মিলিটারি ডায়েট চার্ট – তিন দিনে চার কেজি ওজন কমানোর উপায়

আপনি কি অতি অল্প সময়ে ওজন কমানোর কথা ভাবছেন? তাহলে আপনার জন্য অল্প সময়ে ওজন কমাতে অনুসরণন করতে হবে মিলিটারি ডায়েট চার্ট। এক কথায় খুব দ্রুত ওজন কমানোর জন্য খুব কার্জকরী একটি পদ্ধতি হলো মিলিটারি ডায়েট প্লান যা মাত্র তিন দিনে আপনাকে দশ পাউন্ড বা চার কেজি ওজন কমাতে সহায়তা করবে। খুব অল্প সময়ে ফল পাওয়ার জন্য এটি একটি সহজ সমাধান। তবে ওজন কমাতে এই পদ্ধতিটি আপনি ভারী মেদ কমানোর সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না, কারন এই পদ্ধতি আপনার শরীরের জমে থাকা অতিরিক্ত পানি বা ওয়াটার ওয়েট ঝড়িয়ে ফেলতে সহায়তা করবে। আর আপনাকে মনে রাখতে হবে যে কোন মেডিকেল প্রসিডিওর ছাড়া এক সপ্তাহে দশ পাউন্ড বা চার কেজি মেদ কমিয়ে ফেলা একেবারেই অসম্ভব তবে আপনি এই মিলিটারি ডায়েট চার্ট অনুসরণ করে দেখতে পারেন যার ফল আপনি অল্প সময়ে পর্যবেক্ষন করতে পারবেন।

মিলিটারি ডায়টে প্ল্যান দ্রুত ওজন কমানোর একটি স্বল্পমেয়াদি খাদ্যনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। যাদের হাতে একদমই সময় কম ডায়েটিং করার জন্য বা সামনেই অল্প কিছুদিন পর কোন অনুষ্ঠান আছে ও এর মধ্যেই ওজন কমাতে হবে খুব দ্রুত তারা এটা একবার অনুসরণ করে দেখতে পারেন! নিম্নে মিলিটারি ডায়েট কে দিন ভিত্তিক অনুক্রমিক ভাবে উপস্থাপন করা হলো।

প্রথম দিন

মিলিটারি ডায়েট এর প্রথম দিনে আপনাকে প্রায় এক হাজার তিনশত কিলো ক্যালরি পরিমান খাদ্য দিয়ে শুরু করতে হবে। নিম্নে আপনার জন্য প্রথম দিনের তিন বেলার খাদ্য তালিকা দেয়া হলো।

সকালের নাস্তা

  • একটা ছোট কমলা বা অর্ধেক গ্রেপফ্রুট।
  • এক স্লাইস টোস্ট।
  • দুই টেবিলচামচ কম লবনের পিনাট বাটার।
  • চিনি ছাড়া এক মগ চা বা কফি। (ক্যাফেইন সমৃদ্ধ)

দুপুরের খাবার

  • অল্প লবনে রান্না করা এক টুকরা টুনা মাছ, তবে আপনি টুনা মাছ না পেলে অন্য যে কোনো মাছ কিন্তু বিশেষ করে তৈলাক্ত মাছ ব্যতিত যেমন পাঙ্গাশ, আইড় ইত্যাদি।
  • এক স্লাইস টোস্ট।
  • চিনি ছাড়া এক মগ চা বা কফি।

রাতের খাবার

  • অল্প তেল আর লবনে রান্না করা মুরগির বুকের মাংস বা লেগপিস। (তিন আউন্স এর বেশি না)
  • আধা কাপ বরবটি বা শিম সিদ্ধ। (হালকা লবন আর গোলমরিচ দিয়ে সিদ্ধ করবেন, চাইলে চিকেন স্টক দিতে পারেন)
  • একটা কলার অর্ধেক বা এক কাপ পাকা পেঁপে।
  • একটা ছোট বা মাঝারি আকারের আপেল।
  • খুব অল্প পরিমানে ভ্যানিলা আইসক্রিম। (পুরো এক কাপ না)

আরও পড়ুন – জাপানিজ ডায়েট চার্ট

দ্বিতীয় দিন

সফল ভাবে প্রথম দিন পার করার পরে দ্বিতীয় দিনে আপনার খাদ্যতালিকায় এক হাজার একশত কিলো ক্যালরি সম পরিমান খাদ্য তিন বেলায় ভাগ করে খেতে হবে। সে অনুপাতে আপনার তিন বেলার খাবার গুলো হবে নিম্ন রুপ।

সকালের নাস্তা

  • একটা সিদ্ধ ডিম।
  • এক স্লাইস টোস্ট।
  • অর্ধেক কলা।

দুপুরের খাবার

  • একটা সিদ্ধ ডিম।
  • এক কাপ পনির।
  • ৫ টা ডায়াবেটিক ক্র্যাকারস বা নোনতা বিস্কিট।

রাতের খাবার

  • মুরগির বুকের মাংস বা লেগপিস অথবা চর্বি ছারানো মাংস। আজকাল আমাদের দেশে প্রচলিত মাংসের বিকল্প টার্কি, কোয়েল, তিতির ইত্যাদি পাওয়াযায় যা অনেক পুষ্টিকর ও কম চর্বিযুক্ত। ডায়েট খাবারের মাংসের তালিকায় এগুলো উপযুক্ত।
  • এক কাপ সিদ্ধ করা ব্রোকলি বা এর পরিবর্তে সমপরিমাণ ফুলকপি বা বাঁধাকপি।
  • আধা কাপ গাজর।
  • অর্ধেক বা একটা ছোট সবরি কলা।
  • খুব অল্প পরিমানে ভ্যানিলা আইসক্রিম। (পুরো এক কাপ না)

তৃতীয় দিন

মিলিটারি ডায়েট এর তৃতীয় দিনে আপনার ক্যালরি গ্রহনের মাত্রা এক হাজার কিলো ক্যালরি তে নামিয়ে আনতে হবে। মনে রাখবেন এই ডায়েট পদ্ধতির শেষ দিনে আপনার খাদ্য গ্রহনের চাহিদা বেশি থাকলেও কোন ভাবেই এর বাইরে অন্য কোন খাবার গ্রহন করা যাবেনা।

সকালের নাস্তা

  • ৫ টা ডায়াবেটিক ক্র্যাকারস বা নোনতা বিস্কিট।
  • এক আউন্স পনির।
  • একটা ছোট আপেল।
  • চিনি ছাড়া এক মগ চা বা কফি।

দুপুরের খাবার

  • একটা সিদ্ধ ডিম।
  • একটি টোস্ট।

রাতের খাবার

  • অল্প লবনে রান্না করা এক টুকরা টুনা মাছ, তবে আপনি টুনা মাছ না পেলে অন্য যে কোনো মাছ কিন্তু বিশেষ করে তৈলাক্ত মাছ ব্যতিত যেমন পাঙ্গাশ, আইড় ইত্যাদি।
  • একটা কলার অর্ধেক বা একটা ছোট সবরি কলা।
  • খুব অল্প পরিমানে ভ্যানিলা আইসক্রিম। (পুরো এক কাপ না)

তবে একটা বিষয় বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে যে এই মিলিটারি ডায়েট অনুসরন করার সময় আপনাকে অবশ্যই প্রচুর পরিমানে পানি খেতে হবে এবং দৈনিক কমপক্ষে তিন থেকে চার লিটার। আপনি কফি ও খেতে পারেন কিন্তু কফিতে চিনি, দুধ বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারবেন না তবে তা আপনার ডায়েটের ক্যালরির মাত্রা বাড়িয়ে আপনার সাধনার বারোটা বাজাবে।

মিলিটারি ডায়েট প্ল্যানে আপনার মেটাবোলিজম বাড়ে। উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ এই ডায়েট আপনাকে শক্তি যোগায় আর আপনার ওজন কমানোর গতি ত্বরান্বিত করে। কাঙ্খিত ফল পেতে একনাগাড়ে তিন দিন এই ডায়েট অনুসরন করতে হবে আর যদি এটা খুব ফলপ্রসু না হয় তবে তিন দিনের ডায়েট শেষে চার দিন গ্যাপ দিয়ে আবার ডায়েটে ফিরে যান। এখানে আরো কিছু টিপস দেয়া হলো যা আপনার এই ডায়েট করার সময় পালন করলে আরো ভালো ফল পাবেন।

মিলিটারি ডায়েট প্লান অধিক কার্যকরী করার সহায়ক টিপস

* আপনার দিন শুরু করুন কমপক্ষে আধা লিটার পানি পান করে যা আপনাকে অযথা বেশি পরিমানে খাদ্য গ্রহনের আগ্রহ থেকে রক্ষা করবে।
* আপনার ডায়েটিং এর মেনুতে যে খাবার গুলো আছে তা আগে থেকেই আপনার ঘরে সংরক্ষন করুন।
* আপনি ডায়েটিং এর পাশাপাশি হাল্কা ব্যায়াম করতে পারেন যা আপনার ওজন কমাতে আরো বেশি ফলপ্রসু হবে। কিন্তু বেশি ভাড়ী ব্যায়াম না করাই ভালো কারণ এই ডায়েটিং এর শুরুতে আপনার শরীর দূর্বল হয়েযেতে পারে, তবে আপনার প্রাত্যহিক রুটিনে হাঁটার অভ্যাস, জগিং, যোগাসন বা মেডিটেশন থাকলে তা চালিয়ে যেতে পারেন।
* একজন সঙ্গী খুঁজে নিন যে কিনা নিজেও ডায়েটিং করছে, তবে সে আপনার পরিবারের কেউ হলে ভাল হয়।
* ভুলেও এলকোহল বা মিষ্টি পানিয় পান করবেন না, যদি বেশি মন চায় কোন পানিয় গ্রহন করতে তবে এক গ্লাস গরম পানির সাথে অর্ধেক লেবুর রস অথবা অল্প জুস পান করতে পারেন।

তো আর দেরী কেন, শুরু করে দিন আজ থেকেই। নিজেই পরীক্ষা করে দেখেন এই মিলিটারি ডায়েট কতটা কার্যকর আপনার জন্যে।

জাপানিজ ডায়েট চার্ট – দীর্ঘায়ূ অর্জন করার খাদ্যাভ্যাস

ভাবুন তো কোন দেশের মানুষ বেশিদিন বাচেঁ? অবশ্যই আপনার জাপানের নাম মনে আসছে তাই না? বিশ্বে জাপানের মানুষ দীর্ঘায়ূ হয় এর কারন হল জাপানিদের কঠোর পরিশ্রমি জীবন যাপন এবং সুশৃঙ্খল পরিমিত খাদ্যাভ্যাস। তারা যেমন শারিরিক ভাবে পরিশ্রমী তেমনই পরিমিত খাদ্য গ্রহনেও তারা অভ্যস্ত। জাতি হিসাবে জাপানিরা অনেক সফল আর এর নানাবিধ কারনের মধ্যে সর্ব প্রথম হল নিয়ম তান্ত্রিক জীবন যাপন। আপনি জাপানে মোটা মানুষ দেখবেন না খুব একটা, তার মানে কি তারা সকলেই ডায়েটিং করে? আসলে তাদের প্রাত্যাহিক খাদ্যাভ্যাসই হলো প্রচুর পুষ্টি উপাদানে ভরপুর খাদ্য অল্প পরিমানে আহার করা। আর তারা তাদের প্রাত্যহিক চলাফেরায় অনেক কিছু এমন ভাবে পালন করে যাতে করে তাদের আর আলাদা ভাবে ব্যায়াম করতে হয়না। যেমন, অল্প দূরত্বের পথ তারা হেটে অতিক্রম করে, মোটর চালিত যান থেকে তারা সাইকেল বেশী পছন্দ করে। এই অভ্যাস গুলো তাদের শারীরিক ভাবে আরো সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

আমাদের সকলের মনে ডায়েট এর প্রথাগত ধারনা হলো না খেয়ে মেদ কমানো যা একান্ত ভুল একটি ধারনা। আপনি যদি আসলেই আপনার ওজন ও মেদ কমাতে চান তবে আপনাকে পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহন ও নিয়ম করে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। নিচে জাপানিদের ডায়েট তালিকার সাধারন কিছু খাবার উল্লেখ করা হলো যা থেকে আপনি খুব ভাল ভাবেই বুঝতে পারবেন কেন জাপানিরা সবাই দীর্ঘায়ূর ও সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়।

জাপানিদের সাধারন কিছু খাবার

ভাত
আমাদের মত জাপানিরাও ভাত খেতে ভালোবাসে। ভাত হচ্ছে জাপানিদের নিয়মিত খাবার। তবে তারা সাধারণত বাদামি চালের ভাত খেতে পছন্দ করে। এটি উচ্চ
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ যা হার্ট ভাল রাখতে সহায়তা করে। আরো নানাবিধ কারনে যেমন ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রন, শরীরে সঠিক প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেড সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় শক্তি যোগানে বিশেষ ভাবে কার্যকর এই বাদামি চাল।

নুডুলস
যদিও জাপানিরা প্রক্রিয়াজাত খাবার খুব কম খায়, তবে নুডুলস জাপানিদের খাদ্য তালিকায় অতি সাধারণ একটি খাবার। জাপানিরা সাধারনত স্বাস্থ্যকর গম থেকে তৈরি নিম্ন কার্বোহাইড্রেড সমৃদ্ধ নুডুলস খেয়ে থাকে।

ফলমুল
সাধারণত সব ধরনের ফল মূল শরীর ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সহায়তা করে। তবে ফুজি আপেল জাপানিদের প্রিয় ফল। তারা তাদের অঞ্চলের পেরসিমন ও মান্দারিন নামের বিশেষ ধরনের কমলা ও খেতে পছন্দ করে যা স্বাদে অনন্য।

মাছ
অঞ্চল ভেদে মাছের প্রপ্যতা ভিন্ন রকম। তবে জাপানিদের প্রিয় মাছ হলো ম্যাকেরেল ও স্যালমন। তাদের খাদ্য তালিকায় এই মাছগুলো বেশি প্রাধান্য পায় কারণ এতে প্রচুর পরিমানে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগ্নেসিয়াম, ভিটামিন এ, ডি, সি, বি-৬, বি-১২ আছে ও ফ্যাট একেবারে নেই বললেই চলে।

আরও পড়ুনঃ খালি পেটে পানি পান করার উপকারিতা

শাকসবজি
জাপানিরা প্রায় সকল ধরনের শাক সবজি বিশেষ করে বেগুন, শিম, মাশরুম, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, আলু, কচি বাশের কেরুল, মুলা, গাজর ও বিভিন্ন সামুদ্রিক শৈবাল খেতে পছন্দ করে। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন বীজ জাতীয় খাবার যেমন সয়াবিন, খাবার উপযোগী বিভিন্ন ঘাসের বীজ, বিকল্প দুগ্ধ জাতীয় খাবার হিসাবে সয়া মিল্ক থেকে তৈরি টফু খেয়ে থাকে যা অনেক স্বাস্থ্যকর ও এন্টি অক্সিডেন্ট এ ভরপুর।

উপরোক্ত সকল ডায়েট তালিকার খাবারের সাথে জাপানিদের সব সময়কার অতী গুরুত্বপূর্ন পানিয় হচ্ছে চা এবং তা অবশ্যই গ্রিন টি যা অল্প মাত্রায় ক্যাফেইন এবং অধিক মাত্রায় পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড নামের দুটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।

জাপানিদের খাবারের ডায়েট তালিকা

আমাদের দেশের সাথে জাপানিদের খাবারের অনেক পার্থক্য বিদ্যমান যেমন তারা কাঁচা মাছ খায় যা আমাদের পক্ষে খাওয়া সম্ভব নয় এবং তা একেবারেই আমাদের খাদ্যাভ্যাসের বিপরীত। আরো একটি সমস্যা হলো অনেক ধরনের খাবার তারা খায় যা আমাদের দেশে যোগার করা কষ্টসাধ্য। তবে পুষ্টি উপাদান এর সাথে মিলিয়ে আমরা তাদের ডায়েটের সাথে আমাদের খাবার তালিকা তৈরি করে নিতে পারি খুব সহজেই যা আমাদেরকে জাপানিদের মতো সুন্দর স্বাস্থ্য ও আমাদের দেহ্কে দীর্ঘদিন বেচে থাকার রসদ যোগাতে সহায়তা করবে। নিম্নে তিন বেলার জাপানি ডায়েট খাবারের তালিকা দেয়া হলো এবং কিছু খাবার যা আমাদের খাবারের তালিকায় রাখা সম্ভব না তা পুষ্টি উপাদানের সাথে মিল রেখে উপস্থাপন করা হলো।

সকালের নাস্তা
জাপানিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন খাবারের সময় হলো সকালের নাস্তা। তারা প্রতিদিন সকালের নাস্তাকে খুব প্রাধন্য দেয়। সাধারনত তারা সকালে মিশো সুপ, একটি মান্দারিন আর এক কাপ গ্রিন টি পান করে। বিশেষ করে তারা সকালে মিশো সুপ খায় কারন এটা কম চর্বিযুক্ত। এখানে আপনি তিনটি লাল আটার রুটি খেতে পারেন শাক সবজি দিয়ে।

আরও পড়ুনঃ তিন দিনে চার কেজি ওজন কমানোর উপায়

দূপুরের খাবার
জাপানি লোকেরা দূপুরে এক বাটি সুসি সয়া সস দিয়ে খায় যা কাঁচা মাছ দিয়ে তৈরি। সাথে মাশরুম দিয়ে এক বাটি নুডুলস ও একটি আপচ। আর সকালের মতই এক কাপ গ্রিন টি। বর্তমান সময়ে মাশরুম আমাদের দেশেও সহজলভ্য এবং তা অনেক সুস্বাদুও বটে তবে আমরা এখানে সুসি এর পরিবর্তে অল্প ভাত এক টুকরো মাছের সাথে খেতে পারি।

রাতের খাবার
জাপানিদের রাতের খাবার তালিকায় থাকে এক বাটি ভাত, একটি কমলা ও সসিমি যা বিভিন্ন মাছের সমন্নয়ে তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহি জাপানি খাবার। আর প্রতিবেলা খাবারের পর তারা এক কাপ গ্রিন টি পান করতে পছন্দ করে । এখানে লক্ষণীয় যে জাপানিরাও আমাদের মত মাছ অনেক পছন্দ কনী। জাপানি ডায়েট খাবার তালিকার রাতের খাবারের সসিমির পরিবর্তে আমরা মাছের তরকারি ব্যবহার করতে পারি অনায়াসে।

উপরের সকল বিষয় পর্যালোচনা করলে পরিশেষে এটাই প্রতিয়মান হয় যে সুস্থ্য থাকতে দরকার পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহন ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন। আমাদের জন্য জাপানিদের খাদ্যাভ্যাসে অনুকরণীয় হলো খাবার না খেয়ে স্বাস্থ্য ঠিক রাখা বা ওজন কমানো নয় বরং পুষ্টিকর খাদ্য অল্প পরিমানে খেয়ে ও জীবন ধারায় পরিবর্তন এনে তাদের মত দীর্ঘায়ূ লাভকরা। এবং আমাদেরকে তাদের জীবনধারাও অনুকরণ করতে হবে যেমন তাদের প্রাত্যাহিক অভ্যাস গুলো আয়ত্তে আনা। নিয়ম করে হাটা, সাইকেল চালনা, মেডিটেশান করা ও ছোটোখাটো সকল জিনিস উপভোগ করা।

নাক ডাকার কারণ ও বন্ধ করার উপায়

নাক ডাকা মোটেও আরামদায়ক কোন বিষয় নয়। ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা পাশের সঙ্গীর জন্য চরম বিরক্তির উদ্রেগ ঘটায়। নাক ডাকা কোন স্থায়ী সমস্যা নয়। নাক ডাকার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে একটু জানলেই সহজেই বশে আসতে পারে বিরক্তিকর এই বিষয়টি।

নাক ডাকার কারণ

ঘুমনোর সময় নাক ও গলা দিয়ে ঠিকমতো শ্বাস বেরতে না পারলে গলা ও নাকের আশপাশের টিস্যুগুলো কাঁপতে থাকে। ফলে গর্জন বেরিয়ে আসে ক্ষণে ক্ষণে। চলুন দেখে নেয়া যাক কি কি কারণে নাক ডাকার শব্দ হয়।

ওজন বেশি হলে
শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট টিস্যু জমে গেলে ও পেশি দুর্বল হলে নাক ডাকা শুরু করতে পারেন কেউ কেউ।

বয়স বাড়লে
বয়সের সাথে নাক ডাকার সম্পর্ক আছে। যত বয়স বাড়ে কণ্ঠনালী সরু হতে থাকে। ফলে নাক ডাকা শুরু হয়।

শারীরিক গঠন
শারীরিক গঠনের কারণে মহিলাদের থেকে পুরুষরা বেশি নাক ডাকে। সাধারণত মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের শ্বাসনালী সরু হয়। আর এই জন্যেই পুরুষ মানুষের নাক ডাকার সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।

নাক ও সাইনাসের সমস্যা
নাকে পলিপ থাকলে বা সাইনাসের সমস্যা থাকলে নাক ডাকা শুরু হতে পারে।

মদ্যপান, ধূমপান ও নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ খেলে
নিয়মিত মদ্যপান, ধূমপান ও ঘুমের ওষুধ খেলে নাক ডাকা শুরু হয়। এর কারণ, পেশিগুলো অতিরিক্ত মাত্রায় ছেড়ে যায়।

ঘুমের ধরন
লম্বা টান টান হয়ে শুলেও নাক ডাকে অনেকে। গলার কাছে পেশিগুলো টেনে থাকে না। আলগা হয়ে যায়। ফলে, গলা থেকে নিশ্বাস বেরতে অসুবিধে হয়।

কাজের চাপের কারণে
অফিসের অনেক কাজ। এতটাই কাজ যে রাতে ঠিকমতো ঘুমও আসে না। যতটুকু ঘুম হয় পুরো সময়টাই নাক ডাকা চলতে থাকে।

আরও পড়ুন – হার্ট ভালো রাখার উপায়

নাক ডাকা বন্ধের উপায়

শোয়ার ভঙ্গি বদলান
কাত হয়ে ঘুমালে নাক ডাকার সমস্যা কমে যেতে পারে। চিত হয়ে ঘুমালে গলার গলার পেশি শিথিল থাকে তাই নাক ডাকার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই যাদের চিত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস তারা কাত হয়ে ঘুমিয়ে দেখতে পারেন নাক ডাকার পরিমাণ কমে যায় কিনা।

ধূমপান ছাড়তে হবে
ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করতে হবে। ধূমপানের ফলে শরীরের অক্সিজেন ব্যবহারের ক্ষমতা হ্রাস পায়। যার জন্যে বাতাস বের হবার পথ সংকুচিত হয়ে যায়। এই কারণে অনেকেই নাক ডাকতে পারেন।

মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন
পাকস্থলিতে বেশি মাত্রায় এ্যাসিডিটির সাথে নাক ডাকার সম্পর্ক আছে। মসলাযুক্ত খাবার বেশি খেলে এ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়। তাই কম মসলার খাবার খেয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন নাক ডাকার পরিমাণ কমে কিনা।

অতিরিক্ত ওজন কমান
যাদের ওজন বেশি তাদের উচিৎ ওজন কমানো। বেশি ওজনের কারণে গলার পথ সরু হয়ে যেতে পারে। যার ফলে শ্বাস নেবার সময় ঘর্ষণের কারণে শব্দ হয়। তাই যাদের ওজন বেশি শরীর স্থূল তাদের ওজন কমানোর উচিত।

শরীরচর্চা
নিয়মিত শরীরচর্চায় রক্তের চলাচল ও হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বাড়ায়। আর এতে করে ঘুমও ভালো হয়। এই কারণে নাক ডাকা কমাতে হলে প্রতিদিন শরীরচর্চার অভ্যাস করা জরুরি।

আরও পড়ুন – চোখের যত্নে ১০টি সহজ ব্যায়াম

বিছানা পরিষ্কার রাখুন
ঘরে বিছানায় বেশি ধুলাবালি থাকলে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা হয় অনেকের। নাকের নালিতে ধুলা সংক্রমিত হয়ে নাকের পেশি ফুলে উঠতে পারে। এ কারণে নাক ডাকার শব্দ হতে পারে। তাই বিছানা ও ঘর ভালো মত পরিষ্কার রাখা দরকার।

জৈবিক কারণ খুঁজুন
নাকের নালিতে পুরু নরম প্রলেপ থাকা, অন্য কোনো কারণে নাকের নালি আংশিক সংকুচিত থাকা এবং জিহ্বার পেছনে বায়ুপথ সংকুচিত থাকা এই তিনটি জৈবিক কারণ নাক ডাকার উৎস হতে পারে। ঠিক কোনটি নাক ডাকার কারণ তা জানার জন্যে একজন নাক-কান-গলারোগ বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে পরামর্শ নিন।

দুশ্চিন্তা কমান
অতিরিক্ত কাজের চাপ কমাতে হবে। ঘুমাতে যাবার সময় দুশ্চিন্তা কমিয়ে ফেলতে হবে। এতে ভালো কাজ দিতে পারে। তাই শোয়ার আগে এমন কিছু করুন যেন সব ধরণের দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে সুন্দর একটা ঘুম দিতে পারেন।

নাক না গলা জেনে নিন
আপনি নাক দিয়ে শব্দটা করছেন, নাকি গলা দিয়ে—সেটা আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অনেকের ক্ষেত্রে আবার দুটাই একসঙ্গে হতে পারে। তবে নাক বা গলার যেকোনো একটায় সমস্যা থাকলে নিশ্চিন্তে আপনি নাকের ড্রপ বা গলার স্প্রে—যেকোনো একটা বাদ দিয়ে দিতে পারেন।

স্থায়ী সমাধান
যদি এই নাক ডাকার শব্দের কারণে খুব বেশি ঝামেলার দেখা দেয় বা মাত্রা ছাড়া হয় তাহলে আপনার উচিত এটার স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটা। একজন নাক-কান-গলারোগ বিশেষজ্ঞ সার্জনের কাছে যান। এখন অনেক আধুনিক চিকিৎসা দিয়ে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব। লেজার রশ্মির মাধ্যমে নাকের ও জিহ্বার পেছনের শ্বাসনালির সংকুচিত অবস্থা দূর করা যায়। এই অপারেশন খুব বেশি সময়সাপেক্ষও নয়। তবে তা করতে অবশ্যই দক্ষ অস্ত্রোপচার বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।

আরও পড়ুন – মানসিক অস্থিরতা দূর করার উপায়

ফ্রিজে যে খাবার রাখা উচিত নয়

খাবার দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ ও ভালো রাখার জন্য ফ্রিজের জুড়ি মেলা ভার। এই আধুনিক জীবনে ফ্রিজের ব্যবহার কত গুরুত্বপূর্ণ তা হয়তো নতুন করে বলতে হবে না। আমাদের এই নাগরিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা খাবার তৈরির অনেক উপাদান এবং অতিরিক্ত খাবার ফ্রিজে সংরক্ষণ করি। কিন্তু আমরা বেশীরভাগ মানুষেই জানি না ফ্রিজে কোন ধরণের খাবার বেশী ভালো থাকবে কিংবা কোন খাবার ফ্রিজে রাখলে পুষ্টিগুণ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় অথবা ফ্রিজে রাখা যায় না কোন খাবার। এমন অনেক খাবার আছে যা ফ্রিজে রাখার উপযুক্ত নয় এবং ফ্রিজে রাখলে খাবারগুলো নষ্ট হয় বা পুষ্টিগুণ ও স্বাদ কমে যায়, যা ফ্রিজে রাখা অন্য খাবারের উপরও প্রভাব ফেলে। আজ আমরা এমন কিছু খাবারের কথা জানবো যেগুলো ফ্রিজে রাখা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

চলুন দেখে নেই ফ্রিজে যে খাবার রাখা উচিত নয়

পাউরুটি
ফ্রিজে পাউরুটি রাখলে কম তাপমাত্রার জন্যে অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় যা পরে আর খাওয়া যায় না। তাই এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বাইরেই রাখুন।

ডিম
বিশেষজ্ঞদের মতে ফ্রিজে ডিম রাখা মোটেও ঠিক নয়। কারণ হলো, ফ্রিজে রাখলে ডিমের সাদা অংশের কার্যকারিতা কমে যায়। এছাড়া ফ্রিজে রাখার কারণে ডিমে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়।

কয়েক ধরণের ফল
তরমুজ, লেবু, মালটা, আপেল, কলা, কমলা ইত্যাদি ধরণের ফলগুলো ফ্রিজে রাখলে ফলের পুষ্টিগুণ ও স্বাদ দুটোই কমে যায়।

আলু
ফ্রিজে আলু রাখলে আলুর আসল স্বাদ একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রিজের বাইরে কোথাও রাখুন একটি কাগজের প্যাকেটে।

টমেটো
ফ্রিজে টমেটো রেখে দিলে স্বাদ নষ্ট হয়। এছাড়াও টমেটো ফ্রিজে রাখলে টমেটোর ভেতরটা একটু সেদ্ধ ধরণের হয়ে যায়। তাই টমেটো বাইরেই রাখুন।

পেঁয়াজ ও রসুন
অনেকেই পেঁয়াজ কেটে ফ্রিজে রেখে দেন অথবা প্যাকেট ধরেই পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখেন। দুটোর কোনটিই স্বাস্থ্যকর নয়। বরং পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখলেই দ্রুত পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এবং রসুনে কালচে দাগ পড়ে যায়। এগুলো বাইরেই রাখুন।

তেল
ফ্রিজে তেল রাখলে জমাট বেঁধে যায়। তাই ভুলেও তেল ধরণের কিছু ফ্রিজে রখা উচিত নয়।

কেচাপ ও সয়াসস
আমরা অনেকেই কেচাপ ও সয়াসস ধরণের জিনিসগুলো ফ্রিজেই রাখি। কিন্তু এগুলো বাইরে রাখলেও কোনো ক্ষতি নেই বরং ফ্রিজে রাখলে স্বাদ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।

আরও পড়ুন – যে খাবার খালি পেটে খাওয়া উচিৎ নয়

আচার
অনেকেই ভাবেন আচার ফ্রিজে রেখে দিলে অনেকদিন রাখা যাবে। কিন্তু আচার ফ্রিজে রাখলেই ছত্রাক পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় ও স্বাদও কমে যায়। ভালো হয় বাইরেই রাখলে এবং নিয়মিত রোদে দিন তাহলে ছত্রাক পড়বেনা।

কফি
আপনি যদি কফির প্যাকেট ফ্রিজে রেখে থাকেন তাহলে অনেক বড় ভুল করছেন। এতে করে কফির স্বাদ একেবারেই নষ্ট হয়ে যাবে ও কফিও জমাট বেঁধে যাবে।

মধু
মধু ফ্রিজে রেখে দিলে নিচের দিকে জমাট বাধাঁ চিনির মতো হয়ে যায়। তাই মধু বাইরেই ঠাণ্ডা কোনো স্থানে রাখুন, নষ্ট হবে না।

বাটার
সাধারণ বাটারই হোক আর পিনাট বাটারই হোক না কেন ফ্রিজে রাখতে যাবেন না। স্বাদ একেবারেই নষ্ট হয়ে যাবে।

মসলা
মসলার স্বাদ অটুট রাখতে চান? তাহলে মসলা ভুলেও ফ্রিজে রাখবেন না। যদি বাটা মসলা অনেকটা সময় রাখতে চান তাহলেই রাখুন।

শীতকালীন সবজি
শীতকালীন ফল জাতীয় যে সব সবজি তা ফ্রিজে রাখলে স্বাদ ও পুষ্টিগুন নষ্ট হয়। সবচেয়ে ভালো হয় তাজা থাকতেই খেয়ে শেষ করা।

বাদাম ও খেজুর
বাদাম ও খেজুর বা শুকনো ফল ফ্রিজে রাখলে আরও বেশি শুকিয়ে একেবারেই শক্ত হয়ে যায় যা খাওয়ার উপযুক্ত থাকে না। তাই এগুলো বাইরে রাখাই ভালো।

জ্যাম ও জেলি
দোকান থেকে কেনা জ্যাম জেলিতে সাধারণত অনেক প্রিজারভেটিভ থাকে, যার কারণে এগুলো ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়। যদি ঘরে বানানো জ্যাম বা জেলি হয় তাহলে ফ্রিজে রাখুন।

সুত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

পুরুষের ত্বক ও চুলের যত্ন – সহজ কিছু টিপস

নারী আর পুরুষের শরীরের গঠনের পাশাপাশি তাদের ত্বক ও চুলের ধরনও ভিন্ন হয় থাকে। নারীর তুলনায় বেশী রুক্ষ হওয়ার কারণে পুরুষের ত্বক ও চুলের জন্য বেশী যত্ন নেয়া প্রয়োজন। একসময় নিজেদের চেহারার প্রতি উদাসীন থাকলেও এখন সেই দিন অনেক বদেলেছে। আজকাল ছেলেরাও নিজের চেহারার ব্যাপারে কমবেশি সচেতন। তাই সৌন্দর্য চর্চা আর কেবল নারীদের বিষয় নয়। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে অনেক পুরুষই নিজের জন্য এই সময়টুকু বের করতে পারেন না, অনেকেই আবার ইচ্ছা থাকলেও সঠিক উপায় না জানার কারণে সৌন্দর্যচর্চা করতে পারেন না। আসুন পুরুষের ত্বক ও চুলের পরিচর্যার কিছু সহজ টিপস জেনে নেই, যা প্রয়োগ করলে ফুটে উঠবে আপনার স্বাভাবিক সৌন্দর্য।

পুরুষের ত্বকের যত্নের কার্যকরী টিপস

১) শেভিং এর জন্য ভালো কোম্পানির পণ্য ব্যবহার করুন। তাতে ত্বকের ক্ষতি হবে না।

২) মুখ পরিস্কার করতে ভালো কোম্পানির ফেস ওয়াস ব্যবহার করুন প্রতিদিন।

৩) বাইরে গেলে সাথে প্যাকেটজাত ভেজা টিস্যু রাখতে পারেন। ভেজা টিস্যুতে মুখ মুছলে যেমন সজীব লাগবে, তেমনি পরিছন্ন থাকবে মুখ।

৪) চোখের কালি দূর করতে শসা কেটে চোখে লাগিয়ে রাখুন বিশ মিনিট।

৫) ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতে টমেটোর বীজের অংশ টুকু হাতে চটকে বা টমেটোর রস লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলবেন। রোদে পোড়া ভাব একদম থাকবে না।

৬) তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের সমস্যা বেশি দেখা যায়, এই থেকে পরিত্রাণ পেতে ব্রণের ওপর চন্দন বাটা প্রতিদিন দিয়ে রাখুন। উপকার পাবেন।

৭) কনুই এর কালো ভাব দূর করতে লেবু ঘষে নিন ভালো করে।

৮) মুখে র‌্যাশ বের হলে অড়হর ডাল বাটা পেস্ট করে র‌্যাশের ওপর লাগান। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত করুন।

৯) পিগমেন্টেশন বা মুখের কালো দাগ থেকে মুক্তি পেতে হরীতকী বাটা, আলুর রস, শসার রস, গ্লিসারিন মিলিয়ে দাগের ওপর লাগান একদিন পরপর।

১০) ত্বকের রূপ ধরে রাখতে বেসনের পেস্ট, মধু ও দুধ মুখের ত্বকে লাগান। এতে ত্বকের বলিরেখা দূর হবে। পাশাপাশি চেহারার লাবণ্য হয়ে উঠবে ।

আরও পড়ুনঃ ছেলেদের রূপচর্চা

পুরুষের চুলের যত্ন

১) মেহেদি ও ডিম মিলিয়ে সপ্তাহে অন্তত একদিন লাগান। চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

২) শ্যাম্পু করার আগে চুলে তেল ম্যাসাজ করুন। তেলের সঙ্গে আমলা বাটা, বাদাম বাটা, সিরকা মিশিয়ে নিন।

৩) শ্যাম্পুর পর চুলে কন্ডিশনার দিন।

৪) চুল কালার না করাই উত্তম কাজ। কারণ চুল কালার করার ফলে চুলের ক্ষতি হতে পারে। চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।

৫) নিয়মিত চুল আঁচড়ালে খুশকি হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।

৬) চুল নিয়মিত পরিষ্কার করুন। কারণ অপরিচ্ছন্ন চুলে খুশকি হয় বেশি।

পড়ুনঃ চুল পাকা প্রতিরোধ করে যে খাবার

৭) চুলের সাথে সামঞ্জস্যহীন ব্র্যান্ড এর ভাল শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

৮) নতুন চুল গজাতে পেঁয়াজ এর রস এর সাথে আমলকীর রস মেশান। মাথার তালুতে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ঘণ্টাখানিক রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৯) চুলের পুষ্টির জন্যে পানি জাতীয় খাবার, পানি, ফল, শাক-সবজি ইত্যাদি নিয়মিতি বেশি করে খেতে হবে। এতে চুল শুধু ঝলমলে আর সুন্দরই হবে না, চুল ঝরে পড়াও বন্ধ হবে।

১০) মাথার ত্বকে ফোসকা বা ঘামাচি দূর করতে সপ্তাহে একদিন নিমপাতা ভেজানো পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে হবে।

পুরনো জিন্সকে আরো দীর্ঘস্থায়ী করার কৌশল

আজকাল জিন্স হয়ে গেছে দৈনন্দিন পোশাকের প্রধান চাহিদা বা ট্রেন্ড। জিন্স নারী পুরুষ সবারই পছন্দের একটি পোশাক। আবার জিন্সের যত্ন নেয়ার বেপারটা আমরা সবাই কম বেশি জানি। জিন্স ভারী কাপড়ের ক্যাটাগরিতে পরে তাই পরিষ্কার করতে একটু কষ্টকর হলেও পরিধান করতে অনেক আরাম ও খুবই সুলভ মূল্যে পাওয়া যায় তাই বিশ্বব্যাপী এর কদর শুধু বাড়ছেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জিন্স যথা সম্ভব না ধুওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাহলে আসুন এইবার দেখে নেই শখের জিন্সটিকে কেমন করে আরো বেশি দিন ব্যবহারের উপযুক্ত রাখা যায়।

শুকানো ও ধোয়ার সময় জিন্স উল্টিয়ে দিনঃ
জিন্স ধোয়ার পরে অনেকটা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। এটি রোধ করার জন্য লন্ড্রিতে দেয়ার আগে বা নিজে ধোয়ার আগে জিন্সটি উল্টিয়ে নিন এবং রোদে দেয়ার সময় ও উল্টো অবস্থায় রোদে শুকাতে দিন। এর ফলে খুব দ্রুত জিন্সের রঙ নষ্ট হবেনা।

দাগ দূর করুনঃ
আপনার প্রিয় জিন্সটিতে যদি দাগ লেগে যায় তাহলে সেই দাগ দূর করার জন্য বেকিংসোডা ও পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার একটি পুরনো টুথব্রাশে এই পেস্ট লাগিয়ে দাগের জায়গায় আস্তে আস্তে ঘষুন। দেখবেন দাগ দূর হবে সহজেই।

দুর্গন্ধ দূর করুনঃ
আপনার জিন্সের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য যদি ধোয়ার সময় না থাকে তাহলে এটিকে একটি পালাস্টিকের জিপলক ব্যাগে ভরে ডিপ ফ্রিজে রাখুন। কিছুক্ষণ পরে বের করে দেখুন এর দুর্গন্ধ দূর হয়ে একেবারে নতুনের মত হয়ে গেছে।

টাইট করার জন্যঃ
অনেক সময়ই জিন্সের কোমরের দিক ঢিলা হয়ে যায়। একে ঠিক করার জন্য ওয়াশিং মেশিনে ধোঁয়ার সময় গরম পানি ব্যবহার করুন এবং হিট ড্রাই করুন।

রঙ অটুট রাখার জন্যঃ
আপনার নতুন জিন্সটি প্রথমবার ধোঁয়ার আগে লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে জিন্সের রঙ অটুট থাকবে।

জিন্সের কোমর প্রশস্ত করার জন্যঃ
অনেক সময় জিন্সের কোমরের অংশ বেশ টাইট মনে হয়। এই অবস্থাটি থেকে মুক্তি পেতে চাইলে জিন্স ধোঁয়ার পরে একে বাতাসে শুকাতে দিন এবং কোমরের অংশটি টেনে প্রশস্ত করে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিন।

তেল-চর্বির দাগ দূর করুনঃ
আপনার জিন্সে যদি তেলের দাগ লেগে যায় তাহলে দাগের উপরে বেবি পাউডার দিয়ে সারারাত রেখে দিন। পাউডারের উপাদান তেল-চর্বির দাগ শোষণ করে নিবে।

পড়ুনঃ কাপড় থেকে যে কোন দাগ তোলার সহজ উপায়

জিন্স কেনার সময় মনে রাখুনঃ
জিন্স কেনার সময় দেখে নিবেন এটির প্রসারণ ক্ষমতা ২% পর্যন্ত আছে কিনা। জিন্সটি পরে অন্তত ৬০ সেকেন্ড অপেক্ষা করে দেখুন এর আকার একই রকম থাকে কিনা। জিন্সটি যদি আপনার ঠিকমত ফিট না হয় তাহলে আপনাকে দেখতে ভালো দেখাবে না।

আয়রন করুনঃ
আপনার ব্যবহৃত জিন্সটিকে নতুনের মত করে তুলতে একে আয়রন করে নিন। এতে আপনার জিন্সটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে পারবেন এবং স্বচ্ছন্দ অনুভব করবেন। এতে জিন্সের আয়ু বৃদ্ধি পায়।

যতটা সম্ভব কম ধোয়ার চেষ্টা করুনঃ
ওয়াশিং মেশিনে বা হাতে ঘন ঘন জিন্স প্যান্ট ধুলে তা মলিন হয়ে পড়ে অল্প দিনেই। তাই যতটা সম্ভব কম ধোয়ার চেষ্টা করুন। একটি জিন্স প্যান্ট সাধারণত আমরা ৩-৪ দিন পরার পর ধুয়ে ফেলি। ধরা যাক, আপনার ৩টি জিন্সের প্যান্ট আছে। প্রতিটি ২ দিন করে পরার পর রোদে শুকিয়ে রাখুন। পরের সপ্তাহে আরও ২ দিন তা পরা যাবে। ফলে প্রতি মাসে আপনার প্যান্টটি ধোয়া হচ্ছে মাত্র ২ বার। এই পদ্ধতিতে কয়েক বছর পর্যন্ত একই জিন্স ব্যবহার করা যায়।

শাওয়ার নেয়ার সময় বাথরুমে রাখুন জিন্সঃ
হ্যাঁ আপনি যখন বাথরুমে হট শাওয়ার নেয়ার জন্য যাবেন তখন আপনার জিন্সটিকে বাথরুমে ঝুলিয়ে রাখুন। গরম ভাপে জিন্সের ভাঁজ দূর হবে এবং আপনার গোসল শেষ হওয়ার সাথে সাথেই জিন্সটিও পরার জন্য উপযুক্ত হবে।

জিন্সের প্যান্ট হাতে ধোয়ার চেষ্টা করুনঃ
ভারী জিন্সের প্যান্টগুলো ধোয়া কষ্টকর, তাই আমাদের প্রবণতা থাকে সেসব লন্ড্রিতে পাঠানোর বা ওয়াশিং মেশিনে ধোয়ার। এতে করে জিন্স খুব দ্রুত ছিঁড়ে যেতে পারে। শখের জিন্সগুলো ধুয়ে নিন নিজ হাতে। আধা বালতি পানিতে এক কাপ ভাল মানের কাপড় কাঁচার পাউডার গুলে নিন। ১৫-২০ মিনিট জিন্সের প্যান্ট এতে ভিজিয়ে রেখে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

জেনে নিনঃ কাপড় ধোয়ার নিয়ম

প্যান্ট ধোয়ার আগে পড়ে নিন গার্মেন্টস ট্যাগটিঃ
জিন্সের প্যান্টের ভেতরের অংশে লক্ষ্য করুন একটি সাদা ট্যাগ লাগানো আছে, যেখানে নির্দেশনা দেয়া আছে কোন পদ্ধতিতে প্যান্টটি পরিষ্কার করতে হবে। প্যান্ট ধুয়ে ফেলার আগে ট্যাগটি ভাল ভাবে পড়ে নিন। কিছু কিছু জিন্স ঠাণ্ডা পানিতেই ধুয়ে নেয়া যায়, আবার কিছু জিন্সের জন্য যেমন ডেনিম(denim) ড্রাই ওয়াশ পদ্ধতি বেশি কার্যকর।

লবণ এবং ভিনেগার ব্যবহার করুনঃ
দীর্ঘদিন জিন্স প্যান্টের রঙ উজ্জ্বল রাখতে চাই আমরা সবাই। এক কাপ ভিনেগার এবং চার ভাগের এক কাপ লবণ মিশিয়ে নিন ঠাণ্ডা পানিতে। এর পর প্যান্ট তাতে ভিজিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। ভিনেগার এবং লবণের মিশ্রণ আপনার জিন্সের রঙকে স্থায়ী করে তুলবে। প্যান্টে ভিনেগারে গন্ধ হয়ে যাবে বলে ভয় পাচ্ছেন? সাধারণ পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে গন্ধ চলে যাবে।

তথ্যসুত্রঃ ইন্টারনেট ও নতুনকাগজ ডট কম

ছেলেদের চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখার উপায়

বয়স হয়ে গেলে তো তার ছাপ চেহারায় পড়বেই কিন্তু আজকালকার ছেলেদের দেখতে বয়সের তুলনায় একটু বেশি বয়স্ক লাগে। কাজের চাপ, মানসিক চাপ এবং দেহের সঠিক যত্ন না নেয়ার কারণে অনেক কম বয়সী ছেলেও দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে। অনেকেই আবার একটু বয়স হয়ে গেলে সেই বয়স ঢাকার অনেক চেষ্টা করেন। সবাই মুটামুটি ভাবেই চান তাদের বয়সের ছাপ চেহারায় একটু কম পড়ুক। এজন্য ছেলেরা যে কাজ গুলো করতে পারেন তার একটি তালিকা দেখে নেয়া যাক।

সুঠাম দেহ
আপনার শরীর যদি ঢিলেঢালা ধরণের হয় তবে আপনাকে অনেক বয়স্ক দেখাবে। তাই কম বয়সী দেখাতে চাইলে দৈহিক গড়নের প্রতি লক্ষ্য রাখুন। নিয়মিত ব্যায়াম ও পরিচর্চার মাধ্যমে শারীরিক গঠন সুঠাম রাখুন। এতে বয়স হলেও বোঝা যাবে না। চেহারার তারুণ্য ভাব বজায় থাকবে।

সানগ্লাসের ব্যবহার
সানগ্লাস একজন মানুষকে স্টাইলিশ করে দেয়ার পাশাপাশি বয়স কমিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। আপনার প্রয়োজন নিজের চেহারার সাথে মানানসই সানগ্লাসের। যারা চোখের সমস্যার জন্য চশমা ব্যবহার করেন তারা চশমা ব্যবহার না করে কন্টাক লেন্স ব্যবহার করুন। কারণ চশমা ব্যবহার করলে একটু বেশি ভারিক্কী ও বয়স্ক দেখায় যে কাউকেই।

চুলের যত্নে কাজ করুন
চুলের যত্ন সম্পর্কে সতর্ক হয়ে যান। চুল পড়া রোধে চুলের যত্ন নিন। চুলকে স্টাইলিশ রাখতে প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। চুল পড়ে টাক হয়ে গেলে অনেক বেশি বয়স্ক দেখাবে।

গলার ভাঁজ
একটু বয়স হয়ে গেলে গলায় ভাঁজ পরে যার কারণে অনেক বেশি বয়স্ক মনে হয় ছেলেদের। এই সমস্যা দূর করতে কোনো স্টাইলিশ দাঁড়ির ছাঁট রাখুন। এতে গলার ভাঁজ ঢাকা পরে যাবে।

ঠোঁটের যত্ন নিন
ঠোঁটের যত্নে সতর্ক হোন। ঠোঁট শুকনো দেখালে এবং ফেটে থাকলে অথবা কালচে ভাব থাকলে বিশ্রী দেখানোর পাশাপাশি বয়স্ক দেখায়। তাই নিয়মিত ঠোঁটের যত্ন নিন। ভালো লিপবাম ব্যবহার করুন। ধূমপান ছেড়ে দিন।

চুলের স্টাইলে পরিবর্তন আনুন
বয়স হয়ে গেলেই যে চুলে ভালো কোনো স্টাইলিশ ছাঁট দিতে পাড়বেন না তা তো নয়। এর চাইতে যদি ভালো কোনো মানানসই স্টাইলিশ ছাঁটে চুল কাটতে পারেন তবে বয়স অনেক কম লাগবে। যদি চুল পড়ে টাক হয়ে থাকে তবে একেবারে চুল ফেলে দিন। এতে টাকের তুলনায় বেশ স্টাইলিশ ও কম বয়েসি লাগবেন দেখতে।

সাদা চুল ঢেকে ফেলুন
যদি চুল পেকে সাদা হওয়া শুরু করে তবে চুল রঙ করতে একবারেই পিছপা হবেন না। সতর্কতার সাথে সকল সাদা চুল ঢেকে ফেলুন। এতে বয়স প্রায় ১০ বছর কমে যাবে।

জেনে নিনঃ চুল পাকা প্রতিরোধে করে যে খাবার

পিঠ সোজা করে দাঁড়ান
অঙ্গবিন্যাস সঠিক রাখুন। আপনি পিঠ বাকা করে দাঁড়ালে আপনাকে বয়স্ক মনে হবে। সোজা হয়ে দাঁড়ান এবং অভ্যাস করুন।

সঠিক পোশাক নির্বাচন করুন
সঠিক পোশাক নির্বাচন বয়স অনেকটা কমিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। আপনাকে কোন ধরণের পোশাকে মানাবে এবং কোন রঙে আপনাকে ভালো দেখাবে এই সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। সঠিক পোশাক নির্বাচন করলে বয়স অনেকটা কমে যাবে।

ত্বকের যত্ন নিন
ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে গেলে বয়স অনেক বেশি মনে হয়। তাই ত্বককে হাইড্রেট ও ময়সচারাইজ করুন। ভালো ময়েসচারাইজার ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পানি পান করুন। বিস্তারিত পড়ুন, ছেলেদের ত্বকের যত্ন

‘বুড়ো হয়ে গিয়েছি’?
আরও যে কাজটি করতে পারেন তা হলো বুড়ো হয়েছেন এই ধরণের চিন্তা বাদ দিন। আপনি নিজে মনের দিক থেকে তরুণ থাকলে তা আপনার চেহারায়ও ফুটে উঠবে।

কুকুর কামড়ালে করণীয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা

কুকুরের কামড় খাওয়ার মত দুর্ঘটনা যে কারো সাথেই ঘটতে পারে। কুকুরের কামড় থেকেই জলাতঙ্ক রোগের সৃষ্টি। রেবিস নামক ভাইরাসের কারণে স্নায়ুজনিত রোগ জলাতঙ্ক হয়। তবে সব কুকুরে কামড়ালেই জলাতঙ্ক রোগ হয় না। কিন্তু জলাতঙ্ক রোগের ভয়াভহতার কারণে যেকোন কুকুরের কামড়কে অনেক বিপদজনক হিসাবে ভাবা হয়। কুকুর কামড়ালে রেবিস ভাইরাস কুকুরের লালা থেকে ক্ষতস্থানে লেগে যায়, আর ক্ষতস্থান থেকে স্নায়ুতে ভাইরাস পৌঁছে জলাতঙ্ক রোগের সৃষ্টি করে। জলাতঙ্ক হলে মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং এর সাথে খাদ্যনালী তীব্র সংকোচন হয়। এমন রোগী কোন কিছুর শব্দ বা আলো সহ্য করতে পারে না। কুকুর কামড়ালে সাথে সাথেই প্রাথমিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নিলে সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করা থেকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ক্ষত পরিষ্কার করুন

একটি পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে ক্ষতের স্থানটি চেপে ধরুন। তারপর কুকুরের কামড় দেওয়া স্থানে বেশি করে পরিষ্কার পানি বা সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা ভাল। এতে ক্ষতিকর ভাইরাস ক্ষত স্থানে লেগে থাকলে তা নষ্ট হয়ে যাবে। তবে ক্ষত পরিষ্কার করার সময় খুব বেশি ঘষাঘষি করবেন না।

রক্ত বন্ধ করুন

ক্ষতস্থান থেকে রক্ত পরা বন্ধ করতে হবে, সেই জন্যে ক্ষত স্থানে চাপ দিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রাখুন। এতে রক্ত পরা বন্ধ হয়ে যাবে।

ব্যান্ডেজ

ক্ষতস্থানটিতে অ্যান্টিবায়েটিক ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে নিন। তারপর একটি গজ কাপড় দিয়ে ভাল করে ব্যান্ডেজ করে ফেলুন। ক্ষত স্থান খোলা থাকলে এতে বিভিন্ন রোগ জীবাণু প্রবেশ করতে পারে।

ডাক্তারের কাছে যাওয়া

প্রাথমিক চিকিৎসার পর যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। ‘জিরো আওয়ার’ মানে যত দ্রুত সম্ভব টিকা দিতে হবে। যত দ্রুত টিকা দেওয়া হবে ততই ঝুঁকিমুক্ত থাকা যাবে। দেখা গেছে অসচেতনতাই জলাতংক ছড়ানোর জন্য অনেকাংশে দায়ী। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন দিন। কুকুর কামড়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ইনজেকশন দেওয়া উচিত।

সতর্কতা

কুকুরের কামড়ে অনেক সময় রোগী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। তার ভীতি দূর করতে হবে। তেমন কিছুই হবেনা সে আবার সুস্থ হয়ে যাবে এইভাবে বলে তাকে আস্থা প্রদান করতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অব্যশই রোগীকে ডাক্তার কাছে নিয়ে যেতে হবে।

বাসার ছাদে ফলের বাগান

দিন দিন ছোট হয়ে আসছে চাষাবাদের জায়গাগুলি। শহরের মানুষ গাছ লাগাবে এমন জায়গা পাওয়া দুষ্কর। তাই শখ করে বাগান কিংবা নিজের পরিবারের চাহিদা মিটানোর জন্যে বাগান করার জন্যে শহুরে মানুষদের জন্যে ছাদের কোন বিকল্প নেই। তবে ইচ্ছে আর গাছের প্রতি ভালোবাসা থাকলে ছাদের জায়গাটুকু ব্যবহার করেই বাগানের শখ মিটানো যায়। ছাদে সবজি চাষ এর সাথে ফলের চাষ ও করা যায়। তবে ছাদে আর মাটিতে বাগান করা এক বিষয় নয়। ছাদে যে কোন বাগান করতে গেলেই দরকার হয় একটু বিশেষ যত্নের। জেনে নিতে হবে ছাদে গাছ লাগানোর পদ্ধতি, ছাদে বাগান উপযোগি ভালো জাতের গাছ নির্বাচন ও সাথে অন্যান্য পরিচর্চার বিষয় গুলি। এই সব কিছু নিয়েই এই ফিচার।

ছাদে ফলের বাগান পদ্ধতি

কি গাছ লাগাবেন তার উপর নির্ভর করবে কোথায় কিভাবে সেই গাছ লাগাবেন। মনে রাখতে হবে যে গাছ লাগাবেন সেই গাছের আকার যত বড় হবে গাছ লাগানোর পাত্র/ড্রাম/টবের আকার ও তত বড় হতে হবে। দেখে নেই পদ্ধতই গুলোঃ

টব পদ্ধতি : খুব সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায় বলে এটাই সহজ পদ্ধতি বলে বিবেচিত। তবে ফলের গাছের জন্যে টব সাধারণত যে আকারের হয়ে থাকে তাতে খুব একটা ভালো হবে না। বড় আকারের টবে ফলের গাছ লাগানো যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে সিমেন্টের তৈরি বড় টব ব্যবহার করা যায়। টবে চাষ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব সার ব্যবহার করা উচিত। ১৬ ইঞ্চি থেকে ১৮ ইঞ্চি আকারের একটি টবের জন্য জৈব সারের পাশাপাশি ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ৫০ গ্রাম এমওপি সার উত্তমরূপে মিশিয়ে ১০ দিন থেকে ১২ দিন রেখে দিতে হবে। তারপর টব ভরাট করতে হবে।

হাফড্রাম পদ্ধতি : বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই হাফড্রাম পদ্ধতিতে ছাদে ফলের বাগান করে থাকেন। হাফড্রামের তলদেশে ছিদ্র করতে হবে। ছিদ্রগুলোয় ইটের টুকরো বসাতে হবে; তার উপরে ড্রামের তলদেশে প্রথম ১ ইঞ্চি পরিমাণ খোয়া বা সুড়কি দিতে হবে এবং তার উপরে এক ইঞ্চি পরিমাণ জৈব সার বা পচা গোবর দিতে হবে। এর ফলে অতিরিক্ত পানি সহজেই বের হয়ে যেতে পারবে। জৈব সারের পাশাপাশি প্রতিটি ড্রামে ২০০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গ্রাম এমওপি ব্যবহার করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, শাক-সবজি, ফুলের জন্য ছোট খাট টব বা পাত্র হলেও চলে। কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে পাত্র/ড্রাম যত বড় হয় তত ভালো।

স্থায়ী বেড পদ্ধতি : স্থায়ী বেড পদ্ধতি একটি আধুনিক পদ্ধতি। ছাদে বাগান করার পূর্বে ছাদ বিশেষভাবে ঢালাই দিয়ে নেট ফিনিশ করে নিতে হবে। স্থায়ী বেড পদ্ধতির বাগান করার জন্য ছাদের চারিদিকে ২ ফুট প্রস্থের দুই পাশে ১.৫ ফুট উঁচু দেয়াল ৩ ইঞ্চি গাঁথুনির নেট ফিনিশিং ঢালাই দিয়ে তৈরি করলে মাঝখানে যে খালি জায়গা তৈরি হয়, সেই খালি জায়গার তলায় প্রথমে এক ইঞ্চি ইটের সুড়কি বা খোয়া, পরের এক ইঞ্চি গোবর সার দেয়ার পর বাকি অংশ ২ ভাগ মাটি ও ১ ভাগ গোবরের মিশ্রণ দিয়ে ভরাট করে স্থায়ী বেড তৈরি করা হয়। অতিরিক্ত পানি, সার পাবার সুষ্ঠু পথ রাখতে হবে।

এছাড়া স্থায়ী বেড হিসেবে ট্যাংক পদ্ধতিতেও গাছ লাগানো যায়। সেই জন্যে ছাদে এক ফুট উঁচু ৪টি পিলারের উপর পানির ট্যাংক আকৃতির ৩ ফুট দৈর্ঘ্য, ২ ফুট প্রস্থ ও ১.৫ ফুট উঁচু ৩ ইঞ্চি গাঁথুনির নেট ফিনিশিং ঢালাই দিয়ে যে ট্যাংক তৈরি করা হয় একেই বলে ট্যাংক বেড পদ্ধতি।

আরও পড়ুনঃ টবে গাছ লাগানোর নিয়ম ও প্রস্তুতি

ছাদে কি কি গাছ লাগাবেন

ছাদে বাগান করার সময় জরুরী বিষয় হলো লক্ষ রাখতে হবে যেন গাছটি বড় আকারের না হয়। ছোট আকারের গাছে যেন বেশি ফল ধরে সে জন্য হাইব্রিড জাতের গাছ বা কলমের গাছ লাগানো যেতে পারে। বেঁটে প্রজাতির অতিদ্রুত বর্ধনশীল ও ফল প্রদানকারী গাছই ছাদ বাগানের জন্য উত্তম। বীজের চারা নয়, কলমের চারা লাগালে অতিদ্রুত ফল পাওয়া যায়। আমের বিভিন্ন হাইব্রিড বা কলমের জাত যেমন আম্রপালি ও মল্লিকা জাতের আম, আপেল কুল, পেয়ারা, লেবু, পেঁপে, জলপাই, আমড়া, করমচা, শরিফা, আতা, ডালিম, এমনকি কলা গাছও লাগানো যাবে। জানাশুনা আছে এমন বিশ্বস্ত নার্সারির কাছ থেকে গাছ সংগ্রহ করতে হবে। আজকাল বিভিন্ন ফলের গুটি কলম, চোখ কলম ও জোড় কলম পাওয়া যাচ্ছে। কলমের জলপাই, থাইল্যান্ডের মিষ্টি জলপাই, কলমের শরিফা, কলমের কদবেল, ডালিম, স্ট্রবেরি, বাউকুল, আপেলকুল, নারিকেলকুল, লিচু, থাইল্যান্ডের লাল জামরুল, গ্রিন ড্রপ জামরুল, আপেল জামরুল, আঙ্গুর পেয়ারা, থাই পেয়ারা, ফলসা, খুদে জাম, আঁশফল, জোড় কলমের কামরাঙা, এমনকি ক্যারালা ড্রফ প্রজাতির নারিকেলের চাষ করা যেতে পারে। সঠিক মানের চারা হলে এক বছরের মধ্যেই ফল আসে। আজকাল বিদেশ থেকে উন্নত মানের কিছু চারা কলম দেশে আসছে। ছাদ বাগানের সাধ পূরণ করার জন্য এসব সংগ্রহ করে লাগাতে পারেন।

গাছ লাগানোর নিয়ম

খুব সাবধানতার সাথে টব/পটে/ড্রামে/স্থায়ীবেডে চারা/কলম লাগাতে হবে। ঠিক মাঝখানে পরিমাণ মতো মাটির নিচে রোপন করতে হবে। চারা বা কলমের সাথে লাগানো মাটির বল যেন না ভাঙ্গে সেদিকে নজর রাখতে হবে। চারা বা কলমের ক্ষেত্রে যতটুকু নিচে বা মাটির সমানে ছিল ততটুকু সমানে ছাদে লাগাতে হবে।

ছাদে ফলের বাগানের যত্ন

যেহেতু সীমিত আকারে সীমিত জায়গায় উৎপাদন করা হয় সেজন্য অতিরিক্ত যত্ম সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিভিন্ন পরিচর্যায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কেননা সার কমবেশি হলে, গাছের সাথে লেগে গেলে গাছ মরে যাবে, পরিমাণ মতো না হলে অপুষ্টিতে ভুগবে।

সেচ নিস্কাশন সেচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা মাটির আর্দ্রতার জন্য সহজেই গাছপারা নেতিয়ে যাবে তেমনি অতি পানি বা পানির আর্দ্রতার জন্যও গাছ নেতিয়ে পড়ে মরে যেতে পারে। তাই অবশ্যই ছাদের বাগানে প্রতিনিয়ত সেচের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।

বছরে অন্তত একবার পুরাতন মাটি বদলিয়ে নতুন মাটি জৈব সারসহ দিতে হবে। ইদানিং বাজারে টবের মাটি কিনতে পাওয়া যায়। মানসম্মত মাটি কিনে টবে/ড্রামে ভরতে হবে।

চাদের বাগানে প্রতিদিন পরিষ্কার কার্যক্রম অনুসরণ করতে হবে। সেজন্য পুরাতন রোগাক্রান্ত, বয়স্ক ডালপালা, পাতা সাবধানতার সাথে কেটে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করতে হবে। এতে গাছপালা রোগমুক্ত থাকবে ফলনে সুবিধা হবে।

আমাদের দেশের আবহাওয়ায় কোন ফলে পোকা বা রোগের আক্রমণ অহরহ ঘটে থাকে। সেক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যদি হঠাৎ বেশি মারাত্মক আক্রান্ত হয়ে যায় তখন উপযুক্ত বালাইনাশক সঠিক সময়ে ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ বাড়ির ছাদে ফুলের বাগান

(তথ্যঃ ইটারনেট হতে সংগৃহীত)

গরমে ঘুমান আরামে – সহজ উপায় ও কৌশল

ক্লান্তিকর দিন শেষে একটু আরামের ঘুম সবার জন্যেই দরকার। শরীর ও মন সুস্থ রাখার জন্যে পরিমিত আরামদায়ক ঘুমের বিকল্প নেই। ঠিকমত ঘুমাতে না পারলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় না, যার প্রভাব পরে কর্মক্ষেত্রে। সারাদিনের প্রচন্ড গরম সহ্য করা গেলেও ঘুমাতে গেলে গরম বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বাসায় যদি এয়ার কন্ডিশনার বা এয়ার কুলার না থাকে। উচ্চ তাপমাত্রায় আমাদের মগজ শরীরকে না ঘুমানোর নির্দেশ দেয় ফলে বিড়ম্বনা বেড়ে যায় বহুগুণ। তাহলে গরমে শান্তিতে ঘুমানোর জন্যে কী করা যায়? একটু কৌশল অবলম্বন করলেই এই গরমেও শান্তিতে ঘুমানো যায় খুব সহজেই।

ঘুমানোর আগে গোসল করুন

যদি অনেক গরম থাকে তাহলে ঘুমানোর আগে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা সাধারণের তুলনায় অনেক কমে যাবে। যার ফলে শরীরে ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব নিয়ে ঘুমাতে সুবিধা হবে। ঘুমানোর আগে গোসল করলে ঘুমও গভীর হবে। যদি গোসল করা সম্ভব না হয় তাহলে সারা শরীর মুছে দিতে পারেন কিংবা পায়ের পাতা কিছুক্ষন পানিতে ভিজিয়ে তারপর ঘুমাতে যান।

গোসল করুন স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে

বাইরে থেকে গরমে ঘেমে একাকার হয়ে বাড়ি ফিরে বরফ ঠান্ডা পানিতে গোসল করা উচিত না। এতে করে শরীরের ভিতরে তাপ ভিতরেই থেকে যাবে। যদি বাসায় এসে ঘুমানোর আগে গোসল করুন তবে তা করবেন স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে।

ঘরের মেঝেতে ঘুমান

বিছানার তুলনায় ঘরের মেঝে ঠান্ডা থাকে। তোশকের চেয়ে কম আরামের হলেও এতে অনেক গরম কম লাগে। গরম বাতাস উপরে দিকে থাকে বেশি। তাই মেঝেতে ঘুমানো আরামদায়ক। চাইলে ঘুমানোর আগে ঘরের মেঝে পানি দিয়ে মুছে নিতে পারেন। শুকানোর পর পাটি বিছিয়ে শুয়ে পড়ুন।

বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন

জানালা খোলা রাখা সম্ভব হলে খোলা রাখুন। এতে ঘর ঠান্ডা থাকবে। জানালার সামনে ভারী কাপড় ভিজিয়ে ঝুলিয়ে রাখলে বাইরের বাতাস প্রবেশের সময় ঠাণ্ডা বাতাস পাবেন। তাছাড়া ঘরে অতিরিক্ত একটা পোর্টেবল ফ্যান ব্যবহার করতে পারেন। জানালার কাছাকাছি রাখলে বাইরে থেকে ঠান্ডা বাতাস ভিতরে ঢুকবে। ফ্যানের সামনে এক পাত্র বরফ রাখতে পারেন। এতে ঘরের বাতাস ঠাণ্ডা হয়ে আসবে। আবার ঘরের গরম বাতাস বাইরে বের করতে চাইলে ফ্যান জানালার দিকে ঘুরিয়ে রাখুন।

প্রয়োজন হলে একা ঘুমান

গরমের দিনে এক বিছানায় বেশি মানুষ না ঘুমানোই ভালো। গরমের সময়ে সাথে কেউ ঘুমালে তা বিরক্তির কারণ হতে পারে। কেননা বিছানায় আরেকজন মানুষ থাকা মানে তাপের আরেকটি উৎস। এ কারণে বিছানায় একা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। একজন বিছানায় এবং আরেকজন মেঝেতে ঘুমাতে পারেন। এতে হাত-পা ছড়িয়ে আরামে ঘুমাতে পারবেন।

বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে রাখুন

সকেট থেকে প্লাগ খুলে রাখুন, আলো সব নিভিয়ে দিন, ইলেক্ট্রনিক্স গেজেট গুলোর ব্যবহার রাখুন কম। এসব গ্যাজেট তাপ উৎপাদন করে যা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ফোন এবং ল্যাপটপ রাখুন বিছানা থেকে দূরে। মোট কথা ঘর ঠান্ডা রাখার জন্যে যা করণীয় তাই করুন।

আরও পড়ুনঃ গরমে ঘর রাখুন ঠান্ডা

আরামদায়ক পোশাক

দিনে বা রাতে গরমের সময় সবাই একটু হালকা পোশাকই পরে থাকেন। ঘুমানোর সময়েও সবচাইতে আরামদায়ক, হালকা পোশাক পরুন এ সময়ে। হালকা ও আরামের জন্যে সুতির পোশাক বেছে নিতে পারেন। এতে ঘাম সহজে শুকিয়ে যায় ও শরীর থেকে তাপ চলে যায়।

বিছানা

গরমের দিন সম্ভব হলে বিছানার চাদর প্রতিদিন রাতে বদলে নিন। কারণ পরিষ্কার বিছানায় ঘুমালেই মনে এক রকমের প্রশান্তি আসে; যা ভালো ঘুমাতে সহায়তা করে। তবে এক্ষেত্রে বিছানার চাদর সুতির হওয়াই ভালো। আর ফোমের বিছানায় গরম লাগবে বেশি। ভালো হয় জাজিম ও তোশক ব্যবহার করলে। আরামের ঘুমের জন্যে শিমুল তুলার বালিশও ব্যবহার করতে পারেন।

খাওয়া দাওয়া

খাওয়ার ১ থেকে দুই ঘন্টা পর্যন্ত পরিপাক ক্রিয়ার জন্যে শরীর গরম থাকে। তাই শান্তিতে ঘুমাতে চাইলে ঘুমাতে যাওয়ার এক থেকে দুই ঘন্টা আগেই খেয়ে নিন রাতের খাবার। আর রাতে এমন খাবার খাওয়া উচিত নয় যা খেলে আপনার অস্বস্তির হয়।

আরও পড়ুনঃ গরমে খাবার ভালো রাখার কৌশল

পানি পান করুন বেশি করে

স্বাভাবিক ভাবেই গরমে সবারই খুব ঘাম হয়। শরীরের সিস্টেম ঘামের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমিয়ে আনে। এই জন্যেই দরকার বেশি করে পানি পান। শরীর সতেজ রাখতে বেশি করে পানি পান করা উচিত। খুব বেশি ঘামার প্রবণতা থাকলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে শরীরে ট্যালকম পাউডার মেখে নিন। এক্ষেত্রে মেনথল ফ্লেভারের পাউডার বেশ আরাম দেবে।

আশা করি এই কৌশল গুলো প্রয়োগ করলে কিছুটা হলেও আরামের ঘুম ঘুমাতে পারবেন এই প্রচন্ড গরমেও। ঘর কিভাবে ঠান্ডা রাখতে পারবেন এই গরমে তা দেখে নিতে পড়ুনঃ গরমে ঘর রাখুন ঠান্ডা

নকল ডিম চেনার উপায়

চারপাশে এই ভেজালের দুনিয়াতে ডিমেও এখন ভেজাল। প্রথম প্রথম কৃত্রিম ডিমের বিষয়কে গুজব মনে হলেও এখন সেটা বাস্তব। বাংলাদেশ সহ আশেপাশের অনেক দেশেই নকল ডিমের সন্ধান পাওয়া গেছে। রাসায়নিক প্লাস্টিকের ডিম নিয়ে ভারতের চলছে শোরগোল। চীনের রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সীমান্তের চোরাপথে চীন থেকে কৃত্রিম ডিম পাচার হয়ে আসছে। আর এসব ডিম চলে আসছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। যা দেখতে অবিকল হাঁস মুরগির ডিমের মতো। মানুষ ভুল করে কৃত্রিম ডিমকে আসল ডিম ভাবছে। এসব কৃত্রিম বা নকল ডিম এক কথায় বিষাক্ত।

বিজ্ঞান সাময়িকী “দ্যা ইন্টারনেট জার্নাল অফ টক্সোকোলজি”তে কৃত্রিম ডিম সম্পর্কে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ডিমে কোনো খাদ্যগুণ ও প্রোটিন থাকে না। বিষাক্ত এই কৃত্রিম বা নকল ডিম তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট, স্টার্চ, রেসিন, জিলেটিন। যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এই নকল ডিম খেলে স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। নকল ডিমের ক্যালসিয়াম কার্বাইড ফুসফুসের ক্যান্সারসহ জটিল রোগের কারণ।

নিজের ও পরিবারের সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যে নকল ডিম চিনে রাখা জরুরী। কিভাবে চিনবেন নকল ডিম? জেনে নিনঃ

১. কৃত্রিম ডিম আকারে আসল ডিমের তুলনায় সামান্য বড়।

২. সাধারণ ডিমের চেয়ে এই ডিম বেশি ঝকঝকে।

৩. ডিম ঝাঁকালে পানি গড়ানোর মতো শব্দ হয়।

৪. ডিম ভাঙার পর সাদা অংশ ও কুসুম এক হয়ে যায়।

৫. ভাঙার পর আসল ডিমের মতো কুসুম এক জায়গায় না থেকে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

৬. নকল ডিমের আকৃতি অন্য ডিমের তুলনায় তুলনামূলক লম্বাটে ধরণের হয়ে থাকে

৭. এই ডিম সিদ্ধ করলে কুসুম বর্ণহীন হয়ে যায়।

৮. এর খোলস বেশি শক্ত। খোলের ভেতর রাবারের মতো লাইন থাকে।

৯. এর খোলস খুব মসৃণ হয়। খোসায় প্রায়ই বিন্দু বিন্দু ফুটকি দাগ দেখা যায়।

১০. রান্না করার পর এই ডিমে অনেক সম্যেই বাজে গন্ধ হয়। কিংবা গন্ধ ছাড়া থাকে। আসল কুসুমের গন্ধ পাওয়া যায় না।

১১. নকল ডিমকে কোন তীব্র গন্ধ যুক্ত বস্তুর সাথে রাখেন, ডিমের মাঝে সেই গন্ধ ঢুকে যায়। রান্নার পরেও ডিম থেকে সেই গন্ধই পেতে থাকবেন।

১২. আসল ডিম ভাঙলে মুড়মুড়ে শব্দ হয়। কিন্তু প্লাস্টিকের ডিমে তেমন শব্দ হয় না।

১৩. নকল ডিমের কুসুমের চারপাশে রাসায়নিকের পর্দা থাকে।

১৪. নকল ডিম ভেঙে রেখে দিলে পিঁপড়া বা পোকামাকড় আসে না।

আরও পড়ুনঃ কেন প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খাবেন?

প্রসাধনীর আসল নকল চেনার উপায়

নারীদের সৌন্দর্য্যবর্ধনে প্রসাধনী একটি বিরাট অংশ দখল করে আছে। প্রায়শই নারীরা বিভিন্ন বিউটি প্রডাক্টস যেমন- লিপস্টিক, নেইল পলিশ, কাজল, পারফিউম ইত্যাদি কিনে থাকেন। আর কিনতে গিয়ে নকল পণ্য নিয়ে ঘরে ফেরার ঘটনাও কম নেই। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা আসল নকল পার্থক্য না করতে পারার কারণে প্রতারিত হই। নিজের গাঁটের টাকা খরচ করে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর পণ্য কেনার কোন অর্থই হয় না। কিন্তু একটু সাবধান হলেই আপনি নিজেই এই ধরণের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বদলে দিতে পারেন। আসুন জেনে নিই প্রসাধনীর আসল নকল চেনার কিছু কৌশল-

প্যাকেজিং এর দিকে নজর দিন

পণ্যের প্যাকেট, লগোর অবস্থান সব কিছুর দিকে নজর দিন। নকল পণ্যে কিছু না কিছু বৈসাদৃশ্য আপনি পাবেন। হয়ত আপনি ম্যাক ব্র্যান্ডের একটি লিপস্টিক কিনতে যাচ্ছেন। দেখুন লোগোটি ঠিক একই জায়গায় বসানো কিনা। আসল কোম্পানির সকল প্রডাকশন একই রকম হয়। কোন হেরফের থাকে না।

অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য কিনুন

দোকান বড় হলেই কিন্তু পণ্য নির্ভেজাল হয় না। আপনি যে ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতে চান তাদের অফিসিয়াল সাইটে প্রবেশ করে দেখে নিন দেশের কোথায় কোথায় তাদের অনুমোদিত বিক্রয়স্থল রয়েছে। শুধু এসব জায়গা থেকেই পণ্য কিনুন। সহজেই বাঁচতে পারবেন নকল থেকে।

পণ্যের রং খেয়াল করুন

নকল আই শ্যাডো, ব্লাশ, লিপস্টিক এবং পাউডার দেখা যায় আসল পণ্যের মত একই রঙের হয় না। আগেই ম্যানুফেকচারিং কোম্পানির সাইট থেকে রঙগুলো চিনে নিন। অতিরিক্ত উজ্জ্বল রং বা ফ্যাকাসে রং সবই যাচাই করে দেখুন।

আরও পড়ুনঃ প্রয়োজনীয় বিউটি টিপস

বারকোড, সিরিয়াল নাম্বার এবং ম্যানুফেকচারিং তথ্য দেখুন

আপনার প্যাকেটের সিরিয়াল নাম্বার এবং ভেতরের পণ্যের সিরিয়াল নাম্বার মিলিয়ে নিন। নকল পণ্যে দেখা যায় কোন একটি সিরিয়াল নাম্বার মিসিং থাকে। আবার বারকোড প্রথম ২/৩ ডিজিটে গরমিল থাকতে পারে। প্যাকেট এবং পণ্যে মিল পাবেন না পণ্য নকল হলে। আসল পণ্যে অবশ্যই উৎপাদন তারখ এবং মেয়াদ দেওয়া থাকবে সেগুলোও লক্ষ্য করুন।

ব্রাশ এবং স্পঞ্জ চেক করুন

প্যাকেজিং এবং অন্যান্য সব কিছু ঠিক থাকার পরও আপনার মেকাপ পণ্যটি নকল হবার সুযোগ থেকেই যায়। এবার পরীক্ষা করুন আপনার পণ্যটির সাথে সে জিনিসগুলো দেওয়া হয়, যেমন- মেকাপ ব্রাশ, স্পঞ্জ। নকল পণ্যে এগুলো খুবই নিম্নমানের হয়।

ঘ্রাণ খেয়াল করুন

ব্র্যান্ডের পণ্যে কখনোই এমন কোন উপাদান ব্যবহার করা হয় না যা আপনার বিরক্তির কারণ হতে পারে। পণ্যের ঘনত্ব, ঘ্রাণ সবকিছুতে একটি স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখা হয়। তাই যখনই উৎকট গন্ধ বা এমন কোন ঘ্রাণ অনুভব করছেন যা ভাল লাগছে না তখনই আগে যাচাই করুন।

তথ্য সূত্রঃ ইন্টারনেট ও বিডি মর্নিং নিউজ