ঘরের গাছের পরিচর্যা – ইনডোর প্লান্টের যত্নআত্তির আদ্যোপান্ত

ঘরের গাছের পরিচর্যা করতে অনেকেই অনেক পদ্ধতির অনুসরণ করেন। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা পদ্ধতির অভাবে প্রায়ই অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায় শখের ইন্ডোর প্লান্টের। মূলকথা হলো আবহাওয়া, গাছের প্রকৃতি ও প্রজাতির ভিন্নতার সাথে সাথে এর পরিচর্যার পদ্ধতিও ভিন্ন হয়। সঠিক ভাবে জেনে বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে ঘরের গাছের পরিচর্যা করতে আপনাকে খুব একটা বেগ পেতে হবেনা। এখানে ইন্ডোর প্লান্টের যত্নআত্তির আদ্যোপান্ত উপস্থাপন করা হলো যা আপনাকে স্পষ্ট ধারণা দিবে সঠিক ভাবে এগুলোর যত্ন নিতে। এবং কিভাবে ঘরের গাছের পরিচর্যা করলে তা থেকে বেশি পরিমানে ফুল ও ফল পাওয়া যাবে সেই সাথে সৌন্দর্যেরও কোন ঘাটতি হবেনা।

গাছ কে জানুন

আপনার ঘরের গাছ বা ইনডোর প্লান্ট এর সঠিক যত্ন নিতে হলে প্রথমে আপনাকে গাছের প্রকৃতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। আসলে সব গাছেরই বাচার জন্য খাবার, পানি ও সূর্যের আলো প্রয়োজন তবে তা একেক গাছের ক্ষেত্রে একেক পরিমানের। আর তাই আগে ভালোভাবে জানতে হবে কোন গাছে জন্য কি উপাদান কি পরিমানে সর্বরাহ করতে হবে।

নতুন গাছ নিরীক্ষণ

যখনই কোন নতুন চারা বা গাছ আপনার শখের বাগানে যুক্ত করবেন তখন ভালোভাবে তার পাতা, কান্ড ও গোঁড়া পরিক্ষা করতে ভুলবেন না যেন। কারন নতুন গাছে পোকা বা ছত্রাকের সংক্রমণ থাকলে তা খুব দ্রুত অন্যসব গাছে ছড়িয়ে পরবে যা কোনভাবেই আপনার ইন্ডোর প্লান্টের জন্য সুখকর নয়।

সঠিক জায়গা নির্বাচন

সঠিক জায়গায় ইন্ডোর প্লান্ট স্থাপন খুব গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত জায়গায় আপনার ঘরের গাছগুলো নিরাপদে বেড়ে উঠতে অনুকূল পরিবেশ পাবে। তাই খুব উত্তপ্ত বস্তুর নিকট, এয়ারকন্ডিশনের কাছাকাছি স্থান, টেলিভিশনের উপর বা পর্দার মাঝামাঝি জায়গা পরিহার করাই উত্তম।

সঠিক মাত্রার আলো

সূর্যের আলো সকল গাছের জন্যই অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই যে গাছের জন্য বেশি আলো প্রয়োজন সেটিকে দক্ষিণ দিকের জানালার কাছে স্থাপন করুন কেননা ঘরে দক্ষিণ মুখী জানালতেই বেশি রোদ আসবে। আর পূর্ব ও পশ্চিম মুখী জানালায় মাঝারি এবং উত্তর দিকে অপেক্ষাকৃত কম আলো পরে। তাই গাছের আলোর প্রয়োজন অনুসারে জানালার কাছাকাছি স্থান নির্বাচনও জরুরী।

বিশুদ্ধ মাটি ব্যবহার

সবসময় ঘরের গাছের জন্য টবে মাটি ভর্তি করার পূর্বে টব ও মাটি বিশুদ্ধ করে নিবেন। পরিস্কার ও বিশুদ্ধ মাটি সুস্থ গাছের জন্য অপরিহার্য। এতে করে মাটির ফাংগাস ও অন্যান্য মাটি দ্ধারা ছড়ানো রোগসমূহ থেকে আপনার গাছ নিরাপদে থাকবে।

কিভাবে করবেন ঘরের গাছের পরিচর্যা

পোকা দমনে রাখা

ঘরের গাছকে পোকা আক্রমন করার আগেই নিতে হবে কিছু পদক্ষেপ। আর যেহেতু তা একেবারে আপনার ঘরের ভিতরে সেজন্য অবশ্যই পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিই আপনার জন্য বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে আপনি নিমের তেল, এন্টি-ইন্সেক্টিসাইড সাবান, ফ্লাই লাইট, স্টিকি বোর্ড, সেক্স ফেরোমেন ট্র্যাপ ইত্যাদি যেকোন একটা পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন।

পানির পরিমিত প্রয়োগ

আসলে সকল ইন্ডোর প্লান্টের সমান পানির প্রয়োজন হয়না। যেমন, ফুলের গাছ, মাটির ছোট পাত্রের গাছ, সরাসরি সূর্যের আলোতে স্থাপিত, বড় ও পাতলা পাতাযুক্ত এবং স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ার গাছের জন্য বেশি পানি দরকার। অন্যদিকে সদ্য পাত্র পরিবর্তিত গাছ, অধিক আদ্রতায় বেড়ে উঠা গাছ, অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ঘরে রাখা, মোটা পাতাযুক্ত এবং বিশেষ করে কম ছিদ্রযুক্ত টবে রাখা গাছের পানির প্রয়োজনীয়তা অনেক কম।

পরিমিত সার প্রয়োগ

ইন্ডোর প্লান্টেরও বেড়ে উঠার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত সঠিক মাত্রায় সার। কোন গাছের কি সার কি পরিমান প্রয়োজন তা জেনে বুঝে নিয়মত প্রয়োগ করা বাঞ্ছনীয়। তবে সাধারণত প্রায় সকল ইন্ডোর প্লান্টের জন্যই জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সারের চাহিদা বেশি থাকে।

আরও পড়ুন – যে সব ঘর সাজানোর গাছ কম যত্নেও বেঁচে থাকে

পাতা পরিস্কার করা

ঘরের গাছের পাতায় ধুলো বালি লেগে থাকা শুধু এর সৌন্দর্য নষ্ট করে তাই নয় বরং এই অবস্থা গাছের জন্যও ক্ষতির কারন। আর তাই বছরে কয়েকবার নরম কাপড় বা তুলো ভিজিয়ে গাছের পাতা পরিস্কার করে দিন। বেশি ভালো হয় যদি আপনি পাতা পরিস্কার করার সময় অল্প নিমের তেল বা এন্টি-ইন্সেক্টিসাইড সাবান ব্যবহার করেন।

পাত্র পরিবর্তন

যখন আপনার টবের গাছ বড় হয়ে যাবে বা শিকড় বৃদ্ধি পাবে তখন বুঝে শুনে পাত্র পরিবর্তন করাই উত্তম। পাত্র পরিবর্তনের সময় টবের নিচের দিকে এক টুকরো ফোম বা স্পঞ্জ দিয়ে দিলে তা অল্প পরিমানে পানি ধরে রাখবে যা টবের গাছেড় জন্য সুফল বয়ে আনবে।

মৃত ডাল কাটা

অনেক সময় ইন্ডোর প্লান্টের ডাল, ফুল ও শিকড় মরে যায়। সেগুলো গাছের জন্য অতিরিক্ত বোঝা হয়ে যায়। সময় মত সেগুলো কেটে বাদ দিতে হবে। তাহলে টবের গাছ আরো বেশি ফুল ও ফল দিতে সক্ষম হবে।

কিভাবে নিবেন শখের অর্কিডের যত্ন

গৃহসজ্জা হোক বা অফিস, শখের ছাদ বাগান বা কোন অনুষ্ঠানের মঞ্চ প্রায় সবখানেই এই মন মাতানো অর্কিডের রয়েছে বিশেষ কদর। আপনি যেখানেই অর্কিড চাষ করুন না কেন অধিক স্থায়িত্বের ফুল ও সতেজ গাছ পেতে আপনার শখের অর্কিডের চাই সঠিক যত্ন। অনেকেই প্রশ্ন করেন কিভাবে নিবেন শখের অর্কিডের যত্ন আর খোঁজ করেন টবের অর্কিডের পরিচর্যা করার সঠিক নিয়ম। তাই অর্কিড প্রেমি মানুষের জন্য এখানে দারুন কিছু টিপস দেয়া হলো যা আপনাকে সহায়তা করবে সঠিক ভাবে অর্কিডের যত্ন নিতে। তাহলে চলুন জেনে নিই কি পরিচর্যায় ভালো থাকবে আমাদের পছন্দের অর্কিড গাছ ও ফুল।

সঠিক ভাবে পানি দেয়া

অর্কিডে উপর থেকে কখনোই পানি দেয়া যাবেনা। কারন এতে করে ফুলের কুড়িতে ও পাতার ফাঁকে পানি জমে থাকে। যা আপনার শখের অর্কিডে পচন ধরাতে সাহায্য করে। যদি কখনো পানি দিতে গিয়ে অর্কিড গাছ সম্পূর্ণ ভিজে যায় তবে সাথে সাথেই একটি পেপার ট্যিসু দিয়ে তা যথা সম্ভব মুছে শুকনো করে নিন।

টবের জমে থাকা পানি অপসারণ

অর্কিড বেশি পানি সহ্য করতে পারেনা। আর বিশেষ করে ফুটন্ত অর্কিড এর টব বা পাত্রে কোনভাবেই অতিরিক্ত পানি জমে থাকতে দেয়া যাবেনা। টবের অতিরিক্ত পানি যাতে খুব সহজেই বেরিয়ে যায় সেদিকে বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখুন।

ঠান্ডা পানি না দেয়া

অর্কিড এর বেশিরভাগ প্রজাতিই খুব স্পর্শকাতর। খুব ঠান্ডা পানি অর্কিডের মূলের ক্ষতি করে থাকে। সব সময় অর্কিডে সাধারন নাতিশীতোষ্ণ পানি সর্বরাহ করুন। বরফ টুকরো দিয়ে ইন্ডোর প্লান্টে পানি দেয়ার পদ্ধতি অন্তত অর্কিডের ক্ষেত্রে পরিত্যাজ্য।

আরও পড়ুন – ইনডোর প্লান্ট – ঘর সাজাতে গাছ

খাবার সর্বরাহ

সঠিক পরিমানের উপযুক্ত খাবার আপনার অর্কিডের গাছ ও ফুলের জন্য অপরিহার্য। যা অর্কিডের জীবনকাল ও লাবন্য বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ। মাসে অন্তত একবার অর্কিডের গাছে খাবার দিন। আপনি যে কোন সুপার শপে অর্কড ফুড কিনতে পাবেন বা অনলাইন শপেও অর্ডার করতে পারেন।

লেগে থাকা ডাল আলাদা না করা

অর্কিডের গোঁড়ার দিকে ডাল গুলো একসাথে চাপাচাপি করে লেগে থাকে। এগুলো অর্কিডের পাওয়ার হাউস বা ব্যাটারির মত কাজ করে। অর্কিডের ভালো বৃদ্ধি আশা করলে কখনোই এইগুলা আলাদা করা যাবেনা।

অর্কিডের সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা

প্রচলিত টবের মাটি পরিহার

সাধারণত আমরা যেসব অর্কিড চাষ করি তার বেশিরভাগ প্রজাতিই পরগাছা বা পরজীবী। আর সচরাচর টবে চাষ করার জন্য যে মাটি ব্যবহার করা হয় তা অর্কিডের জন্য উপযোগী নয়। তাই প্রচলিত টবের মাটি পরিহার করাই অর্কিডের জন্য উত্তম। উপরন্তু টবের মাটি অর্কিডের শ্বাসপ্রশ্বাস কার্য সঠিক ভাবে পরিচালনা করে বাঁধা দেয়। এই জন্য নারেকেলের ছোঁবরা, ইটের কোয়া ইত্যাদি বস্তুই উপযুক্ত।

সরাসরি সূর্যের আলোতে না রাখা

অতিরিক্ত তাপমাত্রা অর্কিডের জন্য সুখকর নয়। তাই সরাসরি সূর্যের আলোতে অর্কিডের টব বা পাত্র না রাখাই ভালো। অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রা আর ছায়াযুক্ত স্থানে জায়গা করে দিন আপনার শখের অর্কিডের।

ফুল না ভেজানো

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অর্কিডের পাতা অল্প সময়ের জন্য ভিজিয়ে দেয়া ভালো হলেও কখনোই ফুল ভেজানো অর্কিডের জন্য উপকারী নয়। ফুল ভেজালে তার স্তায়িত্ব কমে যায় এবং এতে করে খুব দ্রুত ফুলে পচন ধরে।

আরও পড়ুন – যে সব ইনডোর প্ল্যান্ট কম যত্নেও বেঁচে থাকে

আদি শিকড় না কাটা

অর্কিডের আদি শিকড় বা এ্যরিয়েল রুট এর জীবন ধারনের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক অর্কিড এমন মূল দ্ধারা শ্বাসকার্য চালায় আর এটি খুব সাধারন প্রাকৃতিক নিয়ম। তাই এগুলোকে না কাটাই শ্রেয়।

টব বা পাত্র পরিবর্তন

যদিও আপনাকে প্রায়ই অর্কিডের টব বা পাত্র পরিবর্তন করতে হবেনা। সাধারনত অর্কিড দুই বছর একই পাত্রে থাকতে পারে তবে তার বেশি এক পাত্রে রাখা এর সঠিক বৃদ্ধির জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে। কারন শিকড় বৃদ্ধির সাথে সাথে এর ভিতরের জায়গার পরিমান কমে আসে। আর অবশ্যই পাত্র পরিবর্তনের সময় মৃত শিকড় কেটে বাদ দিতে হবে।

ইনডোর প্ল্যান্ট – যে সব ঘর সাজানোর গাছ কম যত্নেও বেঁচে থাকে

এই নাগরিক জীবনে আপনি খুব ব্যস্ত মানুষ, ইনডোর প্ল্যান্ট গুলোর যত্ন নেয়ার একদমই সময় পান না! সময়ের অভাবে যত্ন না নেওয়ায় বিবর্ন হয়ে ওঠেছে আপনার শখের গৃহসজ্জার গাছ গুলো। তবে আপনার দরকার সহজ পরিচর্যার ইনডোর প্ল্যান্ট যা কম যত্নেও থাকবে সজীব। হ্যা, আপনি ঘরের শোভা বাড়াতে বেছে নিতে পারেন এমন কিছু গাছ যা অল্প সময়ে খুব সহজেই পরিচর্যা করা যায় আর অযত্ন অবহেলায়ও সজীব সতেজ থাকে সব সময়। এখানে আমরা এমন ৫ টি ইনডোর প্লান্টের কথা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব যা আপনার ব্যস্ত সময়ের খুব অল্পখানিই নেবে এর পরিচর্যায়।

জিজি প্লান্ট

সহজ পরিচর্যার ইন্ডোর প্লান্ট জিজি

জিজি প্লান্টের গাড় সবুজ বর্নের পাতা আপনাকে এক অনন্য প্রশান্তি এনে দেবে মুহুর্তেই। এটি এমনই কষ্ট সহিষ্ণু গাছ যাকে বলে একেবারে কৈ মাছের প্রাণ। অযত্ন আর অবহেলায়ও এর জীবন ধারনে কোন সমস্যা হয়না বললেই চল। প্রতিকূল পরিবেশে ঘরের শোভা বর্ধনকারি এই গাছ খুব সহজেই মানিয়ে নিয়ে বেড়ে উঠে। এই গাছের খুব একটা পানির প্রয়োজন হয়না তবে টবের মাটি বেশি শুকিয়ে গেলে অল্প পানি দিলেই চলে। খুব অল্প আলোতেও এই গাছ ভালো থাকে তাই ঘরের ভিতরে যে কোন স্থানে এটি স্থাপন করা যায়। আর ঘরের বায়ু দূষণমুক্ত রাখা সহ এলার্জির প্রভাব মুক্ত রাখার মত উপকারি গুণ সমূহ এটির গ্রহণ যোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক।

স্নেক প্লান্ট

সহজ পরিচর্যার ইন্ডোর স্নেক প্লান্ট

ফলার মত লম্বা পাতাযুক্ত স্নেক প্লান্ট দেখতে অনেকটা অন্যান্য পাতাবাহার গাছের মতই। গাছের পাতার আকৃতি অনেকটা সাপের মত প্যাঁচানো বলেই হয়ত লোকে একে স্নেক প্লান্ট বলে। তবে এর আরো একটি মজার নাম আছে, দেশের বাইরে অনেকেই একে মাদার ইন ল’স টাং বলে ডাকে (যার বাংলা প্রতিশব্দ শাশুড়ির জ্বিহবা)। এটি বাতাস দূষণমুক্ত রাখে এবং আলো অন্ধকার সংমিশ্রিত পরিবেশে খুব সহজেই মানিয়ে নেয়। এর জীবন ধারনের জন্য পানি খুব কমই লাগে শুধু মাটি বেশি শুকনো হয়ে গেলে অল্প পানি দিতে হয় আর সরাসরি গাছে পানি না দেয়াই উত্তম।

আরও পড়ুন – ঘর সাজাতে গাছ

এলোভেরা

সহজ পরিচর্যার ইন্ডোর প্লান্ট এলোভেরা

দেখতে সুন্দর ও ভেষজ গুন সম্পন্ন এলোভেরা গাছ ঘর সাজাতে অনেক জনপ্রিয়। এর অনেক ভেষজ গুণের একটি হলো পুরে যাওয়া স্থানে কাচা পাতার আঠালো রস লাগালে খুব দ্রুত পোড়ার যন্ত্রণা কমে আসে। এলোভেরা গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য একে আলো যুক্ত স্থানে রাখা প্রয়োজন এবং প্রতি দুই সপ্তাহে একবার পানি দেয়াই যথেষ্ঠ। আপনার শোবার ঘরে, জানালার পাশে বা ঝুল বারান্দায় এই গাছের টব রাখতে পারেন।

ফিলোডেনড্রন

সহজ পরিচর্যার ইন্ডোর প্লান্ট ফিলোডেনড্রন

এটি খুব চমৎকার একটি গাছ যা আপনার গৃহসজ্জার জন্য সহজেই চাষযোগ্য আর এই জাতীয় গাছের যত্ন একেবারেই কম নিলেও গাছের কোন ক্ষতি হয়না। এর বিভিন্ন আকৃতির গাড় সবুজ বর্নের পাতার নান্দনিক বিন্যাস আর নজর কাড়া রপ ঘড়ের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলে। ফিলোডেনড্রন গাছের অনেক প্রজাতি রয়েছে যেগুলো ঝুলানো ঝুড়িতে বা টবে লাগানো যায়। আপনার জানালর গ্রিলে বা অন্য কোন শক্ত খুটিতে এটি অনায়াসেই নিজেকে জড়িয়ে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করবে।

জাদি প্লান্ট

সহজ পরিচর্যার ইন্ডোর জাদি প্লান্ট

এটি অনেক জনপ্রিয় একটি ইন্ডোর প্লান্ট যা বন্ধুত্ত ও সৌভাগ্যের প্রতিক হিসেবে পরিচিত। অনেকেই এই জাদি প্লান্ট কে টাকার গাছও বলে। এর পাতা গুলো দেখতে অনেক সুন্দর আর বিশেষ করে এর ছোট ছোট সাদা ও গোলাপি ফুল এই গাছের রুপ আরো বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। আপনার জাদি প্লান্টে প্রতিদিন পানি দেয়ার প্রয়োজন নেই যদি মাটি খুব বেশি শুকিয়ে যায় তখন অল্প পানি দিয়ে শুধু মাটি ভিজিয়ে দিলেই হবে। তবে গ্রীষ্মকালে সপ্তাহে একবার আর শীতকালে দুই সপ্তাহে একবার পানি দিলেই চলবে। ঘরের যে স্থানে পর্যাপ্ত আলো পরে এমন স্থানে, জানালার পাশে বা বারান্দায় জাদি প্লান্টের টব রাখুন তাতে এই গাছ খুব অনুকূল পরিবেশ পাবে।

আশাকরি আপনার ব্যাস্ত জীবনের অল্প খানি অবসর সময়ে সহজেই আর কম যত্নে চাষ করার মত এই সহজ পরিচর্যার ইন্ডোর প্লান্ট গুলো আপনাকে ঘর সাজাতে অনেক সহায়তা করবে। আর ঘর সাজানোর সাথে সাথে এই গাছ গুলো আপনার বাড়ির বাতাস রাখবে দূষণ মুক্ত ও নির্মল।

ব্রোকলির রেসিপি – সবুজ ফুলকপি ব্রোকলির মজার খাবার

ব্রোকলি দেখতে ঠিক যেন সবুজ বর্ণের ফুলকপি যার বাহ্যিক গঠন ফুলকপির মত হলেও স্বাদে, বর্ণে ও পুষ্টিগুণে ফুলকপি থেকে অনেক এগিয়ে। এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বিদেশী সবজি যা বর্তমানে আমাদের দেশেও ভোজন রসিক ও পুষ্টি সচেতন লোকেদের পছন্দের খাদ্য তালিকায় ক্রমবর্ধমান হারে যুক্ত হচ্ছে। এইতো মাত্র কদিন আগেও ব্রোকলি শুধু অভিজাত রেস্তোরায় পরিবেশন করা হতো কিন্তু এখন অনেকেই সখের বশে ও এর স্বাদের ভক্ত হয়ে ছাদে, বারান্দায় বা টবে ব্রোকলি চাষ করছেন। এই ব্রোকলি দিয়ে অনেক পদের মজার খাবার তৈরি করা যায় তবে সঠিক স্বাদ নিতে চাইলে আপনাকে এর রন্ধন প্রনালী ও প্রয়োজনীয় উপকরন সম্পর্কে জানতে হবে। তাহলে চলুন চট জলদি দেখে নেয়া যাক কিছু জনপ্রিয় ব্রোকলির রেসিপি যাতে করে আপনি ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন রেস্তোরার মত সুস্বাদু সবুজ ফুলকপির মজার খাবার।

ব্রোকলি ও ক্যাপসিকাম এর ঝাল ফ্রাই

ব্রোকলি ও ক্যাপ্সিকাম এর ঝাল ফ্রাই
foodandstyle.com

এই রেসিপিটি ঝাল প্রিয় মানুষের অতি পছন্দের একটি। এর বিশেষ স্বাদ আপনাকে গতানুগতিক খাবারের একঘেয়েমি থেকে ভিন্ন মাত্রা এনে দিবে। আর আপনি নিজের রুচি মত ঝালের পরিমান কম বেশি করে নিতে পারেন। ব্রোকলি ও ক্যাপসিকাম এর এই ঝাল ফ্রাই আপনি খুব দ্রুত মাত্র পনেরো মিনিটেই রান্না করতে পারেন। চার জনের জন্য এই খাবার রান্না করতে আপনার যে উপকরন গুলো লাগবে তা হলো –

উপকরন ও পরিমাণঃ
* ব্রোকলি ছোট করে টুকরো করা ছয় কাপ পরিমান।
* একটি ক্যাপসিকাম ফালি করে কাটা।
* দেড় থেকে দুইটি পিয়াজ কুচি কুচি করে কাটা।
* এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ সস।
* এক চামচ আদা বাটা।
* এক চামচ ভেজেটেবল বা অলিভের তেল।
* এক চামচ খোসা ছাড়ানো তিলের বীজ।
* পরিমান মত লবন।

প্রস্তুত প্রনালীঃ ব্রোকলি ও ক্যাপসিকাম এর ঝাল ফ্রাই তৈরির উপকরন গুলো পরিমান মত যোগার করে তিনটি ধাপে ঝটপট রান্না করে ফেলুন মজার এই খাবার। প্রথমে একটি পাত্রে মাঝারি আঁচে তেল গরম করুন এবং তাতে আদা বাটা দিন ও মিনিট খানেক ভাঁজুন সুবাস ছড়ানো পর্যন্ত। দ্বিতীয় ধাপে পিয়াজ কুচি, ক্যাপসিকাম ফালি ও ব্রোকলি দিয়ে তিন থেকে পাঁচ মিনিট নেড়ে চেড়ে সেদ্ধ করুন উপকরন গুলো কোমল হওয়া পর্যন্ত। তৃতীয় ধাপে সস ও আধা কাপ পানি দিয়ে আরো দুই থেকে তিন মিনিট রান্না করুন এবং চুলা থেকে নামানোর আগে তাতে খোসা ছাড়ানো তিলের বীজ ছড়িয়ে দিন। ব্যাস, তৈরি হয়ে গেলো সুস্বাদু ব্রোকলি ও ক্যাপসিকাম এর ঝাল ফ্রাই।

ব্রোকলির পুষ্টিগুণ জানতে পড়ুন – ব্রোকলির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

ব্রোকলি ও পনিরের চিকেন স্যুপ

ব্রোকলি ও পনিরের চিকেন স্যুপ
momjunction.com

আপনি যদি স্যুপ খেতে ভালোবাসেন তবে এই রেসিপিটি আপনার অনেক পছন্দ হওয়ার ই কথা কারন স্বাদের তুলনায় এটি অতুলনীয়। একদিকে এটি যেমন সুস্বাদু অন্যদিকে স্যাস্থের জন্যেও তেমন উপাদেয়। এই স্যুপটি তৈরিতে মাত্র আধা ঘন্টা সময় লাগে। নিম্নে চার জনের জন্য ব্রোকলি ও পনিরের চিকেন স্যুপ তৈরির উপকরন দেয়া হলো।

উপকরন ও পরিমাণঃ
* আধা কাপ মাখন।
* এক কাপ পিয়াজ কুচি।
* আধা কাপ ময়দা।
* চার কাপ লো ফ্যাট দুধ।
* দুই কাপ পানি।
* ২৫০ গ্রাম পনির।
* ৫০০ গ্রাম হাড় ও চামড়া ছাড়ানো মুরগির মাংস।
* চার কাপ ব্রোকলি ছোট ও কুচি করে কাটা।
* দুই চামচ চিকেন স্যুপ ফ্লেভার্ড পাওডার।
* তিন কাপ হলুদ পনির ক্রিম বা পেষ্ট করে নিন।
* এক চামচ মরিচ গুড়ো।
* আধা চামচ লবন।

প্রস্তুত প্রনালিঃ একটি পাত্রে মাখন ও পিয়াজ দিয়ে মাঝারি আঁচে ভেজে নিন এবং কিছুক্ষণ তাপ দেয়ার পর ময়দা দিয়ে তা বাদামি রঙ ধারন করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর দুধ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে পানি ও পনিরের টুকরো গুলো দিয়ে তাপ একটু বারিয়ে দিন যতক্ষন পর্যন্ত পনিরের টুকরো গুলো না গলে। এখন হাড় ও চামড়া ছাড়ানো মুরগির মাংস, ব্রোকলি ও চিকেন স্যুপ ফ্লেভার্ড পাওডার দিয়ে আরো পনেরো মিনিট তাপ একটু বারিয়ে দিয়ে রান্না করুন। সব শেষে চুলা থেকে নামিয়ে পনির ক্রিম বা পেষ্ট, মরিচ গুড়ো এবং লবন দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন ও পরিবেশনের আগে হালকা ঠান্ডা করে নিন।

ব্রোকলি কমলা ও জলপাই সালাদ

ব্রোকলি কমলা ও জলপাই সালাদ
foodyear.files.wordpress.com

মজাদার খাবারের স্বাদ গ্রহণ ও ওজন নিয়ন্ত্রণ এক সাথেই সম্ভব। আর সেই সাথে তা যদি হয় অল্প সময়ে তৈরি করার মত তাহলে তো কথাই নেই। ব্রোকলি কমলা ও জলপাই সালাদ তৈরি করতে আপনার সময় লাগবে মাত্র পনেরো মিনিট। তাহলে জেনে নিন কি কি উপকরন লাগে ব্রোকলির এই মজাদার সালাদ তৈরি করতে।

উপকরন ও পরিমাণঃ
* ব্রোকলি ছোট করে টুকরো করা ছয় কাপ পরিমান।
* এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ জলপাই (সাধারনত আচারে যেমন জলপাই থাকে)।
* কমলার খোসার উপরের পাতলা আবরন তুলে কমলার কোয়া আলাদা করে নিন।
* দুই চামচ ওলিভের তেল।
* আধা চামচ বিট লবন।
* এক চামচের চার ভাগের এক ভাগ কালো গোল মরিচের গুড়ো।

প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে একটি বড় পাত্রে পানি নিন এবং একটি স্টিলের ঝুড়িতে ব্রোকলি নিয়ে তা পানিতে ডুবিয়ে ঢেকে দিয়ে পাঁচ থেকে সাত মিনিট সেদ্ধ করুন। ব্রোকলি সেদ্ধ হয়ে গেলে ঝুড়িটি হালকা ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ঠান্ডা করে নিন। তারপর সব গুলো উপকরন এক সাথে মিশিয়ে নিয়ে উপভোগ করুন আপনার প্রিয় ব্রোকলি কমলা ও জলপাই সালাদ।

নিজের শখের বাগানে ব্রোকলি চাষ করতে পড়ুন – বারান্দায় বা ছাদের টবে ব্রোকলি

আশা করি আমাদের এই মজাদার ব্রোকলির রেসিপি গুলো আপনার ভালো লাগবে। আপনি চাইলে নিজের জন্য এই সবুজ ফুলকপির মজার খাবার রান্না করে ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন অথবা আপনার প্রিয়জনকে তা পরিবেশন করে চমকে দিতে পারেন। আর আপনার আত্মীয় বা বন্ধু সমাজে যারা নতুন নতুন রান্না করতে বা শিখতে ভালোবাসে তাদের সাথে আমাদের এই ব্রোকলি রেসিপি গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

টবে টমেটো চাষ – ছাদ বাগানে টমেটো ফলান ১২ মাস

সালাদ বা সবজি দুই ক্ষেত্রেই টমেটোর কদর অনেক। ভিটামিন আর স্বাদের দিক দিয়েও এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদিও টমেটো শিতকালীন সবজি কিন্তু এখন প্রায়ই আগাম ফসল হিসেবে এর চাষ হর হামেশায় হয়ে থাকে। আর আগাম বাজারে আসলে এর দামও থাকে বেশি। টমেটোর চাষ পদ্ধতি অতীব জটিল না হওয়ায় খুব সহজে নুন্যতম শ্রম ব্যায় করে বাড়ির আংগিনায়, ছাদে বা টবে টমেটো চাষ করে অনেক ফলন আহরন করা যায়। এখানে টবে টমেটো চাষ নিয়ে আলোচনা করা হলো, কিভাবে সহজেই ছাদের অল্প জায়গায় শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে টবেই চাষ করে ফলাতে পারেন অধিক পরিমানে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর
বারমাসি টমেটো।

চাষ পদ্ধতি

ছাদে টমেটো চাষের জন্য বেলে-দোআশ মাটি উত্তম। মাটির সংগে তিন ভাগের এক ভাগ গোবর এবং কিছু টিএসপি সার মিশিয়ে ১০-১৫ দিন রেখে দিয়ে প্রস্তুত করে নিতে হবে। টমেটোর চারা লাগানোর জন্য ড্রাম/টব ছাড়াও ছোট ছোট কন্টেইনার এমন কি ২ কেজি আটার প্যাকেটও ব্যবহার করা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি কন্টেইনার/প্যাকেটে একটি করে চারা দিতে হবে। চারা একটু বড় হলে প্রতিটি গাছের জন্য ১ চা চামচ পরিমান টিএসপি সার পূণরায় দিতে হবে। গাছটিকে একটি শক্ত কাঠির সাথে বেধে দিতে হবে। নিচের পূরানো পাতা এবং কিছু ডাল ফেলে দিতে হবে যাতে গাছটি বেশী ঝোপড়া না হয়ে যায়।

অন্যান্য পরিচর্যা

টবের মাটি কয়েকদিন পর পর হালকা নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে যাতে টমেটো গাছে আগাছা জন্মাতে না পারে। টমেটোর ফুল ধরা শুরু করলে সরিষার খৈল পচা পানি পাতলা করে গাছে ১০-১২ দিন অন্তর অন্তর নিয়মিত দিতে হবে।

টমেটোর পোকামাকড় ও রোগবালাই

টমেটো গাছ অনেক সময় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পাতা কোকড়িয়ে যায়। এক গাছ আক্রান্ত হলে কিছুদিনের মধ্যেই অন্য গাছও আক্রান্ত হয়। একসময় সমস্ত বাগানে ছড়িয়ে পড়ে। তাই কোন গাছ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে দেখলে সাথে সাথে তা ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

টমেটো চারা রোপণের পদ্ধতি ও যত্ন

টবে টমেটো চাষ - ছাদ বাগানে টমেটো চাষ

টবে টমেটো চাষে আপনি দুটি পদ্ধতি অনুসরন করতে পারেন।

প্রথমত, আপনি নার্সারি থেকে টমেটোর ভালো জাত এর চারা নিয়ে এসে আপনার বড় টবটিতে অথবা বস্তায় লাগিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে বস্তা অথবা টবের মাটিকে নিড়ানি দিয়ে খুঁচিয়ে আগে থেকেই বেশ ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এরপর যে প্লাস্টিকে মোড়ানো অবস্থায় আপনার চারাটি কিনে আনবেন সেটাকে সাবধানে মাটি থেকে ছাড়িয়ে নিতে হবে। লক্ষ্য রাখবেন যেন এতে চারাটির মূলের কোনও ক্ষতি না হয়। এরপর টবের মাটিতে বেশ গভীর গর্ত করে তাতে চারাটি বসিয়ে দিন ও মাটি ভরে দিন কাণ্ডের চারপাশে। এই চারাটিতে বেশ করে পানি দিতে হবে কিন্তু লক্ষ্য রাখুন যেন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়।

দ্বিতীয়ত, টমেটোর বীজ থেকে গাছ গজানো। বাড়ির বাগানে বেশি করে টমেটো গাছ লাগাতে চাইলে এটি করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে আগে ভালো জাতের বীজ কিনে নিতে হবে। এরপর টবের আর্দ্র মাটিতে ছিটিয়ে দিতে হবে বীজগুলোকে। অঙ্কুরোদ্গমের পর চারাগুলো বড় হতে শুরু করলে এগুলোকে বেশ আলো আসে এমন স্থানে রাখুন এবং কোনোভাবেই যেন এগুলোতে পানির অভাব না হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখুন। কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা রোদ খাওয়াতে হবে আপনার গাছগুলোকে, ৮ ঘণ্টা হলে ভালো হয়।

আরও পড়ুন – টবে মরিচ চাষ

ভালো ফলন পেতে কিছু বাড়তি পরিচর্যা

* আপনার গাছ যখন বেড়ে ওঠা শুরু করবে তখন টবের প্রায় পুরোটাই মাটি দিয়ে ভরে দিন। এতে গাছ ভালো বাড়বে।

* পর্যাপ্ত রোদ আসে এমন জায়গায় টমেটোর টব স্থাপন করুন এতে গাছ তার নিজের খাদ্য তৈরি প্রক্রিয়া সহজেই সম্পাদন করতে পারবে। আর রোদের তাপ খুব বেশি হলে বিকেলের দিকে টব সরিয়ে নিন বা ছায়ার ব্যবস্থা করুন।

* মনে রাখবেন টমেটো চাষে পানি সর্বরাহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তাই নিয়ম করে দুই থেকে তিন দিন পর পর পানি দেয়াই ভালো, তবে গাছ বড় হয়ে গেলে পানি সর্বরাহ বাড়াতে হবে।

* টমেটো গাছের যত্নে প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ হলো টবে একটি খুঁটি পুঁতে তার সাথে গাছটিকে বেঁধে দেওয়া। তবে চারপাশে একাধিক খুঁটি দিলে আরো ভালো হয়।

* এছাড়াও একে নেট দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন, তাতে পোকামাকড় এর আক্রমণ করার সুযোগ কমে যাবে।

* গাছের বয়স ছয় সপ্তাহ হওয়ার পর প্রতি সপ্তাহে একটু করে সার দিতে পারেন গাছের গোড়ায়।

* অতিরিক্ত শীত এবং গরমের সময় মাটির সঠিক আদ্রতা ধরে রাখতে দিতে পারেন শুকনো পাতা বা বাড়ির শাকসবজির উচ্ছিষ্ট খোসা। এতে সারেরও কাজ হবে এবং তাপমাত্রার নেতিবাচক প্রভাব থেকে গাছের মূল রক্ষা পাবে।

এত রকমের যত্ন নিতে হয় বলেই হয়তো অনেকেই টমেটো লাগাতে চান না। অথচ এসবের পর গাছ ভরে যখন রঙ বেরঙের ফল আসবে, তখন কেমন খুশি লাগবে ভাবুন তো! নিজের লাগানো চারা থেকে গাছ বড় হয়ে যখন টমেটো ফলে তা দেখতে অসাধারণই লাগে। আর গাছ থেকে নিয়ে তাজা সেই টমেটো সালদা বা তরকারিতে দিয়ে খেতে তার স্বাদের কথা নাই বললাম।

ইনডোর প্লান্ট – ঘর সাজাতে গাছ

যান্ত্রিকতার যুগে শহরের ইট, কাঠ, পাথরের দেয়ালের কাছে আজ গাছেরা অসহায়। তবুও একটুখানি সবুজের ছোঁয়ায় মনকে সহজেই প্রশান্ত করতে অনেক বৃক্ষপ্রেমী মানুষ নিজের বাসার সামান্য খোলা জায়গায়, ছাদে কিংবা ঘরের ভেতরে গাছ লাগিয়ে থাকেন। ঘরের শোভা বাড়াতে গাছ তথা ইন্ডোর প্লান্ট এর আইডিয়া আপনার ঘরকে ভিন্ন রুপে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে নেয়ার এক অপূর্ব সুযোগ। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই গাছগুলো আলো বাতাস কিংবা যত্নের অভাবে মারা যায় বা সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে। অল্প পরিশ্রমে জেনে বুঝে ঘর সাজাতে গাছ লাগালে তা সহজেই মনোরম পরিবেশ এনে দিতে পারে আপনার গৃহকোনে। ঘর সাজানোর গাছ নিয়ে আজ আমরা এমন কিছু বিষয়েই জানবো।

ক্যাকটাস

ঘরের শোভা বাড়াতে ইনডোর প্লান্ট ক্যাকটাস

কাঁটাযুক্ত এই গাছটিও আপনি খুব সহজে ঘরে রাখতে পারেন। এটি ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে আবার খুব বেশি যত্নেরও প্রয়োজন পড়ে না। নানা রকমের ক্যাকটাস কিনতে পাওয়া যায় নার্সারিগুলোতে। বারান্দা কিংবা জানলার পাশে খুব সহজে রেখে দিতে পারেন এই গাছটি।

জেসমিন বা বেলি

ঘরের শোভা বাড়াতে ইনডোর প্লান্ট জেসমিন বা বেলি

জেসমিন এমন একটি গাছ যা শরীর এবং মন উভয়কে সতেজ রাখে। এটি দুশ্চিন্তা দূর করে ভাল ঘুম নিশ্চিত করে। ঘরে এক কোণে জেসমিন গাছ লাগিয়ে রাখুন, এটি আপনার ঘর ঠাণ্ডা রাখবে।

আরও পড়ুন – কম খরচে ঘর সাজানোর উপায়

ফিগ প্ল্যান্ট

ঘরের শোভা বাড়াতে ফিগ প্লান্ট

আপনি জানেন কি এই গাছটি সিগারেটের তৈরি ধোঁয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে? যারা ঘরে ধূমপান করেন, তাদের ঘরের বাতাস দূষণমুক্ত করার জন্য এই গাছটি বেশ কার্যকর। এটি কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ দূর করে থাকে।

স্নেক প্ল্যান্ট

ঘরের শোভা বাড়াতে ইন্ডোর স্নেক প্লান্ট

এটি আমাদের দেশে এক ধরণের পাতাবাহার নামে পরিচিত। গাছের আকৃতির সাথে সাপের অনেকটা মিল পাওয়া যায়। এটি বাতাস দূষণমুক্ত রাখে। আলো- অন্ধকার মেশানো পরিবেশে এই গাছ খুব সহজে রাখতে পারবেন।

স্পাইডার প্ল্যান্ট

ঘরের শোভা বাড়াতে ইন্ডোর স্পাইডার প্লান্ট

চিকন চিকন পাতার এই গাছটি ঘরের জন্য হতে পারে একটি আদর্শ গাছ। নিয়মিত পানি দিলে আর বারান্দায় রাখলেই এই গাছ সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে। সাদা আর সবুজের সংমিশ্রণের এই গাছটির পাতাগুলো চারিদিকে ছড়িয়ে থাকে বলে এটিকে স্পাইডার প্ল্যান্ট বলা হয়ে থাকে। ছোটবড় প্রায় সব নার্সারিতেই এই গাছটি পাওয়া যায় আর এই গাছের দামটাও আছে হাতের নাগালের মধ্যেই।

ঘরের শোভা বাড়াতে গাছ একটি চমৎকার উপকরণ আর আপনি যদি নিয়মিত অল্প পরিচর্যা করেন তাহলে অবশ্যই সৌন্দর্যের সমারোহে ভরে উঠবে আপনার বাড়ি ঘর যা ক্লান্ত দিনের শেষে আপনাকে এনে দিবে স্বর্গীয় প্রশান্তি।

টবে মরিচ চাষ – ছাদে ও বারান্দায় মরিচ চাষ পদ্ধতি

আপনার বাসার বারান্দায় বা ছাদে ছোট্ট টবে চাষ করতে পারেন মরিচ। ঘরের এক কোনে টবে মরিচের চাষ আপনার গৃহের শোভা বর্ধনের পাশাপাশি পুরন করতে পারে আপনার সারা বছরের মরিচের চাহিদা। কেননা মরিচ আমাদের প্রতিদিনের রান্নায় খুব অল্প পরিমানেই লাগে আর মাত্র ৫ থেকে ৬ টি টবে মরিচের চারা লাগালে তা দিয়ে দিব্যি সারা বছরেই চলে যাবার কথা। রোদ যুক্ত স্থানে রেখে নিয়মিত অল্প পরিচর্যা করলেই টবে মরিচ চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এক পলকে দেখে নিন টবে মরিচ চাষ করার কৌশল, গাছ লাগানোর পদ্ধতি ও যত্ন নেয়ার নিয়ম কানুন।

বীজ বা চারা বপনের সময়

মরিচ সাধারনত সারা বছরেই জন্মে তাই বছরের যে কোনো সময়েই আপনি মরিচের চারা লাগাতে পারবেন। তবে মে থেকে জুন অথবা শীতের শুরুতে অক্টোবর মাসে মরিচের বীজ বপন করলে ফলন বেশি হয়।

টব, মাটি ও চারা প্রস্তত করন

মরিচ গাছ খুব বেশি বড় হয়না তাই মাঝারী আকারের টবেই রোপন করতে পারেন। মরিচের জন্য দোআঁশ মাটি উৎকৃষ্ট। টবের আকারের অর্ধেক পরিমান দোআঁশ মাটি আর তার সম পরিমান শুকনো গোবর, দশ গ্রাম পটাশ, দশ গ্রাম টি,এস,পি ও এক চামচ পরিমান ইউরিয়া ভালোভাবে মিশিয়ে টব পূর্ণ করুন। আপনি গোবরের পরিবর্তে কম্পোস্ট সার ব্যবহার করতে পারেন। এভাবে টবের মাটি প্রস্তুত করে ৮ থেকে ১০ দিন রেখে দিন। আপনি নার্সারি থেকে মরিচের চারা কিনে বা বীজ সংগ্রহ করে টবে লাগাতে পারেন। তবে টবে লাগানোর পূর্বে এর মাটি নিড়ানি দিয়ে নরম করে নিবেন। মরিচের চারা তৈরি করা খুব সহজ। আপনি শুকনো মরিচের বীজ থেকেও চারা তৈরি করে নিতে পারেন। কয়েকটি শুকনো মরিচের বীজ সংগ্রহ করে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর বীজ গুলো পানি থেকে তুলে অল্প শুকিয়ে নিয়ে টবের মাটিতে ছড়িয়ে দিন। কিছুদিন পরেই দেখবেন যে চারা গজিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন – বারান্দায় বা ছাদের টবে ব্রোকলি

সার প্রয়োগ

মরিচ গাছের জন্য খুবই উপকারী সার আপনি নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন আপনার ঘরেই। প্রতিদিনের রান্না করার জন্য তরিতরকারি কাটার পর উচ্ছিষ্ট খোসা, ছাল, শাক সবজির আবর্জনা ইত্যাদি পচিয়ে জৈব সার বানিয়ে মরিচ গাছের টবে দিলে টবের মাটি উর্বর হবে এবং ফলন অনেক ভালো হবে।

টবের মরিচ গাছের যত্ন

মরিচ গাছে নিয়ম করে পানি দেয়া খুব জরুরী। টবের মাটি কখনই খুব শুকিয়ে যেতে দেয়া যাবেনা। ভালো ফলন পেতে পর্যাপ্ত রোদ আছে এমন জায়গায় মরিচ গাছের টব টাকে স্থাপন করতে হবে। মরিচের টবে পিঁপড়ার আক্রমণ ঠেকাতে টবের চারদিকে হালকা সাবান গুড়ো ছিটিয়ে রাখতে পারেন। মরিচের চারা বাড়ন্ত অবস্থায় টবে একটি কাঠি পুতে গাছের জন্য সাপোর্টের ব্যাবস্থা করুন। ভালো করে যত্ন নিলে একটি টবের মরিচ গাছ থেকে দুই দফায় প্রায় অনেক মরিচ সংগ্রহ করতে পারবেন। সাধারন জাতের মরিচের একটি গাছে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৭৫টি মরিচ জন্মানো সম্ভব আর তা থেকে দুই দফায় আপনি প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি মরিচ আহরন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন – ছাদে টবে বা ড্রামে লাউ চাষ

ঢাকার কাছে একদিনে ঘুরে আসার ১০টি ভ্রমণ স্থান

যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলে আবদ্ধ থাকতে কে চায়! কিন্তু চাইলেই কি আর দায়িত্ব ও কর্তব্যের বেড়াজাল থেকে নিজেদের বের করে নিয়া আসা যায়? যে পরিবার পরিজনদের ভাল রাখতে আমরা প্রতিনিয়তই ছুটে চলেছি, কর্মব্যস্ততায় আজ তাদেরকেই সময় দিতে পারছিনা। সাপ্তাহিক ছুটিটাও একটি প্ল্যানের অভাবে অগোছালো ভাবে কাটে যায়। সময়ের অভাবে যারা আপনজনদের সাথে সুন্দর সময় কাটানো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের জন্যই চারপাশের এই আয়োজন। চলুন জেনে নেয়া যাক ঢাকার আশেপাশে ভ্রমণ স্থান সম্পর্কে। ঢাকার কাছে বেড়ানোর জায়গা গুলো থেকে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায়। এই সুন্দর জায়গা ও রিসোর্ট গুলোতে আপনি পরিবার ও প্রিয়জন নিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন সহজেই।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
ছবিঃ তপু

সাতটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিয়ে গৌরবের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেখতে আপনাকে যেতে হবে ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জ থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে। জমিদার বাড়ির বিভিন্ন ভবন একেক জন উত্তরাধিকারীদের আভিজাত্যের নিদর্শন। বর্তমানে বাড়িটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের তত্বাবধানে রয়েছে। এই জমিদার বাড়ির একটি ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে যাদুঘর।
ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আরিচা বা মানিকগঞ্জগামী বাসে করে সাটুরিয়া বাস স্টপে নেমে সিএনজি বা রিকশা করে জমিদার বাড়ি চলে যেতে পারবেন।

বিস্তারিতঃ বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ভ্রমণ গাইড

নুহাশ পল্লী, গাজীপুর

নুহাশ পল্লী
ছবিঃ রুবেল

হুমাহুন আহমেদকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছুই নেই। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি গল্পের জাদুকর হিসাবে খ্যাত। ইচ্ছে হলে আপনি এই কবির স্পর্শে লালিত নন্দন কানন নুহাশ পল্লী থেকে ঘুরে আসতে পারেন। যেখানে কবি তার কল্পনার সমস্ত কিছুই এখানে বাস্তবে রুপ দিয়ে গেছেন। এখানে আছে বৃষ্টি বিলাস, ভুত বিলাস নামের বাড়ি, ট্রি হাউজ, বিভিন্ন ভাস্কর্য্য, প্রায় ৩০০ প্রজাতির বিভিন্ন গাছের বাগান। আর নুহাশ পল্লীর লিচু তলায় কবির সমাধিস্থল দেখে আসতে আপনাকে যেতে হবে গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে পিরুজালী গ্রামে।
ঢাকা হতে বাসে করে গাজীপুরের হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ডে নেমে সেখান থেকে টেম্পো, রিকশা অথবা সিএনজিতে করে নুহাশ পল্লী যাওয়া যায়।

বিস্তারিতঃ নুহাশ পল্লী ভ্রমণ গাইড

পানাম নগর, নারায়নগঞ্জ

পানাম নগর ভ্রমন
ছবিঃ এনি

যদি ঐতিহ্যের কাছাকাছি একটা দিন কাটাতে চান তবে নির্দ্বিধায় ঘুরে আসতে পারেন “হারানো নগরী” হিসাবে খ্যাত পানাম নগর বা পানাম সিটি থেকে। মূল সড়কের দুপাশ জুড়ে বেড়ে উঠা প্রাচীন নগরীর মায়াজাল আপনাকে মুগ্ধ করে রাখবে। বার ভূঁইয়া প্রধান ঈসা খাঁ কতৃক নির্মিত এই পানাম নগরীতে হেটে বেড়ালে হয়তো আপনি নিজেকে ১৫শতকে খুঁজে পেতে পারেন। ঢাকার গুলিস্তান থেকে দোয়েল, স্বদেশ কিংবা বোরাকের বাসে করে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নেমে ব্যাটারী চালিত অটোতে কিংবা রিকশায় করে পানাম নগরীতে যেতে পারবেন।

বিস্তারিতঃ পানাম নগর ভ্রমণ

মহেরা জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল

মহেরা জমিদার বাড়ি
ছবিঃ পঙ্কজ সরকার

সুরম্য ও সংরক্ষিত মহেরা জমিদার বাড়ি দেখতে আপনাকে যেতে হবে টাঙ্গাইল থেকে ১৮ কিলোমিটার আগে অবস্থিত নাটিয়াপাড়া বাস স্ট্যান্ডে। মহেরা জমিদার বাড়ির বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার সাথে সাথে সেখানে অবস্থিত পার্ক, চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট ঘুরে আসতে পারেন। জমিদার বাড়ির আকর্ষনীয় ভবন আপনাকে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন ভাবে পরিচয় ঘটাবে।

বিস্তারিতঃ মহেরা জমিদার বাড়ি ভ্রমণ

মৈনট ঘাট, ঢাকা

মৈনট ঘাট
ছবিঃ পারভেজ রবিন

অল্প সময়ের অবসরে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট। দোহার উপজেলায় অবস্থিত এই ঘাটের সুপ্রস্থ চর আপনাকে সাগরের বেলাভূমির কথা মনে করিয়ে দেবে। এছাড়াও এখানকার সূর্যাস্তের সুন্দর দৃশ্য আপনার চোখে লেগে থাকবে অনেক দিন। এছাড়াও পদ্মার ইলিশ কিংবা নৌকায় ঘুরার ইচ্ছা থাকলে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে যমুনা ডিলাক্স পরিবহণের বাসে করে দোহারের মৈনট ঘাট কাটিয়ে যেতে পারেন একটি সুন্দর বিকাল।

বিস্তারিতঃ মৈনট ঘাট ভ্রমণ গাইড

সাদুল্লাহপুর গোলাপ বাগান, ঢাকা

সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামটি বর্তমানে গোলাপ গ্রাম নামে পরিচিত। এখানে বছরজুড়েই গোলাপের গন্ধে ভরে থাকে সারা গ্রাম। বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান ছাড়াও এখানে রজনীগন্ধা, জারভারা ও গ্লাডিওলাসের বাগান রয়েছে। ঢাকার সিংহভাগ গোলাপের চাহিদা এই গ্রামের উৎপাদন থেকেই মেটানো হয়। এক দিনের অবসরে বেড়িয়ে আসতে পারেন গোলাপের এই রাজ্য থেকে।

উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় নর্থ টাওয়ারের কাছ থেকে লেগুনায় করে দিয়াবাড়ি আসতে হবে। সেখান থেকে মেইনরোডে এগিয়ে লোকাল গাড়িতে বিরুলিয়া ব্রিজ পর্যন্ত গিয়ে আরেকটি অটো ভাড়া করে চলে আসুন সাদুল্লাহপুর গোলাপ গ্রামে।

বিস্তারিতঃ গোলাপ গ্রাম ভ্রমণ

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, গাজীপুর

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে প্রায় ৩,৬৯০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। এই পার্কে প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্য প্রাণীদের বিচরণ দেখতে সারা বছরই দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। এছাড়াও এখানে রয়েছে পাখিশালা, প্রজাপতি সাফারি, জিরাফ ফিডিং স্পট, অর্কিড হাউজ, শকুন ও পেঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, বোটিং, লেইক জোন, আইল্যান্ড, প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, ফ্যান্সি কার্প গার্ডেন আরো অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর সমারোহ। গাজীপুরের বাঘের বাজার থেকে রিকশা বা অটোরিকশা ভাড়া করে সহজেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক যাওয়া যায়।

বিস্তারিতঃ বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ভ্রমণ তথ্য

পদ্মা রিসোর্ট, মুন্সিগঞ্জ

পদ্মা রিসোর্ট, মুন্সিগঞ্জ

ঢাকা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলায় গড়ে তোলা হয়েছে পদ্মা রিসোর্ট। শহরের কোলাহল ছেড়ে ঢাকার পাশে পদ্মার পাড়ে একটি দিন কাটানো আপনার মনকে প্রশান্তি এনে দেবে। পদ্মার বুকে নৌকায় ঘুরোঘুরি ছাড়াও চাইলে ফিশিং করে কাটিয়ে দিতে পারেন একটি বিকাল।
গুলিস্থান থেকে গ্রেট বিক্রমপুর পরিবহনের বাসে চড়ে মাওয়া ফেরী ঘাট থেকে লৌহজং চৌরাস্তা মোড় দিয়ে রিক্সা বা অটোরিক্সা নিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ মিনিটে পৌঁছে যেতে পারবেন পদ্মা রিসোর্টে।

বিস্তারিতঃ পদ্মা রিসোর্ট ভ্রমণ গাইড

শালবন বিহার, কুমিল্লা

শালবন বৌদ্ধ বিহার, কুমিল্লা
ছবিঃ জাহিদুল হক

ঢাকা থেকে বাসে করে কুমিল্লা যেতে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘন্টা সময় লাগে। অল্প সময়েই বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থান থেকে ঘুরে আসতে পারেন। শালবন বিহার ছাড়াও এখানে রয়েছে ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, ময়নামতি প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর, লালমাই পাহাড় এবং ব্লু-ওয়াটার পার্ক (পিকনিক স্পট)। আর সুযোগ থাকলে মাতৃভান্ডারের বিখ্যাত রসমালাই খেয়ে আসতে পারেন।

বিস্তারিতঃ শালবন বিহার ভ্রমণ গাইড

ড্রিম হলিডে পার্ক, নরসিংদী

ড্রিম হলিডে পার্ক

নরসিংদী জেলার পাঁচদোনার চৈতাবাতে প্রায় ৬০ একর জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে ড্রিম হলিডে পার্ক। পার্কটিতে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় রাইড ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ইমু পাখি, মায়াবি স্পট, কৃত্রিম অভয়্যারণ্য, ডুপ্লেক্স কটেজ এবং কৃত্রিম পর্বত যা এখানে আগত দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। এছাড়াও এই পার্কে রয়েছে ওয়াটার পুল যেখানে কান পাতলে সমুদ্রের গর্জন অনুভব করা যায়। ঢাকা টু সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পার্কটিতে আসতে হলে কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া অথবা সিলেটের যেকোনো বাসে চড়ে সরাসরি পার্কের সামনে নামতে পারবেন।

বিস্তারিতঃ ড্রিম হলিডে পার্ক ভ্রমণ গাইড

ঢাকার আশেপাশে ঘোরাঘুরি করার জন্যে আছে আরও অনেক জায়গা। ভ্রমণ গাইড আপনাকে দিবে সকল দর্শনীয় স্থানের তথ্য। এছাড়া ঢাকার ভিতর দর্শনীয় জায়গা গুলো দেখতে পড়ুন ঢাকা ভ্রমণ গাইড

ছাদ বাগানে টবে ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি

ড্রাগন ফল মূলত আমেরিকার প্রসিদ্ধ একটি ফল যা বর্তমানে আমাদের দেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আমাদের দেশে সর্বপ্রথম ২০০৭ সালে থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এই ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। নরম শাঁস ও মিষ্ট গন্ধ যুক্ত গোলাপি বর্ণের এই ফল খেতে অনেক সুস্বাদু আর তার সাথে এই ফল ভিটামিন সি, মিনারেল পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এবং ফাইবারের উৎকৃষ্ট উৎস। ড্রাগন ফ্রুট গাছ ক্যাকটাস সদৃশ্য এবং ছোট গোলাকার ফলের ভিতরের অংশ সাধারনত লাল ও সাদা বর্ণের হয়ে থাকে। ড্রাগন ফলের ভিতরের অংশে ছোট ছোট নরম বীজ থাকে। আমাদের দেশের আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযুক্ত এবং এখন পর্যন্ত পরিক্ষামূলক চাষেও ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। আপনি চাইলে বাড়ির ছাদ বাগানে বড় টবে বা ড্রামে ড্রাগন ফল চাষ করে শখ পুরণ ও পুষ্টি আহরণ দুটোই করতে পারেন। নিম্নে ছাদ বাগানে ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করা হলো।

কখন ড্রাগন ফল চাষের উত্তম সময়

ড্রাগন ফল সাধারণত সারা বছরেই চাষ করা যায়। এটি মোটামুটি শক্ত প্রজাতির গাছ হওয়ায় প্রায় সব ঋতুতেই চারা রোপন করতে পারেন। তবে ছাদে ড্রাগন ফল চাষ করে ভালো ফলন পেতে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে চারা রোপন করলে আপনি অবশ্যই সুফল পাবেন।

ছাদে চাষের উপযোগী পাত্র

আপনার ছাদ বাগানে ড্রাগন ফল চাষ করতে পারেন মাটির টবে বা ড্রামে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি ২০ ইঞ্চি আকারের ড্রাম বেছে নেন। কারণ এই আকারের ড্রামে চারা ভালোভাবে শিকর ছড়াতে পারবে আর তাতে ফলন অনেক ভালো হবে।

আরও পড়ুন – ছাদে লাউ চাষ

কেমন মাটি প্রয়োজন

যদিও প্রায় সব রকমের মাটিতে ড্রাগন ফল সহজেই চাষ করা সম্ভব। কিন্তু ভালো ফলন চাইলে আপনি অবশ্যই উৎকৃষ্ট জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ বেলে দোঁআশ মাটিই বাছাই করবেন। শুরুতেই আপনাকে বেলে দোআঁশ মাটি সংগ্রহ করে ভালো ভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে। তারপর পরিমান মত গোবর, ৫০ গ্রাম পটাশ সার ও ৫০ গ্রাম টি,এস,পি, সার সংগ্রহ করা মাটির সাথে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিবেন। সার ও মাটির মিশ্রনে পরিমান মত পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিন। এখন আপনার বাছাই করা ড্রামে সকল উপকরণ গুলো ১০ থেকে ১২ দিন রেখে দিন। তারপর ড্রামের মাটি ভালো করে খুন্তি দিয়ে ঝুরঝুরে করে আরো ৪ থেকে ৫ দিন রেখে দিন। মাটি কিছুটা শুষ্ক হয়ে উঠলে ভালো জাতের কাটিং চারা ড্রামে বা পাত্রে রোপন করুন।

আরও পড়ুন – ছাদে ফলের বাগান

সেচ ও পরিচর্যা

ড্রাগন ফল গাছের সঠিক পরিচর্যা না করলে ফলন ভালো হবেনা। যদিও ড্রাগন ফল গাছে তেমন একটা রোগ বালাইয়ের আক্রমন হয়না তবে পারিপার্শ্বিক অন্যান্য যত্ন নিয়মিত নিতে হয়। চারা লাগানোর পর ড্রাম টি রোদ যুক্ত স্থানে রাখুন। এটি ক্যাকটাস জাতীয় গাছ বলে চাষে খুব বেশি পানি দিতে হয়না। চারায় পানি দেয়ার সময় লক্ষ্য রাখুন যেন গোড়ায় পানি না জমে। ড্রামের ভিতরের বাড়তি পানি সহজেই বের করে দেবার জন্য ড্রামের নিচের দিকে ৪ থেকে ৫ টি ছিদ্র করে দিন মাটি ভরাট করার পুর্বেই। ড্রাগন গাছের ডালপালা লতার মত হওয়ার কারনে গাছের হালকা বৃদ্ধির সাথে সাথেই খুঁটির সাথে বেঁধে দিবেন এতে করে গাছ সহজেই ঢলে পরবেনা।

ড্রাগন ফল সংগ্রহ

ড্রাগন ফলের কাটিং চারা রোপনের ১ বছর থেকে ১৮ মাস বয়সে ফল সংগ্রহ করা যায়। গাছে ফুল ফোঁটার মাত্র ৩৫-৪০ দিনের মধ্যেই ফল খাওয়ার উপযুক্ত হয়।

বিশ্বের বিখ্যাত ও সবচেয়ে সুন্দর ফুলের বাগান

মানুষ সুন্দরের পূজারী, যেকোন সুন্দর জিনিস পেতে মানুষের মন ব্যকুল হয়। ফুল হচ্ছে মানুষের কাছে তেমনি ভালবাসা ও আকাঙ্ক্ষার বস্তু। মন ভালো করার জন্য ফুলের বাগানে ভ্রমণ অত্যন্ত সুখকর একটি বিষয়। ফুল এমন একটি বস্তু যা চোখের পলকেই বিষণ্ণ মনকে প্রফুল্ল করে দিতে পারে। সত্যি কথা বলতে একটি মানুষ মনের দিক দিয়ে যতই কঠোর হোক না কেন ফুল তার ভালো লাগবেই। কেননা, ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষ এই পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া কঠিন। সকল পুষ্প অনুরাগীদের উৎসর্গ করে বিশ্বের বিখ্যাত ৫টি ফুলের বাগান নিয়ে আমাদের এই আয়োজন যা আপনার মনকে ছুঁয়ে যাবে এবং অন্তরের গহীনে রেখে যাবে এক নিবিড় ভালো লাগার আবেশ। তাহলে চলুন আপাতত ছবি আর লেখনির মাধ্যমেই ঘুরে আসি বিশ্বের সুন্দরতম ফুলের বাগান থেকে!

দুবাই মিরাকল গার্ডেন

দুবাই মিরাকল গার্ডেন বিশ্বের বিখ্যাত ৫টি ফুলের বাগান
ছবিঃ dubaimiraclegarden.com

ফুল দিয়ে যে কত অবাক করা আর নজরকাড়া স্থাপনা তৈরি করা সম্ভব তা দুবাই মিরাকল গার্ডেন না দেখলে উপলব্ধি করা কঠিন। এটি ৭২০০০ হাজার মিটার জায়গা জুড়ে প্রায় ১০৯ মিলিয়ন ফুলের গাছে সমৃদ্ধ, যা ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারীতে যাত্রা শুরু করে।

আরও পড়ুন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ১০টি ফুল

কোকেনহাফ বা কিচেন গার্ডেন

কোকেনহাফ বা কিচেন গার্ডেন বিশ্বের বিখ্যাত ৫টি ফুলের বাগান

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফুলের বাগান এবং এটি প্রায় ৭৯ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। অবাক করার মত তথ্য হলো, প্রতি বছর প্রায় ৭ মিলিয়নের মত ফুলের চারা এই বাগানে রোপন করা হয়। যা পরবর্তীতে রঙ্গিন ফুলের সৌন্দর্য্যে পর্যটকদের বিমোহিত করে রাখে।

কোয়াচি ফুজি গার্ডেন

কোয়াচি ফুজি গার্ডেন বিশ্বের বিখ্যাত ৫টি ফুলের বাগান

এই বাগান মন মাতানো উইস্টেরিয়া ফুলের জন্য জনপ্রিয়। ফুটন্ত উইস্টেরিয়া ফুল দেখলে মনে হয় ঠিক যেন কোন দক্ষ শিল্পির রঙ তুলির আঁচরে ফুটে উঠা কোন ছবির দৃশ্য। তবে এই বাগানের সবচেয়ে আকর্ষনীয় বিষয় হচ্ছে উইস্টেরিয়া ফুলে আবৃত দুটি টানেল, যার একটি ৮০ মিটার ও অন্যটি প্রায় ২২০ মিটার দৈর্ঘ্যের।

বাটচার্ট গার্ডেন

বাটচার্ট গার্ডেন বিশ্বের বিখ্যাত ৫টি ফুলের বাগান
www.butchartgardens.com

১৯০৪ সালে স্থাপিত বিশ্বের প্রাচীন ও সুন্দরতম ফুলের বাগানের মধ্যে বাটচার্ট গার্ডেন অন্যতম। প্রতি বছর মিলিয়নেরও বেশি দর্শনার্থীকে তার আকর্ষনে মুগ্ধ করে রাখে। দৃষ্টি নন্দন বাগানটি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া রাজ্যের রাজধানী ভিক্টোরিয়ার কাছে ব্রেন্টউড বে’র ভেনকুভের দ্বীপে প্রায় ৫৫ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত। সমগ্র বাগানটি প্রায় ৩,০০,০০০ লাখ ফুল গাছে পরিপূর্ণ।

মনেট গার্ডেন

মনেট গার্ডেন বিশ্বের বিখ্যাত ৫টি ফুলের বাগান
ছবিঃ commons.wikimedia.org

মনেট গার্ডেন ফ্রান্সের বিখ্যাত বাগানের একটি। দর্শনার্থীদের মন মাতাতে এই বাগান তার রুপ লাবণ্যে সর্বদায় এক ধাপ এগিয়ে এবং প্রতি বছর প্রায় ৫,০০,০০০ লাখ লোক এখানে ঘুরতে আসে। সুন্দর মনেট গার্ডেনটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত, যার একটি অংশ ক্লস নরম্যান্ড নামে ও অন্য অংশটি জাপানিজ শিল্পকলায় উজ্জীবিত হয়ে জলজ বাগান বা ওয়াটার গার্ডেন নামকরণ করা হয়েছে। প্রথম অংশের বাগানটি প্রায় এক হেক্টর জায়গায় বিভিন্ন রঙ ও জাতের টিউলিপ, অরিয়েন্টাল পপি, আইরিশ এবং আরো অনেক ফুলে সুরভিত। যা চিত্রশিল্পী মনেটের বর্ণিল ছবি আঁকায় অনেক রসদ যুগিয়েছে। আর জলজ বাগানে মনেটের বিখ্যাত চিত্রকর্মের আদলে একটি জাপানিজ ব্রিজের রেপ্লিকা রয়েছে যা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।

প্রিয় পাঠক, কেমন লাগলো পৃথিবীর বিখ্যাত ফুলের বাগান নিয়ে আমাদের এই আয়োজন? আশা করি আপনি সব গুলো বাগানের গল্প, ছবি আর তথ্য উপভোগ করেছেন। আপনার এই ভালো লাগার অনুভূতি আমাদের জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে। সেই সাথে চাইলে আপনার পছন্দের মানুষের সাথে শেয়ার করতে পারেন নিঃসঙ্কোচে। আর যদি কখনো সময় সুযোগ হয় তবে অবশ্যই আপনার প্রিয় মানুষকে নিয়ে ঘুরে আসতে ভুল করবেন না।

ব্রোকলির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

ব্রোকলি যে শুধুই স্বাদে, বর্ণে ও গন্ধে অনন্য তা নয়, এছাড়াও ব্রোকলির রয়েছে বহুবিধ পুষ্টি উপাদান যা আমাদের শরীর স্বাস্থ্য কে ভালো রাখতে নানা ভাবে সহায়তা করে। শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতায় এই ব্রোকলির জুড়ি মেলা ভার। সাধারনত অন্যান্য সবজিতে ব্রকোলির মত এতো পুষ্টিগুণ পরিলক্ষিত হয় না আর এজন্যই এর কদরও দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাহলে এবার চলুন জেনে নেয়া যাক কেন আমাদের খাদ্য তালিকায় এর গুরুত্ব অপরিসীম আর এর থেকে আমরা কি কি পুষ্টিগুন বা স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে পারি।

দৃষ্টি শক্তি ঠিক রাখে: অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ আছে যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে এবং দৃষ্টি শক্তি ঠিক রাখে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ: এতে ক্যালরির পরিমান অনেক কম থাকে বলে অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

লিভার ঠিক রাখেঃ: ব্রোকলি মানব দেহের গ্লুকোসিনোলেট নামক অর্গানিক উপাদানের মাত্রা বাড়িয়ে লিভারের দূষিত পদার্থ নিষ্কাশন করে ফলে লিভার থাকে রোগ মুক্ত।

হাড় সুস্থ রাখে: প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন কে তে ভরপুর ব্রোকলি হাড়ের গঠন শক্তিশালী করে ও বিভিন্ন ধরনের হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

পরিপাক তন্ত্র ঠিক রাখে: ব্রোকলি প্রাকৃতিক আশ বা ফাইবার সমৃদ্ধ বলে দেহের পরিপাক তন্ত্র ঠিক রাখে, খাদ্য সঠিক ভাবে হজম করতে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে । এমনকি এটি নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে।

হৃদরোগ প্রতিরোধ করে: হৃদরোগ প্রতিরোধে ব্রোকলি বা সবুজ ফুলকপি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে । এর উপকারী পুষ্টি উপাদান ম্যাগনেশিয়াম আর ক্যালশিয়াম রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মানব দেহের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে । উপরন্তু ব্রোকলিতে বিদ্যমান ভিটামিন বি ৬ হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনে।

আরও পড়ুন বারান্দায় বা ছাদের টবে ব্রোকলি

ক্ষত সারিয়ে তুলে: এই সবুজ ফুলকপি ব্রোকলিতে বিদ্যমান আর,ডি,এ নামক এন্টি অক্সিডেন্ট দেহের যেকোন ধরনের ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তুলে এবং ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিপরীতে কাজ করে।

রোগ প্রতিরোধ করে: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্রোকলি অভাবনীয় প্রভাব বিস্তার করে । আমাদের মস্তিষ্ক ও এর কার্যক্রম সুচারু রুপে সম্পাদন করতে এর ভূমিকা অপরসীম।

তারুন্য ধরে রাখে: ব্রোকলির এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি মানব শরীরের তারুন্য ধরে রাখতে ও দ্রুত বৃদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে: বর্তমান সময়ে ক্যান্সার একটি খুব ভয়ংকর মরণ ব্যাধি আর ব্রোকলি এই রোগ প্রতিরোধে আমাদের শরীর কে সহায়তা করে এবং ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে । এর বিটা ক্যারোটিন ও সেলিনিয়াম বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার যেমন, ফুসফুস, যকৃত, প্রোস্টেট, কোলন ও প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের আক্রমন থেকে রক্ষা করে ও এর বিপরীতে লড়াই করে।

অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে: এই সবজির আরেকটি উপকারী উপাদান ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা প্রদাহ বিরোধী হিসাবে কাজ করে এবং ক্যাম্ফেরল প্রায় সকল ধরনের অ্যালার্জেটিক উপাদান হ্রাস করে।

শিশুর দাঁতের যত্ন ও মাড়ির যত্ন নিতে যা করবেন

শিশুদের দাঁত ও মাড়ির যত্নে অবহেলার কারণে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনার ছোট্ট শিশুটির দাঁত উঠার আগে ও পরে চাই যত্ন ও পরিচর্যা। আমাদের দেশের শিশুরা প্রায়ই দাঁত ও মাড়ির সমস্যায় ভোগে অথচ শিশুর দাঁতের যত্ন প্রাত্যহিক যত্নের মধ্যে পরে যার অভ্যাস শিশুদের খুব ছোটবেলা থেকেই শেখানো বা শিখিয়ে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিশুদের দাঁতের যত্ন নিতে হয় শুরু থেকেই কারন গর্ভেই শিশুর দাঁত উঠা শুরু করে আর সাধারনত তা ছয় মাস বয়সে দৃষ্টিগোচর হয় । কোমলমতি শিশুদের দাঁতের যত্ন নেওয়া শেখাতে পিতা মাতার ভূমিকাই প্রথম এবং যা তাদের অন্য সকল শিক্ষার সাথে ছোট কালেই শেখানো খুব প্রয়োজন।

দাঁত উঠার প্রারম্ভে করণীয়

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর শেষে পাতলা সুতি কাপড় অথবা তুলা দিয়ে মাড়ির ওপর থেকে দুধের আবরণ পরিষ্কার করে দিন আর খেয়াল রাখবেন তা যেন অবশ্যই পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত হয়। দাঁত উঠার আগে শিশু যা কিছু সামনে পায় সেটাই কামড়াতে চায়, তখন তাকে বেবি টিথার দিতে হবে যা কামড়ানোর ফলে তার দাঁতের গঠন শক্ত হবে। এই সময় শিশুর হাতের কাছ থেকে বিষাক্ত, ধারালো, নোংরা জিনিস বা ওষুধপত্র দূরে রাখুন আর এমন কিছু দেবেন না যা গিলে ফেললে তার গলায় আটকে যেতে পারে।

দাঁত উঠার পরে করণীয়

দাঁত উঠলে শিশুকে শুরুতেই দাঁত ব্রাশ করা শেখাতে হবে। শিশুকাল থেকেই দাঁত ব্রাশের অভ্যাস গড়ে তুলতে শিশুর বাবা মা তার সামনে ব্রাশ করলে তার আগ্রহ অনেক বাড়ে আর অনুকরণ প্রিয় হওয়ার কারনে তারা খুব জলদি শেখে। তাই দাঁত ওঠার শুরুতেই আপনার শিশুর হাতে কমল ও নরম একটা ব্রাশ তুলে দিন। অবশ্যই তার জন্য বেবি জেল বা পেষ্ট ব্যবহার করবেন কারন তা গিলে ফেললেও সমস্যা নেই আর বড় হওয়ার সাথে সাথে তাকে সঠিক পদ্ধতিতে ব্রাশ করা শেখান।

শিশুর দুধ দাঁতের যত্ন

শিশুর দুধ দাঁত গুলোর যত্নে আপনার আরো বেশি খেয়াল রাখা দরকার কারণ দুধদাঁত গুলো সাধারনত সাত থেকে এগারো বছর বয়স পর্যন্ত ধীরে ধীরে পড়ে গিয়ে আবার নতুন করে স্থায়ী ভাবে জন্মায়। শিশুদের পরবর্তী স্থায়ী দাঁতগুলোতে যেন কোন সমস্যা না হয় সেজন্য তার দুধদাঁত গুলোর যত্ন নেয়া অনেক গুরুত্বপুর্ন। অযত্ন ও অবহেলার কারনে দুধ দাঁতের শিকড়ে প্রদাহ অনেক দিন স্থায়ী থাকলে স্থায়ী দাঁতের ক্ষতি হয়। এমন অনেক কারনেই স্থায়ী দাঁতগুলো আঁকাবাঁকা বা অসমানভাবে বেড়ে উঠে। এই জন্য দুধদাঁত পড়া ও স্থায়ী দাঁত ওঠার সময়ে শিশুর দাঁতের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন।

শিশুর দাঁতের যত্নে কিছু টিপস

  • শিশু মিষ্টি খাবার খাওার পর ভালো ভাবে তার মুখ পরিষ্কার করে দিন।
  • দাঁত উঠার আগে থেকেই নবজাতক শিশুর মুখ ও মাড়ি পরিষ্কার রাখা উচিত।
  • বুকের দুধ খাওয়ানো শেষ হলে পাতলা ফ্লানেলের কাপড় অথবা তুলা দিয়ে দাঁতের ওপর থেকে দুধের আবরণ পরিষ্কার করে দিন।
  • শিশুর সুস্থ্য দাঁতের বিকাশের জন্য যথা সম্ভব ফিডার না খাওানো, এতে করে নতুন দুধদাঁতেও ক্যারিজ বা ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  • শিশুকে নিয়ম করে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর এবং রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করা সেখান এবং তা খাবার গ্রহনের পর।
  • শিশু ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ করছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
  • শিশুকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ব্রাশ কিনে দিন যাতে তার দাঁত ব্রাশ করার আগ্রহ বাড়ে।
  • অবশ্যই দুই বা তিন মাসের বেশি এক ব্রাশ ব্যবহার করতে দিবেন না।
  • প্রতিদিন মাউথ ওয়াস এবং ফ্লসিং করা ছোট বেলা থেকেই শেখাবেন।
  • শিশুর মুখে দূর্গন্ধ হলে বা দাঁতে কালো দাগ দেখা দিলে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কথায় আছে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা থাকেনা। আশা করি এমনটি আপনার শিশুর বেলায় না ঘটুক তাই তার দাঁতের যত্ন নিন একেবারেই শুরু থেকে। আর বছরে অন্তত দুই বার আপনার ডেন্টিস্ট এর কাছে যান আপনার শিশুর দাঁতের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য।