প্রতি বছর সারা পৃথিবীর প্রায় কয়েক কোটি লোক ১৪ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন করে থাকেন। আপনিও তাদের মধ্যে একজন হয়ে থাকতে পারেন যারা এই দিবসটি কে ভালোবাসার বাৎসরিক উৎসব হিসেবেই উৎযাপন করে। কিন্তু আসলেই আমরা কতটুকু জানি এই ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে? ঠিক কবে থেকে আর কিসের জন্য এই দিবস চালু হলো তা নিয়ে আছে অনেক চমকপ্রদ আর মজার তথ্য এবং কালের বিবর্তনে অতীত থেকে বর্তমান কিভাবে পালিত হচ্ছে এই দিবস। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস ও এর কিছু জানা অজানা মজার তথ্য নিয়েই চারপাশের এই আয়োজন।

ভালোবাসা দিবসের বহুল প্রচলিত ইতিহাস

ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি ২৬৯ সালে ইতালির রোমে। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স নামের এক খ্রিস্টান ধর্ম যাজক এর প্রাণ কেড়ে নেয়ার মাধ্যমে এই দিবসের সূচনা। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে এটিই বহুল প্রচারিত তথ্য। তৎকালীন প্রাচীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস এর সময়কালে রোমান সেনাবাহিনীতে সৈনিকদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ছিলেন যুদ্ধ লিপ্স্বু ও রক্ত পিপাসু এই সম্রাট। কেননা যোদ্ধা হিসেবে অবিবাহিত যুবক পুরুষ যুদ্ধের কঠিন মূহুর্তে অত্যধিক ধৈর্যশীল ও শক্তিশালী হাতিয়ার। অপরদিকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স সম্রাটের এই নীতির বিরুদ্ধাচরণ করে গোপনে প্রেমিক যুগলের বিয়ে করিয়ে দিতেন। এই খবর সম্রাটের কর্ণ গোচর হওয়াতে তাকে প্রথমে কারাবাস ও পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন।

প্রেমের চরিত্র হিসেবে জুলিয়েট প্রীতি

শেক্সপিয়রের বিখ্যাত প্রেমের উপন্যাসের নায়িকা জুলিয়েট এখনো প্রতি ভালোবাসা দিবসে প্রায় ১০০০ প্রেমের চিঠি পায়। প্রতি বছরে ভালোবাসা দিবসে ইতালির ভেরোনা সিটিতে যেখানে এই নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিলো সেখানে অনেক যুবক জুলিয়েটের নামে প্রেম পত্র পাঠায়। জুলিয়েট আসলেই প্রেমের ক্ষেত্রে এক অপূর্ব চরিত্র যার মৃত্যুর শত বছর পরেও লোকে ভালোবেসে তাকে স্মরণ করে।

ভালোবাসার ফুলের ক্রেতা অধিকাংশ পুরুষ

সেই আদিকাল থেকেই ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে গোলাপ ফুলের কদর রয়েছে। গোলাপ রোমান প্রেমের দেবী ভেনাসের প্রিয় ফুল। এবং যুগ যুগ ধরে ভালোবাসা দিবসে অনেক ফুল আদান প্রদান হচ্ছে। কিন্তু জেনে অবাক হওয়ার মত বিষয় হলো সারা পৃথিবীতে ভ্যালেন্টাইন’স ডে তে মোট বিক্রীত ফুলের ৭৫ ভাগের ক্রেতা হলো পুরুষ আর বাকি ২৫ ভাগের ক্রেতা নারী।

বিপুল পরিমানে ব্যায়

প্রতি ভ্যালেন্টাইন’স ডে তে শুধু যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে এই দিবস উৎযাপনে। ভ্যালেন্টাইন’স ডে কার্ড, ফুল, চকোলেট, বিভিন্ন উপহার ক্রয় করতেই এই টাকা ব্যায় করা হয়। অবাক করার মত তথ্য হলো সেখানকার মানুষ প্রায় ২.৫ কোটি ভ্যালেন্টাইন কার্ড ক্রয় করে প্রিয় মানুষের সাথে ভ্যালেন্টাইন’স ডে এর শুভেচ্ছা আদান প্রদানের জন্য।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শুভেচ্ছা কার্ড বিনিময়

সারা বিশ্বে প্রতি বছর ভ্যালেন্টাইন ডে পালনের জন্য ১৯০ মিলিওনেরও বেশি কার্ড বিক্রি হলেও তা প্রথম স্থানে যেতে পারেনি কারণ বড়দিন বা ক্রিসমাসেই সবচেয়ে বেশি কার্ড বিক্রয় বা আদান প্রদান হয়।

উপহার হিসেবে বিপুল পরিমানে চকলেটের ব্যবহার

ভ্যালেন্টাইন ডে তে চকলেট এর বক্স আদান প্রদান প্রায় ১৪০ বছর ধরে চলছে। সর্ব প্রথম ১৮৬৮ সালে রিচার্ড ক্যাডবেরি চকলেটের বক্স এর সাথে এই দিবসের যোগসূত্র স্থাপন করেন। ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ৮ বিলিয়নের ও বেশি হৃদয় আকৃতির ক্যান্ডি তৈরি হয় প্রতি বছর।

আরও পড়ুন – সম্পর্কে জড়ানোর আগে যে ৯টি বিষয় জানা জরুরী

পোষা প্রানীকে ভালোবাসার শুভেচ্ছা

মানুষের বিচিত্র ভালোবাসা থেকে তাদের পোষা প্রাণীও বাদ পরেনা এই দিনে। পশ্চিমা বিশ্বের প্রায় ৩ শতাংশ মানুষ তাদের প্রিয় পোষা প্রাণীকে এই দিনে কার্ড উপহার দিয়ে থাকেন। আরো নানা ভাবে তারা তাদের আদরের গৃহপালিত প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে।

প্রাচীন কালের চিহ্ন ব্যবহার

ভ্যালেন্টাইন কার্ডে এ্যক্স চিহ্ন (X) চুমুর প্রতিরূপ হিসেবে মধ্যযুগ থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রাচীন কালে বর্ণমালা লেখতে না জানা লোকেরা যখন কার্ড আদান প্রদান করতো তখন তারা এই চিহ্ন একে তার উপর চুমু খেত, আর সেই থেকে এটি চুমুর প্রতিরূপ হিবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরবর্তিতে অবশ্য তার সাথে ও (O) করা হয়েছে আলিঙ্গনের প্রতীক হিসেবে। আর বর্তমানে ইংরেজি প্রতিশব্দ XOXO এই চুমু আর আলিঙ্গনেরই প্রতিরূপ বুঝায়।

সঙ্গী বাছাইয়ের অদ্ভুত রীতি

তৎকালীন আমলে প্রেমিক প্রেমিকা একে অপরকে এখনকার মত প্রস্তাব বা প্রপ্রোজ করতো না। তারা টুকরো কাগজে মেয়েদের নাম লিখে একটি বাটিতে রেখে সেখান থেকে বাছাই করতো কে হবে তাদের ভ্যালেন্টাইন। আর সেই কাগজের টুকরো সপ্তাহ ব্যাপি তাদের জামায় লাগিয়ে ঘুরতে হত।

ভিন্ন আয়োজনে ভালোবাসা দিবস পালন

পৃথিবীর অনেক দেশেই ১৪ ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবস একটু ভিন্ন ভাবে পালন করে। যেমন, ফিনল্যান্ড এই ১৪ ফেব্রুয়ারী বন্ধু দিবস হিসেবে পালন করে। তারা এই দিন প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না করে প্রিয় বন্ধুদের নিয়ে উৎযাপন করে। আর আপনি যদি এই দিনে একাকী বা সিঙ্গেল থাকেন তবে আপনিও অনেকের মত সিঙ্গেল এওয়ারনেস ডে পালন করতে পারেন।

শেয়ার করুন সবার সাথেঃ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *