বিশ্বের শীর্ষ ১০ পুরস্কার

পুরস্কার শদটিতেই রয়েছে এক রোমাঞ্চ ও প্রেরণা। আবহমান কাল থেকে কাজের স্বীকৃতি বা কৃতিত্বের অবদান হিসেবে পুরস্কার প্রদান করার গুরুত্ব সামান্যও কমেনি। একদিকে যেমন পুরস্কার কৃতি কাজের স্বীকৃতির চিহ্ন, অন্য দিকে পুরস্কার প্রাপ্তি সবাইকে অনুপ্রেরণা প্রদান করে। এই ফিচারে আমরা আধুনিক বিশ্বে সমাদৃত ও প্রভাবশালী ১০টি পুরস্কার সম্পর্কে জানবো।

নোবেল পুরস্কার

১৯০১ সাল থেকে পুরস্কারটি দেওয়া শুরু হয়। ঐ বৎসর থেকে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অনন্য সাধারণ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। মোট ছয়টি বিষয়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিষয়গুলো হল: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা শাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য এবং শান্তি। নির্বাচিতদের প্রত্যেক বছর পুরস্কার হিসেবে একটি স্বর্ণপদক, একটি সনদ ও নোবেল ফাউন্ডেশন ৮০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় সাত কোটি টাকা) দেয়া হয়। মৃত কাউকে এই পুরস্কার দেওয়া হয় না। তবে খুব ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে মরণোত্তর পুরস্কার দেয়া হয়। নোবেল পুরস্কারকে এ সকল ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সুয়েডীয় বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালে করে যাওয়া একটি উইল-এর মর্মানুসারে নোবেল পুরস্কার প্রচলন করা হয়। আলফ্রেড নোবেল সুইডেনের স্টকহোমে ১৮৩৩ সালে জন্ম নেন। নোবেল তার মোট সম্পদের ৩১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনারের (প্রায় দুই কোটি ৭১ লাখ ২৫ হাজার টকার সম পরিমাণ) ৯৪ শতাংশ এই পাঁচটি পুরস্কারের জন্য উইল করে যান।

বুকার পুরস্কার

ম্যান বুকার পুরস্কার বা সংক্ষেপে বুকার পুরস্কার বিশ্ব সাহিত্যের মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত। ১৯৬৪ সাল থেকে বিশ্বের সৃষ্টিশীল লোকদের উৎসাহিত করতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতি বছর জুরিদের মতে বিগত এক বছরে প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাসকে এই পুরস্কারটি দেওয়া হয়। তবে এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে। পুরস্কারের মনোনীত উপন্যাসটি ইংরেজি ভাষায় লেখা হতে হবে আর লেখককে অবশ্যই কমনওয়েলথ, জিম্বাবুয়ে অথবা আয়ারল্যান্ডের নাগরিক হতে হবে। তবে ২০০৫ সাল থেকে বিশ্বের যে কোন দেশের লেখকদের জন্যে আগের বুকার পুরস্কারের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার হিসেবে বুকার দেওয়া হচ্ছে।

অস্কার

অস্কার হলো একাডেমি অফ মোশন পিকচার আর্টস এন্ড সায়েন্সেস থেকে ১৯২৯ সাল থেকে দেয়া একটি বার্ষিক পুরস্কার। চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত অভিনেতা, পরিচালকদের স্বপ্নের পুরস্কার এই একাডেমি অ্যাওয়ার্ড। পুরস্কারটি সব চলচ্চিত্র পুরস্কারের মধ্যে বিখ্যাত হিসাবে গণ্য করা হয়। যেখানে রূপালি জগতের পরিচালক, অভিনেতা, চিত্রনাট্য প্রভৃতি ক্যাটেগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। সারা বিশ্বে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে থাকেন। একটি জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পুরস্কার প্রদান হয়। অনুষ্ঠানটি ২০০১ সাল থেকে ২০১২ পর্যন্ত হলিউডের কোডাক থিয়েটারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৩ থেকে থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের নকিয়া থিয়েটারে অস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গোল্ডেন গ্লোব

হলিউড ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন ১৯৪৩ সাল থেকে প্রতি বছর আমেরিকায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রোগ্রামের জন্য গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েশনটি মূলত হলিউডের জন্য ফান্ড সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করে। আমেরিকায় একাডেমি পুরস্কার ও গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের পরই সবচেয়ে বেশি লোক গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান দেখে। অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টস পাঁচবার মনোনীত হয়ে তিনবার এ পুরস্কার জেতেন। অন্যদিকে অভিনেতা টম হ্যাংকস ছয়বার মনোনীত হয়ে চারবার জেতেন এ পুরস্কার।

আরও পড়ুনঃ সর্বকালের সেরা ১০ বাংলা সিনেমা

বাফটা পুরস্কার

ব্রিটিশ একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস (বাফটা) নামে পরিচিত একটি ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা হলো এটি। ১৯৪৭ সাল থেকে এরা এই পুরস্কার দেয়া শুরু হয়েছে। মূলত প্রতি বছর চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, টেলিভিশন শিল্প, ভিডিও গেমস এবং বিভিন্ন ধরণের এনিমেশন চিত্রের জন্য দেওয়া হয়। চলচ্চিত্র জগতের সম্মানজনক এ পুরস্কারটির মর্যাদা সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ব্রিটিশ অভিনেত্রী জুডি ডেঞ্চ সর্বোচ্চ সংখ্যক আট বার টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের চরিত্রের জন্য বাফটা পুরস্কার লাভ করেছেন।

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড

সঙ্গীতের অস্কার নামে পরিচিত বিশ্ব সংগীতাঙ্গনের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড। ১৯৫৯ সাল থেকে আমেরিকাতে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। বিশ্বের অসংখ্য শিল্পীর সারা জীবনের সাধনা এ পুরস্কার। ৩৮ বার এ পুরস্কার জিতে স্যার জর্জ সলটি সবার থেকে এগিয়ে আছেন। এটি আমেরিকার সবচেয়ে সম্মানজনক সঙ্গীত পুরস্কার।

কান চলচ্চিত্র পুরস্কার

১৯৪৬ সাল থেকে প্রতি বছর দক্ষিণ ফ্রান্সের কান শহরে অনুষ্ঠিত হওয়া পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং প্রভাবশালী চলচ্চিত্র উৎসব কান চলচ্চিত্র উৎসব।
মূলত সারা বিশ্ব থেকে চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা উৎসবে আমন্ত্রিত হন। এখানকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পামে দ’অর (গোল্ডেন পাম)। কান উৎসবের জন্য নির্মিত “পালে দে ফেস্তিভালস এ দে কোঁগ্র” ভবনে এ উৎসব হয়।

এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ড

১৯৮৪ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মিউজিক টেলিভিশন চ্যানেল এমটিভির পক্ষে ভিডিও মিউজিকের কিংবদন্তীদের এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। জনপ্রিয় শিল্পী ম্যাডোনা ৬৯ বার মনোনয়ন পেয়েছেন এবং ১৯ বার এ পুরস্কার জিতেছেন। সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি দর্শক এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ড সরাসরি উপভোগ করেন।

পুলিৎজার পুরস্কার

পুলিৎজার পুরস্কার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছাপার সাংবাদিকতা, সাহিত্য এবং সঙ্গীতের সর্বোচ্চ পুরস্কার হিসেবে বহুল সমাদৃত। খ্যাতনামা আমেরিকান সাংবাদিক পুলিৎজার জোসেফ বা জোসেফ পুলিৎজার, ১৮৪৭ সালের ১০ এপ্রিল জন্ম নেন। হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূত অনুসন্ধানী ও সৃজনশীল সাংবাদিকতার কিংবদন্তি এই মানুষটিকে বলা হয় গ্র্যান্ডফাদার অব দ্য জার্নালিস্ট। তার আয়ের বিপুল অঙ্কের অর্থ তিনি কলম্বিয়া স্কুল অব জার্নালিজমে (বর্তমানে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়) দিয়ে দেন। ১৯১১ সালের ২৯ অক্টোবর পুলিৎজারের মৃত্যুর পর থেকে তার ইচ্ছানুসারে ও সম্মানে প্রথম ১৯১৭ সালের ৪ জুন থেকে পুলিৎজার পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। বর্তমানে প্রতি বছরের এপ্রিল মাসে পুরস্কারটি ঘোষিত হয়। জার্নালিজমে সোনার মেডেল ও অন্য ২০ ক্যাটেগরির বিজয়ীর প্রত্যেককে ১০ হাজার আমেরিকান ডলার (প্রায় সাত লাখ ৮০ হাজার টাকা) ও সনদ দেওয়া হয়।

ব্রিটস অ্যাওয়ার্ড

ব্রিটেনের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় পুরস্কার ব্রিটস অ্যাওয়ার্ড। ১৯৭৭ সাল থেকে মিউজিকের ওপর এ পুরস্কার দেওয়া হয়। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ব্রিটস সম্মাননা যে কোন বিজয়ীকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে অনন্য মর্যাদায়। প্রতিটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এ পুরস্কার প্রদানের খবর প্রচার করা হয়। রবিন উইলিয়াম সর্বোচ্চ ১৫ বার এ পুরস্কার জিতেছিলেন।

(সুত্রঃ বিডিনিউজ২৪ ও উইকিপেডিয়া)

পরীক্ষায় ভালো করার উপায় ও রেজাল্ট ভালো করার টিপস

ছাত্র জীবনে পরীক্ষাকে ভয় পায়নি এমন সাহসী ছাত্রছাত্রী খোঁজে পাওয়া ভার। পরীক্ষা ছাড়া ছাত্র জীবন শুধুই আনন্দ আর সুখময়! কথায় আছে, ছাত্র জীবন সুখের জীবন, যদি না থাকে এক্সামিনেশন। আর এই পরীক্ষার ভয়ে কত দূর্বল ছাত্র পড়াশুনা থেকে অসময়ে ঝরে গেছে তার শেষ নেই। কলেজে যাওয়া, আড্ডাবাজি আর ঘুরাঘুরি সবারই খুব ভালো লাগে কিন্তু সব আনন্দের মাঝে শুধু পরীক্ষা এসে বাগড়া বাধায়। তাই এই পরীক্ষার ভয় দূর করার জন্য রয়েছে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের ৯টি দারুণ পরামর্শ। এসব দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে নিয়মিত পড়াশুনা করলে পরীক্ষায় ভাল ফল আসবেই, সেই সাথে সমস্ত দুশ্চিন্তা মাথা থেকে পালাবে।

১. বিশেষ অংশ এবং পরিকল্পনায় রঙিন কোড করুনঃ
লেখা-পড়ার অন্যতম কার্যকর ১ টি উপায় এটি। পড়ার কাজটি কীভাবে চালিয়ে যাবেন তার ১ টি পরিকল্পনা নিশ্চয়ই থাকে। এই অংশটিসহ নোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো রঙিন মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করে রাখুন। ভিন্ন ধরনের অংশের জন্য বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন- কুইজের অংশ গোলাপি, বিভিন্ন টেস্ট হালকা সবুজ, আন্ডার লাইনে অংশ হালকা নীল ইত্যাদি। এই কালার কোড সিস্টেম গুছিয়ে লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়ার কার্যকর একটি উপায়।

২. সময় বের করুনঃ
সেমিস্টারের আগের রাতে সব পড়ে শেষ করা অসম্ভব ব্যাপার। তাই বেশ কিছু দিন সময় বের করে রাখুন। অল্প সময়ের মধ্যে পড়ে পরীক্ষার ঝামেলা মেটানো যায়। কিন্তু সে পড়ায় শেখা হয় না। ফলে ভবিষ্যতে বিপদে পড়তে হবে। তাই বেশ কিছু দিন হাতে নিয়ে হালকা মেজাজে পড়লেও শিখতে পারবেন। এতে পরীক্ষা হয়ে আসবে আরো সহজ, এবং অনেক ভাল।

৩. শিক্ষকদের সাথে দেখা করুনঃ
আপনার শিক্ষক কখনোই আপনাকে ফিরিয়ে দেবেন না। তাদের কয়েকজন ভীতিকর হতে পারেন। কিন্তু সবকিছুর শেষে তিনিই আপনার শিক্ষক। শেখা বা পরামর্শ নিতে তার কাছে গেলে তিনি তার শিক্ষার্থীকে বহু যত্নে শিখিয়ে দেবেন। আপনার সমস্যা মেটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন যেকোনো শিক্ষক। কাজেই পরীক্ষা বিষয়ে পরামর্শ পেতে শিক্ষকদের দ্বারস্থ হন। তাহলেই ভাল রেজাল্ট করা সম্ভম।

৪. বইয়ে কি-পয়েন্ট হাইলাইট করুনঃ
অনেক ধরনের পরীক্ষা রয়েছে সেখানে বই দেখে পরীক্ষা দেওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে বইয়ের কি-পয়েন্টগুলো হাইলাইট করে নিন। আর বই দেখার সুযোগ না থাকলেও পড়াশোনার সুবিধার জন্য নিজের বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মার্কার দিয়ে হাইলাইট করে রাখুন। সেগুলো বারবার দেখে নিতে সুবিধা হবে।

৫. স্লাইড শো বানিয়ে পড়াশুনা করুনঃ
ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করুন। বিশেষ নোটগুলোকে কম্পিউটারে স্লাইড শো বানিয়ে পড়ুন। এতে মনে ভালোমতো ঢুকে যাবে সবকিছু।

৬. নিজের পরিকল্পনা বানিয়ে পড়াশুনা করুনঃ
পড়াশোনাকে দারুণ কার্যকর করতে হলে পরিকল্পনা দরকার। পড়াশোনার, বিষয় আর পড়ার পদ্ধতি সবকিছু নিয়ে সময়সূচি করে নিন। তারপর সেই সময় অনুযায়ী পড়াশোনা চালিয়ে যান।

৭. নিজের পরীক্ষা নিজেই দিনঃ
প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার মতো করে বন্ধুরা একসাতে বা আপনি একাই পরীক্ষা দিতে পারেন। এতে মূল পরীক্ষা নিয়ে যতো অজানা আশঙ্কা কেটে যাবে আপনার। অধিকাংশ যে ক্ষেত্রে দেখা গেছে এসব পরীক্ষামূলক পরীক্ষা মূল পরীক্ষার কাছাকাছি হয়ে থাকে।

৮. একই পড়া কয়েকবার পড়ুনঃ
কয়েকবার করে দেখে নিন। এতে মাথায় বসে যাবে সবকিছু। নোটের বিশেষ পয়েন্টগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিন। বারবার মুখস্থ করতে হবে না। হাইলাট করা অংশগুলোতেও চোখ দিন। একবার মুখস্থ করে কয়েকবার শুধু দেখলেই তা ঠোঁটস্থ হয়ে যাবে।

৯. গড়িমসি করবেন নাঃ
যা পড়তে হবেই তা পড়ছি পড়বো বলে ফেলে রাখবেন না। অন্তত পরীক্ষা এগিয়ে এলে এমনটি করার সুযোগ নেই। এ কাজটির জন্যই পরীক্ষার আগের রাতে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কাজেই অল্প-বেশি পড়ার কাজ চালিয়ে যান। দেখবেন, পরীক্ষা আগ দিয়ে প্রায় সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছেন আপনি।

তথ্যসূত্রঃ কালেরকন্ঠ ও ইন্টারনেট

গরমে ঘর রাখুন ঠান্ডা – ১৬টি সহজ ও কার্যকরী উপায়

প্রচন্ড তাপদাহের কারণে ঘেমে ভিজে একাকার হয়ে মানুষ ঘরে ফিরে আসে একটু শান্তির আশায় কিন্তু ঘরটাও যদি হয়ে উঠে গরম ও অস্বস্তিকর তবে দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। তাই প্রচন্ড গরমে ঘরকে ঠাণ্ডা রাখা প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কারণ সবার পক্ষে তো আর এয়ারকন্ডিশনার লাগানো সম্ভব নয়। একটু ভিন্ন ভাবে চেষ্টা করলেই এয়ারকন্ডিশনার ছাড়াই ঘরকে শীতল রাখা যায়, আসুন তেমনি কিছু টিপস জেনে নেই।

গরমের ঘর ঠান্ডা রাখার উপায়

১। ঘর ঠাণ্ডা রাখার জন্যে প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে সেটি হচ্ছে যতটা সম্ভব দুপুরের সূর্যের প্রখর তাপ ঘরে আসতে না দেয়া। সেক্ষেত্রে দক্ষিন ও পশ্চিম পাশের জানালা বা যেগুলোতে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে সেসব জানালার পর্দা বা উইন্ডো ব্লাইন্ড টেনে রাখুন এবং জানালাও বন্ধ রাখুন।

২। আপনার গৃহের কোন অংশটিতে সবচেয়ে বেশি বাতাস আসা যাওয়া করে তা খেয়াল করুন। কোন দিক দিয়ে বাতাস বেশি আসে তা চিহ্নিত করুন। তাহলে আপনি সেই অংশের জানালা খোলা রাখতে পারবেন। এর ফলে সূর্যাস্তের পরেও আপনার ঘরে বাতাস আসা যাওয়া করবে।

৩। পূর্ব ও পশ্চিমের জানালাগুলোতে ছায়া প্রদানের জন্য সানশেড বা ছাউনির ব্যবস্থা করুন। তাপ উৎপন্ন করতে পারে, বিকেলের দিকে এমন কাজগুলো করা থেকে বিরত থাকুন।

৪। আপনার গৃহকে শীতল রাখার জন্য ঘরের চারপাশে গাছপালা লাগান। ছায়া দিতে পারে এমন গাছ পূর্ব-পশ্চিমে লাগালে আপনার গৃহে সূর্যের তাপ আলোকে প্রতিহত করবে। ঘরের চারপাশে ঘাস ও ঘাস জাতীয় গাছ থাকলে ঘরকে শীতল রাখে।

৫। বিছানার চাদর হিসেবে সাদা লিনেন কাপড় ব্যবহার করুন। বিছানার চাদর মোটা ও কারুকাজ থাকলে ঘাম বেশি হয়। সাদা ও হালকা রঙের কাপড় তাপ শোষণ করেনা বরং প্রতিফলিত করে। তাছাড়া হালকা রঙ ঘরে শীতল প্রভাব ফেলে। সাদা বা হালকা রঙের সুতির চাদর পাতলে বিছানা ঠান্ডা থাকবে। নিয়মিত বদলান বেডকভার ও বেডশিট। এতে ঠান্ডা শুধু নয়, ফ্রেশও লাগবে।

৬। ছাদের সাদা রঙ ঘরকে শীতল রাখে। সাদা রঙ আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মিকে প্রতিহত করে প্রাকৃতিকভাবে ঘরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তাই মানুষ এখন ঘরের ছাদে সাদা রঙের পেইন্টিং করে।

৭। কাজ না থাকলে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ বন্ধ করে রাখুন। কম্পিউটার ও ল্যাপটপ প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে যা ঘরকে গরম করে ফেলে। তাই ঘর ঠান্ডা রাখতে চাইলে অপ্রয়োজনে এসব প্রযুক্তি পন্য চালিয়ে না রাখাই ভালো।

৮। এক বোল বরফের টুকরো নিয়ে ফ্যানের নীচে রেখে ফ্যান চালু করুন। কিছুক্ষণ পর বরফগুলো যখন গলতে শুরু করবে তখন বাতাস এই শীতল পানি শোষণ করবে ও ছড়িয়ে দিবে। এর ফলে আপনার ঘর ঠান্ডা হবে।

৯। বেশ কিছু ইন্ডোর প্লান্ট রয়েছে, যা বাড়ির মধ্যে রাখলে ঘর ঠান্ডা থাকে। যেমন অ্যালোভেরা, বস্টন ফার্ন, স্নেক প্লান্ট, উইপিং ফিগ, অ্যারিকা পাম ইত্যাদি। ঘরের বাতাসকেও শুদ্ধ করে এই গাছগুলি।

আরও পড়ুনঃ গরমে খাবার ভালো রাখার কৌশল

১০। সাধারণ বালব-টিউব পাল্টে ব্যবহার করুন এলইডি বাল্ব। কারণ ইনক্যান্ডেসেন্ট বাল্ব থেকে গরম হয়ে যায় ঘর। ঘরে জোরালো আলো জ্বালিয়ে রাখলে গরম বাড়বে। এ সময় খুব প্রয়োজন না হলে ঘরে জোরালো আলো জ্বালবেন না। ডিম লাইট বা টেবিল ল্যাম্প ব্যবহার করুন।

১১। দিনে দু’বার করে ঘর ও জানলার স্ল্যাব ভাল করে মুছুন। এতেও ঘর ঠান্ডা হতে সাহায্য করবে।

১২। রান্নার পর অবশ্যই গ্যাসের চুলা, স্টোভ বন্ধ রাখবেন।

১৩। রাতের বেলা টেবিল বা পোর্টেবল ফ্যানটি জানালার কাছে নিয়ে চালিয়ে দিন। এটি বাইরের ঠাণ্ডা হাওয়া ভিতরে নিয়ে আসবে এবং ঘরের অসহনীয় গরম দূর হবে।

১৪। বাসা অতিরিক্ত গরম থাকার আরও একটি কারণ হচ্ছে বিনা প্রয়োজনে ইলেক্ট্রনিক জিনিস অন করে রাখা। অনেককেই দেখা যায় কারণ ছাড়াই টেলিভিশন, ফ্যান, বাতি ইত্যাদি অন করে রাখেন। এর ফলে ঘরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে গিয়ে অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া তৈরি করে। তাই বিনা প্রয়োজনে এসব জিনিস বন্ধ করে রাখবেন।

আরও পড়ুনঃ গরমে ঘুমান আরামে

১৫। ঘর ঠাণ্ডা রাখতে ছাদে আম বা ঝোপজাতীয় ছোট গাছ লাগান। লাউ-কুমড়ার মাচাও খুব কাজে দেবে। লতানো গাছ বিল্ডিংয়ের চারদিকে নামিয়ে দিতে হবে। এতে পাশের দেয়ালও ঠাণ্ডা থাকবে।

১৬। ঘর যথাসম্ভব পরিস্কার রাখুন। দুপুর বেলা একবার এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একবার ঘরটাকে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুছে নিলে ঘরের তাপমাত্রা অনেকটাই কমে যায়।

সূত্রঃ ইন্টারনেট অবলম্বনে

কেন প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খাবেন?

ডিম কম বেশী সবাই পছন্দ করলেও না না অজুহাতে খাদ্য তালিকা থেকে ডিমকে বাদ দিতে চান। কেউ কেউ ডিমকে এড়িয়ে যান রক্তে ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গে চর্বি বৃদ্ধির ভয়ে। কিন্তু ডাক্তারেরা বলছেন ভিন্ন কথা, প্রতিদিন সকালে অন্তত একটি ডিম খেলে অনায়াসে ৩ পাউন্ড ওজন কমানো যায়। ডিমের এমনই কিছু গুনাগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে আজ জানবো।

১) ডিম হাজারো ভিটামিনে ভরা। ডিমের ভিটামিন বি ১২ আপনি যা খাচ্ছেন সেই খাবারকে এনার্জি বা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে।

২) ডিমের মধ্যে আছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। ডিমের কেরোটিনয়েড, ল্যুটেন ও জিয়েক্সেনথিন বয়সকালের চোখের অসুখ ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। একই উপাদান চোখের ছানি কমাতেও সাহায্য করে।

৩) কেবলমাত্র ডিমেই রয়েছে ভিটামিন ডি, যা পেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

৪) ডিমের ভিটামিন ই কোষ এবং ত্বকে উত্‍পন্ন ফ্রি র‍্যাডিক্যাল নষ্ট করে দেয় এবং স্কিন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

৫) ডিমের সবচেয়ে বড়ো গুণ এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। ব্রেকফাস্টে রোজ একটি ডিম মানে সারাদিন আপনার ক্ষুধা কম হবে, খাওয়া হবে কম। গবেষণায় দেখা যায় শরীর থেকে দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালোরি কমাতে পারে সকালে একটি ডিম খাওয়া। তার মানে মাসে ওজন কমার পরিমাণ প্রায় তিন পাউন্ড। সমীক্ষা বলছে, ৬৫% বডি ওয়েট, ১৬% বডি ফ্যাট, ৩৪% কোমরে জমে থাকা মেদের পরিমাণ কমাতে পারে ডিম!

৬) ডিমে আছে আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস। মেনস্ট্রুয়েশনের জন্য অনেক সময় অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। শরীর তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ডিমের মধ্যে থাকা আয়রন এই ঘাটতি মেটাতে পারে সহজেই। জিঙ্ক শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আর ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত করে।

জেনে নিন – খালি পেটে পানি পান করার উপকারিতা

৭) প্রত্যেক নারীর শরীরে রোজ কমপক্ষে ৫০ গ্রাম প্রোটিনের দরকার। একটি ডিমে থাকে ৭০-৮৫ ক্যালোরি বা ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন। সুতরাং চাঙা থাকতে রোজ ডিম খেতেই পারেন।

৮) ২০০৩ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় একটি সমীক্ষায় দেখিয়েছে অ্যাডোলেশন পিরিয়ডে বা পরবর্তী কালে সপ্তাহে ৬টি করে ডিম নিয়মিত খেলে প্রায় ৪৪% ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব৷ সঙ্গে এটাও জানিয়েছে, ডিম হৃৎপিণ্ডে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। ফলে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনাও অনেকটাই কম থাকে।

৯) শরীর সুস্থ রাখার আরও একটি জরুরি উপাদান কোলাইন। কোলাইনের ঘাটতি ঘটলে অনেক সময় কার্ডিওভাসকুলার, লিভারের অসুখ বা নিউরোলজিক্যাল ডিজ-অর্ডার দেখা দিতে পারে। একটি ডিমে প্রায় ৩০০ মাইক্রোগ্রাম কোলাইন থাকে। যা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম, স্নায়ু, যকৃত্‍ ও মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

১০) নতুন সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায় না। দিনে দুটো ডিম শরীরের লিপিড প্রোফাইলে কোনও প্রভাব ফেলে না। বরং ডিম রক্তে লোহিতকণিকা তৈরি করে।

১১) প্রোটিন শরীর গঠন করে। আর প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে অ্যামিনো অ্যাসিড। একুশ ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড এই কাজে প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু আমাদের শরীর অতি প্রয়োজনীয় নয়টি অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করতে পারে না। তার জন্য আমাদের প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট নিতে হয়। খাবারের মধ্যে এই প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট হল ডিম। যা ঝটপট শরীরে প্রোটিন উত্‍পাদন করতে পারে।

১২) নখ ভেঙে যাচ্ছে চটপট? নাকি চুলের স্বাস্থ্য একেবারেই বেহাল? চোখ বন্ধ করে রোজ ডিম খেয়ে যান। ডিমের মধ্যে থাকা সালফার ম্যাজিকের মতো নখ আর চুলের মান উন্নত করবে।

আরও পড়ুন – ডায়েট বিষয়ক বিভিন্ন ধারণার সত্যি মিথ্যা

কার্পেটের দাগ দূর করার কিছু সহজ উপায়

ঘর যত পরিষ্কার থাকুক মেঝের সুন্দর কার্পেটে বিভিন্ন ধরণের দাগ লাগতেই পারে। অসাবধানতায় হাত থেকে পড়ে যেতে পারে চা বা কফি কিংবা আপনার সন্তানের ছবি আকার সরঞ্জাম থেকেও কার্পেটে দাগ সৃষ্টি হতে পারে। ঘরোয়া কিছু উপাদান ব্যবহার করে কার্পেটের যে কোন ধরণের দাগই তুলে ফেলা সম্ভব। আজ এই ফিচারে কার্পেটের বিভিন্ন ধরণের দাগ দূর করার উপায়ের বিষয়ে জানবো।

চা বা কফির দাগঃ
বিভিন্ন ধরণের চা বা কফির দাগ দূর করার জন্য সাদা ভিনেগারের সাথে পানি মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। কার্পেটের দাগটি যেন ছড়িয়ে না যায় সেজন্য খুব বেশি ঘষাঘষি করা ঠিক নয়। একটি পরিষ্কার কাপড় বা স্পঞ্জ বা তোয়ালের মধ্যে ভিনেগার ও পানির মিশ্রণ লাগিয়ে চা বা কফির দাগের উপর হালকা ভাবে চেপে চেপে দাগ উঠিয়ে ফেলুন। এভাবে কয়েকবার করলে দাগ উঠে যাবে।

খাবার বা পোষা প্রাণীর বমি বা প্রস্রাবের দাগঃ
বাসায় ছোট বাচ্চা বা পোষা প্রাণী থাকলে কার্পেটে খাবার বা প্রস্রাবের দাগ সৃষ্টি হতে পারে এবং দুর্গন্ধও হতে পারে। তাই খাবার পড়ার সাথে সাথেই তা সরিয়ে ফেলা এবং একটি ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নেয়া প্রয়োজন। তাহলে দুর্গন্ধ ও দাগ সৃষ্টি হতে পারবেনা। যদি পানি ও ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দাগ দূর করা না যায় তাহলে বেকিংসোডা ব্যবহার করতে পারেন। বেকিং সোডা দাগ ও জীবাণুমুক্ত করতে অত্যন্ত কার্যকরী।

রঙ ও নেইল পলিশের দাগঃ
ভিনেগার ও ডিটারজেন্টের দ্রবণ দিয়ে দূর করতে পারেন রঙ ও নেইল পলিশের দাগ। একটি পাত্রে ভিনেগার, ডিটারজেন্ট ও পানি মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করুন। তারপর এই মিশ্রণে একটি স্পঞ্জ ডুবিয়ে দাগের স্থানটি মুছে নিন। দাগ না চলে যাওয়া পর্যন্ত মুছতে থাকুন। সবশেষে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুছে নিন।

চুইংগামঃ
চুইংগামের দাগ দূর করা কঠিন বিশেষ করে পশমের কার্পেট থেকে। যদি চুইংগাম তাড়াতাড়ি সরানো না হয় তাহলে কার্পেটের ফাইবারের মধ্যে লেগে যায় এবং কার্পেটের ঐ স্থানের রঙ নষ্ট করে দেয়। কার্পেটে লেগে যাওয়া চুইংগাম ও এর দাগ দূর করা যায় খুব সহজেই বরফ ব্যবহার করে। একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে বরফের টুকরো নিয়ে কার্পেটে লাগা চুইংগামের উপর দিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। তারপর একটি ছুরি দিয়ে চেঁছে নিন অবশিষ্ট চুইংগাম ও এর দাগ।

রক্তের দাগঃ
কোন কারণে যদি কার্পেটে রক্ত লেগে যায় তাহলে সেই দাগ দূর করার যায় হাইড্রোজেন পারক্সাইড ব্যবহার করে। হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ছাড়াও রক্তের দাগ দূর করার জন্য অ্যামোনিয়াও ব্যবহার করা যায়।

তেল বা চর্বির দাগঃ
কার্পেট থেকে তেল বা চর্বির দাগ দূর করা যায় শেভিং ক্রিম ব্যবহার করে। রান্নার তেল, কসমেটিক্স, ফার্নিচার পলিশ বা মোম থেকে লাগতে পারে চর্বির দাগ। এই ধরণের তেল-চর্বির দাগ দূর করতে চমৎকার ভাবে কাজ করে শেভিং ক্রিম। এছাড়াও তেলের দাগের উপর একটি তোয়ালে রেখে তার উপর গরম আয়রন দিয়ে কিছুক্ষণ ইস্ত্রি করুন। দেখবেন তেল/চর্বি তোয়ালের মধ্যে লেগে উঠে আসবে।

কিন্তু যদি বুঝতে না পারেন যে কার্পেটে কিসের দাগ লেগেছে তাহলে ৩ চা চামচ হাইড্রোজেন পারক্সাইডের সাথে নন-জেল টুথপেস্ট মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি নরম কাপড়ে লাগিয়ে কার্পেটের দাগের উপরে ঘষুন। তারপর পানি দিয়ে মুছে নিন। যে দাগই হোকনা কেন তা দূর হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন – কাপড় থেকে দাগ তোলার সহজ উপায়

(ইন্টারনেট অবলম্বনে)

নারিকেল তেলের ২৬ রকম ব্যবহার

আবহমান কাল ধরে চুলের যত্নে নারিকেল তেলের ভূমিকা বাংলার ঘরে ঘরে প্রচলিত কিন্তু এছাড়াও যে নারিকেল তেল বহুবিধ কাজে ব্যবহার করা যায় তা কি আপনি কখনো ভেবে দেখেছেন? নারিকেল তেলের তেমনি কিছু জাদুকরী ব্যবহার নিয়েই আজকের এই আয়োজন। যা আপনার প্রত্যেহ জীবনযাত্রার জটিলতা সামান্য হলেও প্রশমিত করতে ভূমিকা রাখবে। নিচের তালিকাটিতে একবার চট করে চোখ বুলিয়ে নিন।

১. রাতে মেকআপ তুলে না ঘুমালে ত্বকে ব্রণ উঠে তা সকলেই জানেন। ঘরে মেকআপ রিমুভার না থাকলে ব্যবহার করুন নারিকেল তেল।

২. নখের পাশের চামড়া মোটা হয়ে খসখসে হয়ে যায়? যে কোনো লোশনের পরিবর্তে ব্যবহার করুন নারিকেল তেল।

৩. নেলপলিশ নখের পাশে চামড়ায় লেগে গেলে তুলতে বেশ যন্ত্রণা পোহাতে হয়। এই সমস্যা সমাধানে নেলপলিশ লাগানোর আগে নখের পাশে নারকেল তেল লাগিয়ে নিন।

৪. সমপরিমাণ নারিকেল তেল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সোপ মিশিয়ে এই মিশ্রণ দিয়ে মেকআপ ব্রাশ পরিষ্কার করে নিতে পারেন খুবই সহজে।

৫. নারিকেল তেলের সাথে চিনি মিশিয়ে প্রাকৃতিক কার্যকরী বডি স্ক্রাব তৈরি করে নিন।

৬. নারিকেল তেলের সাথে বেকিং সোডা ও কর্ন স্টার্চ মিশিয়ে ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন প্রাকৃতিক ডিওডরেন্ট। আপনার দেহকে রাখবে একেবারেই দুর্গন্ধমুক্ত।

৭. ঠোঁটের চামড়া ফেটে যাওয়া সমস্যার সমাধান করুন শুধুমাত্র নারিকেল তেলের ব্যবহারেই।

৮. মেকআপ করার পর চিকবোন হাইলাইট করার কাছে অনায়াসেই ব্যবহার করতে পারেন নারিকেল তেল।

৯. যারা ওয়াক্সিং না করে অবাঞ্ছিত লোম শেভ করেন তারা খুবই স্মুথ শেভ করতে পারবেন নারিকেল তেল ব্যবহার করে।

১০. এসেনশিয়াল অয়েল, শিয়া বাটার নারকেল তেলে মিশিয়ে দারুণ সুগন্ধি পোকামাকড় দূর করার ক্রিম তৈরি করে নিতে পারেন।

১১. ত্বক হাইড্রেট করতে খুবই কার্যকরী নারিকেল তেল।

১২. চুলের মলিনতা দূর করে নারকেল তেল নিমেষেই।

১৩. বুকে জমে যাওয়া কফ দূর করতে ঘরে বানিয়ে নিতে পারেন কনজেশন রিলিফ ক্রিম। আধা কাপ নারিকেল তেল, রোজমেরি, দারুচিনি এবং ইউক্যালিপটাস এসেনশিয়াল তেল একসাথে মিশিয়ে নিন এবং বুকে মালিশ করুন।

১৪. ত্বকে ফাটা দাগ দূর করতে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন নারিকেল তেল।

১৫. চুলের জট চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে ঠিক করতে গেলে চুল ছিঁড়বেই। কিন্তু প্রথমে নারিকেল তেল মেখে নিলে আর ছিঁড়বে না।

১৬. নরম কোমল মসৃণ পায়ের জন্য নারিকেল তেল মেখে মোজা পায়ে ঘুমুতে যান।

আরও জানুন : লেবুপানির গুনাগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

১৭. কানে রিং পরতে পারছেন না? একটু নারিকেল তেল লাগিয়ে নিন কানে, ব্যস সমস্যার সমাধান নিমেষেই।

১৮. আইশ্যাডো গুঁড়োয় একটু নারিকেল তেল মিশিয়ে নিজের পছন্দের রঙের লিপগ্লস তৈরি করতে পারেন অনায়াসে।

১৯. আইভ্রু ঘন কালো সুন্দর করতে ব্যবহার করুন নারিকেল তেল।

২০. নেলপলিশের বোতলের মুখ আটকে যায় বারবার? নেলপলিশ ব্যবহারের পর বোতলের মুখে নারিকেল তেল লাগিয়ে মুখ লাগান, আর আটকে যাবে না।

২১. আইল্যাশ লাগিয়েছিলেন? কিন্তু আসল চোখের পাপড়িতেও আঠা লেগেছে? নারিকেল তেল দিয়ে খুব সহজেই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।

২২. চোখের নিচের ফোলাভাব দূর করতে একটি কটনপ্যাডে নারিকেল তেল লাগিয়ে ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর চোখের নিচে লাগিয়ে রাখুন। ব্যস সমস্যার সমাধান।

২৩. মুখের দুর্গন্ধ? নারিকেল তেল মুখে দিয়ে কুলকুচা করে নিন। (এখানে খাওয়ার নারিকেল তেল ব্যবহার করতে হবে)।

২৪. মাথায় উকুন হলে চিন্তা করবেন না একেবারেই। ৮ কোয়া রসুন বেটে নিয়ে নারকেল তেলে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। ধুয়ে নিলেই সমস্যার সমাধান।

২৫. চেইন আটকে গিয়েছে ব্যাগ বা কাপড়ের? একটু নারিকেল তেল লাগিয়ে নিন।

২৬. আঙুলে আংটি আটকে গেলে টানাটানি করে ব্যথা পাবেন না। আঙুলে লাগিয়ে নিন নারিকেল তেল।

কাপড় ধোয়ার নিয়ম ও কিছু দরকারি টিপস

আমাদের সবাইকেই কম বেশি কাপড় ধুতে হয় আর যাদের নিজের কাপড় নিজের ধোয়ার অভ্যাস তাদের বেলায় তো কোন কথাই নেই। এই কাপড় ধোয়ারও রয়েছে কিছু টুকিটাকি নিয়ম। অনেক সময় দেখা যায় কাপড় পরিষ্কার করতে গিয়ে কাপড়ের সুতা কিংবা রং নষ্ট হয়ে যায়, আবার অসাবধানতার কারণে অনেক সময় কাপড় ছিঁড়ে যায়। একটু সতর্কতা অবলম্বান করলে কাপড়কে সহজেই ভাল রাখা যায় দীর্ঘদিন। চলুন আজকের ফিচার থেকে কাপড় ধোয়ার টুকিটাকি সমস্ত বিষয় জেনে নেই।

১। অতিরিক্ত ময়লা কাপড়ের সঙ্গে অন্য কাপড় একসঙ্গে ভেজাবেন না। এতে অন্য কাপড়ে দাগ লাগার সম্ভাবনা থাকে।

২। কাপড়ের উপর সরাসরি ডিটারজেন্ট ব্যবহার করবেন না। প্রথমে কাপড় তারপর পানি এবং সবার শেষে ডিটারজেন্ট দিন। যদি ব্লিচ ব্যবহার করেন তবে প্রথমে পানি, তারপর কাপড় এবং সবশেষে ব্লিচিং ডিটারজেন্ট দিয়ে দিবেন।

৩। সাদা কাপড় অন্যান্য কাপড় থেকে আলাদা ভেজান। এতে করে অন্য কাপড়ের রং সাদা কাপড়ে লাগার সম্ভাবনা থাকবে না।

৪। ডেনিম জাতীয় কাপড় যেমন জিন্সের প্যান্ট, শার্ট আলাদা ধোয়াই ভালো।

৫। উলের কাপড়গুলো গরম পানিতে ধোবেন না। খুব বেশিক্ষণ ডিটারজেন্ট পাউডারে ভিজিয়ে রাখবেন না, এতে উল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৬। সাদা কাপড়ের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে আধা কাপ ভিনেগারের সাথে দুই টেবিল চামচ বেকিং সোডা দিয়ে মেশান। এই মিশ্রণটি দিয়ে কাপড় ধুয়ে ফেলুন।

৭। কাপড় বেশিক্ষণ দড়িতে ঝুলিয়ে রাখলে কাপড়ের আকার নষ্ট হয়ে যায়।

৮। ভারী কাপড় যেমন জিন্স, শার্ট, প্যান্ট ইত্যাদি কাপড় উল্টো করে তারপর ধুয়ে ফেলুন। এতে অভ্যন্তরীণ ময়লা ভালভাবে পরিষ্কার হবে।

৯। যে কোন কাপড় ধুতে দেওয়ার আগে এর ট্যাগ চেক করে নিন। বিশেষ করে সেনসিটিভ কাপড়ের ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রযোজ্য। ট্যাগে কাপড় ধোয়ার নিয়ম উল্লেখ থাকে।

আরও পড়ুনঃ কাপড় থেকে দাগ তোলার উপায়

১০। ওয়াশিং মেশিনের ফিল্টার বছরে একবার অন্তত পরিষ্কার করবেন এবং ডিটারজেন্ট পাউডারে ভিজিয়ে ভালোমতো ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিবেন ফিল্টার।

১১। কোনো কাপড় প্রথমবার ধোয়ার সময় অবশ্যই আলাদাভাবে পরীক্ষা করে নেবেন। কারণ নতুন কাপড় থেকে রং ওঠার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্র পুরনো কোনো কাপড়ের সঙ্গে ধুয়ে দেখতে পারেন অন্য কাপড় নষ্ট হয় কি না।

১২। সাদা সুতির পোশাক ধোয়ার জন্য গরম পানি ব্যবহার করুন। গরম পানিতে ডিটারজেন্ট গুলে কিছুক্ষণ কাপড় ডুবিয়ে রাখুন।

১৩। রঙিন পোশাক কড়া রোদে দেবেন না। বাতাস চলাচল করে-এমন ছায়াযুক্ত স্থানে শুকাতে দিন।

১৪। কাপড় প্রথমবার ধোয়ার সময় অবশ্যই আলাদাভাবে পরীক্ষা করে নেবেন কাপড় থেকে রং ওঠে কিনা।

১৫। বেশিক্ষণ ডিটার্জেন্ট পাউডারে কাপড় ভিজিয়ে রাখবেন না। এতে সুতা নরম হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

১৯টি প্রয়োজনীয় বিউটি টিপস

মানুষ সৌন্দর্য্যের পূজারি। সুন্দর যেকোন কিছুই সবাইকেই আকর্ষন করে, আর এই সুন্দর বিষয়টি নারীদের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশী মানিয়ে যায়। নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপনের জন্য নারীরা বিভিন্ন রকম প্রসাধনী ও সাজসজ্জার আশ্রয় নেয়। কিছু টিপস জানা থাকলে এই সাজসজ্জার বিষয়টি হয়ে যায় চটুজলদি এবং ঝামেলাহীন।

দেরি না করে এখনি জেনে নিন ১৯টি কার্যকরী বিউটি টিপসঃ

১। টমেটোর রস ও দুধ একসঙ্গ মিশিয়ে মুখে লাগালে রোদে জ্বলা ভাব কমে যাবে।

২। ঠোটেঁ কালো ছোপ পড়লে কাঁচা দুধে তুলো ভিজিয়ে ঠোটেঁ মুছবেন। এটি নিয়মিত করলে ঠোটেঁর কালো দাগ উঠে যাবে।

৩। কনুইতে কালো ছোপ দূর করতে লেবুর খোসায় চিনি দিয়ে ভালো করে ঘষে নিন। এতে দাগ চলে গিয়ে কনুই নরম হবে।

৪। হাঁড়ি-বাসন ধোয়ার পরে হাত খুব রুক্ষ হয়ে যায়। এজন্য বাসন মাজার পরে দুধে কয়েক ফোঁটা লেবু মিশিয়ে হাতে লাগান। এতে আপনার হাত মোলায়েম হবে।

৫। লিগমেন্টেশন বা কালো দাগ থেকে মু্ক্তি পেতে আলু, লেবু ও শসার রস এক সঙ্গে মিশিয়ে তাতে আধ চা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে যেখানে দাগ পড়েছে সেখানকার ত্বকে লাগান।

৬। মুখের ব্রণ আপনার সুন্দর্য নষ্ট করে। এক্ষেত্রে রসুনের কোয়া ঘষে নিন ব্রণের উপর। ব্রণ তাড়াতাড়ি মিলিয়ে যাবে।

৭। তৈলাক্ত ত্বকে ঘাম জমে মুখ কালো দেখায়। এক্ষেত্রে ওটমিল ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখবেন আধা ঘণ্টা। আধা ঘণ্টা পর ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন।

৮। চুল পড়া বন্ধ করতে মাথায় আমলা, শিকাকাই যুক্ত তেল লাগান।

৯। পায়ের গোড়ালি ফাটলে পেঁয়াজ বেটে প্রলেপ দিন এ জায়গায়।

১০। যাদের হাত খুব ঘামে তারা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে লাউয়ের খোসা হাতে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ।

১১। মুখে কোন র‌্যাশ বের হলে অড়হর ডাল বাটা পেস্ট লাগান র‌্যাশের উপর। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। দাগ থাকবে না।

আরও পড়ুনঃ ভেসলিনের ১১টি বিচিত্র ব্যবহার

১২। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন ১৫ গ্রাম করে মৌরি চিবিয়ে খান। খুব কম সময়ে রক্ত শুদ্ধ হয়ে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

১৩। মুখের তাৎক্ষণিক লাবণ্য আনতে একটা ভেষজ রুপটান আছে। আধা চা চামুচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগান। পনের মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা আপনার মুখকে ভেজা রাখবে।

১৪। পিঠের কালো ছোপ তুলতে ময়দা ও দুধ এক সঙ্গে মিশিয়ে পিঠে দশ মিনিট ধরে ঘষবেন। এটা নিয়মিত করলে পিঠের ছোপ উঠে যায়।

১৫। অতিরক্ত শুষ্কতা থেকে মুক্তি পেতে মধু, দুধ ও বেসনের পেস্ট মুখে লাগান নিয়মিত। এতে ত্বকের বলিরেখা ও দূর হয়ে যাবে।

১৬। মুখের বাদামি দাগ উঠাতে পাকা পেঁপে চটকে মুখে লাগান, পরে ধুয়ে ফেলুন।

১৭। হাত পায়ের সৌন্দয্য অক্ষুণ্ন রাখতে হাতে ও পায়ে আপেলের খোসা ঘষে নিন। এতে হাত ও পা অনেক বেশি ফর্সা দেখাবে।

১৮। সমপরিমাণ তুলসী পাতার রস ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে দুই বেলা নিয়মিত মুখে লাগান যেকোন দাগ মিলিয়ে যাবে।

১৯। নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত দুই কোয়া করে কমলালেবু খান। দুই মাস পর এ সমস্য থাকবে না।

আরও পড়ুনঃ চুল পাকা প্রতিরোধে ৮টি খাবার

খালি পেটে পানি পান করার উপকারিতা

বলা হয়ে থাকে পানির অপর নাম জীবন। কারণ পানি মানব জীবনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান। স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য এবং শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কাজ ঠিক ভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য পানি প্রয়োজন। জাপানিরা সকালে খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করার আধা ঘণ্টা পরে নাস্তা খায়। তাদের এই রীতি বৈজ্ঞানিক ভাবেও প্রমাণ করেছে যে বিভিন্ন ধরণের দৈহিক সমস্যার জন্য খালি পেটে পানি পান খুবই উপকারী। খালি পেটে পানি খাওয়ার কিছু বিস্ময়কর উপকারিতা সম্পর্কে এই ফিচারে আমরা জানবো।

বিপাকের উন্নতি ঘটায়
খালি পেটে পানি পান করলে বিপাকের হার ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বিপাকের হার বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ পরিপাক প্রক্রিয়ার ও উন্নতি হওয়া। আপনার পরিপাক যদি দ্রুত হয় তাহলে ডায়েট রুটিন অনুসরণ করাও সহজ হবে। ঘুম থেকে জেগেই পানি পান করলে কোলন পরিষ্কার হয় এবং শরীরের জন্য পুষ্টি উপাদান শোষণ করা সহজ হয়।

দেহকে বিষমুক্ত হতে সাহায্য করে
পানি পান করলে শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশন সহজ ভাবে সম্পন্ন হয়। রাতের বেলায় শরীর নিজেই নিজের মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে একত্র করে। সকালে যখন খালি পেটে পানি পান করা হয় তখন এই বিষাক্ত উপাদানগুলো শরীর থেকে বের করে দেয়। এছাড়াও পর্যাপ্ত পানি পান করলে পেশীর কোষের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং নতুন রক্ত কোষ উৎপন্ন হয়।

বদহজম উপশম করে
পাকস্থলীর এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বদহজম হয়। অন্যনালীতে এসিড রিফ্লাক্স হলে বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভোগে। খালি পেটে পানি পান করলে এসিড নীচের দিকে চলে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
সকালে খালি পেটে পানি পান করলে বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে যায় এবং পরিপাক তন্ত্রের ও উন্নতি ঘটে। পানি পান করলে পেট ভরার অনুভূতি পায় এবং ক্ষুধা কমে। এভাবেই বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন বৃদ্ধি প্রতিহত হয়।

চুলকে চকচকে, মসৃণ এবং স্বাস্থ্যবান করতে
ডিহাইড্রেশন চুলের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। পানি ভেতর থেকে চুলকে পুষ্টি সরবরাহ করে। অপর্যাপ্ত পানি পান করলে চুল পাতলা হয়ে যায় এবং চুলের আগা ফেটে যায়। প্রতিদিন খালি পেটে পানি পান করলে চুলের মান উন্নত হয়।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে
পানি শূন্যতার ফলে ত্বকে অকালেই বলিরেখার ছাপ পড়ে এবং ত্বকের ছিদ্রগুলো গভীর হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, খালি পেটে ৫০০ মিলিলিটার পানি পান করলে ত্বকে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়।

ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে
খালি পেটে পানি পান করলে লিম্ফেটিক সিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। যা ইমিউনিটির মাত্রা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম বিভিন্ন ধরণের রোগ থেকে রক্ষা করে এবং প্রায়ই অসুস্থ হওয়া প্রতিরোধ করে।

কিডনির পাথর হওয়া প্রতিরোধ করে
ঘুম থেকে জেগেই পানি পান করলে কিডনিতে পাথর হওয়া এবং মূত্রথলির ইনফেকশন হওয়া প্রতিরোধ করে। খালি পেটে পানি পান করলে পাকস্থলীর এসিড পাতলা হতে সাহায্য করে। এই এসিড কিডনির পাথর সৃষ্টির জন্য দায়ী। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করলে টক্সিনের দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন ধরণের ব্লাডার ইনফেকশন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

আরও জেনে নিন: লেবুপানির গুনাগুণলবণ পানির উপকারিতা

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ সম্পর্কিত কিছু সতর্কবার্তা জেনে নিন

বিয়ের আগে আমরা সাধারণত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, ঘরবাড়ি ইত্যাদি সংক্রান্ত যাবতীয় খোঁজ খবর নিয়ে থাকি। কিন্তু আমরা স্বামী স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যাপারটি একদম ভুলে যাই। আসুন জেনে নেয়া যাক বিয়ের আগে স্বামী স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ বিষয়ক জরুরী কিছু তথ্যঃ

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ কেমন হওয়া উচিত?

তা নিয়ে আলোচনা করার আগে ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কে কিছু কথা জানা দরকার। ব্লাড গ্রুপ কে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা হল ABO system (A, B, AB & O), আরেকটা হল Rh factor {Rh positive(+ve) & Rh negative(-ve)}. অর্থ্যাৎ Rh factor ঠিক করবে ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হবে না নেগেটিভ হবে। তাহলে ব্লাড গ্রুপগুলো হলঃ A+ve, A-ve, B+ve, B-ve, AB+ve, AB-ve O+ve, O-ve.

যদি অন্য গ্রুপের ব্লাড কারো শরীরে দেওয়া হয় তাহলে কী হবে?

যখন কোনো Rh নেগেটিভ গ্রুপের ব্যক্তিকে Rh পজেটিভ গ্রুপের ব্লাড দেয়া হয় তখন প্রথমবার সাধারনত কিছু হবে না। কিন্তু এর বিরুদ্ধে রোগীর শরীরে এন্টিবডি তৈরী হবে যার ফলে যদি কখনো রোগী আবার পজেটিভ ব্লাড নেয় তাহলে তার ব্লাড cell গুলো ভেঙ্গে যাবে, এর কারনে অনেক সমস্যা হবে। যেমন জ্বর, কিডনি ফেইলিউর, হঠাৎ মৃত্যু ইত্যাদি। এই সমস্যাকে মেডিকেল টার্ম এ বলা হয় ABO incompatibility.

স্বামী-স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ কী রকম হওয়া দরকার?

স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি পজেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ ও পজেটিভ হতে হবে। আর যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ বা নেগেটিভ যে কোনো একটি হলেই হবে। তবে স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি পজেটিভ হয় তাহলে কোনোভাবেই স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হওয়া চলবে না। এক্ষেত্রে যদি স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে তার স্বামীর ব্লাডগ্রুপ ও নেগেটিভ হতে হবে।

যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হয় আর স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে কী সমস্যা হবে?

রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে কোন সমস্যা হয় না। তবে স্ত্রী যদি নেগেটিভ হয় আর স্বামী যদি পজিটিভ হয় তাহলে ‘লিথাল জিন’ বা ‘মারন জিন’ নামে একটি জিন তৈরি হয় যা পরবর্তীতে জাইগোট তৈরিতে বাঁধা দেয় বা জাইগোট মেরে ফেলে। সে ক্ষেত্রে মৃত বাচ্চার জন্ম হয়। যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হয় তাহলে সাধারনত বাচ্চার ব্লাডগ্রুপ ও পজেটিভ হবে। যখন কোনো নেগেটিভ ব্লাডগ্রুপের মা ধারন করবে পজেটিভ Fetus(ভ্রুন) তখন সাধারনত প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু ডেলিভারির সময় পজেটিভ Fetus এর ব্লাড, placental barrier ভেধ করে এবং placental displacement এর সময় মায়ের শরীরে প্রবেশ করবে। মায়ের শরীরে ডেলিভারির সময় যে ব্লাড প্রবেশ করবে, তা ডেলিভারি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই মায়ের শরীরে Rh এন্টিবডি তৈরী করবে। যখন মা দ্বিতীয় সন্তান বহন করবে, তখন যদি তার fetus এর ব্লাডগ্রুপ পুনরায় পজেটিভ হয়। তাহলে মায়ের শরীরে আগে যেই Rh এন্টিবডি তৈরী হয়েছিলো সেটা placental barrier ভেধ করে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করবে। আর যখন fetus এর শরীরে Rh antibody ঢুকবে তখন fetal এর RBC এর সাথে agglutination হবে, যার ফলে RBC ভেঙ্গে যাবে। একে মেডিকেল টার্ম এ “Rh incompatibility” বলে।

শেষ কথা

এখন আর মহিলাদের নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ খুব বেশি সমস্যা করেনা যদি আগে কখনো অ্যাবরশন না হয়ে থাকে। শুধু সচেতন থাকতে হবে। স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজিটিভ হলে, বাচ্চার জন্মের পরপরই বাচ্চার ব্লাডগ্রুপ পরীক্ষা করতে হবে। যদি নেগেটিভ হয় মায়ের মত, তবে কিছু করার দরকার নায়। আর পজিটিভ হলে এন্টি ডি ইনজেকশন নিতে হবে ডেলিভারির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। যদি আগে কখনো অ্যাবরশন হয়ে থাকে এবং তখন এন্টি ডি ইনজেকশন না নেয়া হয় তবে সমস্যা হতে পারে যদি সেই বাচ্চার পিতা পজিটিভ রক্তগ্রুপের হয়। সুতরাং আগে অ্যাবরশন হওয়ার পর ইনজেকশন না নিলে নেগেটিভ রক্তের গ্রুপের কোন পুরুষকে বিয়ে করা শ্রেয়।

আরও পড়ুনঃ জীবন সঙ্গীকে খুশি রাখার ১০টি উপায়

তথ্যসূত্রঃ

১) www.ittefaq.com.bd
২) www.rx71.co

লেবুপানির গুনাগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

সুস্থ শরীরের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেই কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই দৈনন্দিন পানির পানের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে দিলে তা হতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার প্রতিরোধক। সাধারণত লেবু খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্যে খেয়ে থাকলেও এতে আছে ভিটামিন এবং নানা খনিজ উপাদান। লেবু পানি ওজন কমাতে কাজ করে, কিডনি ভালো রাখে, হজমে সাহায্য করে ও শরীর থেকে নানা বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক এক ওয়েবসাইট অবলম্বনে লেবুপানি পানের নানান উপকারিতা ও গুনাবলী এখানে দেওয়া হল।

পেট ব্যথা সারাতে: হজমের সমস্যা একটি অতি প্রচলিত সমস্যা। যার অত্যন্ত কার্যকরী সমাধান কুসুম গরম লেবুপানি। লেবু-সরবত রক্ত পরিশোধনে সাহায্য করে। পাশাপাশি বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং শরীরের দুষিত পদার্থ দূর করে।

ত্বকের যত্নে: বাজারের সব প্রসাধনীই দেয় স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের প্রতিশ্রুতি। তবে এজন্য যেমন গুনতে হয় হয় টাকা, তেমনি আছে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাও। কম খরচে আর নিশ্চিত উপকার পেতে বেছে নিতে পারেন লেবুর রস। ত্বক ভালো রাখার পাশাপাশি বয়সের চাপ কমাতে, ব্ল্যাকহেড ও বলিরেখা দূর করতে এটি অত্যন্ত উপকারী।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: লেবুতে থাকে অনেকটা ভিটামিন সি এবং লৌহ যা ঠাণ্ডাজ্বর জাতীয় রোগের বিরুদ্ধে ভীষণ কার্যকর। এতে আরো রয়েছে পটাসিয়াম যা মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুকে সক্রিয় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এতে থাকা অ্যাসকরবিক এসিড প্রদাহ দূর করে এবং অ্যাজমা বা এজাতীয় শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমায়। এছাড়াও লেবু কফ কমাতে সাহায্য করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে: লেবুতে থাকা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও বমিভাব কমাতে এবং ঝিমঝিমভাব কমাতেও এটি উপকারী।

শরীরের পিএইচ মাত্রা ঠিক রাখে: এর অর্থ হলো শরীরের অম্ল-ক্ষারকের মাত্রা ঠিক রাখে লেবু। লেবু হজম হয়ে যাবার পর কিন্তু আর অম্লীয় থাকে না, ক্ষারীয় হয়ে যায়। ফলে এটি রক্তে মিশে যায় এবং শরীরের অম্লতা বাড়তে দেয় না। অম্লতা বেড়ে গেলেই দেখা দেয় রোগ।

হজমে সহায়ক: শরীর থেকে অযাচিত পদার্থ এবং টক্সিন বের করে দেয় লেবুর রস। আমাদের হজমের জন্য ব্যবহৃত লালা এবং পাচক রসের সাথে বেশ মিল আছে এর গঠন এবং কাজের। আর যকৃতের থেকে হজমে সহায়ক এক ধরণের পদার্থ নিঃসরণেও এটি সহায়তা করে।

মুখের স্বাস্থ্য রক্ষা: মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এবং মাঢ়ির রক্তক্ষরণ থামাতে লেবু পানি বেশ উপকারী। দাঁত ব্যথা কমাতেও এটি কার্যকর।

কৃমি দূর করতে: ঘন ঘন কৃমির আক্রমণে ক্লান্ত? প্রতিদিন এক গ্লাস লেবু পানি পান করুন আর কৃমির সাথে যুদ্ধ জয় করুন।

শ্বাস যন্ত্রের সমস্যা দূর করতে: লেবু পানি কফ সারায়। ফলে শ্বাস নেওয়ার সমস্যা দূর হয়। হাঁপানি রোগীদের জন্যও এটি উপকারী।

মানসিক স্বাস্থ্য: মন ফুরফুরে করে দিতে অনন্য এই লেবু পানি। দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ কমানোর ক্ষমতা রয়েছে লেবুর সরবতে।

প্রদাহ কমাতে: গলা জ্বালাপোড়া কমাতে সহায়ক লেবুপানি। কারণ এতে আছে অ্যান্টিব্যক্টেরিয়াল উপাদান। লবণ পানিতে যাদের উপকার হয় না তারা লেবু পানি দিয়ে গড়গড়া বা কুলিকুচি করতে পারেন।

বয়সের ছাপ কমাতে: বয়স কমাতে না পারলেও লেবুপানি আপনার বাহ্যিক তারুণ্য ধরে রাখতে পারে। তাছাড়া লেবুপানিতে নেই কোনো ক্যালরি পাশাপাশি এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও।

ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রনে: লেবু পানি দেহের ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রনে রাখে। রোজ পান করলে উচ্চরক্তচাপ ১০ শতাংশ কমে যায়। লেবু পানি শরীরের রক্তবাহী ধমনী ও শিরাগুলোকে পরিষ্কার রাখে।

আরও পড়ুনঃ পেঁয়াজের অজানা সব গুণের কথা

সত্য নাকি মিথ্যা বলছে তা বুঝার উপায়

মানুষ কারণে অকারণে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। কেউ নিজেকে ঝামেলা থেকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে মিথ্যা বলে আবার কেউ শুধুই অন্যকে খুশি করতে ক্রমাগত মিথ্যা কথা বলে। আবার এমন কিছু লোক আছে যারা নিজের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মিথ্যা কথা বলে। তবে যে কারনেই মিথ্যা বলা হোক না কেন মিথ্যা মিথ্যাই থেকে যায়, তা কখনোই সত্য হতে পারেনা। যারা মিথ্যা বলে তারা সব সময় চেষ্টা করে নিজের মিথ্যাকে অনেক বিশ্বাসযোগ্য করার। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই এধরনের সত্যি মিথ্যা ধরে ফেলা যায়। আসুন মিথ্যা ধরার এমনি কিছু টিপস সম্পর্কে জেনে নেই।

বডি ল্যাঙ্গুয়েজঃ
প্রথমেই খেয়াল করুন তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। যিনি মিথ্যা বলবেন তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ আর একজন সত্যবাদী লোকের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কখনোই এক হবেনা। মিথ্যা বলার সময়ে কিছুটা শক্ত হয়ে যাবে সে। হাতের মুভমেন্টও কমে আসবে অনেকটাই। মোট কথা স্বতঃস্ফূর্তভাব কমে আসবে অনেকটাই।

সরাসরি না তাকানোঃ
যিনি মিথ্যা বলছেন বা বলবেন তিনি প্রথমেই সরাসরি চোখের দিকে তাকাবেন না। মিথ্যা কথা চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে পারেন এমন মানুষ খুব কমই আছেন। মানুষ মিথ্যা কথাটাই বেশী গুছিয়ে আর সুন্দর করে বলে থাকে স্বাভাবিক সময়ের চাইতে। মিথ্যা কথার ভূমিকা অপ্রয়োজনীয়ভাবেই দীর্ঘ হয়ে থাকে।

অসস্থি প্রকাশ বা ক্রমাগত ঘামাঃ
অনেকেই মিথ্যা বলার সময় ঘামতে শুরু করবেন। কেউ কেউ দেখাবেন অস্থিরতা। কেউ হয়তো মাথা বা কানের পেছনে চুলকাতে পারেন। মানুষের শারীরিক রিফ্লেক্স এমনভাবে তৈরি যে নিজের অজান্তেই শরীর বেশ কিছু ক্লু দিয়ে দেয় অসেচতনভাবেই সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ে।

ভুল তথ্য উপস্থাপনঃ
মিথ্যুকরা ভুল তথ্য দিবে এটাই স্বাভাবিক। একটু খেয়াল করলে দেখবেন আপনি নিশ্চিতভাবেই জানেন এমন তথ্যেরও তারা ভুল ভাবে উপস্থাপন করবে শুধুমাত্র নিজের মিথ্যাকে সত্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।

হুটহাট করে আবেগ দেখানোঃ
যখন কেউ মিথ্যা বলবে তখন তার আবেগের সময় ও সময়কাল সাধারনের থেকে কমবেশি হতে পারে। আবেগের অবস্থান সাধারনের থেকে বেশি সময় স্থায়ী হলে এবং হঠাৎ করেই এই আবেগ শেষ হয়ে গেলে বুঝতে হবে ব্যক্তিটির কথা মিথ্যা হবার সম্ভাবনা বেশি।

যেমন কেউ যদি কোন উপহার পাবার পরে বলেন যে তিনি খুব খুশি হয়েছেন এবং তারপর হাসেন, তাহলে ধরে নিন ব্যক্তিটির মিথ্যা বলার সম্ভাবনা প্রবল। কেননা খুশি হলে প্রথমে তিনি হাসবেন, তারপর বলবেন। অর্থাৎ কেউ কিছু বললে তার সাথে যদি আবেগের মিল না থাকে তবে ধরে নিতে পারেন যে তিনি মিথ্যা বলছেন।

যেমন- কেউ যদি বলে যে সে আপনাকে ভালবাসে, কিন্তু কথার সাথে সাথে সেই ভালবাসার প্রকাশটা নেই, তবে তিনি অবশ্যই মিথ্যা বলছেন বলে ধরে নিতে হবে। এছাড়াও কেউ যখন মিথ্যা বলে থাকেন তখন তার ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন থাকে সীমিত। সত্যি কথা বলার সময়ে যেমন কথাটি চোখ-কপাল-গালের সাথে সমন্বয় করে বলা হয়, মিথ্যা বলার সময়ে এমনটা হয়না।

ডিফেন্সিভ মুডঃ
যিনি মিথ্যা বলছেন তিনি সাধারনত ডিফেন্সিভ মুডে থাকেন। কথায় কথায় রেগে যেতে পারেন, অনেকে ঝগড়াও করতে পারেন যেখানে একজন সত্যবাদী ব্যাক্তি শান্ত থাকবেন কথা বলার সময়ে।

প্রশ্ন এড়িয়ে যাবার চেষ্টাঃ
যিনি মিথ্যা বলছেন তিনি সাধারণত প্রশ্নকর্তাকে ভয় পেয়ে থাকেন। কারন প্রশ্নকর্তা বেশি প্রশ্ন করলে তার মিথ্যা ফাঁস হয়ে যাবার একটা ভয় থাকবে সব সময়। তাই বেশিরভাগ সময়ে সে সরাসরি উত্তর দেয়ার চাইতে সেখান থেকে সরে যেতে চেষ্টা করবে বা প্রশ্নকর্তাকে এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করবে।

ঘটনার গড়মিলঃ
মিথ্যুকরা কোন ঘটনা বর্ণনা করলে বারবার দেখবেন ঘটনার একটু পর পর বলবে – অহ, অইটা বলতে ভুলে গেছি কিংবা এটা মনে নেই ইত্যাদি। এসব শুনেই বুঝে নিন ঘাপলা আছে।

পুনরাবৃত্তিঃ
কেউ আপনাকে মিথ্যে বলছে এরকম সন্দেহ হলে ওই ব্যক্তিকে একই ঘটনা আবারো বলতে বলুন। যদি ঘটনা মিথ্যে হয়ে থাকবে ২য় বার ঘটনার অনেক অমিল দেখতে পাবেন। আবার এমনও হতে পারে সে ২য় বার ঘটনাটি বলতেই চাইবে না কিংবা তুমুল অসস্থিতে বলতে বাধ্য হবে।

অস্বাভাবিক ভঙ্গি বা স্বরে কথা বলাঃ
যিনি মিথ্যা বলছেন তার সাধারন কথার সুর ও মিথ্যা কথার সুরের মাঝে অবশ্যই পার্থক্য থাকবে। কেউ যদি প্রচলিত ভাষায় কথা বলে থাকে সাধারনত, সে হয়তো পোশাকি ভাষায় কথা বলা শুরু করতে পারে। কেউবা আবার ইংরেজিতে কথা বলা শুরু করতে পারে। সেই সাথে যখন মিথ্যা বলবে তখন তাদের কথা অপেক্ষাকৃত সুন্দর হবে তাদের সাধারন সত্যি কথার তুলনায়। অনেকে আবার সরাসরি মিথ্যা না বলে ঘুরিয়ে মিথ্যা বলবে।

আটকে আটকে কথা বলাঃ
মিথ্যে বলতে গিয়ে অনেকেই তথ্যে ভুল করে বসেন। তখন নিজের ভুল ধরা পরে যাওয়ার ভয়ে থেমে, আটকে আটকে কথা বলে মিথ্যুকরা।

আপনার সাথে কথা বলার সময়ে কারো মাঝে যদি উপরোক্ত কোন আচরন লক্ষ্য করেন তবে বুঝে নিন সেই ব্যক্তিটির মিথ্যা বলার প্রবল সম্ভাবনা আছে। তবে সব সময় এমন মনে করা ঠিক হবে না যে সেই মানুষটি আপনার সাথে মিথ্যা কথাই বলছেন। অনেকের মধ্যে হয়তো নার্ভাস হয়ে যাওয়া বা অন্য কারণে উপরোক্ত কোন আচরন দেখতে পারেন।

এছাড়াও সবাই যে একই সমান ও একই সময়ে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করতে পারেন তাও নয় কিন্তু। কারো মাঝে আবেগের তারতম্য থাকার মানে এই না যে সে ব্যাক্তি আপনাকে মিথ্যা বলছেন। এই টিপসগুলি মনে রাখবেন যার সাথে কথা বলছেন তাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারেন কি না এটা বুঝার জন্য। তবে তার মধ্যে এমন কোন আচরণ দেখলে খারাপ কিছু ভেবে বসবেন না। অন্যকে বিশ্বাস করতে শিখুন প্রথমে। তাহলে দেখবেন সবাই আপনার বিশ্বাসের মূল্য দিবে এবং মিথ্যা বলবেনা আপনাকে।
ভালো থাকুন সব সময়।