমানে ইজারা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে EDRUC নামে একটি ড্রাগ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরি।

৯। পুঠিয়া রাজবাড়ী

পুঠিয়া রাজবাড়ী
onuvromon.com

চতুর্দিকে পরিখা পরিবেষ্টিত পুটিয়া রাজবাড়ি ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য কৌশলে নির্মিত। বর্তমানে জমিদারদের অন্য শরীকদের কোন স্থাপনা দৃশ্যমান না থাকলেও পুঠিয়া রাজবাড়ী এবং বেশ কিছু মন্দির এখনো তাদের সৌন্দর্য্য ধরে রেখেছে। ১৯ শতকে নির্মিত এই রাজবাড়ীতে বর্তমানে লস্করপুর ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

১০। বড় সরদার বাড়ি

বড় সরদার বাড়ি
Fahad Faisal

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে অবস্থিত প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়িটি ঈশা খাঁর জমিদার বাড়ি হিসাবেও সুপরিচিত। প্রায় ২৭ হাজার ৪০০ বর্গফুট আয়তনের দ্বিতল বড় সরদার বাড়িতে মোট ৮৫টি কক্ষ রয়েছে। নিপুন নকশা, টাইলস এবং মার্বেল পাথরের ব্যবহার এই জমিদার বাড়িকে করেছে অনন্য বৈশিষ্টে অতুলনীয়।

ঐতিহ্যের নিদর্শন জমিদার বাড়ি শুধু আমাদের ইতিহাসের সাথে পরিচয় ঘটায় না সেই সাথে আমাদের কৃষ্ঠি ও সাংস্কৃতিক জীবন বোধের ধারাবাহিক রূপরেখা প্রদান করে। সময়ের পালাবদলে আজ জমিদারি ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে কিন্তু চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন আপনার পছন্দের জমিদার বাড়ি থেকে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে আপনার কাটানো সময় ব্যর্থ হবে না এটা সুনিশ্চিত।

ফুল গাছের পরিচর্যা – বাগান বা টবে ফুল গাছের যত্ন

ফুল সবার কাছেই আকর্যনীয়। ফুলের রূপ আর সৌরভ মনকে প্রফুল্ল রাখে। পুষ্প প্রেমী মানুষেরা প্রায়ই বাগান বা টবে ফুলের চাষ করে থাকেন। ভালো ফুল ফোটাতে গাছের যেমন যত্নের প্রয়োজন তেমনি কোন সময়ে কি ফুল ভালো ফোটে তার সম্যক জ্ঞান থাকাও প্রয়োজন। যেমন বর্ষায় চাষ করলে ভালো হবে বেলি, জুঁই, চাঁপা, জিনিয়া, ছোট সূর্যমুখী, মালতীলতা ইত্যাদি অন্যদিকে শীতকালে গোলাপ, গাঁদা, ক্যামেলিয়া, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা। আর গ্রীষ্মকালে রজনীগন্ধা, সূর্যমুখী, গন্ধরাজ, মণিকুন্তলা। তবে যারা সারা বছর ফুলের জন্য বাগান করেন তারা লাগাতে পারেন সাদা কাঞ্চন, জবা, কামিনী, করবী, অলকানন্দা, জয়তী, নয়নতারা, সন্ধ্যামালতী বা সন্ধ্যামণি ইত্যাদি।

ফুল গাছের পরিচর্যা

অন্যান্য গাছ থেকে ফুল গাছের বেশি খাদ্য প্রয়োজন হয় আর সূর্যের আলো সকল ধরণের গাছের জন্যই খাদ্যের মূল উৎস। ফুল উৎপাদনে গাছের অনেক শক্তি ব্যায় হয় বলেই ফুল গাছের জন্য সূর্যের আলো বেশি দরকার হয়। তাই প্রতিদিন গড়ে ৭/৮ ঘণ্টা রোদ থাকে এমন জায়গায় থাকা ফুল গাছ অনেক বেশি ফুল দিতে সক্ষম। ফুলের গাছ ছাদে থাকলে পর্যাপ্ত রোদ পাবে আর বারান্দায় বা ঘরে থাকলে তা দক্ষিণ দিকের বারান্দায় বা জানালার পাশে রাখুন। কেননা দক্ষিণ আর পশ্চিম মুখী বারান্দায় বা জানালায় দিনের বেশির ভাগ সময় রোদ থাকে।

আপনার ফুল গাছের ধরণ অনুযায়ী সঠিক আকারের পাত্র নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে ফুল গাছের জন্য মাঝারি বা একটু বড় আকারের পাত্র বা টব উত্তম। তলানিতে ছিদ্র যুক্ত টব আবশ্যক যেন বাড়তি পানি জমে না থেকে বেড়িয়ে যায়। কেননে টবে পানি জমে থাকলে তা গাছের জন্য ক্ষতির কারণ। আর প্রয়জনে টব পরিবর্তন ও জরুরী। যখন দেখবেন গাছের শিকড় তলানির ছিদ্র দিয়ে বাইরে বেড়িয়ে আসবে তখন তা পরিবর্তন করে ফুল গাছ অন্য টবে প্রতিস্থাপন করে নিবেন।

পড়ুন – টবে গাছ লাগানোর নিয়ম নীতি

বাগানের বা টবের ফুল গাছ থেকে বেশি ফুল পেতে আপনাকে অবশ্যই মাটির দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। মাটির পিএইচ এর সঠিক মাত্রা আর উর্বরতা ফুল গাছের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই টবে চারা রোপণের পূর্বে দোঁআশ মাটির সঙ্গে তিন ভাগের এক ভাগ জৈব সার মিশিয়ে মাটি প্রস্তুত করে নিন। গাছের গোড়ার আগাছা সব সময় পরিস্কার করে রাখুন আর নিড়ানী দিয়ে গোড়ার মাটি মাঝে-মধ্যে আলগা করে দিবেন। মাটির আদ্রতা ঠিক রাখতে নিয়মত সঠিক পরিমানে পানি দিতে ভুল করবেন না।

প্রকৃতিপ্রেমি মানুষেরা রাসায়নিক সারের চেয়ে জৈব সার ব্যবহারেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আজকাল প্যাকেটজাত জৈব সার পাওয়া যায় তবে আপনি চাইলে বাড়িতে নিজের হাতে জৈব সার বানাতে পারেন। এজন্য আপনি ব্যবহার করতে পারেন সাধারন কিছু উপকরণ যেমন, ডিমের খোসা, কলার খোসা, পরিত্যাক্ত টি ব্যাগ ইত্যাদি। সবগুলো উপকরণ একসাথে মিশিয়ে পেষ্ট করে নিন, আপনার কাছে মিকচার মেশিন না থাকলে ব্লেন্ডারেই করতে পারেন। উপাদান গুলো পেষ্ট করে তা রোদে শুকিয়ে নিন এবং বিভিন্ন ধাপে পরিমান মত ব্যবহার করতে পারেন। আর বিশেষ করে চিনি মেশানোর আগেই ব্যবহৃত চায়ের পাতি সংগ্রহ করবেন কেননা পাতিতে লেগে থাকা চিনি বিভিন্ন পোকাকে আকৃষ্ট করবে।

আরও পড়ুন – বাড়ির ছাদে ফুলের বাগান – প্রস্তুতি, যত্ন ও করণীয়

গাছের ফুল ও পাতা শুকিয়ে গেলে তা খুব সাবধানে কেটে ফেলবেন। এতে করে গাছের অতিরিক্ত শক্তি ব্যায় হবেনা আর পরবর্তি ফুল গুলো সঠিক মাত্রায় পুষ্টি পাবে। কোন ডাল মরে বা ভেংগে গেলে তাও কেটে ফেলাই উত্তম। মাঝে মাঝে গাছের পাতায় সাদা সাদা ছোপ পরে এগুলো একধরণের ছত্রাক। এমতাবস্তায় পানিতে সাবানের গুড়ো মিশিয়ে নরম সূতি কাপড় দিয়ে মুছে দিলে তা নিরাময় হয়ে যাবে। আর কিছু সাবানের গুড়ো টবের চারপাশে ছিটিয়ে রাখতে পারেন এতে করে পিপড়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে আপনার ফুল গাছ।

আশাকরি উপরোক্ত তথ্যগুলো আপনার ফুল গাছের যত্ন নিতে সহায়তা করবে। ছাদ বাগান বা টবে বিভিন্ন ধরণের ফুল, ফল ও ঘর সাজানোর গাছের যত্ন পরিচর্যা ও নিয়ম কানুন জানতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন। ধন্যবাদ!

বাসার ছাদে বারান্দার টবে ঔষধি গাছ

অনেকেই শখ করে টবে নানাবিধ ফুলের বাহারী গাছ লাগিয়ে থাকেন। কিন্তু বুদ্ধি করে ঘর সাজানোর সাথে সাথে যদি এর থেকে কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় তবে বিষয় টি আরো আনন্দের হওয়াই বাঞ্ছনীয়। আপনারা যারা বাসার বারান্দায় বা ছাদে বিভিন্ন ধরনের ফুল বা ঘরের শোভা বর্ধনকারী গাছ লাগিয়ে থাকেন তারা এগুলোর পাশাপাশি টবে লাগাতে পারেন বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছ। সময়ে অসময়ে এই সকল ঔষধি গাছ গুলো আপনার অনেক উপকারে আসবে। আজকে আমরা টবে ঔষধি গাছ লাগানোর উপকারিতা ও খুঁটিনাটি বিষয় আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি।

ল্যাভেন্ডার

বারান্দার টবে ঔষধি গাছ

মন মাতানো সৌরভ আর নজর কাড়া সৌন্দর্যের জন্য ল্যাভেন্ডার বরাবরই সকলের কাছে প্রিয় একটি ফুলের গাছ। এর রুপের মাধুরীর সাথে ভেষজ গুণের সংমিশ্রনের কারনেই ঘর সাজানোর গাছ হিসেবে এর কদর অনেক। এই গাছ নিজেকে ও অন্য সকল ইন্ডোর প্ল্যান্ট কে পোকা মাকড়ের আক্রমণ থেকে মুক্ত রাখে। আপনার যদি অনিদ্রা রোগ বা ঘুমের কোন ধরণের সমস্যা থাকে তবে আজই আপনার শোবার ঘরে নিয়ে আসুন একটি ল্যাভেন্ডার ফুল গাছ। তাহলে আপনি গাঢ় ঘুমের স্বাদ নিতে পারবেন এমন কি কিছু শুকনো ফুল আপনার বালিশের নিচে রেখে দিতে পারেন, এটিও কাজে দিবে। মাথা ব্যাথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা হলে এই ফুলের ঘ্রাণ শুকলে খুব দ্রুত ব্যাথা সেরে যায়। গোসলের পানিতে এক মুঠো ল্যাভেন্ডার ফুল দিয়ে কিছুক্ষণ পরে এই পানিতে গোসল করলে অনেক আরাম অনুভব করবেন তার সাথে ত্বকের কোন সমস্যা থাকলে তাও সেরে যাবে।

এলোভেরা

ছাদে বা বারান্দার টবে ঔষধি গাছ

এলোভেরা গাছকে আমরা অনেকেই ঘৃতকুমারী নামে চিনি। ভেষজ গুন সম্পন্ন এলোভেরা গাছ ঘর সাজাতেও অতুলনীয়। জানালার পাশে বা বারান্দায় এই গাছের টব আপনার ঘরের শোভা বাড়াবে যেমন তার সাথে প্রয়োজনে কাজ করবে ঔষধ হিসেবেও। পুরে যাওয়া স্থানে এলোভেরার আঠালো রস লাগালে যন্ত্রণা কমার পাশাপাশি ক্ষত দ্রুত শুকোতেও সহায়তা করে। আপনার হজমের সমস্যা নিরসন, পাকস্থলীর ইনফেকশান প্রতিরোধ, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা এমনকি ত্বকের নানাবিধ সমস্যায় এই এলোভেরা ব্যবহার করে উপকার পাবেন। অনিয়মিত এবং অস্বাভাবিক ঋতু সমস্যা দূর করতে এলোভেরা বেশ উপকারী। রক্তের শ্বেত কণিকা গঠনে সহায়তা করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরের ক্ষতিকারক বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে। রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও ওজন কমাতে এলোভেরা পাতা দিয়ে তৈরি সরবত বেশ কার্যকরী।

তুলশি

ছাদে বা টবে ঔষধি গাছ

তুলশি আমাদের দেশে বহুল পরিচিত একটি গাছ। হাজারো গুণ সম্পন্ন এই গাছের ফুল, পাতা, কান্ড ও মূল আদিকাল থেকে আয়ুর্বেদ ও ভেষজ ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। আপনারা অনেকেই হয়ত এই গাছের অনেক গুণের কথা ইতিমধ্যেই অবগত আছেন। স্বর্দি কাশি বা হাপানির সমস্যা নিরসনে এর পাতা অনেক উপাদেয়। লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে, উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এবং রক্তে কোলেস্টেরল এর মাত্রা ঠিক রাখতে এটি অনেক কার্যকরী। তুলসী ব্যথানাশক ও স্মৃতিবর্ধক। ত্বকের সমস্যায় ব্রণ ও বলীরেখা দূর করার জন্য তুলসী পাতা পিষে লাগাতে পারেন। তুলসী গাছ দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টাই অক্সিজেন সরবরাহ করে যা ঘরের বায়ু বিশুদ্ধ রাখে সর্বক্ষণ।

পুদিনা

ছাদে বা টবে ঔষধি গাছ চাষ

পুদিনা পাতা মুখ রোচক খাবারে যেমন ব্যবহার করা হয় তেমনি ঔষধি গুণের জন্য রূপচর্চার উপাদান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস সম্পন্ন হওয়ায় পুদিনা পাতার রস পেটের সকল ধরণের সমস্যার উপশম করে খুব দ্রুত। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব ও ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে কাচা পাতা বেটে মুখে লাগালে উপকার পাবেন। কারো মাথার চুলে উকুন হলে পুদিনা গাছের শেকড়ের রস তৈরি করে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে ঘন্টা খানেক পরে ধুয়ে ফেলুন, এভাবে তিন দিন অন্তর অন্তর দুই সপ্তাহ ব্যবহার করলেই সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন। অ্যালার্জি সহ ত্বকের অন্যান্য সংক্রমণ এবং ঘামের দূর্গন্ধ থেকে রেহাই পেতে পুদিনা পাতা ভেজানো পানিতে গোসল করতে পারেন।

গাঁদা

বারান্দায় টবে ঔষধি গাছ চাষ

গাঁদা ফুল আমাদের অনেকরই প্রিয় ফুল গুলোর একটি। গাঁদা ফুলের ঘ্রাণ অত্যন্ত আকর্যণীয় এমন কি এই ফুল খাওয়ার উপযোগী। আমরা ছোটবেলা থেকেই এই গাঁদা ফুলের সাথে পরিচিত। কিন্তু এর যে ভেষজ গুণও আছে তা শুনলে অনেকেই চমকে উঠে। এর পাতার রস ত্বকের কাটাঁ স্থানের রক্ত পরা ও ক্ষত সারাতে অত্যন্ত কার্যকরী তা প্রায় সকলেই জানে। এমন কি গাঁদা ফুলের পাতার রস কান পাকা রোগ সারাতে ছত্রাকনাশক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ত্বক মসৃন ও ব্রণ মুক্ত রাখতে, হজমে ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে, হাড়ের ক্ষয় রোধ ও আর্থাইটিসের মত জটিল সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত পান করতে পারেন গাঁদা ফুলের চা।

সৌখিন লোকের বাড়ির আঙ্গিনায় বাগান থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যাদের বাড়ির আঙ্গিনায় বাগান করার মত জায়গা নেই বা ফ্ল্যাট বাসায় থাকেন তারা কি বাগান করার শখ পূরণ করতে পারবেন না? তাদের জন্য চারপাশে টিম টবে, বারান্দায় বা ছাদে বাগান করার সকল টিপস ও ট্রিক্স নিয়ে সব সময় প্রস্তুত। আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে ও পরবর্তি সকল বিষয়ের আপডেট পেতে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন, ধন্যবাদ!

ভালোবাসা দিবসের জানা অজানা মজার তথ্য

প্রতি বছর সারা পৃথিবীর প্রায় কয়েক কোটি লোক ১৪ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন করে থাকেন। আপনিও তাদের মধ্যে একজন হয়ে থাকতে পারেন যারা এই দিবসটি কে ভালোবাসার বাৎসরিক উৎসব হিসেবেই উৎযাপন করে। কিন্তু আসলেই আমরা কতটুকু জানি এই ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে? ঠিক কবে থেকে আর কিসের জন্য এই দিবস চালু হলো তা নিয়ে আছে অনেক চমকপ্রদ আর মজার তথ্য এবং কালের বিবর্তনে অতীত থেকে বর্তমান কিভাবে পালিত হচ্ছে এই দিবস। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস ও এর কিছু জানা অজানা মজার তথ্য নিয়েই চারপাশের এই আয়োজন।

ভালোবাসা দিবসের বহুল প্রচলিত ইতিহাস

ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি ২৬৯ সালে ইতালির রোমে। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স নামের এক খ্রিস্টান ধর্ম যাজক এর প্রাণ কেড়ে নেয়ার মাধ্যমে এই দিবসের সূচনা। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে এটিই বহুল প্রচারিত তথ্য। তৎকালীন প্রাচীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস এর সময়কালে রোমান সেনাবাহিনীতে সৈনিকদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ছিলেন যুদ্ধ লিপ্স্বু ও রক্ত পিপাসু এই সম্রাট। কেননা যোদ্ধা হিসেবে অবিবাহিত যুবক পুরুষ যুদ্ধের কঠিন মূহুর্তে অত্যধিক ধৈর্যশীল ও শক্তিশালী হাতিয়ার। অপরদিকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স সম্রাটের এই নীতির বিরুদ্ধাচরণ করে গোপনে প্রেমিক যুগলের বিয়ে করিয়ে দিতেন। এই খবর সম্রাটের কর্ণ গোচর হওয়াতে তাকে প্রথমে কারাবাস ও পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন।

প্রেমের চরিত্র হিসেবে জুলিয়েট প্রীতি

শেক্সপিয়রের বিখ্যাত প্রেমের উপন্যাসের নায়িকা জুলিয়েট এখনো প্রতি ভালোবাসা দিবসে প্রায় ১০০০ প্রেমের চিঠি পায়। প্রতি বছরে ভালোবাসা দিবসে ইতালির ভেরোনা সিটিতে যেখানে এই নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিলো সেখানে অনেক যুবক জুলিয়েটের নামে প্রেম পত্র পাঠায়। জুলিয়েট আসলেই প্রেমের ক্ষেত্রে এক অপূর্ব চরিত্র যার মৃত্যুর শত বছর পরেও লোকে ভালোবেসে তাকে স্মরণ করে।

ভালোবাসার ফুলের ক্রেতা অধিকাংশ পুরুষ

সেই আদিকাল থেকেই ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে গোলাপ ফুলের কদর রয়েছে। গোলাপ রোমান প্রেমের দেবী ভেনাসের প্রিয় ফুল। এবং যুগ যুগ ধরে ভালোবাসা দিবসে অনেক ফুল আদান প্রদান হচ্ছে। কিন্তু জেনে অবাক হওয়ার মত বিষয় হলো সারা পৃথিবীতে ভ্যালেন্টাইন’স ডে তে মোট বিক্রীত ফুলের ৭৫ ভাগের ক্রেতা হলো পুরুষ আর বাকি ২৫ ভাগের ক্রেতা নারী।

বিপুল পরিমানে ব্যায়

প্রতি ভ্যালেন্টাইন’স ডে তে শুধু যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে এই দিবস উৎযাপনে। ভ্যালেন্টাইন’স ডে কার্ড, ফুল, চকোলেট, বিভিন্ন উপহার ক্রয় করতেই এই টাকা ব্যায় করা হয়। অবাক করার মত তথ্য হলো সেখানকার মানুষ প্রায় ২.৫ কোটি ভ্যালেন্টাইন কার্ড ক্রয় করে প্রিয় মানুষের সাথে ভ্যালেন্টাইন’স ডে এর শুভেচ্ছা আদান প্রদানের জন্য।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শুভেচ্ছা কার্ড বিনিময়

সারা বিশ্বে প্রতি বছর ভ্যালেন্টাইন ডে পালনের জন্য ১৯০ মিলিওনেরও বেশি কার্ড বিক্রি হলেও তা প্রথম স্থানে যেতে পারেনি কারণ বড়দিন বা ক্রিসমাসেই সবচেয়ে বেশি কার্ড বিক্রয় বা আদান প্রদান হয়।

উপহার হিসেবে বিপুল পরিমানে চকলেটের ব্যবহার

ভ্যালেন্টাইন ডে তে চকলেট এর বক্স আদান প্রদান প্রায় ১৪০ বছর ধরে চলছে। সর্ব প্রথম ১৮৬৮ সালে রিচার্ড ক্যাডবেরি চকলেটের বক্স এর সাথে এই দিবসের যোগসূত্র স্থাপন করেন। ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ৮ বিলিয়নের ও বেশি হৃদয় আকৃতির ক্যান্ডি তৈরি হয় প্রতি বছর।

আরও পড়ুন – সম্পর্কে জড়ানোর আগে যে ৯টি বিষয় জানা জরুরী

পোষা প্রানীকে ভালোবাসার শুভেচ্ছা

মানুষের বিচিত্র ভালোবাসা থেকে তাদের পোষা প্রাণীও বাদ পরেনা এই দিনে। পশ্চিমা বিশ্বের প্রায় ৩ শতাংশ মানুষ তাদের প্রিয় পোষা প্রাণীকে এই দিনে কার্ড উপহার দিয়ে থাকেন। আরো নানা ভাবে তারা তাদের আদরের গৃহপালিত প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে।

প্রাচীন কালের চিহ্ন ব্যবহার

ভ্যালেন্টাইন কার্ডে এ্যক্স চিহ্ন (X) চুমুর প্রতিরূপ হিসেবে মধ্যযুগ থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রাচীন কালে বর্ণমালা লেখতে না জানা লোকেরা যখন কার্ড আদান প্রদান করতো তখন তারা এই চিহ্ন একে তার উপর চুমু খেত, আর সেই থেকে এটি চুমুর প্রতিরূপ হিবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরবর্তিতে অবশ্য তার সাথে ও (O) করা হয়েছে আলিঙ্গনের প্রতীক হিসেবে। আর বর্তমানে ইংরেজি প্রতিশব্দ XOXO এই চুমু আর আলিঙ্গনেরই প্রতিরূপ বুঝায়।

সঙ্গী বাছাইয়ের অদ্ভুত রীতি

তৎকালীন আমলে প্রেমিক প্রেমিকা একে অপরকে এখনকার মত প্রস্তাব বা প্রপ্রোজ করতো না। তারা টুকরো কাগজে মেয়েদের নাম লিখে একটি বাটিতে রেখে সেখান থেকে বাছাই করতো কে হবে তাদের ভ্যালেন্টাইন। আর সেই কাগজের টুকরো সপ্তাহ ব্যাপি তাদের জামায় লাগিয়ে ঘুরতে হত।

ভিন্ন আয়োজনে ভালোবাসা দিবস পালন

পৃথিবীর অনেক দেশেই ১৪ ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবস একটু ভিন্ন ভাবে পালন করে। যেমন, ফিনল্যান্ড এই ১৪ ফেব্রুয়ারী বন্ধু দিবস হিসেবে পালন করে। তারা এই দিন প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না করে প্রিয় বন্ধুদের নিয়ে উৎযাপন করে। আর আপনি যদি এই দিনে একাকী বা সিঙ্গেল থাকেন তবে আপনিও অনেকের মত সিঙ্গেল এওয়ারনেস ডে পালন করতে পারেন।