রান্নার জন্য সহজ ও মজার ৫০ টিপস

বেঁচে থাকার জন্য আমাদের খাবার খেতে হয় আর খাবার-দাবারের উপাদানগুলো আমাদের গ্রহনের উপযোগী ও স্বাদ বৃদ্ধির করার জন্য যে প্রক্রিয়া আমরা অবলম্বন করি সেটাই হচ্ছে রান্না। রান্না আসলে একটা শিল্প। সুন্দর ও রুচিশীল রান্নার কদর বিশ্বব্যাপী। আমাদের জীবনযাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে পাল্টাচ্ছে রান্নাবান্নার কৌশল ও ধরণ।

এক সময়ে শুধু মেয়েরাই রান্নাবান্নার সাথে যুক্ত থাকলেও বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনের চাহিদায় আমাদের সবাইকেই কম বেশি রান্না করতে হয়। কর্মব্যস্ততায় সব সময় গুছিয়ে পরিকল্পনা করে রান্না করা সম্ভব হয় না। রান্নার কাজ দ্রুত সেরে যেতে হয় অন্য কোন কাজে। আর এক্ষেত্রে রান্না সম্পর্কিত টুকটাক টিপস জানা থাকলে রান্না যেমন ভাল হয় তেমনি সময় বাঁচে। এজন্য ঘাবড়ানোর কিছু নেই, রেসিপি দেখে রান্না করতে হলে আগেই রেসিপিটা ভালোভাবে কয়েকবার পড়ে নিন। মনে রাখবেন সুন্দর পরিপূর্ণ রান্নার জন্য দরকার সৃজনশীলতা, উপস্থিত বুদ্ধি, সঠিক অনুমান ক্ষমতা আর অভিজ্ঞতা।

টিপসঃ

১। যথা সম্ভব পাতিলে ঢাকানা দিয়ে রান্না করুন, এতে খাবারের পুষ্টিমান ঠিক থাকে।

২। মাংস রান্নার শুরুতেই লবণ না দিয়ে রান্নার মাঝামাঝি সময়ে লবণ দিয়ে ভালভাবে নাড়ুন। এরপর দেখে নিন পরিমান ঠিক হল কিনা।

৩। তরকারির ঝোল ঘন করতে চাইলে কিছু কর্ণ ফ্লাওয়ার পানিতে গুলে ঢেলে দিন। লক্ষ্য রাখুন যেন কর্ণ ফ্লাওয়ারের মিশ্রণটি ভালমত তরকারির সাথে মিশে যায়।

৪। চাল ধোয়ার পর ১০ মিনিট রেখে দিয়ে তারপর রান্না করুন অথবা রান্নার সময় ১ চা চামচ রান্নার তেল দিয়ে দিন। দেখবেন ভাত সুন্দর ঝরঝরে হয়েছে।

৫। মুরগীর ফ্যাট এড়াতে চাইলে চামড়া ছাড়িয়ে মুরগি রান্না করুন। কারন মুরগির চামড়াতেই প্রধান ফ্যাট থাকে।

৬। সবুজ সবজি রান্নার সময় সবুজ রং ঠিক রাখতে চাইলে এক চিমটি চিনি দিন।

৭। রান্না করার জন্য একদিন আগেই মাংস সেদ্ধ এবং ঠান্ডা করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

৮। রান্নার সময় গরম পানি ব্যবহার করুন।

৯। ফ্রিজের মধ্যে আঁশটে গন্ধ দূর করতে ফ্রিজে এক টুকরো কাঠ কয়লা রেখে দিন।

১০। মাংস তাড়াতাড়ি সেদ্ধ করতে চাইলে খোসাসহ এক টুকরো কাঁচা পেঁপে তরকারীতে দিন।

১১। মাছ, মাংস বা ডিমের ঝোলে লবণ বেশি হয়ে গেলে তরকারিতে কয়েকটি সিদ্ধ আলু ভেঙে দিন। স্বাদ ঠিক হয়ে যাবে।

১২। মুরগির মাংস বা কলিজা রান্নাইয় ১ টেবিল চামচ সিরকা দিন। এতে মাংসের গন্ধ থাকবে না আবার তাড়াতাড়ি সিদ্ধও হবে।

১৩। মাছ ভাজার সময় তেল ছিটা রোধ করতে একটু লবণ ছড়িয়ে দিন।

১৪। বেরেস্তা করার সময় পেঁয়াজ ভেজে নামানোর আগে সামান্য পানি ছিটিয়ে দিন এতে পেঁয়াজ তাড়াতাড়ি লালচে হবে।

১৫। কাঁচা মাছ বা মাংস ছুরি-চপিং বোর্ডে কাটতে চাইলে বেশ কিছুক্ষণ আগে থেকেই পানিতে ভিজিয়ে নরমাল করে নিন।

১৬। আলু ও ডিম একসঙ্গে সিদ্ধ করুন, আলাদা কাজে ব্যবহার করলেও তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হবে।

১৭। স্যুপ রান্নার সময় পাতলা হয়ে গেলে দুটি সিদ্ধ আলু ম্যাশ করে স্যুপে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন।

১৮। ডাল তাড়াতাড়ি রান্না করতে আগের রাতেই ভিজিয়ে রাখুন।

১৯। সহজে মসলাপাতি খুঁজে পেতে কৌটার গায়ে নাম লিখে রাখুন।

২০। আগামী দিন কী রান্না করবেন তার প্রস্তুতি রাতেই নিনতাহলে সময় বেঁচে যাবে।

২১। রান্না করার সময় অবশ্যই মাছ ও সবজির কম্বিনেশনের ব্যাপারে নজর রাখবেন ।

২২। মাছ রান্না করে কাঁচা ধনিয়া পাতা থাকলে তা কুচি করে কেটে বিছিয়ে দিন, স্বাদ অনেকগুণ গুন বেড়ে যাবে।

২৩। ডালে বাগার দিতে রসুন কুচি তেলে ভেজে ডালে দিয়ে দিন।

২৪। মাংশ জাতীয় রান্না করে শেষে বেরেস্তা (পেঁয়াজ কুচি ভাজি) ছড়িয়ে দিন এতে স্বাদ বেড়ে যাবে।

২৫। ডিম সিদ্ব করতে পানিতে সামান্য লবন দিয়ে নিন এতে ডিম খেতে সুস্বাদু হবে। আর ঠান্ডা করে ডিম ছিলুন তাহলে খোসায় লেগে ডিম নষ্ট হবে না।

২৬। চুলায় হাড়ি পাতিলে ঢাকনা থাকলে তা খালি হাতে ধরবেন না।

২৭। ভর্তা বানাতে মরিচ খালি হাতে ঢলবেন না এতে হাতে জ্বলুনি হবে।

২৮। মাছ ভাঁজতে কড়াই হতে নিদিষ্ট দূরে থাকুন। মাছে পানি থাকলে কিংবা ফুটে আপনার গায়ে বা চোখে তৈল পড়তে পারে।

২৯। শুকনা মরিচ ভাজার সময় মরিচ পোড়ার ঝাঁঝে হাঁচি-কাশি রোধে রান্নাঘরের দরজা জানালা ভাল করে খুলে দিন।

৩০। ভাজিতে তেল বেশী পড়ে গেলে ভাজিগুলো কড়াই বা প্যানের এক দিকে সরিয়ে কড়াই কাত করে কিছুক্ষণ রেখে দিন। তেল ভাজি থেকে ঝরে গেলে সংরক্ষন করে অন্য রান্নায় ব্যবহার করতে পারবেন। মাংসের তরকারীতে যদি তেল বেশী হয়ে পরে তবে উপর থেকে চামচ দিয়ে তেল উঠিয়ে ভাজিতে ব্যবহার করলে ভালোই সুস্বাদু লাগে।

৩১। এলাচ সম্পুর্ণ গুড়ো করে ব্যবহার করা ভাল এতে এলাচ কামড়ে পড়ে খাওয়ার মজা নষ্ট হবে না। আবার রান্নাতেও সুগন্ধ হবে।

৩২। সবজীর রং ঠিক রাখতে পাতিল ঢেকে রান্না না করাই ভাল। আর কিছু সবজিকে সামান্য সিদ্ব করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে কিংবা বরফ কুঁচিতে রাখলে রান্নার পরও রং ঠিক থাকে।

৩৩। কিছু ভাজিতে কড়াইতে তেল গরম হলে যা দেবেন তার সাথে সামান্য লবণ দিয়ে দিন, তেলের ছিটকা উঠবে না।

৩৪। ডালের মজা বৃদ্ধির জন্য বেশি সময় ধরে রান্না করুন, স্বাদ বেড়ে যাবে ।

৩৫। তেলাপিয়া মাছের গন্ধ দূর করতে তেলাপিয়া মাছ হলুদ ও ভিনিগার/লেবুর রস মাখিয়ে মিনিট ১৫ রেখে রান্না করুন।

৩৬। লাল সর্ষে্র ঝাঁঝ বেশী হয়। হলুদ সর্ষে ব্যাবহার করলে তিতা হয়না। সর্ষে বাটার সময় লবন আর কাচামরিচ এক সাথে বাটলে তিতা হয়না।

৩৭। বর্ষাকালে লবণ গলে যায় তাই এক মুঠো পরিষ্কার চাল পুটলি করে বেঁধে লবণের পাত্রে রেখে দিন।

৩৮। কাঁচের গ্লাসে গরম কিছু নিতে গেলে অনেক সময় ফেটে যায় তাই গরম কিছু ঢালবার আগে গ্লাসে একটি ধাতু নির্মিত চামচ রেখে ঢাললে গ্লাস ফাটবে না।

৩৯। আলু এবং আদা বালির মধ্যে ডুবিয়ে রাখলে অনেক দিন পর্যন্ত টাটকা থাকে।

৪০। যে কোনো খাবার রেফ্রিজারেটরে রাখলে ঢাকনা দিয়ে রাখা ভালো, ফলে এক খাবারের গন্ধ আরেক খাবারে যায় না এবং রেফ্রিজারেটও গন্ধ হয় না।

৪১। শিশি বা কৌটোর মধ্যে বিস্কুট রাখার আগে সামান্য চিনি বা মোটা কাগজের ঠুকরো রেখে দিলে বিস্কুট অনেকদিন মচমচে থাকে।

৪২। আঙ্গুর, টমেটো প্রভৃতি ফল ফুটন্ত পানিতে দু’মিনিট রেখে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানিতে রেখে সহজেই খোসা ছড়ানো যায়।

৪৩। চাল ও ডালের কৌটায় কয়েকটি শুকনো নিমপাতা বা শুকনো মরিচ রাখলে সহজে পোকা ধরবে না।

৪৪। কাঁচকলা ও লেবু প্রতিদিন অন্ততঃ এক ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বেশিদিন টাটকা থাকে।

৪৫। কাঁচামরিচের বোঁটা ফেলে পানি শুকিয়ে কাপড়ের বা কাগজের প্যাকেটে সংরক্ষণ করলে বেশি দিন ভালো থাকে।

৪৬। চিকেন ফ্রাই, চিকেন রোল—এসব খাবার অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়িয়ে রাখলে সহজে নষ্ট হয় না।

৪৭। সিরকা ও সোডিয়াম বেনজোয়েট দিলে আচার দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

৪৮। আচার বয়াম থেকে নেওয়ার সময় পরিষ্কার চামচ ব্যবহার করলে আচারে ফাঙ্গাস পড়ে না।

৪৯। চিনির পাত্রের মধ্যে দু-চারটি লবঙ্গ দিয়ে রাখলে পিঁপড়ে ঢুকবে না।

৫০। খাবার পুড়ে পাত্রের তলায় আটকে থাকলে পাত্রটিকে নুনপানিতে ভর্তি করে পানি ফুটালে পোড়া অংশ দ্রুত আলাগা হয়ে উঠে যায়।

আপনার জানা আরও কোন সহজ ও মজার টিপস থাকলে নিচের মতামত অংশে শেয়ার করতে পারেন সবার সাথে।

ফেইসবুকে আমাদের পেইজ লাইক দিয়ে রাখুন নিয়মিত সব আপডেট পাওয়ার জন্যেঃ https://www.facebook.com/CharPashe

ভ্রমণ সম্পর্কিত বিখ্যাত উক্তি – বাণী চিরন্তণী

বিখ্যাত ব্যক্তি বা দার্শনিকদের কাজে বুঁদ হয়ে থাকা নিয়ে অজস্র নজির থাকলেও ভ্রমণের ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কমতি ছিলনা। আর তাই ভ্রমণ বিয়য়ক তাদের বিভিন্ন উক্তি জগৎবিখ্যাত। তেমন কিছু বিখ্যাত উক্তি (বাণী চিরন্তণী) নিয়ে আমাদের এই আয়োজন।

ভ্রমণের জন্য বিনিয়োগ হচ্ছে নিজের জন্য বিনিয়োগ। – ম্যাথু কার্স্টেন

ভ্রমণ করার জন্য ধনী হবার প্রয়োজনীয়তা নেই। – ইউজিন ফদর

ভ্রমণ পৃথিবীর একমাত্র জিনিস যার পেছনে অর্থ ব্যয় করে আপনি শুধু ধনী থেকে আরো ধনী হবেন।

বছরে অন্তত একবার এমন জায়গা ভ্রমণ করা উচিত যেখানে আপনি আগে কখনোই যাননি।

ভ্রমণ ও স্থান পরিবর্তন মনের মধ্যে নতুন প্রাণশক্তি তৈরী করে। – সেনেকা

আমরা মুক্ত জীবনের জন্য ভ্রমণ করি না কিন্তু জীবনের জন্য আমরা মুক্ত হই।

ভ্রমণ প্রথমে তোমাকে নির্বাক করে দেবে তারপর তোমাকে গল্প বলতে বাধ্য করবে। – ইবনে বতুতা

সুঃসাহসিক কাজ সব সময়ই লাভজনক। – ঈশপ

মানুষ ভ্রমনকে গ্রহণ করেনা, ভ্রমণই সঠিক মানুষকে খুঁজে নেয়। – জন স্টেইনব্যাক

যাকে তুমি ভালবাসো না তার সাথে কখন ভ্রমণ করো না। – আর্নেস্ট হেমিংওয়ের

হাজার হাজার মাইল যাত্রা একটি একক পদক্ষেপ থেকে শুরু হয়। – লাও জু

পৃথিবী একটা বই আর যারা ভ্রমণ করে না তারা বইটি পড়তে পারে না। – সেন্ট অগাস্টিন

ভ্রমণ মানুষকে বিনয়ী করে তোলে। সে জানতে পারে দুনিয়ার তুলনায় সে কত ক্ষুদ্র। – গুস্তাভ ফ্লুবেয়ার

ভ্রমণ মানুষকে জ্ঞান অজর্ন করতে সাহায্য করে। – জেফারসনস

নতুন কোনো শহরে একাকী ঘুম থেকে জাগা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আনন্দের অনুভূতি। – ফ্রেয়া স্টাক

ভ্রমণ নিজেকে জানার অন্যতম উপায়। – লরেন্স ডুরেল

ভ্রমণ শেষে নিজ বাড়িতে ফেরার আগ পর্যন্ত কেউ বুঝতে পারে না ভ্রমণ কত সুন্দর ছিল। – লিন ইউতাং

একজন ভালো ভ্রমণকারীর কোনো নিদিষ্ট পরিকল্পনা এবং গন্তব্যে পৌছানোর উদ্দেশ্যও থাকে না। – লাও জু

ভ্রমণ পরমতসহিষ্ণুতা শেখায়। – বেঞ্জামিন দিজরেলি

নতুন অচেনা কোনো দেশে গেলে মানুষ শিশু বয়সের বিস্মিত হওয়ার মতা অনুভূতিটি ফিরে পায়। – বিল ব্রাইসন

ভ্রমণের মাধ্যমেই মানুষ জানতে পারে ভিনদেশ সম্পকে তার অনেক ভূল ধারণা ছিলো। – অ্যালডাউস হাক্রলি

বাঁশের নল দিয়ে পুরো আকাশ দেখা যায় না। – জাপানি প্রবাদ

ভ্রমণের মাধ্যমেই আমি প্রথম বাইরের দুনিয়া সম্পর্কে অবহিত হয়েছি এবং নিজেকে দুনিয়ার অংশ হিসেবে ভাবার পথ খুজে পেয়েছি। – ইউডোরা ওয়েল্টি

ভ্রমণের আগে আপনার সব জামা কাপড় আর টাকা এক জায়গায় করুন। তারপর সেখান থেকে অধেক কাপড় এবং দ্বিগুন টাকা নিয়ে যাত্রা করুন। – সুসান হেলার

সাংবাদিক ও লেখক মার্ক টোয়েন বলেছেন – আজ থেকে বিশ বছর পর আপনি এই ভেবে হতাশ হবেন যে,আপনার পক্ষে যা যা করা সম্ভব ছিল তা করতে পারেননি। তাই নিরাপদ আবাস ছেড়ে বেরিয়ে পড়ুন। আবিষ্কারের জন্য যাত্রা করুন, স্বপ্ন দেখুন আর শেষমেশ আবিষ্কার করুন।

ইতিবাচক চিন্তার শক্তি দিয়েই জীবন বদলে দিন

ইতিবাচক চিন্তা হচ্ছে এমন এক মানসিক মনোভাব ধারন করা যার জন্য আমরা প্রতিটি কাজের ভাল এবং সন্তোষজনক ফলাফল আশা করি । অন্যভাবে বলতে গেলে ইতিবাচক চিন্তা হচ্ছে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আশাহত না হয়েও ঠান্ডা মাথায় পরিবেশকে নিজের অনুকূলে নিয়ে আসার চেষ্টা করে যাওয়া। জীবনকে সুস্থ, সুন্দর করার জন্য ইতিবাচক চিন্তার কোন বিকল্প নেই।

৩০ বছর ধরে চলা এক গবেষণায় কিছু রোগীর পারসোনালিটি টেস্ট করা হয় যেখানে তাদের optimism ( আশাবাদ ) and pessimism ( দুঃখবাদ ) পরিমাপ করা হয় । ফলাফলে জানা গেছে যে, আশাবাদীদের গড় আয়ু দুঃখবাদীদের থেকে বেশী । গবেষকেরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে আশাবাদ মানুষের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায় এবং সুখী জীবন যাপনে সাহায্য করে। আর যারা অযথা নেতিবাচক চিন্তা করে তারা সহজেই উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতার মত জটিল সমস্যায় ভুগেন। অনেক গবেষণার সিদ্ধান্তে এটা স্পষ্ট যে, ইতিবাচক চিন্তা যেকোন ব্যক্তিকে সুখী ভাবতে সাহায্য করে এবং তাতে সাফল্য লাভ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। নিজের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব বা চিন্তা করার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য আমরা কিছু ধাপ অনুসরন করতে পারি। যেমনঃ

১। সময় নিনঃ

নিজের সাথে খারাপ কিছু ঘটতে থাকলে মোটেও ঘাবড়াবেন না অপেক্ষা করুন, নিজেকে সময় দিন। এই প্রক্রিয়া আপনার মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা তৈরি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

২। ইতিবাচক মানুষের সাথে চলাফেরা করুনঃ

এমন মানুষের সাথে মেলামেশা করুন যারা আপনাকে গঠনমূলক কাজ ও আশাবাদী হতে সাহায্য করবে। নেতিবাচক চিন্তার মানুষদের সঙ্গ পরিহার করুন।

৩। অন্যদের সাহায্য করুনঃ

অন্যকে আপনার সাধ্যমত সাহায্য করুন কারণ অন্যকে সাহায্য করা আপনাকে আত্মতৃপ্তি দেবে। যা আপনার ইতিবাচক মনোভাব দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।

৪। কৃতজ্ঞ থাকুনঃ

আপনার যা আছে সেগুলো নিয়ে ভাবুন কারণ অনেকের কাছেই সেগুলো নেই। আবার অন্যের কাছে থাকলেও ক্ষতি নেই কারণ আপনার কাছে সেগুলো আছে। কৃতজ্ঞতা বোধ করুন এটি আপনার মনকে শক্তিশালী করবে। Joseph Campbell বলেন – এমন এক স্থান খুঁজে বের করুন যা আপনাকে সুখের অনুভূতি দিবে এবং সুখের অনুভূতি কষ্টগুলোকে দূরে সরিয়ে রাখবে ।

৫। ইতিবাচক উক্তি পড়ুনঃ

প্রতিদিন কিছু ইতিবাচক উক্তি বা লেখা পড়ুন । ইতিবাচক উক্তি বা লেখায় আশা বাড়ে, মনের ভয় দূর হয়, বিষণ্ণতা দূর করে। উদাহরণস্বরূপ নিচে কিছু ইতিবাচক উক্তি দেয়া হলঃ

“ব্যর্থরা অবচেতনভাবে ব্যর্থতার সঙ্গে নিজেদের সংযুক্ত করে। সচেতনভাবে সাফল্যের সঙ্গে একাত্ম হলে সাফল্যই আপনার দিকে আকৃষ্ট হবে।”

“সুন্দর প্রত্যাশা ও প্রত্যয় নিয়ে দিন শুরু করুন। ঘুম ভাঙতেই বলুন – প্রভু ধন্যবাদ, একটি নতুন দিনের জন্যে। দিনের সমাপ্তিও ঘটবে এইভাবে।”

“কাউকে অভিনন্দন জানানোর সুযোগ পেলে আন্তরিকভাবে জানান।”

“নিজের কাছে নিজ সততা বজায় রাখুন। প্রতিটি কাজে আপনার পক্ষে যা করা সম্ভব, আন্তরিকতার সঙ্গে করুন।”

“দায়িত্ব নিতে ভয় পাবেন না। তাহলেই নতুন কিছু শিখতে পারবেন।”

“কাজে উদ্যোগী না হলে প্রতিটি কাজই অসম্ভব মনে হয়।”

“‘আমি এ বিষয়ে জানি না’ এ কথাটি বলতে কখনও ভয় পাবেন না।”

“‘আমি দুঃখিত’ কথাটি সব সময় আন্তরিকতার সাথে উচ্চারন করুন।”

“দীর্ঘসূত্রিতা ও আলস্যকে প্রশ্রয় দেবেন না। যখন যা করা প্রয়োজন, তখনই তা করুন।”

“নেতিবাচক চিন্তার চাইতে ইতিবাচক চিন্তা তোমাকে সবকিছু আরও ভালোভাবে করার সুযোগ করে দেবে।” – জিগ জিগলার

“নেতিবাচক শূন্যতার চাইতে ইতিবাচক যেকোনো কিছুই ভালো।” – এলবার্ট হাবার্ড

“ইতিবাচক কোনো কাজ করার জন্য আমাদেরকে প্রথমে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।” – দালাইলামা

“সাফল্যের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো নিজের সম্পর্কে নিজের মনে একটি ইতিবাচক ও শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা।” – জয়েস ব্রাদার্স

“হতাশাকে সময়ে সময়ে খুব বিরক্তিকর বলে মনে হলেও সাফল্যের জন্য এটি খুবই ইতিবাচক ও প্রয়োজনীয় একটি বিষয়।” – বো বেনেট

“যে মনের দিক থেকে বৃদ্ধ নয়, বার্ধক্য তার জীবনে আসে না।” – ফিলিপ ম্যাসিঞ্জার

৬। নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুনঃ

কোন ভুল হলেই আমরা অনেক সময় নিজেকে দোষারোপ করি, হীনমন্যতায় ভুগী যা আমাদের মনে নেতিবাচক ভাবনার জন্ম দেয়। বরং আমাদের উচিত ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া যাতে ভবিষ্যতে আর এমন ভুল না হয় আর অবশ্যই উচিত নিজেকে ক্ষমা করে দেয়া কারণ ভুল তারই হয় যে কাজ করে। কোন কাজ করতে গেলে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক, আমরা কেউ নিখুঁত নই এ কথাটা মেনে নিলে নিজেকে ক্ষমা করাটাও সহজ হয় ।

৭। অনুসন্ধান করুন ভুলটা কোথায় হচ্ছেঃ

ইতিবাচক চিন্তার মানে এই নয় যে ভুল গুলো এড়িয়ে যেতে হবে, দ্বিতীয়বার যাতে একই ভুল না হয় সে জন্য কি কারনে ভুল হচ্ছে সেটা খুঁজে বের করা জরুরী। আর ভুল শুধরানোর জন্য অনুসন্ধান করা মোটেও সময় নষ্ট করা নয়।

আরও পড়ুনঃ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক টিপস

৮। ব্যর্থতাকে সুযোগ হিসেবে নিনঃ

বলা হয়ে থাকে ব্যর্থতাই হচ্ছে সাফল্যের ভিত্তি স্তম্ভ, আসলেই কিন্তু তাই। আমাদের জীবনের নেতিবাচক ব্যর্থতাগুলো আমাদেরকে বড় বড় সাফল্য অর্জনের পথ তৈরিতে সাহায্য করে। যেমনঃ আপনি চাকরী হারালেন আর ভাবছে সব শেষ! কিন্তু আসলেই কি তাই তাই? ভেবে দেখুন আপনার জীবনে এখন আরেকবার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেল। এখন আপনি চাইলেই নতুন কিছু শুরু করতে পারেন যা আপনাকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যেতে পারে।

সুতরাং ব্যর্থতায় হাল ছেড়ে না দিয়ে বরং সাফল্য আসার জন্য অপেক্ষা করুন। মেঘের আড়ালে যেমন সূর্য্য হাসে তেমনি ব্যর্থতার অপর দিকে সাফল্য আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। নিজেকে ইতিবাচক করে গড়ে তুলুন তাহলে আপনি ইতিবাচক ফল পাবেন। আর শুধুমাত্র ইতিবাচক চিন্তা আপনার জীবন পাল্টে দিতে পারে তবে কেন মিছেমিছি হতাশায় ডুবে আছেন?

ভ্রমণের জন্যে সবচেয়ে বিপদজনক ১২টি দেশ (দ্বিতীয় পর্ব)

ভ্রমণপিয়াসী মানুষের জন্য পুরো পৃথিবীই একটা দেশ, একটা মানচিত্র। নিজস্ব ভৌগলিক সীমারেখার বাইরের দুনিয়াটা দূর্বার আকর্ষনে টানে। একটি সুন্দর স্থান যেমন বারবার দেখার জন্য মনকে ব্যাকুল করে তেমনি বিশ্বের কিছু খারাপ দেশে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। খারাপ দেশ সমূহের তালিকা মূলত জনমত জরীপ, নিরাপত্তা, খাদ্য, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সুযোগ ও অপরাধ এই সব উপাদানের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়েছে কারণ আমরা চাইনা আপনার আনন্দময় ভ্রমণটি নষ্ট হোক। আসুন তেমনি কিছু দেশ সম্পর্কে জেনে নেই।

বিশ্বের ১২ টি খারাপ দেশ যেখানে ভ্রমণ করা আপনার জন্য সময় নষ্ট লেখাটির প্রথম পর্ব মিস করে থাকলে পড়ে নিতে চাইলে ক্লিক করুনঃ প্রথম পর্ব

syria
Image Source: www.operationworld.org

৭। সিরিয়াঃ
সিরিয়াতে অনেক ঐতিহাসিক জায়গা ও স্থাপনা আছে কিন্তু সিরিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনাটি বাতিল করে দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়াও কিছু এলাকার উপর দিয়ে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এবং সিরিয়ায় ভ্রমণ করাকেও সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।

north-korea
Image Source: www.operationworld.org

৮। উত্তর কোরিয়াঃ
রাজনৈতিক উত্তেজনা না থাকলে উত্তর কোরিয়া একটি আদর্শ ভ্রমণ স্থান হতে পারতো। রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আমেরিকান মুর্খতা পশ্চিমা দেশগুলোর থেকে উত্তর কোরিয়াকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। আপনি যদি উত্তর কোরিয়া ভ্রমণ করতে চান তাহলে অন্তত ৩টি স্থান না দেখা বোকামি হবে।
***Kim Il-sung Square
***Tower of the Juche Idea
***Grand People’s Study House
উত্তর কোরিয়ানদের জাতীয়তাবাদ খুবই তীব্র তাই লক্ষ্য রাখুন আপনার কিংবা আপনার কোন সঙ্গী যেন কোন রাজনৈতিক আলোচনায় যোগ না দেয় আর অবশ্যই যেকোন ধরনের অপরাধ থেকে দূরে থাকুন। এত সীমাবদ্ধতার মধ্যে ভ্রমণ তালিকা থেকে আপাতত উত্তর কোরিয়ার নাম বাদ দেয়াটাই অনেক সহজ হবে।

thailand
Image Source: www.operationworld.org

৯। থাইল্যান্ডঃ
থাইল্যান্ড বিখ্যাত তার অপরুপ দৃশ্যাবলী, রন্ধনশীল্প এবং প্রমোদের জন্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ডে সহিংসতা, অপরাধ এবং পুলিশ দুর্নীতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকদের দূর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বেড়েছে আবার এসব ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে। আপনি নিজেই ভাবুন কেন আপনি নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন।

venezuela
Image Source: www.operationworld.org

১০। ভেনেজুয়েলাঃ
আপনি যদি মনে করেন আপনি যেখানেই যান না কেন আপনার কপালে শুধুই বিপদ লেখা আছে তবে আপনি ভেনেজুয়েলায় যেতে পারেন। এটি জলপ্রপাত, মহিমাম্বিত পর্বত এবং আদিম সৈকত সমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর উপকূলবর্তী একটি সুন্দর দেশ। ভেনেজুয়েলা গ্যালাপ দ্বারা ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে অনিরাপদ জাতি হিসাবে পরিচিত। এছাড়াও পৃথিবীর নিকৃষ্টতম কাজ অপহরণ ও যৌন পাচারের ঘটনা গুলো এখানে হরহামেশাই ঘটছে। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দারাও রাতে কাজ রাখতে ভয় পায়।

honduras
Image Source: www.operationworld.org

১১। হন্ডুরাসঃ
মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসের রয়েছে সুন্দর সৈকত, সাজানো উদ্যান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ প্রকৃতি। আপনি জেনে চমকৃত হবেন বিশ্বে খুনের হার সবচেয়ে বেশী এখানে। যদি ভেবে থাকেন রিসোর্টে আপনি নিরাপদ তবে ভুল ভাবছেন। অপরাধ ও সহিংসতার জন্য পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণ বিপদ সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক করা হয়।

brazil
Image Source: www.operationworld.org

১২। ব্রাজিলঃ
ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকা মধ্যে বৃহৎ, চমৎকার আবহাওয়ার দেশ। বিশ্বের সেরা সৈকত, রেইনফরেস্ট, জলপ্রপাত, ঐশ্বরিক রন্ধনপ্রণালী এবং ৬২ জাতীয় উদ্যান ব্রাজিলকে করেছে আকর্ষনীয়। যদিও ব্রাজিল ভ্রমণ করার আগে সম্ভাব্য বিপদ বিবেচনা করা উচিত। এই শহরের রয়েছে সর্বোচ্চ অপরাধের হার, মাদকের আগ্রাসন এবং গ্যাং সহিংসতার অন্ধকার দৃষ্টান্ত। ব্রাজিল দরিদ্র দেশ গুলোর মধ্যেও অন্যতম ফলে অপহরন, ছিনতাই এখানকার গুরুতর সমস্যা। আপনি আপনার ছুটি কাটানোর জন্য এর থেকে কি নিরাপদ জায়গা খুঁজে নিতে চাইবেন না?

ভ্রমণের জন্যে সবচেয়ে বিপদজনক ১২টি দেশ (প্রথম পর্ব)

ভ্রমণপিয়াসী মানুষের জন্য পুরো পৃথিবীই একটা দেশ, একটা মানচিত্র। নিজস্ব ভৌগলিক সীমারেখার বাইরের দুনিয়াটা দূর্বার আকর্ষনে টানে। একটি সুন্দর স্থান যেমন বারবার দেখার জন্য মনকে ব্যাকুল করে তেমনি বিশ্বের কিছু খারাপ দেশে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। খারাপ দেশ সমূহের তালিকা মূলত জনমত জরীপ, নিরাপত্তা, খাদ্য, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সুযোগ ও অপরাধ এই সব উপাদানের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়েছে কারণ আমরা চাইনা আপনার আনন্দময় ভ্রমণটি নষ্ট হোক। আসুন তেমনি কিছু দেশ সম্পর্কে জেনে নেই।

somalia
Image Source: www.operationworld.org

১। সোমালিয়াঃ
আফ্রিকার সব দেশে স্ফটিক-স্বচ্ছ সৈকত, উষ্ণমগুলির অঞ্চলের বৃক্ষহীন তৃণভূমি কিংবা বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ নেই। বাস্তবতা হচ্ছে এই যে আফ্রিকা তাদের দারিদ্রতা এবং দূর্বল ব্যবস্থাপনা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। সোমালিয়া এর আদর্শ উদাহারণ। শুধুমাত্র দারিদ্র্য-ই একমাত্র কারণ নয়, সোমালিয়ার শহরগুলি মানব পাচার, জলদস্যুতা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা এবং ড্রাগ চোরাচালানের মত কাজের জন্য প্রসিদ্ধ। বিশ্বের অন্যান্ন যেকোন দেশের তুলনায় সোমালিয়ায় অপরাধের হার অনেক বেশি। তাই সোমালিয়ায় ভ্রমণের আগের আরেকবার ভেবে দেখবেন কি?

guyana
Image Source: www.operationworld.org

২। গায়ানাঃ
গায়ানা দক্ষিণ আমেরিকা ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী একটি ছোট দেশ। যদিও দেশটি ভ্রমণে তেমন ক্ষতির আশংকা নেই কিন্তুও তবুও এটি একটি বাড়তি সতর্কতা কারণ গায়ানার জর্জটাউন মত শহর পর্যটকদের জন্য বেশ বিপজ্জনক বিশেষ করে রাতের বেলায়। এছাড়াও ভেনেজুয়েলা এবং সুরিনাম সাথে সীমান্তে বিরোধ জন্য গায়ানা পরিচিত। যদিও দেশটিতে কিছু সুন্দর জলপ্রপাত, জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে কিন্তু এসবের বিকল্প দক্ষিণ আমেরিকান ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে খুঁজে নেয়াই বুদ্ধিমান কাজ হবে।

afganisthan
Images Source: www.operationworld.org

৩। আফগানিস্তানঃ
অন্য সব দেশ থেকে আফগানিস্থান আলাদা। শ্রেষ্ট নাটুকে রাস্তা এবং অনিন্দ সুন্দর পর্যটকদের আকর্ষন করতে বাধ্য। খেলাধুলার কিছু কিছু শাখায় আফগানদের সাফল্য ও আফগানিস্থানের খাঁটি কাবাব পৃথিবী সমাদৃত। কিন্তু আফগানিস্থানের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা মোটেও ভ্রমণকারীদের জন্য সহায়ক নয়। যুদ্ধপরবর্তী সময়ের ধাক্কা এখনো দেশটি সামলিয়ে উঠতে পারেনি বরং দেশটির স্থানীয় বাসীন্দারা পর্যন্ত আতঙ্কে দিনাতিপাত করে। নিরাপত্তার ব্যাপারে আপোষ করে দেশটিতে ভ্রমণ করা মোটেও সুখকর হবে না।

tuvalu
Image Source: ontheworldmap.com

৪। টুভালুঃ
আপনি এই দেশর নাম কখনো শুনে থাকতে পারেন। টুভালু ছোট্ট এক দেশ এবং বিশ্বের ক্ষুদ্রতম জাতিগুলির মধ্যে অন্যতম। এই দেশ সমুদ্রতল থেকে মাত্র 7 ফুট উচ্চতায় আছে যার কারণে ভৌগলিক ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে এই দেশ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে তলিয়ে যাবে। টুভালুতে পরিবহন এবং সুযোগ-সুবিধা খুবই খারাপ। এছাড়াও, এই ছোট দেশে পৌঁছানোর জন্য ফিজি থেকে বিমানে চড়তে হয় এবং সপ্তাহে মাত্র দুটি ফ্লাইট আছে। টুভালুতে কোন পর্যটন কেন্দ্র, চমৎকার সৈকত কিংবা আরামপ্রদ হোটেল এর কিছুই আপনি পাবেন না। আপনি যদি সৈকতে ভ্রমণের জন্য টুভালুকে বেছে নিয়ে থাকেন তবে অন্য কোন দেশ দেখুন।

russia
Image Source: www.operationworld.org

৫। রাশিয়াঃ
অত্যন্ত রক্ষণশীল এ দেশটি ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকাই ভালো হবে। রাশিয়া তার নিজস্ব সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক ব্যাপারে খুবই সংকোচনশীল। আর আপনি যদি রাশিয়ায় চলেই যান তবে সেন্ট পিটার্স রাজপ্রাসাদ দেখতে ভুলবেন না।

jamaica
Image Source: quotesgram.com

৬। জ্যামাইকাঃ
জ্যামাইকা বালুকাময় সৈকত এবং বব মার্লে জন্য প্রসিদ্ধ। তবে অপ্রতিরোধ্য দারিদ্র্য, ডাকাতি এবং ছুরিকাঘাতের অসংখ্য ঘটনা পর্যটকদের কাছে জ্যামাইকাকে বিপদজনক করে তুলেছে। জ্যামাইকা ভ্রমণের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই বস্তিতে ছোট বাজার এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে এড়িয়ে চলতে হবে তবেই আপনি Ocho Rios এর ব্লু হোল, সেভেন মেইল বীচ, ওয়াইএস ফলস, ডলফিনের সাতার ইত্যাদি উপভোগ করতে পারবেন। তবে অবশ্যই গ্রুপ বা দল বেধে ভ্রমণ করা অনেক নিরাপদ হবে আর সঙ্গে গাইড নিতে ভুলবেন না।

দ্বিতীয় পর্বঃ ভ্রমণের জন্যে সবচেয়ে বিপদজনক ১২টি দেশ (দ্বিতীয় পর্ব)

সর্বকালের সেরা ১০ বাংলা সিনেমা

বাংলা সিনেমার রয়েছে প্রাচীন ও গৌরবময় ইতিহাস। ১৯২৭ সালে ঢাকার নবাব পরিবারের তরুনদের মাধ্যমে নির্বাক ছবির যাত্রা শুরু হলেও ১৯৫৭ সালে আব্দুল জাব্বার খানের পরিচালনায় ‘মুখ ও মুখোশ’ নামে প্রথম সবাক সিনেমা নতুন ইতিহাস রচনা করে। তারপর আর এ অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি। সময়ের আবর্তনে বাংলা সিনেমার মুকুটে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য সোনালী পালক। আর সেইসব সোনালী পালক থেকে সেরা ১০ খুঁজে বের করে আনা খড়ের গাঁদায় সুই খোঁজার মতই তবুও চেষ্টা করতে ক্ষতি কি!

jibon-theke-neya
Image Source: www.banglatribune.com

০১: জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০) – পরিচালকঃ জহির রায়হান

জহির রায়হান তৎকালীন সময়ে বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনকে অসাধারণ রুপকতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো গানটি জহির রায়হান সরাসরি একুশের প্রভাত ফেরি থেকে ধারন করেন । ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি প্রথমবারের মত কোন ছবিতে দেখানো হয়, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হওয়ার গৌরব অর্জন করে ।

simana-periye
Image Source: bn.wikipedia.org

০২: সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭) – পরিচালকঃ আলমগীর কবির

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে এক তরুন আর ধনীর দুলালী তরুনী ভাসতে ভাসতে এসে পৌঁছায় জনমানবহীন এক দ্বীপে। সেখানে শুরু হয় তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে দুজনের প্রতি ভালবাসা তৈরী হয় তারপর কাহিনী নেয় নতুন মোড়।

chutir-ghonta
Image Source: www.shadhinkantha.com

০৩: ছুটির ঘন্টা (১৯৮০) – পরিচালকঃ আজিজুর রহমান

এই ছবিটি একটি সত্য ঘটনার উপর নির্মিত। ঈদের ছুটি ঘোষনার দিন সবার অলক্ষ্যে স্কুলের বাতরুমে আটকা পরে বারো বছরের এক ছাত্র। আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার আকুতি, অমানবিক কষ্টের স্বরূপ পরিচালক তাঁর দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

titash-ekti-nodir-nam
Image Source: bioscopeblog.net

০৪: তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩) – পরিচালকঃ ঋত্বিক ঘটক

ছবিটি অদ্বৈত মল্লবর্মনের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। তিতাস নদী ও নদী পাড়ের মানুষের জীবন চিত্র উঠে এসেছে এ ছবিতে। ছবিটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের জরিপে দর্শক ও সমালোচক দুই শ্রেনীতেই প্রথম স্থান অধিকার করে ।

chitra-nadir-pare
Image Source: www.dakpeon24.com

০৫: চিত্রা নদীর পাড়ে (১৯৯৯) – পরিচালকঃ তানভীর মোকাম্মেল

১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময়কে প্লট করে এ ছবিটি নির্মান করেছেন তানভীর মোকাম্মেল। ধর্মের পরিচয়ে বিভক্ত বিপুল মানুষের দেশবদল, আবেগ, আশা ও অনিশ্চতাকে পরিচালক অসাধারণ শৈল্পিকতায় বন্দী করেছেন।

nobab-shirajuddola
Image Source: www.risingbd.com

০৬: নবাব সিরাজউদ্দৌলা (১৯৬৭) – পরিচালকঃ খান আতাউর রহমান

বাংলার দুইশ বছরের পরাধীনতার শুরুর চিত্র এটি। পলাশীর প্রান্তরে মীরজাফরের কূটচালে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছে পরাজিত হন । সেই সাথে বাঙালির সৌভাগ্যের সূর্য্যও অস্থমিত হয়। সেই ঘটনাই আনোয়ার হোসেন দক্ষ অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। যার প্রতিটি সংলাপ আজো মানুষের মুখে মুখে।

beder-meye-joshna
Image Source: emani85.wordpress.com

০৭: বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না (১৯৮৯) – পরিচালকঃ তোজাম্মেল হক বকুল

বাংলাদেশের চলচিত্র ইতিহাসের অন্যতম সফল ছবি এটি। ধনী গরীবের ভালবাসাই ছবিটির উপজীব্য। ছবিটির প্রতিটি গান আজো মানুষকে আলোড়িত করে। চলচ্চিত্রটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও পুননির্মাণ করে মুক্তি দেওয়া হয়।

sath-vai-chompa
Image Source: www.rokomari.com

০৮: সাত ভাই চম্পা – দীলিপ সোম (১৯৬৮)

সাত ভাই চম্পা মূলত বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি রূপকথার গল্প। গল্পটি প্রথম অনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হয়েছিল ১৯০৭ সালে ঠাকুরমার ঝুলি নামক রূপকথার বইতে যা দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রচনা করেন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বইয়ের ভূমিকা লিখেছিলেন। সাত ভাই চম্পার গল্পকে উপজীব্য করে বেশ কয়েকটি বাংলা সিনেমা নির্মিত হয়েছিল। সাত ভাই চম্পা চলচ্চিত্রটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে সর্বকালের সেরা দশটি বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে একটি হিসাবে স্থান পেয়েছে।

shimana-periye
Image Source: www.somewhereinblog.net

০৯: রূপালী সৈকতে – আলমগীর কবির (১৯৭৯)

ছবিটির মূল উপজীব্য হচ্ছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ পরিচালক অসীম সাহসীকতায় ফিতায় বন্দি করেছেন।

dhire-bohe-meghna
Image Source: www.pinterest.com

১০: ধীরে বহে মেঘনা – আলমগীর কবির (১৯৭৩)

ভারতের সাথে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচিত্র ধীরে বহে মেঘনা।

ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট ২০০৭ সালে দুইটি ক্যাটাগরীতে বাংলাদেশের সেরা দশটি চলচ্চিত্রের দুটি তালিকা তৈরী করে ।

সর্বকালের সেরা বাংলাদেশী চলচ্চিত্রঃ চলচ্চিত্র বোদ্ধা ও সমালোচকদের দৃষ্টিতে –

১। তিতাস একটি নদীর নাম – ঋত্বিক ঘটক (১৯৭৩)
২। চিত্রা নদীর পারে – তানভীর মোকাম্মেল (১৯৯৯)
৩। নদীর নাম মধুমতি – তানভীর মোকাম্মেল (১৯৯৪)
৪। সীমানা পেরিয়ে – আলমগীর কবির (১৯৭৭)
৫। বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না – তোজাম্মেল হক বকুল (১৯৮৯)
৬। সূর্য দীঘল বাড়ী – শেখ নিয়ামত আলী ও মসীউদ্দীন শাকের (১৯৭৯)
৭। ধীরে বহে মেঘনা – আলমগীর কবির (১৯৭৩)
৮। রূপালী সৈকতে – আলমগীর কবির (১৯৭৯)
৯। শ্রাবণ মেঘের দিন – হুমায়ুন আহমেদ (১৯৯৯)
১০। সাত ভাই চম্পা – দীলিপ সোম (১৯৬৮)

সর্বকালের সেরা বাংলাদেশী চলচ্চিত্রঃ দর্শকদের দৃষ্টিতে ও ভোটে –

১। তিতাস একটি নদীর নাম – ঋত্বিক ঘটক (১৯৭৩)
২। সীমানা পেরিয়ে – আলমগীর কবির (১৯৭৭)
৩। চিত্রা নদীর পারে – তানভীর মোকাম্মেল (১৯৯৯)
৪। উত্তরা – বুদ্ধদেব দাসগুপ্ত (১৯৯৯)
৫। সাত ভাই চম্পা – দীলিপ সোম (১৯৬৮)
৬। রূপালী সৈকতে – আলমগীর কবির (১৯৭৯)
৭। লালসালু – তানভীর মোকাম্মেল (২০০১)
৮। ধীরে বহে মেঘনা – আলমগীর কবির (১৯৭৩)
৯। সুপ্রভাত – কবীর আনোয়ার (১৯৭৬)
১০। জীবন থেকে নেয়া – জহির রায়হান (১৯৭০)

তথ্য সুত্র ও কৃতজ্ঞতাঃ মামুন রশিদ ও উইকিপিডিয়া

চার্টার্ড একাউন্টেন্ট পড়তে চাইলে…

সি.এ বা চাটার্ড একাউন্টেন্ট সম্পূর্নই একটি প্রফেশনাল কোর্স। সি.এ প্রফেশন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সর্ববৃহৎ ও স্বাধীন পেশা, সারা বিশ্বেই পেশা হিসাবে সি.এ অত্যন্ত জনপ্রিয়। একজন যোগ্যতাসম্পন্ন চাটার্ড একাউন্ট্যান্ট চাইলে যেকোন দেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধ্যাদেশ বলে বাংলাদেশে এই কোর্সটি প্রথম চালু হয়। সে সময়েই প্রতিষ্ঠিত হয় “দি ইনস্টিটিউট অব চাটার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ” (আইসিএবি)। যা বর্তমানে একটি স্বাধীন এবং সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি চাটার্ড একাউন্টেন্সি (সি.এ) প্রফেশনের সমস্ত বিষয় নিয়ন্ত্রন ও পরিচালনা করে। আইসিএবি ইনস্টিটিউটের কার্যালয় সি.এ ভবন কাওরানবাজার ।

১০০% প্রফেশনাল এই কোর্সটিতে পড়ার জন্য আইসিএবি এর নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে।
সি. এ. পড়তে কি কি যোগ্যতা লাগে আসুন জেনে নেইঃ

১। S.S.C. বা H.S.C. অথবা সমমানের উভয় পরীক্ষার ফলাফল মিলিয়ে কোন শিক্ষার্থী যদি কমপক্ষে ৯ পয়েন্ট পায় এবং কমপক্ষে যেকোন একটিতে এ প্লাস থাকে তাহলে সে সি.এ পড়তে পারবে।
২। স্নাতক পাশের পর (যে কেউ যে কোন বিষয় থেকে) সি.এ পড়তে পারবে। সে ক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই স্নাতক পর্যন্ত সকল একাডেমিক পরীক্ষা মিলিয়ে কমপক্ষে ৭ পয়েন্ট পেতে হবে।

সি.এ. পড়ার নিয়মকানুন আইসিএবি ইনস্টিটিউটের নিয়ন্ত্রনে পরিবর্তন হতে পারে তাই সঠিক তথ্য পেতে http://www.icab.org.bd/ সাইটে গিয়ে ICAB Entry Criteria তে ক্লিক করলেই বিস্তারিত পাওয়া যাবে।

যদি কোন ছাত্র-ছাত্রী সি.এ. পড়তে চায় তবে তাকে অবশ্যই সি.এ. ফার্মে CV জমা দিতে হবে। কারণ এই ডিগ্রী অর্জন করতে হলে পড়াশুনার পাশাপাশি সি.এ. ফার্মে কাজ শিখতে হয়। বাংলাদেশে প্রায় ২০০ এর মত সি.এ. ফার্ম আছে যার লিস্ট http://www.icab.org.bd/ ওয়েব সাইট থেকে দেখে নিতে পারেন।

CV জমা দেয়ার পর ফার্মগুলো লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাকবে। তবে সব ফার্মে এখনো এ পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হয়নি। Accounting, Auditing, Tax, English, General Math(Basic), Critical Reasoning বিষয়গুলোর উপর লিখিত পরীক্ষা হয়ে থাকে। আবার General Math(Basic), Critical Reasoning থেকে সকল ফার্মে প্রশ্ন করা হয় না। তাই আগে থেকেই খোঁজ খবর নিয়ে এবং ভাল প্রস্তুতির সাথে পরীক্ষা দিতে হবে কারণ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করলে আর্টিকেলশীপ ছাত্র হিসাবে বিবেচিত করা হয়। তারপর ফার্মের নীতিমালা অনুযায়ী ফার্মে যোগদানের পরবর্তী ২/৩ মাস প্রভিশন প্রিয়ড হিসাবে কাজ করতে হয় এবং ঐ ফার্মের মাধ্যমে আই.সি.এ.বি তে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হয়। নিবন্ধনের তারিখ থেকে ৩ বছর ঐ সি.এ. ফার্মের অধীনে কাজ করতে হয়। বর্তমানে নিবন্ধনের জন্য ৩০,০০০ টাকা ফি দিতে হয়। নিবন্ধনের পর আর টাকা পয়সা খরচ করতে হয় না বরং বরং ফার্ম থেকে প্রত্যেক মাসে আই.সি.এ.বি এর নিয়ম অনুযায়ী নিদ্দিষ্ট পরিমান ভাতা দেয়া হয়। আই.সি.এ.বি এর বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী আর্টিকেলশীপ স্টুডেন্টদের মাসিক ভাতার পরিমাণ –
১ম বছর ৩০০০ টাকা
২য় বছর ৩৫০০ টাকা
৩য় বছর ৪০০০ টাকা

সি.এ. ফার্মে কাজ শুরু করার পর প্রবোশনাল সময় থাকে যা ফার্ম ভেদে ২,৪,৬,৯ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। এরপর রেজিষ্ট্রেশন করার অনুমতি দেয়া হয়। রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হলে শিক্ষাথীর্কে আই.সি.এ.বি কর্তৃক বিনামূল্যে বই, লাইব্রেরী কার্ড সরবরাহ করা হবে এবং কোচিং ক্লাস করানো হয়।

হুমায়ূন আহমেদের সেরা দশ বই

হুমায়ূন আহমেদ বিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় বাংলা সাহিত্যিক। জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা মহুকুমার কেন্দুয়ার কুতুবপুরে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাকে শ্রেষ্ট লেখক হিসাবে মানা হয়। তিনি লেখালেখির পাশাপাশি চলচিত্রকার, নাট্যকার এবং গীতিকার হিসাবেও বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় তিন শতাধিক। আর বেশ কিছু গ্রন্থ বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর লেখা বাংলা সাহিত্যে সংলাপ রচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে আর এই অনবদ্য কাজের জন্য তাকে গল্পের জাদুকর বলে অভিহিত করা হয়। অত্যন্ত সফল এই লেখক ১৯ জুলাই ২০১২ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

চলুন জেনে নেই জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের সেরা দশ বই সম্পর্কে।

১। দেবীঃ হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় চরিত্র মিসির আলী সিরিজের প্রথম উপন্যাস হচ্ছে “দেবী”। উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। রানু নামের এক নববিবাহিতার অলৌকিক ক্ষমতা, মানসিক সমস্যা আর সেই সমস্যার সমাধানে মিসির আলীর ভূমিকা ইত্যাদি অত্যন্ত সাবলীলভাবে উঠে এসেছে এই উপন্যাসে। অসাধারণ লেখার ধরন আর জীবন কেন্দ্রীক রহস্যময়তা শিহরণ জাগিয়ে রাখে প্রতিটি পৃষ্ঠায়।

২। দিঘীর জলে কার ছায়া গোঃ এটি একটি রোমান্টিক ঊপন্যাস যা ২০০৯ সালে অমর একুশে বই মেলায় প্রথম প্রকাশিত হয়। দুটি ভিন্নধর্মী চরিত্র মুহিব ও লীলার ভালবাসার উপাখ্যান কলমের সাহায্যে হুমায়ূন আহমেদ চিত্রায়িত করেছেন সরলভাবে।যা আপনাকে তুমুল আকর্ষনে আবার বইটি পড়তে বাধ্য করবে।

৩। কে কথা কয়ঃ প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে। এক ছোট্ট বালক গল্প আর মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন সমৃদ্ধ করেছে এই উপন্যাসকে।

৪। আঙ্গুল কাটা জগলুঃ আঙ্গুল কাটা জগলু হুমায়ূন আহমেদের আরেক অমর সৃষ্টি হিমু সিরিজের সফল উপন্যাস। ২০০৫ সালে প্রকাশিত এ উপন্যাসে হিমুর আন্টি-লজিক্যাল বিষয়গুলো রহস্যময়তায় তুলে এনেছেন চোখের সামনে। মৌলিক লেখার ধরন উপন্যাসকে অন্য লেখা থেকে আলাদা করেছে।

৫। জোছনা ও জননীর গল্পঃ ২০০৪ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এই উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য। লেখকের নিজ জীবন এবং ঘনিষ্ঠ জনদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তিনি কলমের খোঁচায় ধরে রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং তৎকালীন উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কিছু ঘটনা লেখক তাঁর নিজস্ব স্বকীয়তায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

৬। আজ হিমুর বিয়েঃ রহস্যময় চরিত্র হিমু যুবক কিন্তু সে কি আমাদের মত বিয়ে কিংবা সামাজিক সম্পর্কগুলো মূল্যায়ন করে? আর এক্ষেত্রে হিমুর দর্শন কি? তেমনি কিছু প্রশ্নের উত্তর আছে এ বইটিতে যা ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়।

৭। ময়ূরাক্ষী – এটি ১৯৯০ সালে লেখা হিমু সিরিজের প্রথম বই। জনপ্রিয় চরিত্র হিমু সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য মিলবে এ বই থেকে।

৮। রোদনভরা এ বসন্তঃ রোদনভরা এ বসন্ত এক আশ্চর্য উপন্যাস। শুরুতে ট্রাজেডির দিকে মোড় নেয়া এ উপন্যাসকে লেখক বেশ নাটকীয়তায় অদ্ভুত রোমান্টিকতায় পরিপূর্ন করে দিয়েছেন। আর চরিত্র গুলোকে তাঁর ধারাবাহিক গণ্ডির বাইরে নিয়ে এসেছেন।

৯। আমিই মিসির আলীঃ হুমায়ূন আহমেদ এ উপন্যাসে আবারো মিসির আলীকে তুলে এনেছেন স্বরুপে। এই অসাধারণ বইটি পড়লে আপনার মনে অন্তত একটা প্রশ্ন জাগবে – আচ্ছা, হুমায়ূন আহমেদই কি মিসির আলি?!!!

১০। মধ্যাহ্নঃ মধ্যাহ্ন দুই খন্ডের ঊপন্যাস, এর প্রথম খণ্ড ২০০৬-এ এবং ২য় খণ্ড ২০০৭-এ প্রকাশিত হয়। ১৯০৫ সালের গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে এ উপন্যাস চিত্রায়িত হয়েছে। মধ্যাহ্ন উপন্যাসের গল্পের ধরন এবং বর্ননা এ উপন্যাসকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।

নিজেকে সফল হিসাবে দেখতে করনীয় ১০টি কাজ

চলার পথে ভাল-মন্দ, হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ পাশাপাশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবু সমস্ত প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাবার নামই হচ্ছে জীবন। নিজেকে সাফল্যের শিখড়ে নিয়ে যেতে সুঅভ্যাস চর্চার সাথে সাথে অহংকার, অযুহাত, হিংসা ইত্যাদি নেতিবাচক দোষ গুলো পরিহার করা জরুরী। আসুন জেনে নেই নিজেকে সফল করতে সহায়ক এমন ১০টি করনীয় কাজ সম্পর্কে।

get-up-early

১। ঘুম – “Early to bed and early to rise” এই বিখ্যাত উক্তির সাথে আমরা সবাই পরিচিত কিন্তু যান্ত্রিক জীবনের বাস্তবতায় আমাদের জীবনযাত্রায় এসেছে ভিন্নতা ফলে ঘুমের সময়েরও এসেছে পরিবর্তন । একদিন আপনার বর্তমান সময়ের চেয়ে একঘন্টা আগে ঘুম থেকে উঠে দেখুন জীবনকে উপভোগ করার জন্য পেয়ে যাবেন অফুরন্ত সময়!

lifes-goal

২। লক্ষ্য – লক্ষ্য ছাড়া কোন কাজ সাফল্য লাভ করতে পারে না। নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে নিজের কাছে নিজেকে ব্যাখ্যা করুন, সুস্পষ্ট ধারনা দিন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আজকে আপনার কর্মপন্থা ঠিক করে সামনে এগিয়ে যান।

breakfast

৩। ব্রেকফাস্ট– কোন অবস্থাতেই সকালের নাস্তা না করার অযুহাত তৈরী করবেন না। সকালের নাস্তা সারাদিন আপনার মন সতেজ এবং এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করবে। তাই আপনার দিনটি কে অর্থবহ করে তুলতে শুরুটা হোক নাস্তার টেবিল থেকেই।

daily-routine

৪। রুটিন – কাজ ফেলে রাখা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়, নিজের করনীয় প্রতিদিনের কাজ সম্পর্কে লিস্ট বানিয়ে ফেলুন। লিস্ট অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করুন আপনাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

motivate-yourself

৫। নিজেকে মোটিভেট করুন– অযুহাত ও অলসতা আপনাকে পেছনে টেনে রাখার জন্য যথেষ্ট তাই নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকুন। নিজের মনকে প্রফুল্ল রাখতে আড্ডা দিন, ছবি দেখুন, মজা করুন। কোন কাজে আশানরুপ ফল না আসলে হতাস হবেন না, রিলাক্স করুন। নিজেকে ইতিবাচক করে তোলার জন্য সফল ব্যক্তিদের জীবনী পড়ুন।

exercise

৬। শরীরচর্চা – ঘুম থেকে উঠেই কাজ শুরু করা মোটেও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নয়। শরীরকে সক্রিয় রাখতে নিজের রুটিনে হালকা ব্যয়াম যুক্ত করে নিন। এতে আপনার পেশীর শিথিলতা ও রক্ত সঞ্চালন বাড়ার কারণে আপনি আরো কর্মক্ষম হয়ে উঠবেন ।

food-habits

৭। খাদ্যাভাস – বাইরের খাবার সম্পূর্ন ত্যাগ করুন, প্রয়োজনে বাসা থেকে খাবার কর্মস্থলে নিয়ে যান। কারণ সাফল্যের জন্য সুস্থ থাকা জরুরী।

well-decorated-office

৮। অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিন – নিজের ঘর কিংবা অফিসের ডেস্কে অগোছালো কাগজ বা জিনিস ছড়িয়ে রাখবেন না। অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দিন, চারপাশ পরিছন্ন রাখুন। অগোছালো ঘর আপনার কর্মস্পীহা কমিয়ে দেবে।

go-to-sleep-early

৯। রাত জাগবেন না– নিজেকে পরবর্তি দিনের জন্য প্রস্তুত রাখতে ও শরীর সুস্থ রাখার জন্য ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অযথা রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করুন, আর সময়ের কাজ সময়ে করতে পারার অভ্যাসই আপনাকে রাত জেগে কাজ করা থেকে বিরত রাখবে।

dont-talk-without-work

১০। কথা কম বলুন– কথা কম বলুন এতে কাজের প্রতি মনসংযোগ বাড়বে। নিজের সাথে কথা বলুন তাহলে আপনার কাজের মান বাড়বে। অযথা কারো সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করা আপনাকে লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে দেবে।

নিজের মধ্যে ইতিবাচক গুনের চর্চা বাড়িয়ে দিন, সাফল্য আপনার কাছে ধরা দেবেই।

নিজের লক্ষ্য অবিচল রাখতে প্রেরণা সৃষ্টিকারী নিচের ভিডিওটি দেখে নিতে পারেনঃ