ব্রোকলি চাষ পদ্ধতি – বারান্দায় বা ছাদের টবে ব্রোকলি

ব্রোকলি একটা পুষ্টিকর সবজি যা দেখতে ফুলকপির মত কিন্তু বর্ণে সবুজ। যদিও আমাদের দেশে বাণিজ্যিক ভাবে ব্রোকোলি এখনো তেমন পরিচিত হয়ে উঠেনি তবে কিছু সৌখিন মানুষ এর চাষ স্বল্প পরিসরে শুরু করেছে। ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন সি, ক্যারোটিন ও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। স্বাস্থের জন্য উপকারী এই সবজীর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি থাকায় আমাদের এর চাষ শুরু করা দরকার। ব্রোকলি মাঠ থেকে তোলার পর তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় বলে টবে ব্রোকলি চাষ করতে পারলে অল্প অল্প করে খাওয়ার জন্য সংগ্রহ করা যায় সহজেই। আপনি চাইলে বাড়ির আঙ্গিনায়, বারান্দায় বা ছাদের অল্প জায়গায় টবে ব্রোকলি চাষ করতে পারেন। নিচে টবে ব্রোকলির উৎপাদন কলাকৌশল ও প্রয়োজনীয় উপকরন বর্ণনা করা হলো।

জাত: ভালো ফসল পেতে ভালো জাত নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ব্রোকলির উল্লেখযোগ্য জাত গুলো হচ্ছে- টপার-৪৩, ডান্ডি, সপ্রডিটিং টেক্সাস ১০৭, গ্রিন ডিউক, ক্রুসেডার, ওয়ালথাম ২৯, গ্রিন মাউন্টেইল, ইতালিয়ান গ্রিন, গ্রীন বাড ইত্যাদি তবে আমাদের দেশের আবহাওয়ায় প্রিমিয়াম ক্রপ, এল সেন্ট্রো, গ্রিন কমেট ও ডি সিক্কো জাত গুলো বিশেষ উপযোগী। বিভিন্ন বীজ কোম্পানি ব্রোকলির সাধারণ ও শঙ্কর জাতের বীজ বাজারজাত করছে আপনি তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারেন।

সময়: সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস ব্রোকলি চাষের উপযুক্ত সময় তাই আগস্ট মাসে বর্ষার পর পরই জমি প্রস্তুত করতে হয় এবং পরে বীজতলায় ব্রোকলির বীজ বুনতে হয়।

সার ও মাটি: মাটি নরম ও ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। পরিমান মত গোবর, টিএসপি ও খৈল দিয়ে সার ও মাটি ভালো ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। অথবা পাতা পচা সার বা গোবর সার ১ ভাগ, বালু ১ ভাগ ও মাটি ২ ভাগ মিশিয়ে ব্রোকলির বীজতলা তৈরি করে নিতে পারেন। মনে রাখবেন মাটি সব সময় নরম তুলতুলে থাকলে সব ধরনের সবজি ভালো ফলন দেয় ও তাড়াতাড়ি বাড়ে। আর অবশ্যই সারাদিন রোদ পায় এমন জায়গা ব্রোকলি চাষের জন্য নির্বাচন করবেন।

জানতে পড়ুন – ছাদে টবে বা ড্রামে লাউ চাষ

চারা তৈরি ও রোপন: ভালো ফলন পেতে হলে বীজতলায় চারা তৈরি করে পরে মূল টবে লাগাতে হবে। বীজ রোপনের পর চারা গজাতে ৩/৪ দিন সময় লাগে । ৮/৯ দিন বয়সে চারা মূল টবে লাগানোর উপযূক্ত হয়। তবে ৩/৪ সপ্তাহের সুস্থ চারা সার ও মাটি ভরা টবে লাগলে ভালো হয়। টবে লাগানোর উপযুক্ত চারা চেনার জন্য যে বিষয় গুলো খেয়াল রাখবেন তা হলো চারার উচ্চতা ৮-১০ সেমি, ৫-৬টি সবল পাতা ও গাঢ় সবুজ বর্ণ। টব নির্বাচনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যেন ছোট না হয়ে যায় কারন এটি দ্রুত বাড়ে ও আকারে মোটামুটি মাঝারি আকারের হয় তাই ৫ লিটার পাত্রের সমান টবে লাগাবেন।

পরবর্তী পরিচর্যা: চারা রোপণের পর প্রথম ৪-৫ দিন পর্যন্ত এক দিন অন্তর অন্তর পানি দিতে হবে। পরবর্তীতে ৮-১০ দিন অন্তর বা প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিলেই চলবে। টব সব সময় আগাছা মুক্ত রাখুন আর মাটি ঝুরঝুরে করে দিন। আর পরিমান মত যৈব সার ব্যবহার করুন এবং সার প্রয়োগের পরে পানি দিতে ভুলবেন না। সাধারনত শুঁয়া পোকা ও জাব পোকা ব্রোকলির ক্ষতি করে। জাব পোকা ও শুঁয়া বেশি হলে রিডেন, মার্শাল বা নাইট্রো ওষুধ স্প্রে করা যেতে পারে তবে তা কোন কৃষি কর্মকতার পরামর্শ অনুযায়ী করলে ভালো হয়।

ফসল সংগ্রহ: ব্রোকলি অনেক দ্রুত বাড়ে। সাধারণত চারা রোপণের ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে সবজিটি খাবার উপযোগী হয়। এটি সংগ্রহের সময় প্রথমে ফুলের উপরের অংশটা সাবধানে কেটে নিবেন তাহলে পাতার গোড়া থেকে আবার ফুল বের হবে যা পরবর্তীতে সংগ্রহ করতে পারবেন।

লিভারের সুস্থতায় ডিটক্স ওয়াটার – ৩টি ডিটক্স ওয়াটার রেসিপি

আধুনিক জীবন যাপনের কারণে আমরা প্রায় প্রতিদিন অনেক ধরণের প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্ট ফুড খেয়ে থাকি যা আমাদের শরীরের অনেক ক্ষতি সাধন করে। সাধারণত আমরা সকলেই কম বেশি এই ধরনের খাবার খাই শখ করে, বন্ধুদের সাথে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আর এগুলো আমদের অজান্তেই প্রতিনিয়ত লিভার কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দীর্ঘদিন ধরে এরূপ খাবারগুলো খাওয়ার ফলে আমাদের লিভার ড্যামেজ হওয়ার মত ঘটনাও ঘটতে পারে যা সত্যিই ভীতির কারণ। তাই লিভার সুস্থ রাখতে ডিটক্স ওয়াটার এর ব্যবহার আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে আমাদের দেহে যে ক্ষতিকারক পদার্থ জমে তা আমরা ডিটক্স ওয়াটার পান করে বের করে দিতে পারি বা দেহকে খুব সহজেই ডিটক্সিফাইড করে নিতে পারি। নিম্নে লিভার সুস্থ রাখতে ডিটক্স ওয়াটার এর ৩টি অত্যন্ত কার্যকরী রেসিপি দেওয়া হলো।

শশা লেবুর ডিটক্স ওয়াটার

লিভার পরিস্কার ও সুস্থ রাখতে শশা ও লেবুর কার্যকরীতা অনেক বেশি। এই পানীয় যেমন স্বাদে সেরা তেমনি কাজেও অনন্য। শশায় বিদ্যমান ভিটামিন K, আঁশ ও পানি খুব দ্রুত লিভার ডিটক্সিফাইড করে। উপরন্তু লেবুর ভিটামিন সি ও বিভিন্ন এনজাইম লিভার কে পরিস্কার করে এবং সুস্থ ভাবে কাজ করে যেতে সহায়তা করে।

উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী
শশা একটি, কুচি কুচি করে কেটে নিতে হবে।
লেবু একটি, টুকরো টুকরো করে কেটে বা চিপে রস করে নিন।
আধা লিটার বিশুদ্ধ পানি।

সব গুলো উপকরণ একটি পরিস্কার পাত্রে বা ডিটক্স জগে নিয়ে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। ঠান্ডা করার জন্য ফ্রিজে রাখতে পারেন বা বরফ কুচি দিতে পারেন। আপনার সারা দিনের পানির চাহিদার সাথে কম বেশি এই ডিটক্স ওয়াটার পান করুন।

আপেল সিডার ভিনেগার ডিটক্স ওয়াটার

অন্যান্য ডিটক্স এ এই আপেল সিডার ভিনেগার এর মত কার্যকরী উপাদান খুব কম এ আছে। কারণ এর শক্তিশালী ডিটক্সিফাইড এজেন্ট একে অন্য সকল প্রাকৃতিক ডিটক্সিফাইড ওয়াটার থেকে এগিয়ে রেখেছে। দেহের স্বাস্থ্যকর পিএইচ এর মাত্রা বাড়াতে এর জুড়ি মেলা ভার।

উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী
২ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার
২৫০ মিলি লিটার ঠান্ডা পানি।
১ টেবিল চামচ মধু।

আপেল সিডার ভিনেগার ডিটক্স ওয়াটার এর ভালো ফল পেতে উপকরণ গুলো ভালো ভাবে মিশ্রণ করে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে পান করুন। আশা করি আপনার লিভার ডিটক্সিফাইড করতে এটি বিশেষ কাজে দিবে।

আরও পড়ুন – ওজন কমাতে ডিটক্স ওয়াটার

হলুদ ডিটক্স ওয়াটার

খুব প্রাচীন কাল থেকেই ওষুধ হিসাবে এই হলুদের ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে চীনের আয়ুর্বেদ ওষুধে এর ব্যবহার বেশ প্রাচীন কাল থেকেই। এতে আছে এন্টি ইনফ্লামেটরি এজেন্ট, এন্টি ওক্সিডন্ট, ক্যান্সার ও ডিপ্রেশানের বিরুদ্ধে কাজ করা সহ আরো অনেক উপকারী উপাদান। প্রতিদিন সকাল বেলা এই পানীয় পান করলে আপনার লিভার ভালো থাকবে।

উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী
১/২ লেবুর রস
১/৪-১/২ টেবিল চামচ হলুদ গুরো
এক গ্লাস গরম পানি
আধা চামচ পরিমান মধু

অল্প আঁচে পানি ফুটিয়ে তার মাঝে হলুদ গুরো মিশিয়ে দশ মিনিট গরম করে নিন। চুলা থেকে নামিয়ে তার সাথে লেবুর রস ও প্রয়োজন মত মধু মিশিয়ে পান করুন। হলুদ গুরো যাতে তলানিতে জমে না যায় তা খেয়াল করে পান করুন আর এই সমস্যা এড়াতে আপনি শুকনো হলুদের টুকরো দিয়েও এই পানিয় তৈরি করতে পারেন।

আসলে মূল কথা হলো আমাদের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস দ্বারা আমাদের লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিভার সুস্থ রাখতে ডিটক্স ওয়াটার পান করুন ও একটি সুন্দর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। এছাড়াও লিভার সুস্থ রাখতে প্রতিদিন সবুজ চা পান করার অভ্যাস করুন। প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। যত বেশি সম্ভব সবুজ শাকসবজি খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন রাখুন আর বিশেষ করে লাল মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলুন। আশা করি উল্লেখিত ডিটক্স ওয়াটার গুলো আপনার লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। এগুলো নিয়মিত পানে লিভার সংক্রান্ত অন্যান্য রোগ থেকেও রক্ষা পাবেন। শুধু তাই নয় এই ডিটক্স ওয়াটার আপনাকে ওজন কমাতেও সাহায্য করবে।

শীতে শিশুর যত্ন, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপায়

ঋতু পরিবর্তনের ফলে শীতকালে শিশুরা খুব অল্পতেই অসুস্থ্য হয়ে পরতে পরে। এমনিতেই শিশুর যত্নে সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয় আর শীতকালে শিশুর চাই বাড়তি যত্ন। সাধারনত শীতকালেই ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশিসহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব একটু বেশি দেখা যায় ও কিছু ভাইরাস ঘটিত রোগ শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। তাই শীতে শিশুর যত্ন নিতে তার স্বাস্থের প্রতি বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হয়। একটু অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে অনেক বড় সমস্যা। এই শীতে শিশুর সঠিক পরিচর্যা ও সুস্বাস্থের প্রতি অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি যত্নবান হোন। তাই এই লেখাটি ভালোভাবে পড়ে বুঝে নিন শীতে শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় ও শীতে শিশুর পরিচর্যার কৌশল।

শীতে শিশুর যত্ন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়

শিতে শিশুকে উপযুক্ত আরামদায়ক ও কিছু বাড়তি গরম কাপড় গায়ে দিতে দিবেন। তার মাথা, ঘাড়, হাত এবং পা ভালো ভাবে গরম কাপড়ে ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করুন। সাধারনত প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের চেয়ে শিশুদের এক লেয়ার বেশি কাপড় নিশ্চিত করুন। আর অবশ্যই শিশুদের জন্য কয়েক জোড়া শীতের কাপড় ব্যবহার করবেন এবং দুই থেকে তিন দিন অন্তর অন্তর তা পরিস্কার করে ধুয়ে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিবেন।

শীতে শুধু ঠাণ্ডা লাগার কারণেই যে বাচ্চা অসুস্থ হবে তা নয় বরং শীতকালীন অসুখের মূল কারণ বায়ুবাহিত বিভিন্ন রোগজীবাণু যা সহজেই ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশেষ করে শিশুদের সহজেই আক্রমণ করে। আর সেইসাথে থাকে প্রচুর ধুলোবালি যা শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে নাক দিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করলে গলায় কিংবা নাকে প্রদাহ, সর্দি, কাশি সহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। আর মাত্রাতিরিক্ত দূষিত ধোঁয়া এবং ধুলো শিশুদের নিউমোনিয়া কিংবা ব্রঙ্কাইটিসের মতো সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। ভালো ভাবে হাত না ধুলে এর মাধ্যমে অনেক রোগ ব্যাধি ছড়ায়। বিশেষ করে শিশুদের ভালো ভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস করাতে হবে। শীতে গরম পানিতে শিশুকে হাত ধুতে দিন, কারণ ঠান্ডা লাগার ভয়ে শিশু ভালো ভাবে হাত না ধুলে সর্দি, কাশি ও নিওমোনিয়ার জীবানুতে আক্রান্ত হবার ভয় থাকে।

শুষ্ক শীতের মৌসুমে শ্বাস প্রশ্বাস এর সাথে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি পানি বেড়িয়ে যায়। এটি একটি বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় আর এজন্য সর্বদা শিশুদের জলযোজিত রাখতে হবে। এই ঋতুতে বাচ্চাদের বেশি বেশি গরম পানিয় পান করতে দিন তাতে পানি শুন্যতা পূরণ হবে আর গরম পানি তাকে ঠান্ডা লাগা থেকে দূরে রাখবে। শীতে সবার ত্বকই শুস্ক ও রুক্ষ হয়ে যায় আর বিভিন্ন চর্ম রোগ আক্রমন করে। শীতে চাই ত্বকের পর্যাপ্ত ময়েশ্চারাইজার। শীতকালে আপনার বাচ্চা স্কুলে অন্যদের মাধ্যমে কিছু ছোঁয়াচে চর্মরোগে আক্রান্ত হতে পারে। শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন নিতে বিশেষ খেয়াল রাখুন। নিয়মিত লোশন লাগান যেন ত্বক শুষ্ক হয়ে না যায়।

শীতকালের ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দিতে খোলামেলা পরিবেশে খুব বেশি খেলাধুলা করতে না দেয়ায় ভালো বিশেষ করে শৈত প্রবাহের সময়। খুব বেশি ঠান্ডা আবহাওয়া শিশুদের অনেক ক্ষতি করে আর কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। আরও লক্ষ্য রাখবেন শিশু যেন মেঝেতে খালি পায়ে না হাঁটে। শিশুর জন্য বাসায় ব্যবহার উপযোগী জুতা কিনতে পারেন পাশাপাশি ঘরের মেঝেতেও মাদুর বা মোটা কাপড় বিছিয়ে দিতে পারেন। তাহলে মেঝেতে বসে খেলা করলেও ঠাণ্ডা লাগবে না।

শীতে আপনার নবজাতক শিশুর (১ থেকে ২৮দিন বয়সী শিশু) জন্যে আরও বেশি যত্নবান হতে হবে। নবজাতক শিশুর যত্ন সম্পর্কে জানতে পড়ুন শীতে নবজাতকের যত্ন – করণীয় ও পরিচর্যা

আপনার শিশুকে শীতকালে বেশি বেশি ফলমূল, শাকসবজি ও সুষম খাদ্য খাইয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করুন তাতে করে আপনার বাচ্চার শুধু শীতের রোগ না বরং অন্য সকল রোগের ঝুঁকিও কমে যাবে। এই মৌসুমে নানান রকমের রোগ বালাই থেকে দূরে থাকতে ছোট্ট সোনামণিদের খাওয়ান মৌসুমি ফল ও সবজি। মূল কথা বাচ্চার ভিটামিন প্রাকৃতিক ভাবেই পূরণ করুন। এছাড়া দৈনিক এক চামচ মধু খাওয়ান তাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে ও সর্দি-কাশি কিংবা ঠাণ্ডা লাগার ঝামেলা একদম কমে যাবে।

বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে শীত মৌসুম এলেও অভ্যাসবসত ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পান, আইসক্রিম খাওয়া বা রাতের বেলায় ফ্যান ছেড়ে ঘুমিয়ে যাওয়ার কারণে টনসিল বা গলায় ব্যথা হয়। তাই তাদের এইসকল কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে।

শীত বলে পরিচ্ছন্নতায় অবহেলা না করে শিশুকে নিয়মিত গোসল করান। তবে দুপুর ১২ টার আগেই গোসলের পর্ব সেরে ফেলুন। গোসলের পর বাচ্চার মাথা ও শরীর ভালো করে মুছে তারপর জামা কাপড় পরাবেন। ত্বক ভালো রাখতে অবশ্যই বেবি লোশন বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করবেন নইলে শীতের রুক্ষ বাতাস ত্বকের ক্ষতি করবে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য শিশুর শরীর হালকা গরম পানি দিয়ে ধোয়ালেও মাথা ধোয়ানোর সময় অবশ্যই স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে। বেবি-শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে সপ্তাহে দুই-এক দিন। তবে শিশুর চুলে খুশকি হলে তা ভালো হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ওর চুলে তেল দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। শ্যাম্পু করার সময় শিশুর মাথা আলতোভাবে মাসাজ করতে হবে। জোরে মাসাজ করলে শিশুর ফলিকল ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

ছাদে টবে বা ড্রামে লাউ চাষ

আমাদের দেশে শীতকালীন সবজিগুলোর মধ্যে লাউ অন্যতম। লাউ যেমন সবজি হিসাবে অনেক সুস্বাদু তেমনি লাউয়ের পাতাও শাক হিসাবে অনেক উপাদেয়। আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রজাতির লাউ রয়েছে। জাতের প্রকার ভেদের কারণে এর আকার-আকৃতি ও বর্ণ ভিন্ন হয়। তবে বর্তমান সময়ে কিছু উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষ হয় বলে প্রায় সারা বছরই এ সবজিটি বাজারে পাওয়া যায়। আপনি চাইলে আপনার ছাদের টবে বা ড্রামে লাউ চাষ করতে পারেন। এতে আপনার পরিবারের জন্য টাটকা সবজি যেমন পাবেন তেমনি ফলন বেশি হলে করতে পারেন বাড়তি রোজগার। লাউ এর আগাম ফসল ঘরে তুলতে চাইলে এখনই ড্রামে বা টবে লাউ এর চারা রোপনের উপযুক্ত সময়।

উত্তম জাত নির্বাচন
ভালো জাত নির্বাচনে আপনি ভালো ফসল পাবেন তাই লাউ এর জাত নির্বাচন করুন একটু ভেবে চিন্তে। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চফলনশীল লাউয়ের একটি জাত উদ্ভাবন করেছে বারি লাউ-১ নামে । এর সুবিধা হলো এটি সারা বছরই চাষ করা যায়। তাছাড়া আপনি চাইলে হাইব্রিড লাউ মার্টিনা, জুপিটার, যমুনা, কাবেরী ও পদ্মা চাষ করতে পারেন।

সার ও মাটি প্রস্তুত করণ
শাক-সবজির বীজতলার জন্য মাটি সব সময় নরম তুলতুলে থাকলে গাছ তাড়াতাড়ি বাড়ে তাই মাটি হতে হবে ঝুরঝুরে, হালকা এবং পানি ধরে রাখার ক্ষমতা সম্পন্ন। মাটি থেকে বিভিন্ন আগাছা চালনি দিয়ে চেলে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে তাহলে চারাকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করা সহজ হবে। জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দো-আঁশ, এঁটেল দো-আঁশ মাটি লাউ চাষের জন্য উত্তম। দুই ভাগ দো-আঁশ মাটির সঙ্গে দুই ভাগ জৈব সার মিলিয়ে নিয়ে বীজতলার মাটি তৈরি করে নিতে হয়। লাউয়ের জন্য ভালো সার হলো টিএসপি, এমপি, জিপসাম ও বোরক্স সার এবং আপনি গোবর ও সার হিসাবে প্রয়োগ করতে পারেন।

বীজ থেকে চারা তৈরি
ভালো চারা তৈরি করতে চাইলে ছোট পলি ব্যাগে বীজ বপন করাই উত্তম। লাউয়ের বীজ বপনের পূর্বে বীজকে অন্তত ১২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সার মিশ্রিত মাটি পলি ব্যাগে ভরে তার মাঝে দুটি করে বীজ তার আকারের দ্বিগুণ মাটির গভীরে বুনতে হবে এবং প্রতিদিন সকাল-বিকাল পানি দিতে হবে।

টবে বা ড্রামে চারা রোপণ
লাউ বীজ থেকে চারা গজানোর পর ১৬-১৭ দিন বয়সের চারা টবে বা ড্রামে লাগানোর জন্য উপযুক্ত হয়। ছাদে টবে বা ড্রামে লাউ চাষের ক্ষেত্রে প্রতিটা চারা কে পলি ব্যাগ থেকে বের করে টবে বা ড্রামে রোপন করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি প্রতিটি চারার জন্য আলাদা আলাদা টব বা ড্রামের ব্যবস্থা করা যায়। টব বা ড্রামগুলোকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থাপন করুন এবং নিবিড় পরিচর্যায় রাখুন। মাচায় লাউয়ের ফলন বেশী হয় তাই উত্তম ভাবে মাচা তৈরি করে দিলে অধিক ফলন আশা করা যায়।

লাউ গাছের পরিচর্যা
লাউ গাছের প্রচুর পানি প্রয়োজন হয় তাই গাছের পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ নিশ্চির করতে প্রতিদিন সকাল বিকাল পানি সেচ দিতে হবে। আপনার গৃহের প্রতিদিনের মাছ মাংস ধোয়া পানি মাঝে মধ্যে লাউ গাছে দিবেন এতে বিশেষ উপকার পাবেন। খেয়াল রাখবেন টবে বা ড্রামে লাউ গাছের প্রয়োজনীয় পানির অভার হলে ফলন ব্যাহত হবে এবং ফল ছোট অবস্থাতেই ঝরে যাবে উপরন্তু টবে বা ড্রামে লাউ চাষ করতে পানি একটু বেশি প্রয়োজন হয়। তাছাড়া ড্রামের আগাছা পরিস্কার রাখুন, মাসে অন্তত কয়েক বার লাউয়ের পাতা সংগ্রহ করুন এবং লাউ গাছে সর্বদা যথেষ্ট সূর্যের আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা করুন এতে ফলন আরো ভালো হবে। গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে এর গোড়ায় নিয়মিত ইউরিয়া সহ, কচুরিপানা ও নানা ধরণের জৈব সার প্রয়োগ করুন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সার গাছের গোড়া থেকে ৬ ইঞ্চি দূর মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।

পড়ুন – ছাদে সবজি চাষ

ক্ষতিকর পোকা দমন ও ফলন বাড়ানোর কৌশল
সাধারনত সব ধরনের ফসল ও সবজি গাছে ক্ষতিকর পোকা দ্ধারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে এক্ষেত্রে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করলে তা থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়। আর লাউ চাষের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি কৌশল অবলম্বন করলে আপনি পেতে পারেন আপনার কাংখিত ফলন। নিম্নে টবে বা ড্রামে লাউ চাষ লাউ গাছের ক্ষতিকর পোকা দমন ও ফলন বাড়ানোর কিছু কৌশল দেয়া হলো।

> আপনার ছাদে বা লাউয়ের মাচায় পাখি বসার ব্যবস্থা রাখুন এতে অনেকটা প্রাকৃতিক ভাবেই পোকা দমনের কাজ হয়ে যাবে।

> ফ্রুট ফ্লাই পোকা কচি লাউয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে এবং খুব ছোট কালেই লাউয়ের কচি কড়া পচে ঝরে পরে। এজন্য লাউ গাছে ছাই ছিটিয়ে দিন অথবা ডায়াজিনন প্রয়োগ করতে পারেন।

> পিঁপড়া লাউ গাছের তেমন ক্ষতি না করলেউ ফুলে আক্রমণ করে ক্ষতি করতে পারে। লাউ গাছ কে পিঁপড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে ছাই অথবা সেভিন দিতে পারেন।

> পোকা দমনে সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ খুব কার্যকরী একটা কৌশল। এটা পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করে সহজেই ধ্বংস করে এবং তৈরি করাও অনেক সহজ।

> বিষটোপ ফাঁদ ব্যবহার করেও পোকা দমন করা যায়। বিষ টোপ তৈরি করতে ১০০ গ্রাম থেতলানো কুমড়ার সাথে ০.২৫ গ্রাম ডিপটেরেক্স পাউডার ও ১০০ এমএল পানি মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রনটি মাটির পাত্রে ঢেলে টব বা ড্রামের কাছে রেখে দিন। সাধারনত তিন চার দিন পর পর বিষটোপ পরিবর্তন করলে ভালো কার্যকরীতা পাওয়া যায়।

> শুষ্ক মৌসুমে লাউ গাছে ৪/৫ দিন পর পর সেচ দিবেন এবং প্রত্যেক সেচের পর গাছের গোড়ার মাটি চটা লেগে যায় তা আলতো করে ভেঙে দিবেন তাতে শিকড় ভালো ভাবে মাটির গভীরে ছড়ায় ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায়।

> লাউ গাছের গোড়ার দিকের শোষক শাখা বা ছোট ছোট ডালপালা কেটে অপসারণ করতে হবে। এগুলো লাউ গাছের শারীরিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটায় এবং খাদ্যোপাদান ও রস শোষণ করে নেয় যার কারনে ফলন কমে যায়।

> লাউয়ের ফুলে প্রাকৃতিক পরাগায়ন ঠিক মত না হলে ফলন কমে যায়। সেক্ষেত্রে হাত দিয়ে কৃত্রিম পরাগায়ন ঘটিয়ে ফলন শতকরা ৩০-৩৫ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব। কৃত্রিম পরাগায়নের জন্য পুরুষ ফুল ছিঁড়ে পুংরেণুসমৃদ্ধ পুংকেশর রেখে পাপড়ি অপসারণ করে পুংরেণু স্ত্রী ফুলের গর্ভমুন্ডে আস্তে করে ঘষে দিতে হয়। পুরুষ ফুলের পাপড়ির গোড়ায় গর্ভাশয় থাকে না এবং তা বোঁটার অগ্রভাগে ফোটে পক্ষান্তরে ক্ষুদ্রাকৃতি লাউয়ের মত গর্ভাশয়ধারী ফুলগুলো স্ত্রী ফুল। একটি পুরুষ ফুল দিয়ে ৬/৭ টি স্ত্রী ফুলে পরাগায়ন করা যায় এবং অবশ্যই কৃত্রিম পরাগায়ন ফুল ফোটার দিন সন্ধ্যার ভিতরেই সম্পন্ন করবেন।

> লাউ গাছ অনেক বড় হয় কিন্তু তা অপেক্ষায় ফুল কম ধরে। এমতাবস্থায় জৈব সারের মাত্রা কমিয়ে টিএসপি ও এমপি সার পরিমিত মাত্রায় অথবা গ্রোথ হরমোন স্প্রে করতে পারেন।

ওজন কমাতে ডিটক্স ওয়াটার ব্যবহারে পান স্লিম ফিট ফিগার

অতিরিক্ত ওজন নিয়ে যারা চিন্তায় আছেন এবং ডায়েট মানতে বা ব্যায়াম করারও পর্যাপ্ত সময় নেই হাতে তাদের জন্য আছে ব্যায়াম বা ডায়েট ছাড়া ওজন কমাতে ডিটক্স ওয়াটার। তাছাড়া দেহের অভ্যন্তরীণ বিষাক্ততা কাটানোর জন্য মাঝে মধ্যে সবারই উচিত শরীরটাকে ডিটক্স ওয়াটার দ্ধারা ডিটক্সিফাই বা বিষ মুক্ত করা।

ডিটক্স ওয়াটার কি?

ডিটক্স ওয়াটার বা পানি হলো বিভিন্ন ফল, উপকারী হার্বস, সবজি ও পানির মিশ্রনে তৈরি উপকারি পানীয় যা আপনাকে সারা দিন হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি মেদ ঝরাতে সাহায্য করবে। আপনার শরীর থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, টক্সিন ও বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে এবং শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা করতে ডিটক্স ওয়াটার সাহায্য করে।

যদিও ডিটক্স ওয়াটার ডায়েট এর ধারনা আমাদের দেশে নতুন ও এর প্রচলনও কম তাই বলে কি এর সুফল আমরা নিতে কার্পণ্য করবো? তাহলে চলুন দ্রুত ওজন কমাতে ডিটক্স পানি তৈরির কিছু রেসিপি জেনে নিই।

স্লিম ডাউন ডিটক্স ওয়াটার

লেবু, শসা, পুদিনা পাতা ও জাম্বুরা দিয়ে তৈরি স্লিম ডাউন ডিটক্স ওয়াটারে আছে ভিটামিন সি সহ বিভিন্ন উপকারী উপাদান ও চর্বি দূর করার এনজাইম। এছাড়াও এই ডিটক্স পানীয় এর সবগুলো উপাদানই অভ্যন্তরীণ পরিপাক নালীকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

স্লিম ডাউন ডিটক্স তৈরির উপকরণ
১/২ লেবুর টুকরো
১/২ টা জাম্বুরার টুকরো
১/২ টা শসা টুকরো
১/২ লিটার পানি

স্লিম ডাউন ডিটক্স প্রস্তুত প্রণালি
সবগুলো উপাদান ছোট করে কেটে একসাথে মিশিয়ে নিন। এবার এটি ৩/৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন ভালভাবে এর উপকরণের পুষ্টি উপাদান গুলো পানির সাথে মিশে যাবে। নিয়মিত পানির বদলে এটি পান করুন। এক দুই সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল পাবেন।

মরনিং লেমন মিন্ট ডিটক্স ওয়াটার

আপনার সকাল বেলায় উপভোগের জন্য অত্যন্ত সুস্বাদু এবং একই সাথে ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রতিদিন পান করতে পারেন মরনিং লেমন মিন্ট ডিটক্স ওয়াটার। সকাল বেলায় উচ্চ ক্যালরির অন্যান্য জুসের বদলে আপনি এটা পান করলে ওজন বাড়ার বাড়তি চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

লেমন মিন্ট ডিটক্স ওয়াটার তৈরির উপকরণ
পুদিনা পাতা ১৫/২০ টি
পাতলা করে কাটা লেবুর টুকরো ৪/৫ টি অথবা রস ১/২ কাপ
বিট লবন ১/৩ চা চামচ
পানি ১/২ লিটার

লেমন মিন্ট ডিটক্স ওয়াটার প্রস্তুত প্রণালী
আপনি যদি স্বল্প সময়ে এটা তৈরি করতে চান তবে লেবু চিপে রস করে নেয়া ভালো তবে এ ক্ষেত্রে ঠান্ডা করার জন্য বরফ কুচি ব্যবহার করতে পারেন। পানিতে লেবুর রস, পুদিনা পাতা, বরফ কুচি ও স্বাদ বাড়ানোর জন্য হালকা বিট লবন দিতে পারেন। আপনি চাইলে সারা দিন পানির পরিবর্তে এই ডিটক্স পানিয় পান করতে পারেন।

আরও পড়ুন – মিলিটারি ডায়েট চার্ট

লেমন জিঞ্জার ডিটক্স ওয়াটার

লেবু আদার ডিটক্স অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পানিয়। ওজন কমাতে লেবু ও আদার রস অনেক কার্যকরী। লেবুতে আছে সাইট্রিক অ্যাসিড যা মেদ দূর করে থাকে আর আদা মেটাবেলজমকে প্রভাবিত করে থাকে। প্রতিদিন পান করাতে এটি দেহের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এবং দেহের চর্বি কমিয়ে আরো চাঙ্গা করে তোলে।

লেমন জিঞ্জার ডিটক্স তৈরির উপকরণ
১/২ টা লেবুর রস
হাতের আধা আঙ্গুল পরিমান আদা
১ লিটার বিশুদ্ধ পানি

লেমন জিঞ্জার ডিটক্স ওয়াটার প্রস্তুত প্রণালী
পানির মধ্যে লেবু টুকরো করে বা লেবুর রস চিপে আলাদা করে দিতে পারেন। আদা কুচি কুচি করে কেটে পানিতে ছেড়ে দিন। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন তাতেই তৈরি হয়ে যাবে আদা লেবুপানি। কিন্তু যদি লেবু টুকরো করে দিন তবে ২/৩ ঘন্টা সময় ফ্রিজে রেখে দিন লেবুর উপাদান পানিতে মেশার জন্য। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস করে এটি পান করুন তবে দ্রুত ফল লাভের জন্য সারাদিনের পানির বদলে এটি পান করতে পারেন।

আরও পড়ুন – ওজন কমাতে বাঁধাকপি ও আদার জুস

মূলত ডিটক্স ওয়াটার হলো ক্রাশ ডায়েটের অংশ আর আশানুরূপ ফল পাওয়ার স্বার্থে এখানে সকল প্রকার চিনির ব্যবহার বাদ দেয়া হয়েছে। যেহেতু এতে ফলের ভিটামিন ও অন্যান্য গুনাগুণ আছে এবং কোন ক্যালরি নেই তাই ওজন কমাতে ডিটক্স ওয়াটার অনেক ফলপ্রসু আর পরিপূর্ণ ডায়েটের অংশ হিসেবে ডিটক্স ওয়াটার বেশ উপকারী। আপনার ওজন কমাতে, শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে ও একই সাথে আপনার দেহ কে ডিটক্সিফাইড করতে নিয়মিত ডিটক্স ওয়াটার পান করতে পারেন।

শীতের ফুল ডালিয়া – চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যা

শীতকালিন ফুলের মধ্যে ডালিয়া অন্যতম। অসম্ভব সুন্দর এই ফুলের নামকরণ করা হয় সুইডেনের বিখ্যাত উদ্যানতত্ত্ববিদ আন্দ্রেডালের নামানুসারে। ডালিয়া ফুলের পাপড়ির দৃষ্টিনন্দন বিন্যাস ও বর্ণ বৈচিত্র্যের জন্য এটি সবার কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ডালিয়া ফুল বিভিন্ন আকারের ও লাল, সাদা, কমলা, বেগুনি, হলুদসহ বিভিন্ন রঙের হয় শুধু নীল আর সবুজ রঙ ছাড়া। এই ফুলের উল্লেখযোগ্য কিছু জাত হচ্ছে সিংগেল ডালিয়া, কলারেট ডালিয়া, স্টার ডালিয়া, ডেকোরেটিভ ডালিয়া, অ্যানেমনি ডালিয়া, স্টারলেট কুইন, হোয়াইট ষ্টার, ক্যাকটাস ডালিয়া, ইত্যাদি। সহজেই আপনার ফ্ল্যাটের বারান্দায় বা ছাদে অল্প স্থানে চাষ করুন শীতের ফুল ডালিয়া। এই ফুল খুব অল্প সময়ে এমন কি মাত্র মাস খানেক সময়ের মধ্যে ফোটানো সম্ভব। নার্সারি থেকে ভালো চারা এনে টবে রোপন করে যত্ন নিলে মাস খানেক পর থেকেই ফুল ফুটতে শুরু করবে এমন কি ভালো জাত হলে মার্চ পর্যন্ত ফুল ফোটে।

বংশবিস্তার পদ্ধতি: ডালিয়া ফুল বীজ, কন্দ ও শাখা কলম পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা যায় তবে বীজ থেকে সিঙ্গেল ডালিয়া ফুলের চারা উৎপাদন হয়। তাই ডাবল ফুল উৎপাদনের জন্য অঙ্গজ পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করতে হয়। অঙ্গজ পদ্ধতিতে বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে কন্দমূল বা শাখা কমল রোপণ করতে হয়। টবে ডালিয়া ফুলের চাষ করতে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো শাখা কলম।

শাখা কলম থেকে বংশবিস্তার: আপনি নার্সারি থেকে ডালিয়ার কলম চারা সংগ্রহ বা আপনার বাগানে গাছ থাকলে নিজে কলম করে নিতে পারেন। শাখা কলম তৈরি করার ভালো ও উপযুক্ত সময় হলো পৌষ থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত। শাখা কলম করার জন্য সুস্থ সবল শাখা নির্বাচন করতে হয় এবং যে পর্যন্ত কাটিং তৈরি করার জন্য উপযুক্ত ঠিক সেখানে ধারালো ছুড়ি দিয়ে ছাল কেটে নিতে হয়। কাটিং এ বেশি পরিমাণে ও তাড়াতাড়ি শিকড় গজানোর জন্য ডালগুলোর নিচে কাটা অংশে সামান্য পরিমাণ সেরাডিক্স বি১ হরমোন বা সুরটেক্স উদ্ভিদ হরমোন মাখিয়ে নিলে দ্রুত কলম তৈরি করা যায়। সাত থেকে আট দিনের মধ্যে ডালিয়ার শাখা কলমে শেকড় আসে।

মাটি ও সার: ডালিয়া ফুলের চাষের জন্য দোআঁশ মাটি উত্তম এবং মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব পদার্থ থাকা অবশ্যই প্রয়োজন। ফুলের উজ্জ্বলতা এবং গাছের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ফসফেট ও পটাশ সার ব্যবহার করা ভালো। তবে টবে চারা রোপণের ক্ষেত্রে প্রতি টবে ২০ গ্রাম টিএসপি, ১০ গ্রাম এমওপি ও ১০ গ্রাম ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। টবে রোপণের জন্য ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার বা ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি আকারের টব হলে ভালো।

পরিচর্যা: ডালিয়া গাছের প্রচুর পানি দিতে হয় তবে কুড়ি আসার পর পানি অল্প পরিমানে ঘন ঘন দিলে ভালো হয়। গাছের গোড়ার মাটি ঝুরঝুরে ও আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। তবে চারা ছোট থাকা অবস্থায় সপ্তাহে একবার এবং সেচ দেয়ার আগে মাটি আলগা ও আগাছা পরিস্কার করে নিবেন।

পোকামাকড়: জাব পোকা, থ্রিপস ও দুই ধরনের মাকড় ডালিয়া গাছের বেশি ক্ষতি করে থাকে। জাব পোকা ও থ্রিপস ডালিয়া গাছের পাতা, কুঁড়ি ও ফুলের রস শোষণ করে গাছ নষ্ট করে। জাব পোকা ও থ্রিপস দমনের জন্য মাত্রা অনুযায়ী সাইফানন ৫৭ ইসি স্প্রে করতে হবে এবং মাকড়ের আক্রমন ঠেকাতে মাত্রা অনুযায়ী কেলথেন প্রয়োগ করতে হবে।

ঘরের বারান্দায় ও ছাদে অর্কিড চাষ

বাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনে ও গৃহ সজ্জায় অর্কিড অতুলনীয়। এই ফুলের রং-বৈচিত্র আর অনিন্দ্য সুন্দর গঠন সবার নজর কাড়ে খুব সহজেই। বারান্দায় টবে বা ছাদে যেখানেই চাষ করুন না কেন অর্কিডের বিচিত্র সৌন্দর্য এর দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবেই। প্রায় সব অর্কিড ফুলেরই কদর আছে পুরো পৃথিবী জুড়ে। এই গাছ খুবই কষ্ট সহিষ্ণু বলে বরফাচ্ছাদিত দেশ থেকে শুরু করে উষ্ণ আর্দ্র আবহাত্তয়ার দেশেও এর বংশ বিস্তার খুব কঠিন নয়। প্রায় ৩০ হাজারের বেশি প্রজাতির অর্কিড এর মধ্যে এক একটির রঙ, আকৃতি, ঘ্রাণ, ওষুধি গুণাগুণ ও স্থায়িত্বকাল অন্যটি থেকে ভিন্ন। চলুন জেনে নেই অর্কিড চাষের প্রস্তুতি, পরিচর্যা ও অন্যান্য বিষয়।

কোন ধরনের অর্কিড উপযুক্ত

সারাবিশ্বে অনেক জাতের অর্কিড থাকলেও সব অর্কিড আমাদের দেশের জন্যে উপযুক্ত নয়। যে সকল অর্কিড আমাদের দেশের আবহাওয়ার জন্যে উপযুক্ত এবং আলো-ছায়া পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে এমন অর্কিড গাছ লাগানো যেতে পারে ঘরের বারান্দায় বা ছাদে। অর্কিড সাধারনত দু ধরনের যথা এপিফাইটিক বা পরজীবি এবং টেরেস্ট্রিয়াল বা যেগুলো মাটিতে জন্মে। তবে ঘরের বারান্দায় অর্কিড চাষের জন্য টেরেস্ট্রিয়াল অর্কিডই উপযুক্ত কারন এর চাষ বা পরিচর্যা করা সুবিধাজনক। নার্সারী থেকে গাছ কেনার আগে জেনে নিন সেই গাছ ঘরে চাষ করা যাবে কিনা।

অর্কিড ফুল যত্ন ও পরিচর্যা
অর্কিড ফুল

গাছ নির্বাচন

কোন ধরণের অর্কিড গাছ লাগাবেন তা সম্পূর্নই আপনার পছন্দের উপর নির্ভর করে। তবে গাছ নির্বাচনের সময় মাথায় রাখতে হবে যে গুলোর যত্ন ও পরিচর্যা সহজ আপনার জন্যে। যে গাছে তাড়াতাড়ি ফুল ফুটে এবং যে সব অর্কিড ফুলের স্থায়িত্ব বেশিদিন। এই ক্ষেত্রে পরিচিত কারও সাহায্য নিতে পারেন যার নিজের অর্কিড বাগান আছে। তাছাড়া আপনি ভালো কোন নার্সারিতে গিয়ে কথা বলতে পারেন। ঢাকায় ধানমন্ডি, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, আগারগাঁও, মিরপুর ২, কিংশুক, সাভার সহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার নার্সারীতেই যোগাযোগ করতে পারেন।

কেমন হবে অর্কিডের টব বা ঝুড়ি

দিন দিন মানুষের কাছে অর্কিড ফুলের আকর্ষণ বাড়ছে তাই আজকাল বাজারে অর্কিডের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি আলাদা টব পাওয়া যায়। বাজারে পাওয়া অর্কিড টব বা পাত্র গুলো দেখতে বেশ সুন্দর। একটু খরচ হলেও আপনি বাজার থেকে অর্কিডের জন্যে তৈরি বিশেষ টব বা পাত্র গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়া যেগুলোর গায়ে ফাকা জায়গা থাকে অথবা মাটির টব বা ঝোলানো প্লাষ্টিকের ঝুড়িতে অর্কিড লাগাতে পারেন। অর্কিড লাগানোর টব বা ঝুড়ি কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি গভীর হতে হবে এবং অতিরিক্ত পানি বের হওয়ার জন্য ছিদ্র থাকা আবশ্যক।

পড়ুন – কিভাবে নিবেন শখের অর্কিডের যত্ন

টব ও ঝুড়ির মাটি তৈরি

প্রথমে টবের একদম নিচে কাঠের ছোট ছোট টুকরা, কিছু কয়লা বা ঝামা ইট দিতে হবে। কাঠ ও কয়লার উপর ছোট ছোট নুড়ি, সুরকি অথবা ইঠের খোয়া দিলেও চলবে। তারপর নারকলের ছোবড়া দিয়ে বাকি অংশটা ভরাট করে তার উপর মাটি ও জৈব সারের মিশ্রণ দিন। তবে নারকেলের ছোবড়া ছাড়াও আম গাছের শুকনো ছাল কিংবা আম কাঠের গুঁড়ো, মোটা বালি, শুকনো গোবর এবং কিছু শুকনো মস ব্যবহার করতে পারেন।

এই ভাবে টব বা ঝুড়ি প্রস্তুত করে তার মধ্যে অর্কিডের চারা লাগান তবে উপরে যেনো ৩/৪ ইঞ্চি জায়গা ফাকা থাকে। নারিকেলের ছোবড়া বা ইটের খোয়া যেন খুব বেশি চেপে না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখুন এবং গাছের গোড়ায় ও শিকড়ে যেন বাতাস চলাচল করতে পারে সহজেই। তবে ভালো হয় যদি টব বা ঝুড়িতে গাছ বসিয়ে এসব উপাদান দিয়ে টব ভরে দিতে পারেন।

অর্কিডের যত্ন ও পরিচর্যা

  • ভোরের প্রথম রোদটি অর্কিডের জন্য খুব উপকারী। অর্কিড ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
  • যে গাছ আলোতে বাঁচে না, সে গাছ ছায়াতে রাখতে হবে। বাঁশের কঞ্চি দিয়েও অর্কিড ঘর তৈরি করা যায়।
  • অর্কিড গাছে সপ্তাহে ২ দিন স্প্রে করে পানি দিতে হবে। অর্কিডের মোটা শিকড়, পাতা ও গাছের পানি ও সার ধরে রাখার ক্ষমতা আছে।
  • পানি যেন কোনোভাবেই টবে জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। বেশি পানি দিলে অর্কিডের গাছ মারা যেতে পারে।
  • প্রতি মাসে একবার গাছের গোড়ায় চা-চামচের আধ চামচ সুফলা দু’লিটার পানিতে গুলে সামান্য পরিমাণে দিতে হবে। তবে গাছে ফুল থাকলে সার বা ফুলে পানি দেয়া যাবে না। তাহলে ফুল পঁচে যাবে।
  • আলো-ছায়া যুক্ত যায়গা নির্বাচন করুন আর খেয়াল রাখুন যেন গাছে সরাসরি কড়া সূর্যের আলো না পড়ে। বেশি রোদ কিংবা বেশি ছায়া অর্কিড চাষের জন্য উপযুক্ত নয়।
  • গাছে পোকার উপদ্রব হলে রোগাক্রান্ত পাতা কেটে ফেলে দিন। মাকড়সা বা পিপড়া আক্রমন করলে কিছুটা সাবান পানি স্প্রে করে দিন।
  • অর্কিড পাত্রের দেয়া সবকিছুর কার্যকারিতা দুই তিন বছরে শেষ হয়ে যায়। তাই দুই বছর অন্তর পাত্রের সব কিছু পরিবর্তন করতে হবে।

আর ভ্রমণপ্রিয় ও প্রকৃতিপ্রেমীরা যারা আছেন তারা অর্কিডের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে। এই গ্রামে প্রায় ১১ একর জমির উপরে বাংলাদেশের অন্যতম অর্কিড ফার্মটি অবস্থিত। এখানে আপনি সাত জাতের প্রায় একুশ ধরণের মোট তিন লাখেরও বেশি অর্কিডের দেখা পাবেন।

পড়ুন – পৃথিবীর সুন্দরতম ১০টি ফুল

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ১০টি ফুল

ফুল হলো এই বিচিত্র পৃথিবীর সৌন্দর্য প্রকাশের একটি অসাধারন মাধ্যম। এটি মহান সৃষ্টিকর্তার সুন্দরতম সৃষ্টিগুলোর মধ্যে অন্যতম, এক কথায় বলতে গেলে ফুল বরাবরই সৌন্দর্যের প্রতীক। ফুলের সৌন্দর্য মানুষের মনকে দারুণ ভাবে প্রভাবিত করে। যদিও সৌন্দর্য সবাইকে একই ভাবে আকৃষ্ট করে না কারণ দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা ও নমুনা একেক জনের কাছে একেক রকম। কিন্তু ফুল পছন্দ করে না বা ভালোবাসে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফুলের সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ১০টি ফুল নিয়ে আমাদের এই আয়োজন।

গোলাপ

গোলাপ ফুল

গোলাপ যতার্থই ফুলের রাণী। যেমন তার রুপ তেমনি বাহারি সে বর্ণে ও সৌরভে। প্রাচীন কাল হেকেই ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে গোলাপ তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে সবার প্রথমে অবস্থান করছে। যদিও তার আদি নিবাস এশিয়া মহাদেশে কিন্তু সারা বিশ্বে গোলাপ তার পাঁপড়ির গড়ন ও নান্দনিকতার জন্য বিশেষ আবেদন ময়ী। পৃথিবীতে প্রায় ১০০ প্রজাতির গোলাপ রয়েছে তন্মদ্ধে আমাদের দেশে গোলাপী, লাল, হলুদ, সাদা ইত্যাদি বর্ণের গোলাপ সহজলভ্য। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ গবেষণার মাধ্যমে জিনগত বৈশিষ্ট্য উন্নয়ন করে “গার্ডেন রোজ” নামে বিভিন্ন হাইব্রিড গোলাপের উদ্ভাবন করা হচ্ছে যা একই ফুলে দুই বা ততোধিক রঙের পাপড়ি উৎপাদন করতে সক্ষম।

ডালিয়া

ডালিয়া ফুল

সুন্দর ফুলের মধ্যে ডালিয়াও তার নজরকাড়া রুপের জন্য রয়েছে মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে। রুপ লাবন্যে ভরপুর এই ফুলের আদি নিবাস মেক্সিকোর গুয়াতেমালায়। উল্লেখযোগ্য ১০ টি শ্রেণীর আওতায় ডালিয়ার রয়েছে প্রচুর জাত। এর বেশকিছু উন্নত জাতের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গল, স্টার, অ্যানেমিন ফাওয়ার্ড, কলারেট, পিওনি ফাওয়ার্ড, ফরমাল ডেকোরেটিভ ইত্যাদি। ডালিয়া সাধারনত আমাদের দেশে শীতকালে ফোটে।

টিউলিপ

নজর কাড়া টিউলিপ ফুল

সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় টিউলিপ ফুলের জুরি মেলা ভার। খুব সহজেই টবে চাষাবাদের উপযোগী বলে গৃহের সাজসজ্জার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও টিউলিপ এর ব্যবহার অনেক বেশি। টিউলিপ বসন্তকালীন ফুল যা খাঁটি নীলাভ রঙ ব্যতীত যে কোন রঙের হয়ে থাকে এবং এর ১৫০ প্রজাতি সহ অগণিত সংকর প্রজাতি বিদ্যমান। অটোমান সাম্রাজ্যের সময় কালে তুরস্কে এর উৎপত্তি হলেও ষোঢ়শ শতাব্দী থেকেই ইউরোপে ব্যপক ভাবে এর চাষ হচ্ছে। সমগ্র ইউরোপে অর্থকরী ফসল হিসাবে বাণিজ্যিক ভাবে টিউলিপের চাষ হয় এবং এক হল্যান্ডেই বছরে তিন বিলিয়নেরও অধিক টিউলিপ উৎপাদন ও রপ্তানী হয়। প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ পর্যটক ইউরোপে আসে চোখ ধাঁধানো টিউলিপের বিশাল বিশাল বাগান গুলো দেখতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমগ্র ইউরোপের উৎপাদিত ফুলের বাজার মূল্য প্রায় এগার হাজার মিলিয়ন ইউরো।

চন্দ্রমল্লিকা

চন্দ্রমল্লিকা ফুল

অপূর্ব এক ফুল চন্দ্রমল্লিকা যার ইংরেজি প্রতিশব্দ ক্রিস্যানথিমাম। এর প্রধান আবাস এশিয়া ও উত্তর-পূর্ব ইউরোপে হলেও বেশির ভাগ জাতের আবিস্কার হয় পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলোতে বিশেষ করে মধ্য চিন দেশে। এই বৃহদাকৃতির ফুলগুলো সচরাচর সাদা, হলুদ, সোনালী , লাল, গোলাপি ও পটল বর্ণের হয়ে থাকে এবং সোনালী বর্ণের চন্দ্রমল্লিকা দেখলে মনে হয় যেন সোনা দিয়ে তৈরি। নজরকাড়া এই চন্দ্রমল্লিকা ফুল ফোটার সময় অক্টোবর এবং নভেম্বর মাস। এই সুন্দর ফুলের বিভিন্ন জাত হলো চন্দ্রমুখী, বাসন্তী, মেঘামী, চন্দমা, স্নোবল ইত্যাদি।

পড়ুন – বাড়ির ছাদে ফুলের বাগান

অর্কিড

মন মাতানো বুনো অর্কিড

বিশ্ব ব্যাপি বহুলবিস্তৃত ফুল হলো অর্কিড যা পৃথিবীর সব মহাদেশেই দেখা যায়। বিভিন্ন বাহারি রঙ, সুগঠিত আকৃতি, মন মাতানো ঘ্রাণ ও স্থায়িত্বকাল এর ভিন্নতা নিয়ে অর্কিড সুন্দর ফুলের তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছে সহজেই। সমগ্র বিশ্বজোড়ে মানুষ তার ভালোবাসা, আভিজাত্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসাবে অর্কিড কে বিশেষ ভাবে মূল্যায়ন করে। অর্কিডের প্রায় ৩০,০০০ এর বেশি প্রজাতির মধ্যে আমাদের দেশে এপিফাইটিক ও টেরেস্ট্রিয়াল এই দু ধরনের অর্কিড দেখা যায়। আপনার গৃহকোণ, বারান্দা বা ছাদ বাগান সবখানেই শোভা বাড়াতে টবে অর্কিডের চাষ করতে পারেন।

বাগান বিলাস

মনোরম বাগান বিলাস

বহুরূপী বর্ণের এই ফুল বাগান বিলাস যার নাম শুনে আমাদের দেশি ফুল মনে হলেও এটি মূলত বিদেশি ফুল যার ইংরেজি নাম ‘বোগেনভিলা’। বাগান বিলাস নাম যেমন সুন্দর ঠিক তেমনি দেখতেও অনিন্দ্য সুন্দর এই ফুল আর মজার কথা হলো এই বাগান বিলাস নাম আমাদের কবি গুরু রবি ঠাকুরের দেয়া। বাড়ি বা যেকোন স্থাপনার শোভাবর্ধক উদ্ভিদ বাগান বিলাসের আদি নিবাস দক্ষিন আমেরিকা, ব্রাজিল, পেরু, আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডর। এর ১৮টি প্রজাতির মধ্যে বাংলাদেশে প্রধানত গোলাপি, লাল, হলুদ আর সাদা প্রজাতির দেখা মেলে।

চেরি

চেরি ফুল

হালকা গোলাপী আভা বা তুষার সাদা রঙের চেরি ফুলের ঋতু খুব সংক্ষিপ্ত হয়ে থাকে যা প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী স্থায়ী হয়। চেরি ব্লসম বা চেরি ফুল অনেক সুন্দর ও আকর্ষণীয় যা জাপানে সাকুড়া নামে পরিচিত। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর সেরা চেরি ফুলের রাজধানী হিসেবে আমেরিকার জর্জিয়া রাজ্যের ম্যাকন শহর বিখ্যাত। বসন্ত আসলেই চেরি ফুলে ছেয়ে যায় পুরো শহর। আপনি আপনার ভ্রমনের তালিকায় রাখতে পারেন এই শহর, সময় করে ঘুরে আসতে পারেন চেরি ফুলের রাজধানী থেকে কোন এক চেরি ব্লসম উৎসবে।

ব্লিডিং হার্ট

সুন্দর ফুল ব্লিডিং হার্ট

অনিন্দ্য সুন্দর এই ফুলের আদি নিবাস ধরা হয় পশ্চিম আফ্রিকাকে। সাধারনত ঠান্ডা আবহাওয়ায় এটি ভালো জন্মে। হৃদয় আকৃতির এই ফুলের রুপ লাবন্য এতোই সুন্দর যে একবার দেখলেই মনের ভেতর গেথে যাবে। এই ফুল সাধারনত গোলাপী, লাল, হলুদ এবং সাদা বর্ণের হয় কিন্তু গোলাপী পাপড়ি বিশিষ্ট ফুল গুলোই দেখতে বেশি সুন্দর। আবার এই ফুল কে উলটা করে চোখের সামনে ধরলে অন্য রুপে দেখা যায়, তখন তাকে বলা যায় লেডি ইন বাথ।

শাপলা

জাতীয় ফুল শাপলা

জলমগ্ন স্থানে শাপলা ফুল ফুটে থাকার দৃশ্য যেমন মনোরম তেমনি মনোরম শাপলা ফুলের রুপ। সাদা শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল হলেও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পুকুর ও হ্রদে দেখা যায় এমনকি পাপুয়া নিউগিনি এবং অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকাতেও এর দেখা মেলে। শাপলা ফুল নানা রঙের হয় যেমন, গোলাপী, সাদা, নীল ও বেগুনি এবং এর প্রায় ৩৫টি প্রজাতি আছে। থাইল্যান্ড ও মায়ানমারে এই ফুল পুকুর ও বাগান সাজাতে খুব জনপ্রিয়। আমাদের দেশে নীল শাপলা ফুলকে শালুক বা নীলকমল এবং লাল শাপলা ফুলকে রক্তকমল বলা হয়।

পদ্ম

সুন্দর পদ্ম ফুল

অনিন্দ্য সৌন্দর্যের কারনেই পদ্মকে জলজ ফুলের রানী বলা হয়। পদ্ম ফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি অথবা হালকা গোলাপি রং এর হয়। অনেকেই লাল শাপলা আর পদ্ম ফুলের মধ্যে মিল থাকার কারণে চিনতে ভুল করেন কিন্তু এর বীজ পত্রটা ভালো ভাবে দেখলেই পার্থক্য বোঝা যায়। আবার কাশ্মীর আর ইরানে নীল বর্ণের পদ্ম ফুলের দেখা মেলে যাকে নীল পদ্ম বা নীল কমল বলে। পদ্ম ফুল প্রধানত শরৎকালে ফোটে তবে আবার কখনও কখনও বর্ষাকালেও পদ্মের দেখা পাওয়া যায়।

শীতে নবজাতকের যত্ন – করণীয় ও পরিচর্যা

শীতে নবজাতকের যত্ন সঠিক ভাবে নিতে সকল মা বাবাই একটু বেশি চিন্তায় থাকেন। কেননা এই ঋতুতে ছোট্ট শিশুদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। সাধারণ জ্বর ঠান্ডা থেকে বিভিন্ন ভাইরাল অসুখ, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ইত্যাদি জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যদিও নবজাতক বলতে এক থেকে আটাশ দিন বয়সি শিশুকে বুঝায় তারপরেও শিশুদের ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শীতকালীন রোগে ভোগার ঝুঁকি বেশি। আর এই কারণেই শীতে নবজাতকের প্রতি একটু বেশি সতর্ক থাকতে হয় তার বাবা মায়ের। তাহলে চলুন যেনে নিই শীতকালে নবজাতকের যত্নে করণীয় কি এবং কিভাবে শীতে নবজাতকের পরিচর্যা করতে হবে।

শীতে নবজাতকের যত্ন নিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহ

তাপমাত্রা
সাধারনত শিশু মায়ের গর্ভের স্বাভাবিক তাপমাত্রা থেকে ভূমিষ্ট হওয়ার পরে পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রার সাথে খাপ খাওয়াতে ও শিশুর শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দ্রুত তৈরি হতে সহায়তা করার জন্য শিশুর থাকার জায়গাতে পর্যাপ্ত তাপের ব্যবস্থা করতে হবে। আরো মনে রাখতে হবে মায়ের স্বাস্থ্যের সাথে নবজাতকের স্বাস্থ্যও সম্পর্কযুক্ত তাই মায়ের স্বাস্থ্যেরও যত্ন নিতে হবে একই সাথে।

বুকের দুধ
জন্মের পর পরেই শিশুকে প্রচুর মায়ের বুকের শাল দুধ খাওয়াতে হবে আর এতে করে খুব জলদি তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে। ঘন ঘন মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার ফলে শিশু সহজে ঠাণ্ডা, কাশি ইত্যাদিতে আক্রান্ত হবে না। অবশ্যই সতর্ক ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে শিশুর চাহিদা অনুযায়ী বুকের দুধ পাচ্ছে কিনা।

গরম কাপড়
নবজাতক শিশুর ত্বক ও শ্বাসতন্ত্র অত্যন্ত নাজুক ও অপরিণত। তাই শিশুর দেহ বেশি তাপ ধরে রাখতে পারে না ও সহজেই ঠাণ্ডা হয়ে যায়। শিশুর দেহ উষ্ণ রাখতে তাকে পর্যাপ্ত আরামদায়ক গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

শিশুর গোসল
শূন্য থেকে ৩০ দিন বয়সের নবজাতকদের সপ্তাহে দুদিন, এর পর থেকে, অর্থাৎ ৩০ দিনের বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন গোসল করানো উচিত। তবে অল্প ওজন নিয়ে জন্ম গ্রহণকারী শিশুর নাক দিয়ে পানি পড়লে, নিউমোনিয়ার কোনো লক্ষণ থাকলে বা ঠান্ডা লাগার কোনো লক্ষণ থাকলে গোসল করানোই উচিত নয়। খুব ছোট শিশু কিংবা ঠান্ডার সমস্যা আছে এমন শিশুর ক্ষেত্রে বা যেদিন বেশি কুয়াশা থাকবে, সেদিন শিশুর গোসলের সময় কমিয়ে দিয়ে হালকা উষ্ণ পানিতে দ্রুত গোসল করিয়ে ফেলতে পারেন।

শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি
শীতকালে শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির প্রকোপ বাড়ে আর নবজাতক শিশুর শ্বাসনালি অতি সংবেদনশীল হওয়ায় তার এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই শিশুর ঘরে কার্পেট, লোমযুক্ত চাদর, কম্বল ইত্যাদি ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে।

যদি পরিবারের কোনো সদস্য বা কোনো আত্মীয়ের সর্দি, কাশি, ভাইরাস জ্বর ইত্যাদি থাকে সে ক্ষেত্রে মা ও শিশুকে তাদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে। আর শিশুকে শীতকালে যথা সম্ভব ঘরের বাইরে নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ত্বকের যত্ন
শীতের শুষ্ক রুক্ষ আবহাওার কারনে শিশুর ত্বকের ক্ষতি হয় এমন কি বিভিন্ন চর্ম রোগ ও হতে পারে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে তার ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন। অনেকের ধারণা, নবজাতকের মাথায় অনেক বেশি তেল দিলে মাথার তালুতে হলুদ বা বাদামি আঁশের মতো স্তর পড়ে। একে ‘ক্রেডল ক্যাপ’ বলে। আসলে ক্রেডল ক্যাপ হয় মূলত মাথার তালুতে অনেক বেশি সিবাম বা তেল উৎপন্ন হলে। এর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অয়েন্টমেন্ট লাগাতে হবে।

বিস্তারিত পড়ুন – শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন

ডায়পার
নবজাতককে ‘ডায়পার’ পরালে অবশ্যই নিয়মিত তা বদলানোর কাজটি মনোযোগ দিয়ে করতে হবে যাতে মল মূত্র ত্যাগের পর তা দীর্ঘক্ষণ শিশুর গায়ে লেগে না থাকে। আর এ ক্ষেত্রে শিশুদের শরীরে বিশেষ ধরনের ‘অ্যান্টি-র্যাশ’ ক্রিম ব্যবহার করা ভালো। নইলে শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি উঠতে পারে।

রোদ
শিশুর ব্যবহার্য লেপ, তোশক, কম্বল, চাদর ইত্যাদি কড়া রোদে শুকাতে হবে। রোদ থেকে তোলার পর তা ভালো ভাবে ঝেড়ে পরিস্কার করাও জরুরী। এগুলোর ওপর কাপড়ের কভার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো কারন তা করলে ধুলা বালি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় সহজেই।

শীতকালে শিশুর শরীরে রোদ লাগাতে হবে আর এতে করে তার ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূরণ হবে এবং হাড় ও শক্ত হবে। তবে শিশুকে ঘরের বাইরে না নিয়ে দরজা বা জানালার কাছে রোদ লাগানোর ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।

সতর্কতা
ঠান্ডা লেগে শিশুর নাক বন্ধ হয়ে গেলে, বুকে কফের ঘড় ঘড় শব্দ হলে বা অন্য যে কোন রোগের লক্ষণ আপনার চোখে পরলে দেরি না করে খুব দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন। অনেকে মনে করেন শিশুদের এসব লক্ষণ সাধারনত কোন বড় সমস্যা নয় তাই তারা অবহেলা করেন বা ঘরোয়া চিকিৎসা করেন যা একদম ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে অহেতুক কোন ওষুধ খাওয়ানো বা প্রয়োগ করা খুবই বিপদজনক।

শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন ও দৈনন্দিন পরিচর্যা

শিশুদের ত্বক খুবই স্পর্শকাতর হওয়াতে শীতকালে শিশুদের নরম ত্বক জলীয়বাষ্প হারিয়ে ফেলে শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ওঠে তার সাথে দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা। তাইতো আমাদের ছোট্ট সোনামনিদের শীতের শুষ্ক ও রুক্ষ পরিবেশে ত্বকের জন্য চাই বিশেষ যত্ন। এই শুষ্ক মৌসুমে শিশুর বাবা মাকে থাকতে হবে বিশেষ সতর্ক আর মূল কথা হলো শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন নিতে বাড়তি প্রস্ততির কোন বিকল্প নেই। শীতে শিশুর ত্বকের কোমলতা ও ময়েশ্চারাইজার এর ভারসাম্য ঠিক রাখা আসলেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মনে রাখবেন শিশুর ত্বক যেমন বড়দের ত্বক থেকে ভিন্ন ঠিক তেমনি শিশুর ত্বকের যত্ন নেয়ার পদ্ধতিও ভিন্ন। আসুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন নিয়ে শুষ্কতা, রুক্ষতা ও চর্ম রোগের হাত থেকে রক্ষা করা যায়।

আসলে শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন তার দৈনন্দিন পরিচর্যার বিষয় গুলোর মধ্যেই একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে সেরে ফেলা সম্ভব। আর এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে শিশুর ত্বক থাকবে কোমল এবং আপনি থাকবেন নিশ্চিন্ত। আশাকরি নিচের বিষয় গুলো পড়ে আপনি পেয়ে যেতে পারেন শীতে শিশুর ত্বকের সমস্যার সমাধান।

শীতে শিশুর গোসল

শীতকালে শিশুকে গোসল করাতে হবে হালকা গরম পানি দিয়ে কেননা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করালে যেমন ঠান্ডা লেগে যাবার ভয় থাকে পাশাপাশি বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল করালেও ত্বকের আর্দ্রতা হারিয়ে যায়। সুতরাং শিশুর ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ও ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা করতে গোসলে ব্যবহার করুন কুসুম গরম পানি। তবে শীতকালে ২ বছরের কম বয়সি শিশুকে প্রতিদিন গোসল করানোর প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে এক দিন পর পর গোসল করালেই শিশুর ত্বক ভালো থাকবে।

শিশুর ত্বকোপযোগী সাবান

শিশুর গায়ে সাবান ব্যবহারে অনেক সতর্ক থাকুন কারন শিশুদের ত্বক বড়দের তুলনায় ৫ গুণ পাতলা। আর সাবান দিয়ে গোসল করালে সাবান যেন ময়েশ্চারসমৃদ্ধ ও শিশুর ত্বকের উপযোগী হয়। যে সাবানের পিএইচ মাত্রা শিশুর ত্বকের পিএইচ মাত্রার সমান, সে রকম সাবান শিশুর ত্বকের জন্য উপযোগী। সেই সাথে তার শরীর পরিস্কারে অবশ্যই বেবি সোপ ব্যবহার করুন এবং কিছুতেই বড়দের সাবান লাগানো যাবেনা কারন বড়দের সাবানের উপাদান তার ত্বক আরো বেশি শুষ্ক করে ফেলে ও শিশুর ত্বকে র‍্যাশ, অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন – শীতের আগে ত্বকের যত্নের প্রস্তুতি

শিশুর ত্বক উপযোগী তেলের ব্যবহার

শিশুদের দেহে তেলের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সব ধরনের তেল শিশুদের জন্য উপযোগী নয়। বাচ্চাদের মাথার ত্বকে এক্সট্রা ভার্জিন গ্রেড নারকেল তেল অল্প পরিমাণে ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া শিশুকে নিয়মিত অলিভ অয়েল দিয়ে মাসাজ করতে পারেন। শিতকালে শিশুর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে অনেক কার্যকরী উপাদান হোয়াইট সফট প্যারাফিন বা ফসপোলিপিড সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার শিশুর ত্বকের জন্য উপকারী। শিশুকে অলিভ অয়েল বাথও দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে এক বালতি পানিতে পাঁচ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এতেও শিশুর ত্বক নরম হবে। এ ছাড়া গোসলের পরও ভেজা ত্বকে অলিভ অয়েলের সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে শিশুর শরীরে ম্যাসাজ করে লাগান। ভালো ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি লিনোলেইক অ্যাসিড-সমৃদ্ধ তেল ব্যবহার করা যায়। এটি একধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ত্বকের সুরক্ষা দেয়। সূর্যমুখী তেলে এটি বেশি থাকে। যাদের একজিমা আছে, তাদের অলিভ অয়েল ব্যবহার না করাই ভালো।

লক্ষণীয় ত্বকের রোগ

সাধারনত এক বছরেরও কম বয়সি শিশুদের ইনফ্যানটাইল সেবোরিক ডার্মাটাইটিস নামের এক ধরনের ত্বকের রোগ হয়ে থাকে। এসময় শিশুদের মাথায় অনেক খুশকি হয় সেই সাথে গলায়, বগলে, থাইয়ের খাঁজে, ন্যাপি এরিয়ায় লাল লাল দাগ ও হতে পারে। অনেক সময় চামড়া উঠতে শুরু করে ও মাঝেমধ্যে রস বের হয়। এ সমস্যা দূর করতে শিশুর মাথায় ও চুলে নিয়মিত নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল লাগান। নবজাতকের মাথায় দুই থেকে তিন মাস তেল বা অলিভ অয়েল লাগালে এর নিরাময় হয়। আর ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কিটোকোনিজল বা জিঙ্ক পাইরেথিওনসমৃদ্ধ শ্যাম্পু দিয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার শিশুর চুল পরিষ্কার করুন।
শীতের রুক্ষ আবহাওয়ার কারণে শিশুর ত্বক অনেক সময় অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় তখন একজিমার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বারবার হাঁচি হতে পারে, যাকে বলা হয় অ্যালার্জিক রাইনাইটিস যা শিশুদের মধ্যে বংশগতভাবেও হয়ে থাকে। ত্বকে প্রদাহ হলে শিশুরা প্রায়ই আক্রান্ত জায়গাগুলো নখ দিয়ে চুলকায়। ফলে চামড়া উঠে যায় এজন্য শিশুর নখ নিয়মিত কেটে রাখুন আর ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে মলমজাতীয় ওষুধ আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন।

আরও পড়ুন – ছেলেদের ত্বকের যত্ন

শীতে শিশুর পোশাক

শিশুর কাপড়চোপড় সাবান দিয়ে ধোয়ার পর পরিষ্কার পানিতে বারবার চুবিয়ে সম্পূর্ণ সাবানমুক্ত করে শুকানো উচিত। কারণ, সাবানের ক্ষারযুক্ত শুকনো কড়কড়ে কাপড় শিশুর নরম ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। সেইসাথে শিশুর পরিধেয় পোশাক অবশ্যই নরম ও মসৃণ হতে হবে। শিশুর পোশাক খসখসে ও অমসৃণ হওয়া উচিত নয় বরং সুতির হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কারণ, ত্বকের জন্য সুতির কাপড়ই সবচেয়ে নিরাপদ। শীতকালে গরম কাপড়ের নিচে অবশ্যই একটি সুতি জামা পরাবেন।শীতের পোশাকের নিচে হালকা সুতির পোশাক পরানো হলে শিশু স্বস্তি পাবে।

বর্জনীয় বিষয়

শিশুর শরীরের সরিষার তেল মাখাবেন না, সরিষার তেল শিশুর ত্বকের জন্য উপযোগী নয়। কারণ এই তেল মাখলে ত্বক চিটচিটে হয়ে যায়। ফলে ধুলাবালি সহজে ত্বকে আটকে যায়। আবার ঘন বলে এই তেল লোমকূপ বন্ধ করে দিয়ে সংক্রমণও ঘটাতে পারে। সরিষার তেল থেকে ফুসকুড়ি বা প্রদাহ হতে পারে। সরিষার তেল মাখিয়ে বাচ্চাকে রোদে রাখার যে প্রচলিত রীতি আছে তা একেবারেই অনুচিত। এতে ত্বকের পিগমেন্টেশন বেড়ে যায় এবং শিশু কালো হয়ে যায়। শিশুদের আদৌ তেল মাখার প্রয়োজন আছে কি না, এ নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মাঝে মতের ভিন্নতা আছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, খুব ছোট শিশুদের, অর্থাৎ নবজাতকদের শরীরে তেল মাখালে তা লাভের চেয়ে ক্ষতিই করে বেশি। গবেষকেরা দেখিয়েছেন যে গায়ে তেল মাখেনি এমন বাচ্চাদের ত্বক বেশি মজবুত। আসলে আমাদের ত্বকের ওপরের পাতলা আবরণের নিচেই চর্বি বা ফ্যাটের স্তর থাকে। তেল মাখলে এই চর্বির স্তর পাতলা হয়, অর্থাৎ সুগঠিত হয় না। এর ফলে শিশুর শরীর সহজে শীতল হয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। একটু বড় বাচ্চাদের অবশ্য তেল মাখা যাবে।

তথ্যসুত্রঃ পেরেন্ট’স অনলাইন, ভেরিওয়েল ম্যাগাজিন ও এনটিভি অনলাইন

লিভারের জটিল রোগসমূহ, লক্ষণ ও চিকিৎসায় করণীয়

মানব দেহের অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল লিভার (যকৃত)। দেহকে সুস্থ্য ভাবে কার্যক্ষম রাখার জন্য এই লিভারকে অনেক কাজ করতে হয় যেমন খাদ্য হজম করতে, গ্লাইকোজেনের সঞ্চয়, প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষণ, ঔষুধ বা অন্যান্য রাসায়নিক নির্বিষকরণ, পিত্তরস উৎপাদন, রক্ত পরিস্রুত করণ ইত্যাদি। উল্লেখিত কাজ ছাড়াও লিভার দেহের আরও কিছু জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এক কথায় বলতে গেলে লিভার হলো মানব দেহের একটি পাওয়ার স্টেশন যার সুস্থতার উপর আমাদের দেহের অন্যান্য অনেক কিছুই নির্ভর করে।

লিভার সুস্থ্য রাখতে লিভারের জটিল রোগসমূহ সম্পর্কে আমাদের সবার সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন কারন লিভারের রোগের লক্ষণাদি সহসাই প্রকাশ পায় না এমন কি লিভারের এগারো ভাগের একভাগ অংশ ও যদি ভালো থাকে তবে সে অবস্থাতেও লিভারের রোগ প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তাই আমাদের খুব ভাল করে এর যত্ন, রোগ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার। তাই এর গুরুত্ব অনুধাবন করে আমাদের দেশে যে সব লিভারের জটিল রোগ হয়ে থাকে সেই সব রোগ এর লক্ষণ, প্রতিরোধে ও চিকিৎসায় করণীয় সম্পর্কে বর্ননা করা হলো।

ভাইরাল হেপাটাইটিস

হেপাটাইটিস হলো লিভারে প্রদাহ, সাধারনত হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাস দ্ধারা স্বল্প মেয়াদী প্রদাহ কে ভাইরাল হেপাটাইটিস বলে। আমরা অনেকেই এই ধরনের রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে তাকে জন্ডিস বলি। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস ছড়ায় এবং স্বল্প মেয়াদী লিভার প্রদাহ করে থাকে।

ভাইরাল হেপাটাইটিস এর লক্ষণ
একিউট ভাইরাল হেপাটাইটিস বা স্বল্পমেয়াদী লিভার প্রদাহের প্রধান লক্ষণগুলো হলো— জন্ডিস, খাবারে অরুচি, উপরের পেটের ডান দিকে বা মাঝখানে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও বমি, দুর্বলতা ও জ্বর।

ভাইরাল হেপাটাইটিস হলে করণীয়
রোগীকে হলুদ, মরিচ, তরিতরকারি, মাছ-মাংস ইত্যাদি স্বাভাবিক খাবার খেতে দিন। ফল, ডাবের পানি, আখের রস ইত্যাদি খাওয়াবেন না। ঘন ঘন গোসল করাবেন না। ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে যদি রোগের লক্ষণ ভালো না হয়, তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন। রোগ ধরা পরার পর কেউ অস্থিরতা, অস্বাভাবিক আচরণ করলে বা অজ্ঞান হলে, এটা মারাত্মক জরুরি অবস্থা। তাকে অনতিবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

ক্রনিক হেপাটাইটিস

লিভারের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের ফলে যেসব রোগ হয়ে থাকে তাকে ক্রনিক হেপাটাইটিস বলে। হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি ভাইরাস রক্ত কিংবা দূষিত সিরিঞ্জ বা সুচের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে হেপাটাইটিস ই-ভাইরাস রক্তের মাধ্যমেও ছড়ায়। বাংলাদেশে ক্রনিক হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস। রোগী প্রাথমিক অবস্থায় বুঝতেই পারেন না কখন তিনি বি অথবা সি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসাবিহীন থাকলে এই সংক্রমণ মাসের পর মাস লিভার এর ক্ষতি করে। এমনকি লিভার সিরোসিসে রূপ নেয় এবং পরে লিভার ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে পারে। উল্লেখ্য, হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাস আমাদের দেশে যথাক্রমে ৬০ ও ৩০ শতাংশ লিভার সিরোসিস এবং যথাক্রমে ৬৪ ও ১৭ শতাংশ হেপাটোসেলুলার কারসিনোমা বা লিভার ক্যান্সার এর জন্য দায়ী।

ক্রনিক হেপাটাইটিসের লক্ষণসমূহ
ক্রনিক ভাইরাল হেপাটাইটিস তথা দীর্ঘ মেয়াদী লিভার প্রদাহে ভাইরাস সুপ্ত অবস্থায় লিভারের কোষে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। ফলে কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া যায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা ও পেটে হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। রোগের লক্ষণ দেখে পরীক্ষা ছাড়া বোঝার উপায় নেই কোন ভাইরাস হয়েছে। কিন্তু যাদের ক্রনিক ভাইরাল হেপাটাইটিস থেকে লিভার সিরোসিস হয়ে যায় তাদের ক্ষুধামন্দা, পেটের অসুখ, শরীর শুকিয়ে যাওয়া, জন্ডিস, পেটে পানি আসা ও চেতনালোপ জাতীয় লক্ষণ দেখা দেয়।

ক্রনিক হেপাটাইটিস হলে করণীয় ও চিকিৎসা
এমতাবস্থায় অনতিবিলম্বে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে পরিক্ষা করাতে হবে যে এই ভাইরাসের প্রাণ HBV DNA বা HBeAg রক্তে বহমান কিনা? এবং তা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে পজেটিভ কিনা? ভাইরাসটা লিভারে সংক্রামিত হয়ে লিভারের ক্ষতি করে লিভার এনজায়েম ALT(SGPT) বাড়িয়ে দিয়েছে কিনা? যদি রোগীর রক্তে HBV DNA বা HBeAg ছয় মাসের বেশি সময় পরেও বিদ্যমান থাকে, রক্তে ALT (SGPT) দুই বা আড়াই গুণেরও বেশি থাকে তখন মানুষটি রোগী বলে বিবেচিত হবেন। কিন্তু ALT (SGPT) পরিমাণ যদি স্বাভাবিক থাকে, HBV DNA ও HBeAg নেগেটিভ থাকে তবে কিন্তু তিনি রোগী নন, HBsAg বহনকারী সুস্থ Carrier, তার চিকিৎসা অনাবশ্যক, তিনি এই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাহীন এবং এর প্রতিষেধকও নিতে পারবেন না।

লিভার সিরোসিস

লিভার সিরোসিস একটি মারাত্মক ও অনিরাময়যোগ্য রোগ। তবে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে লিভার সিরোসিস থেকে অনেকটা দূরে থাকা যায়। এতে যকৃৎ বা লিভারের কোষকলা এমনভাবে ধ্বংস হয়ে যায় যে তা সম্পূর্ণ বিকৃত ও অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং প্রদাহ এর কারণে লিভারে ফাইব্রোসিস এবং নুডিউল বা গুটি গুটি জিনিস তৈরি হয় ফলে লিভার এর যেসব স্বাভাবিক কাজ আছে, যেমন বিপাক ক্রিয়া, পুষ্টি উপাদান সঞ্চয়, ওষুধ ও নানা রাসায়নিকের শোষণ, রক্ত জমাট বাঁধার উপকরণ তৈরি ইত্যাদি কাজ ব্যাহত হয়। দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা। এ ছাড়া কিছু জন্মগত অসুখের কারণেও এই সমস্যা হয়ে থাকে যেমন, ওইলসন ডিজিজ, হেমোক্রোমেটাসিস ইত্যাদি। ধীরে ধীরে এই রোগ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। তাই সকলের আগে থেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

লিভার সিরোসিসের লক্ষণ
প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়তে দেরি হয় তবে সাধারনত রক্তস্বল্পতা, রক্ত জমাট বাঁধার অস্বাভাবিকতা, যকৃতে বেশি পরিমাণে জৈব রসায়ন, বেশি বিলুরুবিন, কম সিরাম অ্যালবুমিন ইত্যাদি সমস্যা ধরা পড়তে পারে। সিরোসিস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম ও যকৃতের বায়োপসি করতে হয়। সাধারণত খাদ্যে অরুচি, ওজন হ্রাস, বমি ভাব বা বমি, বমি বা মলের সঙ্গে রক্তপাত, শরীরে পানি আসা ইত্যাদি হলো মূল উপসর্গ। পরে যকৃতের অকার্যকারিতার সঙ্গে কিডনির অকার্যকারিতা, রক্তবমি, রক্তে আমিষ ও লবণের অসামঞ্জস্য ইত্যাদি জটিলতা দেখা দেয়।

লিভার সিরোসিস হলে করণীয় ও চিকিৎসা
লিভার সিরোসিস চিকিৎসার মূল বিষয় হচ্ছে প্রতিরোধ। যেসব কারণে লিভার সিরোসিস হয়ে থাকে, বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি-এর যেহেতু প্রতিশেধক আছে। তাই আমাদের উচিত প্রত্যেকেরই এই প্রতিশেধক নেওয়া। পাশাপাশি কিছু সচেতনতা জরুরি। দূষিত কোনো সূঁচ বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করা, কোনো দূষিত রক্ত পরিসঞ্চালন না করা পাশাপাশি সেলুনে সেভ করাসহ যেকোনো কাটাকাটি বা সেলাইয়ের সময় এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। রোগীদের কাছ থেকে সরাসরি এই ভাইরাস সংক্রমিত হয় না।

আরও পড়ুন – লিভারের যত্নে বাঁধাকপি এবং আদার জুস

লিভার ক্যান্সার

ক্যান্সার মানেই তো আতঙ্ক আর তা যদি হয় লিভারের মত দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে তাহলেতো কথাই নেই। গবেষনায় প্রমানিত, এদেশে ক্যান্সারে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ লিভার ক্যান্সার। বিশ্বব্যাপি লিভার ক্যান্সারের মূল কারণ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস আর এ্যালকোহল। আমাদের দেশে অবশ্য হেপাটাইটিস বি আসল খলনায়ক, কারণ এদেশে প্রায় ৮০ লক্ষ লোক এ ভাইরাসের বাহক বা HBsAg পজেটিভ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত ৫ থেকে ১০ শতাংশ লোক জীবনের কোন এক পর্যায়ে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ
যে কোন বয়সের লোকই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। লিভার ক্যান্সারের ঝুকি পুরুষদের ক্ষেত্রে মহিলাদের চেয়ে ৪ থেকে ৬ গুণ বেশী। সাধারণতঃ ক্যান্সার হওয়ার আগে লিভারে সিরোসিস দেখা দেয়, তবে এর ব্যতিক্রম হওয়াটাও অস্বাভাবিক না। লিভার ক্যান্সারের রোগীরা প্রায়ই পেটের ডান পাশে উপরের দিকে অথবা বুকের ঠিক নীচে মাঝ বরাবর ব্যথা অনুভব করেন যার তীব্রতা রোগী ভেদে বিভিন্ন রকম। সহজেই ক্লান্ত হয়ে পরা, পেট ফাপা, ওজন কমে যাওয়া আর হালকা জ্বর জ্বর ভাব এ রোগের অন্যতম লক্ষণ। লিভার ক্যান্সার রোগীদের প্রায়ই জন্ডিস থাকে না, আর থাকলেও তা খুবই অল্প। রোগীদের খাওয়ায় অরুচি, অতিরিক্ত গ্যাস কিংবা কষা পায়খানার উপসর্গ থাকতে পারে- আবার কখনো দেখা দেয় ডায়রিয়া। পেটে পানি থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে।

লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসা ও করণীয়
লিভার ক্যান্সার নির্ণয়ে সহজ উপায় একটি নির্ভরযোগ্য আল্ট্রাসনোগ্রাম। তবে কখনো কখনো সিটি-স্ক্যানেরও দরকার পরে। রক্তের AFP পরীক্ষাটি লিভার ক্যান্সারের একটি মোটামুটি নির্ভরযোগ্য টিউমার মার্কার। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত যে কোন ব্যক্তিরই উচিত প্রতি ৬ মাসে একবার AFR ও আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা করা। তবে লিভার ক্যান্সারের ডায়াগনোসিস কনফার্ম করতে হলে আল্ট্রাসনোগ্রাম গাইডেড FNAC অত্যন্ত জরুরি আর অভিজ্ঞ হাতের সাফল্যের হারও প্রায় শতভাগ। এখানেই শেষ নয়, বরং শুরু। শুরুতে ধরা পরলে আর আকারে ছোট থাকলে অপারেশনের মাধ্যমে এই টিউমার লিভার থেকে কেটে বাদ দেয়া যায়। আর এর জন্য প্রয়োজনীয় কুসা মেশিন ও দক্ষ হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন এদেশেই বিদ্যমান। পাশাপাশি আছে বিনা অপারেশনে টিউমার অ্যাবলেশন বা টিউমারকে পুরিয়ে দেয়া। নামমাত্র খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাম গাইডে আমাদের দেশে এখন অহরহই লিভার ক্যান্সারের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন করা হয়। পাশাপাশি আল্ট্রাসনোগ্রাম গাইডে সস্তায় অ্যালকোহল দিয়েও অ্যাবলেশন বা টিউমার পুড়িয়ে ছোট করে দেয়া সম্ভব। আছে আরও কিছু আশা। যেমন এসেছে আগের চেয়ে অনেক বেশী কার্যকর, কিন্তু অনেক কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কেমোথেরাপি জেলোডা ও সুরাফিনেব। এই দুটি ওষুধ আমাদের দেশে তৈরিও হচ্ছে। লিভার ক্যান্সারের রোগীদের চিকিৎসা এদেশে নিয়মিত হচ্ছে। আর তাই লিভারের ক্যান্সারে শেষ হয়নি আশা।

ফ্যাটি লিভার

লিভার কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমা হলে যা তার গাঠনিক উপাদানের ৫ থেকে ১০ শতাংশ তাকে ফ্যাটি লিভার বলে। যখন কোনো মানুষ তার দেহের প্রয়োজনের অতিরিক্ত চর্বি খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করে, তখন এ চর্বি ধীরে ধীরে তার কলা বা টিসুতে জমতে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা মদ্যপানের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু যাঁরা মদ্যপানের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদেরও এই রোগ হতে পারে। সাধারণত মধ্যবয়সী মহিলাদের দেখা দেয়। স্থূলতা ফ্যাটি লিভারের একটি প্রধান কারণ। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি (হাইপার লিপিডেমিয়া), বংশগত, ওষুধ এবং বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য যেমন, মদ বা অ্যালকোহল, স্টেরয়েড, টেট্রাসাইক্লিন এবং কার্বন টেট্রাক্লোরাইড ইত্যাদি কারণে ফ্যাটি লিভার হতে পারে। যাদের ওজন আদর্শ ওজনের ১০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি, তাদের ফ্যাটি লিভার হওয়ার ঝুঁকি বেশি। মুটিয়ে গেলে শিশুদেরও এ রোগ হতে পারে।

ফ্যাটি লিভার রোগের লক্ষণ
রোগীরা সাধারণত ক্লান্তি, অবসাদ, ওপরের পেটের ডান দিকে ব্যথা নিয়ে ডাক্তারদের কাছে আসেন। পরীক্ষা করলে দেখা যায়, রোগীদের এসজিপিটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। এদের বিলুরুবিনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। কারো ক্ষেত্রে দেখা যায়, লিভারে অ্যানজাইমের মাত্রা স্বাভাবিক অথচ লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রামে চর্বির মাত্রা বেশি।

ফ্যাটি লিভার হলে করণীয় ও চিকিৎসা
পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম, লিভার বায়োপসি পরীক্ষা করলে রোগটি নির্ণয় করা যায়। যদি লিভারের এনজাইমগুলো বেড়ে যায়, তখন বুঝতে হবে, তার ক্ষেত্রে এই ফ্যাটি লিভারের কারণে দীর্ঘমেয়াদি অসুখ হওয়া আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রোগির জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করতে হবে, ওজন কমাতে হবে এবং কিছু ওষুধ খেতে হবে। আর যদি শুধু ফ্যাটি লিভার থাকে, পাশাপাশি লিভারের অন্যান্য কার্যক্রম যদি ভালো থাকে, যদি খুব বেশি স্থূলকায় না হোন, তাহলে শুধু একটু জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করলে হয়। সুষম খাবার, কায়িক পরিশ্রম, নিয়মিত ব্যায়াম—এগুলো করলে ভালো থাকবেন।

লিভার অ্যাবসেস

লিভার অ্যাবসেস বা লিভারের ফোঁড়া মানব দেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ একটি রোগ। লিভারে দুধরনের ফোঁড়া হয়, পায়োজেনিক ও অ্যামিবিক। ইকোলাই, স্টাফাইলোকক্কাই, স্ট্রেপ্টোকক্কাই, ক্লেবসিয়েলা ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া পায়োজেনিক লিভার অ্যাবসেসের জন্য দায়ী, আর অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস হয় অ্যামিবা থেকে। তবে এসব জীবাণু ঠিক কী কারণে লিভারে ফোঁড়া তৈরি করে তা সব সময় জানা যায় না। তবে ডায়াবেটিস, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, গ্যাস্ট্রোএন্টাররাইটিস, রক্তের ইনফেকশন, নবজাত শিশুর নাভির ইনফেকশন, অতিরিক্ত মদ্যপান, পেটে আঘাত পাওয়া ইত্যাদি নানা কারণে লিভারে ফোঁড়া হতে পারে। একজন রোগীর লিভারে একটি বা একাধিক ফোঁড়া থাকতে পারে।

লিভার অ্যাবসেস রোগের লক্ষণ
লিভারের ফোঁড়ার কোনো বিশেষ লক্ষণ নেই। রোগীদের সাধারণত খাবারে অরুচি, জ্বর ও পেটে ব্যথা থাকে। অনেক সময় কাশি কিংবা ডান কাঁধে ব্যথা থাকতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে রোগীর জন্ডিস হতে পারে।

লিভার অ্যাবসেস হলে করণীয় ও চিকিৎসা
লিভার অ্যাবসেসের জন্য মূল পরীক্ষা হলো পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগের শুরুতে আল্ট্রাসনোগ্রামে অ্যাবসেস ধরা পড়ে না। এ জন্য ৭ থেকে ১০ দিন পর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপিট করলে ভালো। লিভার অ্যাবসেস সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকেই সেরে যায়। তবে লিভার থেকে পুঁজ বের করে দেয়াটা জরুরি। বিশেষ করে লিভারে যদি বড় বা একাধিক অ্যাবসেস থাকে। এক সময় এর জন্য অপারেশনের প্রয়োজন পড়লেও আজ আর তার দরকার পড়ে না। এখন লোকাল অ্যানেসথেসিয়া করে খুব অল্প খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাফি গাইডেনসে লিভার থেকে পুঁজ বের করা সম্ভব। এরপর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে লিভারের ফোঁড়া সেরে যায়।

আসলে আমাদের লিভার সুস্থ রাখতে হলে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা। যেহেতু লিভারকে বলা হয় শরীরের পাওয়ার হাউস তাই লিভারের অসুস্থতার ফলাফল ক্ষেত্রবিশেষে হতে পারে ব্যাপক ও ভয়াবহ। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ নিরাময় এবং জটিলতামুক্ত থাকা যায়। আশাকরি উল্লেখিত লিভারের জটিল রোগসমূহ, লক্ষণ ও চিকিৎসায় করণীয় বিষয় গুলো আপনাকে লিভারের যত্ন নিতে আরও আগ্রহী করবে।

ওজন কমানো ও লিভারের যত্নে বাঁধাকপি এবং আদার জুস

মেদবিহীন চিকন স্বাস্থ্য সবার প্রিয়। যদিও এই প্রত্যাশা পূরণ সহজ সাধ্য নয়। অন্যদিকে দেহের প্রধান অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম অঙ্গ হলো লিভার (যকৃত)। দেহের সকল কর্মকান্ড সুস্থ্য স্বাভাবিক ভাবে পরিচালনায় লিভারের সুস্থতা একান্ত জরুরি। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন কিছু অসাবধানতার জন্য প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে লিভার। তাই আপনার অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং লিভার ভাল রাখতে সাহায্য নিতে পারেন লিভারের যত্নে জাদুকরী জুস এর যা আপনি খুব সহজেই তৈরি করে নিতে পারেন আপনার রান্না ঘরেই।

ওজন কমাতে ও লিভারের যত্নে আপনি বাঁধাকপি এবং আদার মিশ্রণে তৈরি এই যাদুকরী জুস ব্যবহার করতে পারেন। মূলত বাঁধাকপিতে আছে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি এবং সালফার যা লিভারকে বিষমুক্ত করতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এতে বিদ্যমান সকল উপাদান লিভার থেকে ইউরিক এসিড এবং ফ্রি র‌্যাডিক্যালস এর মতো বিষ খুব সহজেই বের করে দেয়। এছাড়া এর প্রদাহরোধী উপাদান পানিশুন্যতা পূরন ও লিভার বিষমুক্তকরন এমনকি মাথাব্যথা দূরীকরণেও ওনেক ফলপ্রসু। মানব দেহের গুরুত্বপুর্ন অঙ্গ লিভারের বিষমুক্তকরণ উপাদানের মধ্যে আদা ও অন্যতম। আদাতে থাকা জিনজারোল এবং শোগা এই কাজে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। আপনার ওজন কমানোর সহায়ক উপাদান হিসেবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যুক্ত করতে পারেন বাঁধাকপি কারন এতে ক্যালোরি এর মাত্রা অনেক কম। একই সাথে আপনার লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং ওজন কমানোয় সহায়ক প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে আপনার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন আদা।

আরও পড়ুন – তিন দিনে চার কেজি ওজন কমানোর উপায়

লিভারের যত্নে জাদুকরী জুস বানানোর উপাদান

উপকরণ

# একটি গোলাপি বা সবুজ বাঁধাকপি।

# ১-২ টুকারা আদা।

# ২ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রস।

# ১টি আপেল।

# আধা চা চামচ জিরা।

তৈরির নিয়ম

বাঁধাকপি, আপেল এবং আদা ভালো করে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন বা ব্লেন্ডারে হাল্কা ব্লেন্ড করে নিতে পারেন। একটি পরিস্কার পাত্রে সেগুলো অল্প পানিতে সেদ্ধ করুন। অন্তত চার থেকে পাঁচ মিনিট সেদ্ধ করার পর তাতে দেড় চা চামচ জিরা ঢেলে দিন। পানি শুকিয়ে গেলে তাতে প্রয়োজন মতো পানি দিয়ে মিশ্রণটি ভালো করে নাড়াচাড়া করুন। এবার মিশ্রণটি আগুনের উপর থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে লেবুর রস মিশিয়ে নিন কারন তাপে লেবুর ভিটামিন সি নষ্ট হওার ঝুঁকি থাকে।

খাওয়ার নিয়ম

এই জাদুকরী জুসের সবচেয়ে বেশি উপকার পেতে প্রতিদিন সকালে এই জুস পান করতে পারেন। এই জুস ফ্রিজে সংরক্ষণ করে ঠাণ্ডা অবস্থায় ও খেতে পারেন। বাঁধাকপি এবং আদার ক্ষমতাশালী প্রাকৃতিক উপাদান গুলো আপনার ওজন কমাতে ও লিভারের যত্নে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। আর আশা করি এটি ব্যবহারে দ্রুত উপকার পাওয়া যাবে।

তথ্যসূত্র : বোল্ডস্কাই ডট কম